Universe and our future L=mc
মহাবিশ্ব
এবং
আমাদের ভবিষ্যৎ
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
প্রকাশকাল
প্রথম সংস্করণ
২০২২
008801911793233
মূল্য-১৫০/= টাকা মাত্র
সূচীপত্র
ভূমিকা -----
নামকরন ------
আল-কোরআন ও বিজ্ঞান ------
হিন্দুধর্ম --------
বৌদ্ধধর্ম --------
খ্রিষ্ঠানধর্ম ---------
ইহুদীধর্ম ---------
পার্সীধর্ম ----------
শিখধর্ম -----------
ইসলাম ধর্ম -------
ভূমিকা
ধর্মীয় বিষয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা ছোটবেলা হতে মনের মধ্যে জাগ্রত ছিল। আমার খুব চিন্তা হত কোন ধর্মটি সঠিক। ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খ্রিষ্ঠান ধর্ম, ইহুদী ধর্ম। এই ধর্মগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক। প্রতিটি ধর্মকে জানার ইচ্ছা ছিল। তখন থেকে বিভিন্ন ধর্মের বই ও বিজ্ঞানের বই পড়তে শুরু করি। আর ইহার মূল কারন এই যে, নিজের মনের মধ্যে আমাদের ভবিষ্যৎকে জানার আগ্রহ ছিল। আর জানতে চেষ্ঠা করতাম, আমাদের ভবিষ্যত কি। মাদ্রাসায় পড়ার কারনে কোরআন, হাদিস, আরবী গ্রামার, বাংলা, ইংরেজী, উদ্দু, আরবী, ফার্সী, পাটিগনিত, বীজগনিত ও জ্যামিতি বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করি। ১৯৮৫ সাল হতে ১৯৯৬ সাল পয্যন্ত চট্রগ্রামে অবস্থিত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় পড়া-লেখা করেছি। ১৯৯৬ সালে ফাজিল পাস করেছি। আমাদের মাদ্রাসায় বিজ্ঞান শাখা ছিল না। যার কারনে বিজ্ঞান পড়া হয়নি। বিজ্ঞান শিক্ষা করার জন্য কখনও স্কুলে যায়নি। যদিও আমার পিতা-মরহুম মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (খোকন মাস্টার) আমাদের গ্রামের স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। তিনি নবম ও দশম শ্রেনীর পাটি গনিত, বীজ গনিত, জ্যামিতি ও বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয় পড়াতেন। আমাদের গ্রামের নাম- রাগদৈল, থানা-কচুয়া, জিলা-চাদঁপুর। আমি যে স্কুলে যাব না বরং মাদ্রাসায় পড়া-লেখা করব, তা নির্ধারন করেছিলেন আমার দাদা মরহুম আলী মিয়া দারোগা। তিনি পাকিস্তান আমলে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। আমার পিতা অবসর সময়ে সাচার বাজারে বেতার-যন্ত্র মেরামতের কাজ করতেন। মাদ্রাসায় পড়া-লেখার পাশাপাসী আমাদের দোকানে রেডিও, টেলিভিশন ও কম্পিউটার রিপেয়ারিং কাজ শুরু করি। এই কাজের মাধ্যমে আমি কিছু সমস্যা ও সমাধানের অভিজ্ঞতা অর্জন করি। ১৯৯০ সাল হতে ২০০৫ সাল পয্যন্ত আমাদের দোকানে কাজ করেছি। আমাদের দোকান ছিল চট্রগামের নাসিরাবাদ, ৯০০, সি,ডি,এ, এভিনিও, পূর্বকোণ পত্রিকা অফিসের পাশে। দোকানের নাম ছিল- মিতা রেডিও সার্ভিস। ২০০৭ সালে জাহাজে নেভিগেশন ইকুইপমেন্ট রিপেয়ারিং কাজ শুরু করি। চট্রগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত জাহাজ কম্পানী কন্টিনেন্টাল লাইনার এজেন্সির সুপার মেরিন চিপ-ইঞ্জিনিয়ার আবু হাসান আমাকে জাহাজে নিয়ে যান জাহাজের নেভিগেশন যন্ত্রপাতি রিপেয়ারিং কাজ করার জন্য। সব সময় প্রাকট্রিকাল কাজ হতে বেসিক থিওরিকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছি। এজন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করতে শুরু করি। যে বিষয়গুলোতে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করি, সে বিষয়গুলো হল- বাংলা সাহিত্য ও গ্রামার, ইংরেজী, উদ্দু, আরবী গ্রামার, ফার্সি, হিন্দী, ফেন্স, ইলেট্রিক, ইলেকট্রোনিক্স, কম্পিউটার হার্ডওয়ার, হাইড্রোলিক্স, মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফায়ার ফাইটিং, মেরিন রাডার ইন্সট্রলেশন, মেরিন জায়রো কম্পাস ইন্সট্রলেশন, মেরিন কমিউনিকেশন, মেরিন সার্ভে, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব-বিজ্ঞান, জোর্তিবিজ্ঞান, কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ, তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন, তাফসীরে তাবারী শরীফ, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে মাজা, নাসায়ী, মেশকাত শরীফ, মুআত্তা, দারেমী, আহমদ, রিয়াদুস সালেহীন, আল-মাওয়াহেবে লাদুনিয়া, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ- গীতা, বেদ-পূরাণ, উপনিশদ, রামায়ণ, মহাভারত, বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র ত্রিপিটক, খ্রীষ্ঠান ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র বাইবেল ওন্ড-টেস্টামেন্ট, পবিত্র বাইবেল নিউ-টেস্টামেন্ট। কলকাতা হতে প্রকাশীত গীতার ব্যাখ্যাকারীগন গীতার ভূল ব্যাখ্যা করে মানুষকে ভূল পথে পরিচালিত করছে। এই ভূলগুলো সংশোধন করে কিছু নিদ্রিষ্ঠ শ্লোকের ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। যেমন ব্রাহ্মণ কে। এ বিষয়ে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন- হে অর্জুন, তুমি হলে ক্ষত্রিয় সাধক, তুমি কখনো ভ্রাহ্মণ হতে পারবেনা। ভবিষ্যতে ভ্রাহ্মণ আগমন করবে। তখন তোমরা তাদের অনুসরন করবে। ভ্রাহ্মণ হল সে সকল ব্যক্তি যারা ভ্রাহ্মার নাম নিয়ে উপাসনা শুরু করে। আর ভ্রহ্মা শব্দের অর্থ হল-সৃষ্টিকর্তা, যাকে আরবীতে বলা হয় খালেক, আর ইহা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একটি গুনবাচক নাম। যারা আল্লাহু আকবার বলে মসজিদে উপাসনা শুরু করে তাঁরা হল ভ্রাহ্মণ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিরান্নবইটি গুনবাচক নাম আছে। খালেক হল আল্লাহর একটি গুনবাচক নাম। হযরত শব্দের অর্থ সন্মানিত ব্যক্তি আর শ্রী শব্দের অর্থও সন্মানিত ব্যক্তি, উভয়ের অর্থ এক, শুধুমাত্র পার্থক্য ভাষা, হযরত শব্দটি উদ্দু আর শ্রী শব্দটি সংস্কিত, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম একজন নবী ছিলেন। তিনি একজন মুসলিম ছিলেন। কেননা তিনি হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ভবিষ্যত বাণী করেছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন। তিনি হবেন কল্কি অবতার। তাঁকে যারা অনুসরন করবে, তাঁরা হবে ভ্রাহ্মণ। তোমরা যারা আমাকে অনুসরন কর, যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা নগরীতে আগমন করবেন, তখন তোমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুসরন করবে। যদি তোমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুজে না পাও, তবে তোমরা ব্রাহ্মণদের অনুসরন করবে, ব্রাহ্মণদের সাথে মসজিদে নামাজ পড়বে, নামাজ মানুষকে স্বর্গে নিয়ে যাবে আর মূর্তিপূজা মানুষকে নরকে নিয়ে যাবে। ইসলাম ধর্ম যেরূপ মানুষকে দুটি শ্রেনীতে বিভক্ত করে। একজন ব্যক্তি মুসলিম অথবা অমুসলিম। তেমনি হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম তার যুগের মানুষকে দুটি শ্রেনীতে বিভক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন- যে আমাকে অনুসরন করবে, সে মুসলিম। আর যে অসূরের পূজা বা মূর্তিপূজা করে, সে অমুসলিম। সে নরকে গমন করবে। ভারতবর্ষের মানুষকে তিনি নিদিষ্ট সময়ে তাকে অনুসরন করতে বলেছেন এবং পরবর্তীতে যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন, তখন তাকে অনুসরন করতে বলেছেন। আজ হতে প্রায় তিন হাজার পাঁচ শত বছর পূর্বে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন। তার যুগ ছিল প্রায় এক হাজার বছর। তার যুগের পর আগমন করেছিলেন হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম। তাঁর যুগ ছিল প্রায় এক হাজার বছর। তাঁর যুগের পর আগমন করেছে কলিযুগ। এই কলি যুগের নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন থেকে শুরু হল ব্রাহ্মণদের যুগ। আর ইহা হল সর্বশেষ যুগ। আর এই যুগের সময়কাল হল প্রায় চার হাজার নয়শত বছর। এই সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা-তালাকের বার নং আয়াতে। বিগ-ব্যংগ-ওয়ানের জন্য একটি শূন্য। কেননা, কেননা মহাবিশ্ব শূন্য হতে সৃস্টি হয়েছে।চারশত নব্বই কোটি বছর হল পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। বিগ-ব্যাংগ-টু এর জন্য আরেকটি শূন্য। চাঁর হাজার নয়শত হিজরীতে কেয়ামত হবে। এক হাজার পাঁচশত বছর চলে গেছে। আর বাকী আছে প্রায় তিন হাজার পাঁচ শত বছর। যখন কেয়ামত হবে, তখন আকাশ হতে পাথর এসে পৃথিবীকে আঘাত করবে। পৃথিবী ধ্বংস হবে। যখন কেয়ামত হবে, তখন পৃথিবীর আকাশকে দেখতে মনে হবে রক্ত মিশ্রিত গরুর চামড়ার মত। বর্তমান সময়ে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ভিত্তির উপর একজন মানুষ জীবন অতিবাহিত করলে সে পরকালীন জীবনে সাফল্য লাভ করবে। ঈমান নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত। এই বইটি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের জন্য লেখা হয়েছে, তাই আপনার এলাকায় বইটি বিতরনের জন্য আপনার এলাকার কুরিয়ার সার্ভিসের ঠিকানা মোবাইলে মেসেজ করে পাঠাবেন। আপনার ঠিকানায় বই প্রেরন করা হবে।
তারিখ- মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
০৮/০৯/২০২২
mdnave@gmail.com
008801911793233
নামকরন
এই মহাবিশ্বে নিরাপদে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। আমরা যদি নিরাপদে থাকতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের এই মহাবিশ্ব অতিক্রম করে বাহিরে যাওয়ার নিয়ম কি তা জানতে হবে। এই বই পড়ে আমরা বুঝতে চেষ্টা করব কি পদ্ধতি অবলম্বন করে আমরা মহাবিশ্বের বাহিরে যেতে পারি। মহাবিশ্ব অত্যন্ত বিপদজনক একটি স্থান যা সৃষ্টি হয়েছে শূণ্য হতে এবং বিগ-ব্যাংগ-টু এর পর যে সকল ব্যক্তি এখানে থাকতে বাধ্য হবে, তাঁরা মহাবিপদের সম্মূখীন হবে। যারা হিন্দু বা সনাতন ধর্ম পালন করেন, যারা বৌদ্ধধর্ম পালন করেন, যারা খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন, বইটি তাদের জন্য লিখিত হয়েছে । আমাদের মধ্যে ধর্মীয় বিষয়ে অজ্ঞতা বিদ্যমান রয়েছে, তাই এগুলি দূরীকরন একান্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। আমাদের উচিত ধর্মকে সঠিকভাবে বুঝার চেষ্টা করা। তাই আমরা এখানে প্রতিটি ধর্মকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করবো। কেননা ধর্মের উপর নির্ভরশীল আমাদের ভবিষ্যত জীবন তা আমাদের বুঝতে হবে। ইহার সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কল্যান নিহিত রয়েছে। ধর্মকে আমরা সঠিকভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করবো। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, হে ঈমানদারগন, ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে এমন অনেক পন্ডিত ব্যক্তি আছে যারা সাধারন ও ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষদের নিকট হতে অন্যায়ভাবে অর্থ-সম্পদ গ্রহন করে থাকে। তাঁরা তাদেরকে আল্লাহর পথ হতে ফিরিয়ে রাখে, যারা সম্পদ, সোনা-রূপা, জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তুমি তাদের কঠিন শাস্তির সংবাদ প্রদান কর। (সূরা-তাওবাহ)। ইহুদীধর্ম, খ্রীষ্টানধর্ম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও অন্যান্য ধর্মগুলোর মধ্যে অনেক পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ আছেন, যাদের মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা রয়েছে, আবার এমন অনেক পন্ডিত ব্যক্তি রয়েছেন যারা কোন ধর্মই পালন করেন না এবং তাঁরা ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান করেন। তাঁরা সাধারন মানুষ হতে অন্যায়ভাবে অর্থ-সম্পদ গ্রহন করে ভোগ করেন। তাঁদের অনুসারীদের ধর্ম সম্পর্কে ধর্মীয় উপদেশ দান করেন কিন্তু তারা নিজেরাই ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ। তারা নিজেদের উচ্চ শিক্ষিত মনে করে সাধারন জনগনকে ধর্ম সম্পর্কে ভুল পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহর পথ হতে তারা সাধারন মানুষকে ফিরিয়ে রাখে। হিন্দুধর্মের পন্ডিতগন বলেন, সনাতন ধর্ম অন্য ধর্মের তুলনায় শ্রেষ্ট ধর্ম কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থে মূর্তিপূজার কথা বলা হয়নি। ভারতবর্ষে আদিকাল হতে নয়জন অবতার বা নবী ও রাসূল আগমন করেছিল। তাদের প্রত্যেকেই শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বিশ্বাসস্থাপন করেছিল। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, তিনি হবেন দশম এবং ভারতবর্ষের বাহিরে তিনি আগমন করবেন। তিনি সাদা ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার দ্বারা অশুর বা শয়তানকে দমন করবেন। তিনি কলিযুগে আসবেন। তাঁর মায়ের নাম হবে সুমতি বা আমেনা। পিতার নাম হবে বিষ্ণুযশ বা আবদুল্লাহ, রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখে মক্কা শরীফে জন্মগ্রহন করবেন। তবুও হিন্দু পন্ডিতগন জনগনকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রদান করে। তেমনিভাবে বৌদ্ধধর্মে হযরত গেীতম বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম, হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, তিনি হবেন- আয্য মৈত্রিয়। তিনি ভারতবর্ষের বাহিরে আগমন করবেন। যখন তিনি আসবেন, তখন তোমরা সবাই তাঁর অনুসরন করিও। হযরত গেীতম বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম এর এক হাজার বছর পর হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছিলেন। ইহুদী ও খ্রীষ্টানগন তাদের ধর্মগ্রন্থ পরিবর্তন করেছে। তেমনিভাবে অনেক শিক্ষিত মানুষ বিজ্ঞানের সামান্য জ্ঞানার্জন করে নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করে। বিজ্ঞানচর্চা করা ভাল কাজ কিন্তু ইসলাম ধর্ম ব্যতীত বিজ্ঞান কখনো সফলতা পাবেনা কেননা কোরআন ও হাদীস হল মহাবিজ্ঞান। এই বইতে আমাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তাই নামকরন করা হয়েছে- মহাবিশ্ব এবং আমাদের ভবিষ্যত। বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে আমাদের যে সকল সমস্যা রয়েছে, তা আমরা এখানে সহজ সমাধান করার চেষ্টা করবো। এখানে কোন বিষয়ে ভূল-ভ্রান্তি আপনাদের দৃষ্ঠিগোচর হলে তা আমাদের জানিয়ে দিবেন, পরবর্তী সংস্করনে তা সংশোধন করা হবে। বইটি পাঠকের জন্য সহজ ও সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমান পৃথিবীতে প্রধান ধর্মগুলো হল- ইসলাম ধর্ম, খ্রিষ্টান ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, ইহুদি ধর্ম, চাইনিজ ধর্ম। আর ইহাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো হল- পবিত্র আল-কোরআন ও আল হাদিস, পবিত্র বাইবেল ওল্ড টেস্টামেন্ট ও পবিত্র বাইবেল নিউ টেস্টামেন্ট, পবিত্র বেধ-পূরাণ সমূহ, পবিত্র ত্রিপিটক। সবগুলো ধর্ম একত্ববাদের ধর্ম। সব ধর্মগ্রন্থ এক আল্লাহ কথা বলেছে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তাই একমাত্র আল্লাহর এবাদত করতে হবে। ইহা প্রচারের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর শুরু থেকে মানবজাতির ইতিহাসে প্রথম নবী, আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিছ সালাম থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল প্রেরন করেছেন বিভিন্ন সময়ে বিভ্ন্নি জাতির মাঝে। যেন আমরা শুধু এ কথাটি মেনে নেই, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, আল্লাহর কোন শরীক নেই, শুধুমাত্র আল্লাহর এবাদত কর। আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে সর্বপ্রথমে একজন পুরুষ ও একজন নারী পৃথিবীর বাহির হতে আগমন করেছিলেন। একজনের নাম হল- হযরত আদম আলাইহিছ সালাম আর আরেকজনের নাম হল- হযরত হাওয়া আলাইহিছ সালাম। হযরত আদম আলাইহিছ সালাম একজন নবী ছিলেন। আল্লাহর নিকট হতে তিনি লিখিত ছহিফা প্রাপ্ত হন। হযরত আদম আলাইহিছ সালাম হলেন পৃথিবীর সর্বপ্রথম নবী এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বশেষ নবী। একলক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল এই পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। এমন কোন দেশ নেই যেখানে নবী ও রাসূল আগমন করেনি। তিনি ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন, যার বর্তমান নাম হল-শ্রীলংকা। প্রত্যেক নবী ধর্ম প্রচার করতে আগমন করেছিলেন। তাদের মূল বাণী ছিল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল। প্রত্যেক নবীর উপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বিশ্বাসস্থাপন করা এবং তিনি সর্বশেষ আগমন করবেন, তা প্রচার করা সকলেন জন্য বাধ্যতামুলক ছিল।
আল-কোরআন ও বিজ্ঞান
বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ।বর্তমানে বিজ্ঞানের কিছু আবিস্কার হল এরূপ- আমরা নিজেরা এবং মহাবিশ্বের সবকিছু পরমানু দিয়ে গঠিত। পরমানুর গঠন- ইলেট্রন-প্রোটন-নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে তৈরি। নিউট্রন ও প্রোটন কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি। আইনস্টাইন তার থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে ই=এম-ছি স্কয়ার সূত্রটি বের করে দেখিয়েছেন যে, ভরকে শক্তিতে রুপান্তর করা যায়। ঋণাত্মক কাজ করা হল কোন বস্তু থেকে শক্তি সরিয়ে নেয়া। ধনাত্মক কাজ করা হল বস্তুটিকে শক্তি দেয়া। শক্তি বা এনার্জি ট্রান্সপার হল-সাধারণ মুখের ভাষায় বল প্রয়োগ করা আর শক্তি প্রয়োগ করার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। শক্তির কোন দিক নেই। আমরা যখন কথা বলি, তখন শব্দ এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় পৌঁছে যায়, ইহা হল শব্দ তরঙ্গ। আলো হল- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। তড়িৎ ক্ষেত্র বা ইলেকট্রিক ফিল্ড- পজিটিভ চার্জ থেকে বলরেখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেগেটিভ চার্জের দিকে বলরেখা কেন্দ্রীভূত হয়। বংশপরম্পরায় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী উপাদান- নিউক্লিয়াসের ভিতরে ক্রোমোজোমের অবস্থান-ডি-এন-এ- হেলিক্স। ইলেকট্রন পজেটিভ চার্জ। এন্টি-ইলেকট্রন নেগেটিভ চার্জ। স্পিন এক রকম- হাফ-হাফ-ম্যাস-চার্জ- স্পিন- ম্যাগনেটিক মোমেন্ট- ম্যাগনেটিক ফিল্ড- লেপটন নাম্বার- স্পিন-চার্জ -কালার চার্জ- ম্যাস- প্লোটনের চার্জ প্লাস ওয়ান নিউট্রনের চার্জ জিরো। ইলেকট্রনকে দেখার চেষ্টা করা হলে পার্টিকল আর দেখা না হলে ওয়েভ। নিউট্রেনো হল চার্জহীন নিরপেক্ষ কণা যার গতি আলোর গতি হতে অধিক। কেওছ বা বিশৃঙ্খলা তত্ত্ব হল-গাণিতিকভাবে বিশৃঙ্খল কিন্তু কাঠামো সুসংজ্ঞায়িত। বাটারফ্লাই এফেক্ট বা প্রজাপতির প্রভাব হল- কোন ছোট ঘটনার কারনে বড় কোন ঘটনা সংঘটিত হওয়া। কোয়ান্টাম টানেলিং- বড় কোন বাধা অতিক্রম করে যাওয়া যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোনে অসম্ভব। ইনটেঙ্গেলমেন্ট হল- দুটি পার্টিকেলের মধ্যে একটি অদৃশ্য সম্পর্ক রয়েছে, যার ফলে পার্টিকেল দুটিকে যত দূরেই রাখা হউক না কেন, তাদের মধ্যে একটি যোগাযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখনও বুঝতে পারেননি যে, দুটি পার্টিকেলের মধ্যে কিভাবে যোগাযোগ হয়। তাদের এই যোগাযোগের গতি আলোর গতি হতে বেশী স্পিড। আইনস্টাইন যাকে বলতেন স্পুকি একশন বা ভৌতিক ঘটনা। এন্টি-পারটিকল হল-বিপরীত কনিকা যা আমাদের বিপরীতে অবস্থান করে। বিগ-ব্যাংগ তথ্য- যা আবিস্কার করেন স্টিপেন হকিংস। চন্দ্র ও সূয্য উভয়ে গতিশীল। লোহা পৃথিবীর বাহির হতে এসেছে। সব প্রানীজগৎ পানি হতে সৃষ্টি। বিজ্ঞানীগন বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করে জানার পরেও কি করে আমরা মহাবিপদজনক মহাবিশ্ব হতে বাহির হব তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। তাই আমরা আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য এবং অনন্তকাল ভবিষ্যৎ মহাবিপদজনক মহাবিশ্বের বাহিরে শান্তিময় স্থানে বেঁচে থাকার জন্য সকল ধর্ম ও বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করবো আমাদের নিজেদের স্বার্থে। এ বিষয়ে আমরা বিজ্ঞান ও প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলোর জ্ঞান অর্জন করতে চেষ্টা করবো। পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা আর রহমানে আমরা কিভাবে মহাবিশ্ব হতে বাহির হব, তা বর্ণনা করা হয়েছে। আর-রহমান-আল্লামাল কুরআন-খালাকাল ইনছান-আল্লামাহুল বায়ান-আস-সামচু ওয়াল কামারু বেহুচবান-ওয়াননাজমু ওয়াসসাজারু ইয়াচযুদান-ওয়াচচামাআ রাপাআহা ওয়াদাআল মিজান-আল লা তাতগাউ পিলমিজান-ওয়াকিমুল ওযনা বিলকিচতে ওলা তুখচেরুল মিযান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দয়ালু। রহমান ইহা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একটি গুনবাচক নাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিরানব্বইটি গুনবাচক নাম আছে। আল্লাহ রহমান বা দয়ালু ইহকালের জন্য, আর রাহীম বা অতীব দয়ালু পারকালের জন্য। বিজ্ঞানের ভাষায় ইহকালকে বলা হয় বিগ-ব্যাংগ-ওয়ান আর পরকাল হল বিগ-ব্যাংগ-টু। এই আর রহমান সূরাটি বিজ্ঞান গবেষকদের জন্য, বিশেষ করে জ্যোতিবিজ্ঞান ও পদার্থ বিজ্ঞানীদের জন্য। কেননা এখানে একটি অতীব জটিল সমস্যার সমাধান দেয়া হয়েছে। সমস্যাটি হল- মানুষ কিভাবে এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হবে। মৃত্যুর মাধ্যমে কি আমাদের জীবনের সমাপ্তি হবে অথবা পরবর্তীতে নতুন জীবন আছে। এই সূরায় সাত ও তেত্রিশ নং আয়াতে মিজান ও সুলতান-শব্দের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান দেয়া হয়েছে। আসুন আমরা জানি, এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হওয়ার উপায় কি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষ কোরআনের জ্ঞান অর্জন করতে পারে। আল্লাহ তার নবীকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানবশিশু অতি অল্প সময়ের মধ্যে কোরআন শরীফ মুখস্থ করতে পারে।কোরআন শরীফ সংরক্ষনের দায়িত্ব আল্লাহ নিজের নিকট রেখেছেন। ইহা আগমনের পূর্বে আরও একশত তিনটি গ্রন্থ পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু মানুষ সেগুলি বিকৃতি সাধন করেছে। সেই ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হল- খ্রিষ্টান, ইহুদী, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের গ্রন্থ। আল্লাহ মানুষ সৃস্টি করেছেন। সর্বপ্রথম মানুষ সৃস্টি করেছেন মাটি দিয়ে। আর তিনি হলেন হযরত আদম আলাইহিছ সালাম। তিনি এই পৃথিবীতে আগমনকারী সর্বপ্রথম মানুষ এবং একজন নবী ছিলেন।তিনি পৃথিবীর বাহির হতে আগমন করেছিলেন শ্রীলংকায়। তার স্ত্রী বিবি হাওয়া আলাইহিছ সালাম পৃথিবীর বাহির হতে আগমন করেছিলেন জেদ্দায়। উভয়ের সাক্ষাত হয়েছিল আরাফাত ময়দানে। এভাবে উভয়ের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীতে মানবজাতির বিস্তার লাভ করে। এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে কোথায় হযরত আদম ও হযরত হাওয়া আলাইহিছ সালামকে সৃষ্টি করা হল এবং কিভাবে তাঁরা পৃথিবীতে আসলেন। তাঁদের সৃষ্টি করা হয়েছিল লানিয়াকে সুপার ক্লাস্টারের একটি ক্ষনস্থায়ী জান্নাতে এবং সেখান থেকে তাঁদের পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল ম্যাস-ট্রান্সপারেছ বা টেলি-পোরটেশন এর মাধ্যমে। আর এই কাজটি করেছে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। ঠিক তেমনিভাবে ইহুদিরা যখন হযরত ঈশা আলাইহিছ সালামকে হত্যা করতে গিয়েছিল তখন তাকে ম্যাস-ট্রান্সপারেছ এর মাধ্যমে চতুর্থ আকাশে একটি ক্ষনস্থায়ী জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয়। তিনি আবার সেখান হতে মক্কা শরীফের কাবা ঘরের ছাদে অবতরন করবেন। মোবাইলে যেরূপ টু-ডায়মেনশন ছবি ট্রান্সপার করা হয়, ঠিক তেমনি লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার ফোর-ডায়মেনশন মানুষকে এক স্থান হতে অন্য স্থানে পাঠাতে পারেন এবং এই পাঠানোর গতি, আলোর গতি হতে কোটিগুন বেশী স্পিড। মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন বিষয়ভিত্তিক বয়ান করা। মানুষ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা করে, জ্ঞান অর্জন করে, বিষয় ভিত্তিক ব্যাখ্যা করতে পারে। চন্দ্র ও সূয্য নিজেদের কক্ষপথে হিসাবমত চলে। চন্দ্র ও সূয্য নিদিষ্ট কক্ষপথে চলে, আকারে বড়-ছোট হওয়া সত্ত্বেও। তেমনিভাবে, সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্র নিজেদের কক্ষপথে চলে, এগুলোর মর্ধ্যাকর্ষণ শক্তি, গতি, রং, তাপমাত্রা সবকিছু প্রোগ্রাম করা। লাওহে মাহফুজ এগুলিকে নিয়ন্ত্রন করে। লাওহে মাহফুজ হল একটি বিশাল কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। এই কম্পিউটারের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তের দূরত্ব একশত আলোকবর্ষ। আমাদের ফোর ডায়মেনশনের পৃথিবীর জীবন ও তাকদির ইহা হতে পরিচালিত হয়। আমাদের তাকদিরে কোন পরিবর্তন আসেনা আল্লাহর নিকট দোয়া ব্যতীত। আল্লাহর নিকট আমাদের দোয়া কবুল হলে আমাদের ফোর ডায়মেনশন তাকদিরের প্রোগ্রাম কারেকশন করা হয় লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারে। উজ্জল তারকা এবং গাছ সেজদারত আছে। নজম হল আকাশের উজ্জল তারকা। বর্তমানে আমরা জোতিবিজ্ঞান অধ্যয়ন করে জানি, আকাশের উজ্জল তারকা হল সুপার নোভা। সাজারু অর্থ হল গাছ। বর্তমানে আমরা জোতিবিজ্ঞান অধ্যয়ন করে জানি-আমাদের লানিয়াকেয়া সুপার ক্লাস্টার দেখতে গাছের মত। ইয়াচযুদান অর্থ হল- সেজদারত অবস্থায় আছে। মসজিদে সেজদারত অবস্থায় একজনের মাথা হতে অন্যজনের মাথা একটি নিদিস্ট দূরত্ব বজায় থাকে। এখন যদি আমরা অর্থ করি- আকাশে উজ্জল তারকা ও আমাদের বাড়ীর মাটিতে লাগানো গাছ, উভয়ে সেজদারত অবস্থায় আছে, তাহলে এখানে অর্থ মিলছেনা, আকাশে উজ্জল তারার সাথে, গাছও আকাশে থাকতে হবে, তাহলে অর্থ মিলবে। সুতরাং এখানে অর্থ হবে- সুপার নোভা ও লানিয়াকেয়া সুপার ক্লাস্টারের গ্রহ-নক্ষত্রগুলো সারিবদ্ধভাবে নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখে। দের হাজার বছর আগে যখন কোরআন শরীফ নাযিল হয়। তখন আরবের জনগনের সুপারনোভা ও লানিয়কেয়া সুপার ক্লাস্টার সম্পর্কে কোন ধারনা ছিল না। বর্তমানে মানুষ এ বিষয়ে জানতে পেরেছে। তাই বৈজ্ঞানীকভাবে প্রমাণীত হল, কোরআন শরীফ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বাণী। যে লানিয়াকেয়া সুপার ক্লাস্টার সৃস্টি করেছেন। যে সুপার নোভা সৃস্টি করেছেন। কোরআন শরীফ আল্লাহর পক্ষ হতে নাযিল হয়েছে। যেহেতু দের হাজার বছর পরের বিষয় কোরআন শরীফে সত্য প্রমাণীত হল। তাই ভবিষ্যৎ বিষয়ে কোরআন শরীফে যা বর্নীত হয়েছে, তা সত্য প্রমাণীত হবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আকাশের মধ্যে এই লানিয়াকেয়া সুপার ক্লাস্টার আমাদের অতি নিকটে।বাড়ীতে আমাদের ঘর ও ঘরের পাশে গাছগুলো যেরূপ কাছাকাছি। তেমনি ইহা আমাদের পৃথিবীর নিকটতম ক্লাস্টার। আমাদের বাড়ীর গাছগুলো পৃথিবীর তুলনায় যেরূপ ছোট, প্রথম আকাশের তুলনায় লানিয়েকা সুপার ক্লাস্টার তেমনি ছোট। আকাশকে একটির উপর অন্যটি স্থাপন করেছেন, অতঃপর ইহাদের উপর মিজান স্থাপন করেছেন। মিজান হল-দাড়িপাল্লা, ভারসাম্য, বেলেন্স, এন্টি-পারটিকল, একজন মানুষের বিপরিতে আকাশে অবস্থিত দুটি মানুষ। এই মিজান- শব্দটিকে বুঝতে হলে আমাদের জ্যোর্তিবিজ্ঞান ও কোয়ান্টাম ফিজিক্স সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা থাকা প্রয়োজন। বর্তমান যুগ হল বিজ্ঞানের যুগ। আমাদের ভবিষ্যৎ কি। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানতে অনেক বিজ্ঞানী কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা বুঝতে চেষ্ঠা করছেন, কিভাবে আমরা এ মহাবিশ্ব পার হয়ে কোন শান্তিময় স্থানে অবস্থান করব। তাঁরা বুঝতে চেষ্ঠা করছেন- মৃত্যুর মাধ্যমে কি আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে অথবা আমরা কোন নতুন জীবন পাব। বিজ্ঞানীদের এ সকল সমস্যার সমাধান দেয়া হয়েছে এখানে। বিশেষ করে আমরা কিভাবে এই মহাবিপদজনক মহাবিশ্ব হতে বাহির হব। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী এ বিষয়ের উপর কাজ করছেন। তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন, আমাদের এন্টি-পারটিকল আছে। কিন্তু আমাদের এন্টি-পারটিকল কোথায় আছে, কিভাবে আছে, ইহার কোন সমাধান দিতে পারেননি। এ বিষয়ে তারা গবেষনা করছেন। তারা আরও জানিয়েছেন, আমাদের সাথে কেউ যোগাযোগ রাখছে। মিজান হল আমাদের দুটি দেহ যা আমাদের পৃথিবীর দেহের বিপরীতে অবস্থান করছে। আমাদের দেহ হল তিনটি। একটি এই পৃথিবীর পরিক্ষামূলক ছয় ফুট উচ্চতার ছোট দেহ। দ্বিতীয় দেহটি হল জাহান্নামের জন্য তৈরি পচিঁশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার বিশাল দেহ। তৃতীয় দেহটি হল জান্নাতের জন্য তৈরি পচিঁশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার বিশাল দেহ। জাহান্নামের দেহটি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরো আর জান্নাতের দেহটি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। প্রতিটি মানুষ হল তিন জন। একজন এই পৃথিবীতে বাকী দুই জন আকাশে। এই তিন জন একই ব্যক্তি। তিনটি দেহের আত্মা একটি। যে দেহে আত্মা থাকবে, সে দেহ সচল থাকবে। মৃত্যুর পর জাহান্নামের দেহ সচল হবে অথবা জান্নাতের দেহ সচল হবে। কোন দেহটি সচল হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে কোন ধর্ম পালন করেছিল। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জান্নাতের দেহকে সচল করার জন্য পৃথিবীর শরীরে আত্মা থাকা অবস্থায় একটি ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে। আর তা হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল আগমন করেছিল এ পৃথিবীতে শুধুমাত্র এ কথা বলার জন্য। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ এ কথার সাক্ষী প্রদান করে। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল হবেন, এ কথাটি পূর্ববর্তী সকল ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পৃথিবীতে ধর্ম মাত্র একটি। আর তা হল ইসলাম। ইহা হল পৃথিবীর প্রধান ধর্ম। পূর্ববর্তী সকল দেশের, সকল এলাকার ধর্মগুলো হল ইসলাম ধর্মের শাখা। খ্রীষ্ঠান ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। হিন্দু বা সনাতন ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। হিন্দু ধর্ম মূর্তিপূজার কোন স্থান নেই। মূর্তিপূজা হল অসূর বা শয়তানের ধর্ম। বৌদ্ধধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। বৌদ্ধ ধর্মেও মূর্তিপূজার কোন স্থান নেই। খ্রিষ্টান ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা।তেমনি ইহুদী ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। আমরা যদি সাত আকাশ অতিক্রম করে জান্নাতে যেতে চাই তবে আমাদেরকে-সুলতান-হতে হবে। সুলতান হল কমান্ডার। সুলতান হল এমন একজন ব্যক্তি যে অন্যকে নির্দেশ প্রদান করে। আমরা জানি, প্রতিটি মানুষ হল তিন জন কিন্তু তাদের আত্মা হল একটি। যে শরীরে আত্মা থাকে সে হল প্রধান। বাকী দুটি দেহ হল এন্টি-পারটিকল-জিরো ও এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। জিরো অবস্থান করে প্রথম আকাশের শেষ সীমানায় আর ওয়ান অবস্থান করে এই মহাবিশ্বের বাহিরে জান্নাতের সীমানায়। এই পৃথিবীর দেহ যখন মৃত্যুবরন করে তখন তার আত্মাকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রথম আকাশে অবস্থিত আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরোতে। ইহা পচিঁশ হাজার কিলোমিটার লম্বা কালো একটি শরীর। এখানে আত্মা অনেক কষ্টের মধ্যে পতিত হয়। জিরো হতে ওয়ানের মধ্যে আছে ফাইভার অপটিকস কানেকশন। যে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করে, তার আত্মা জিরো হতে ওয়ান যেতে সক্ষম হয়। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিপক্ষে অবস্থান করে, তার আত্মা জিরো হতে ওয়ানে যেতে পারেনা, কেননা আত্মা ওয়ানে যাওয়ার ফাইভার অপটিকস কানেকশন লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন করে দেয়।তাই আসুন আমরা সবাই মহাসাফল্যের জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করি। মিজান এ জন্য স্থাপন করা হয়েছে যাতে তোমরা সীমালঙ্গন করতে না পার। মিজান হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরো ও এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। ইহা এজন্য স্থাপন করা হয়েছে যাতে আমরা সীমালঙ্গন করতে না পারি। মানুষ যে কাজগুলো করে, প্রতিটি কাজের একটি এনার্জি ট্রান্সমিশন আছে এবং সপ্তম আকাশের উপরে একটি রিসিবার লাওহে মাহফুজ লাওহে কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার আছে। ইহা আমাদের প্রতিটি কাজকে রিসিভ করে। লাওহে মাহফুজ কলম অপারেটিং সিস্টেমের অধিনে চলে। ইহা আমাদের প্রতিটি কাজকে এনালাইছিছ করে। আমাদের প্রতিটি কাজকে কোরআন ও হাদীসের আইনের সাথে ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতের সাথে কমপেয়ার করা হয়। মানুষ কলম অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যামে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারের অধিনে ফোর ডায়মেনশন ফরওয়ার্ড এ জীবন-যাপন করে। আমাদের তাকদির নির্ধারিত। তাকদির পরিবর্তন হয়না আল্লাহর নিকট দোয়া ব্যতীত। একটি উদাহরনের মাধ্যেমে বিষয়টি আমরা আরো পরিস্কারভাবে বুঝতে পারি। একজন ব্যক্তির তাকদিরে লেখা আছে আগামীকাল জ্বর আসবে। সে যদি আজ মসজিদে নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করে, শরীর সুস্থ রাখার জন্য আর আল্লাহ যদি দোয়া কবুল করে তাকদির পরিবর্তন করে দেন, তবে সে ব্যক্তির আগামীকাল জ্বর আসবেনা। কেননা আল্লাহর নিকট দোয়া কবুল হলে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারে প্রোগ্রাম কারেকশন করা হয়। তোমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা কর এবং মিজানকে ছোট করে দিওনা। তোমরা সমাজে, রাষ্টে ও পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা কার, ওজনে কম দিওনা, ওজন হল আমাদের আমল, আমাদের কর্মসমূহ। আমাদের শরীর তিনটি। প্রথমটি হল এই পৃথিবীর ছয় ফুট লম্ভা ছোট শরীর। দ্বিতীয়টি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরো যা কালো মাটি দিয়ে তৈরি পচিঁশ হাজার কিলোমিটার লম্ভা একটি কালো কুৎসিত শরীর। তৃতীয়টি হল আমাদের এন্টি-পারাটিকল-ওয়ান যা ডিমের কুসুম দিয়ে তৈরি পচিঁশ হাজার কিলোমিটার লম্ভা একটি অতীব সুন্দর শরীর। পৃথিবীতে ব্যক্তি যখন অন্যায় কাজ করে তখন দ্বিতীয় শরীরটি বৃদ্ধি পায়, এভাবে যত অন্যায় কাজ করতে থাকবে শরীরটি তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, শেষ পয্যন্ত তা চাঁর-পাঁচ লক্ষ কিলোমিটার লম্ভা কালো কুৎসিত একটি শরীরে পরিনত হয় আর ইহা হল জাহান্নামের শরীর। তেমনি পৃথিবীতে ব্যক্তি যখন মসজিদে নামাজ পড়ে তখন তৃতীয় শরীরটি বৃদ্ধি পায়, এভাবে ঈমান-নামাজ-রোজা-হজ্ব-যাকাত ও অন্যান্য ভাল কাজের মাধ্যমে শরীরটি বৃদ্ধি পেতে থাকবে, শেষ পয্যন্ত তা চাঁর-পাঁচ লক্ষ কিলোমিটার লম্ভা ডিমের কুসুমের মত সুন্দর একটি শরীরে পরিনত হয় আর ইহা হল ব্যক্তির জান্নাতের শরীর। তোমারা কোন নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন দিওনা। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ হল এনার্জি ট্রান্সমিশন। পৃথিবীর সব মানুষকে এখানে বলা হয়েছে তোমরা ওজনে কম দিওনা। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করল না সে ওজনে কম দিল। যে ব্যক্তি নামাজ কায়েম করেনা সে ওজনে কম দেয়। যে রোজা রাখেনা সে ওজনে কম দেয়। যে হজ্ব পালন করেনা সে ওজনে কম দেয়। যে যাকাত দেয়না সে ওজনে কম দেয়। যে মিথ্যা কথা বলে সে ওজনে কম দেয়। যে ন্যায় বিচার করেনা সে ওজনে কম দেয়। তেমনিভাবে জীবনের প্রতিটি কাজ যা ব্যাক্তি ইসলামের বিপক্ষে করে তবে সে ওজনে কম দেয়। আর যদি ব্যক্তি ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী ভাল কাজ করে তবে সে ওজনে কম দেয়ার অপরাধে অপরাধী হবেনা। সে তাঁর ওজন বৃদ্ধি করে। সে তাঁর এন্টি-পারটিকল-ওয়ানের আকৃতি বৃদ্ধি করে ভাল কাজের মাধ্যমে। তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্য। এই পৃথিবী মানুষের জন্য পরিক্ষা কেন্দ্র। ইহা সৃষ্টি করা হয়েছে প্রানীজগৎ বসবাসের জন্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল এই পৃথিবীতে রেখেছেন প্রানীজগৎ যেন মানুষ খাদ্য গ্রহন করে বেঁচে থাকতে পারে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যেন এখানে মানুষ একটি নিদিস্ট সময় পয্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এই পৃথিবীর জীবন মানুষের জন্য একটি পরিক্ষা কেন্দ্র। যে ব্যক্তি এই জীবনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করবে সে পরকালে মহাসাফল্য লাভ করবে। এতে আছে ফল এবং বহিরাবরণবিশিষ্ট খেজুর বৃক্ষ। এই পৃথিবীতে আছে ফল ও খেজুর যা মানুষকে দেয়া হয়েছে সীমিত। পরকালে জান্নাতে দেয়া হবে সীমাহীন। আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগদ্ধি ফুল। মানুষের খাদ্যের জন্য দেয়া হয়েছে, ধান, গম, ভুট্রা, আরো বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। অতএব, তোমরা বিগ-ব্যাংগ- ওয়ানে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় পালনকর্তার নেয়ামতের অস্বীকার করা। কোন মুসলীম পালনকর্তার অবদানকে অস্বীকার করে না। এই পৃথিবীর সর্বাধিক মানুষ পালনকর্তাকে স্বীকার করে। এই আর-রহমান সূরাটি মূলত তাদের জন্য যারা ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান করে কেননা এই সূরাটির নামকরন করা হয়েছে, আর-রহমান হিসাবে, রহমান হলেন সেই পালনকর্তা, যিনি এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে লালন-পালন করেন, ব্যক্তি পালনকর্তাকে স্বীকার করুক অথবা না করুক। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুকনা মাটি হতে। তিনি হযরত আদম আলাইহিছ সালামকে এই পৃথিবীর মাটি দিয়ে লানিয়াকেয়া সুপারক্লাস্টারের মধ্যে তৈরি করেন। অতঃপর বিবি হাওয়া আলাইহিছ সালামকে তৈরি করে পৃথিবীতে মাস-ট্রান্সপারেছ করেন। অতঃপর উভয়ের মাধ্যমে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর জ্বিনকে অগ্নি শিখা হতে সৃষ্টি করেছেন। মানবজাতির পূর্বে জ্বিন জাতি সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ ও জ্বিনকে আল্লাহর এবাদত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। উভয়কে এ বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই হাসরের মাঠে উভয়ের বিচার করা হবে। অতএব, এই পৃথিবীতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবধানকে অস্বীকার করবে। তিনি দুই পূর্বের ও দুই পশ্চিমের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবধানকে অস্বীকার করবে। তিনি দুই সমুদ্রকে একসাথে প্রবাহিত করেছেন। উভয় সমুদ্রের মাঝে প্রাচীর রয়েছে, যা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। উভয় সমুদ্র হতে মুক্তা ও প্রবাল উৎপন্ন হয়। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে। সমুদ্রে বিচরণশীল জাহাজসমূহ তাঁরই নিয়ন্তনে।সমুদ্রে বিচরশীল জাহাজ, আকাশে চলমান বিমান, আকাশে উড়ন্ত পাখি, সব তারই নিয়ন্ত্রণে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করেবে। পৃথিবীতে যা আছে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধুমাত্র বাকী থাকবে তোমার মহান পালনকর্তার মান-সন্মান, আর তা হল মহাবিশ্বের বাহিরে অবস্থিত আটটি জান্নাত যা কখনো ধ্বংস হবেনা। এই মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে সাতটি নরকের অর্ন্তভূক্ত হবে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। আকাশে ও পৃথিবীতে যা আছে, তাঁর নিকট প্রতিদিন প্রার্থনা করে। তিনি সর্বদা কোন না কোন কাজে রত আছেন। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। হে মানুষ ও জ্বীন, আমি শীঘ্রই তোমাদের হিসাব-নিকাশের প্রতি মনোনিবেশ করবো। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। হে জ্বিন ও মানবজাতি, মহাবিশ্বের সীমা হতে তোমরা যদি বের হতে পার তবে বের হয়ে যাও কিন্তু তোমরা তা কখনও পারবেনা, সুলতান ব্যতীত। এ আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। কোন ব্যক্তি কখনও এ মহাবিশ্বের বাহিরে যেতে পারবেনা, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে সুলতান।সুলতান হল সে ব্যক্তি যে কমান্ডার। সুলতান হল এমন একজন ব্যক্তি যে মুখে কথা বলে অন্যকে নির্দেশ প্রদান করে। সুলতান হল ভয়েজ কমান্ড প্রদান করা। সুলতান অর্থ কমান্ডার, ব্যক্তি, ডিকটেশান, এনার্জি ট্রান্সপার, দেশের প্রধান ব্যক্তি, আল্লাহর গুনবাচক নাম। আর সে ভয়েজ কমান্ড হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলা। প্রতিটি ব্যক্তি হল তিন জন। এ পৃথিবীর শরীর ও আত্মা যা মানুষের পার্টিকল মেমোরি। প্রথম আকাশের শেষ সীমানায় অবস্থিত মানুষের জাহান্নামের শরীর যা আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরো। ইহা কালো মাটি দিয়ে তৈরি ভয়ানক কুৎসিত একটি শরীর। ইহা ব্যক্তির দ্বিতীয় শরীর। ইহার উচ্চতা পচিঁশ হাজার কিলোমিটার। আকাশে অবস্থিত মানুষের জান্নাতের শরীর যা আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ান হিসাবে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার এর জান্নাতের দিকে অবস্থান করছে। ইহা ডিমের কুসুম দিয়ে তৈরি সুন্দর একটি শরীর। ইহা ব্যক্তির তৃতীয় শরীর। ইহার উচ্চতা পচিঁশ হাজার কিলোমিটার। এই শরীরের মাধ্যমে আমাদের মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে যেতে হবে মৃত্যুর মাধ্যমে। এই শরীরকে একটিভ করার ভয়েজ কমান্ড হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। এই কমান্ড ব্যতীত অন্য কোন ভয়েজ কমান্ড দিলে আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ হবেনা। কেননা লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার কলম অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে চলে। এই বাক্য ব্যতীত এই কম্পিউটার ব্যক্তির এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ করবেনা। অতএব, এই পৃথিবীতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। তোমাদের উভয়ের প্রতি অগ্নিশিখা ও ধোঁয়া প্রেরন করা হবে। তোমরা তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, তখন তা লাল চামড়ার ন্যায় হবে। অতএব, এই পৃথিবীতে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। হাসরের মাঠে মানুষ ও জীনকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। হাসরের মাঠে অনেক মানুষকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। কেননা পৃথিবীতে অবস্থানকালে তাদের আমলেন হিসাব সাথে সাথে করা হয়েছে। যা একজন মানুষের শরীরে প্রকাশ পাবে, মানুষ নিজেই বুঝতে পারবে, সে জান্নাতী অথবা জাহান্নামী, নতুন করে আমলের হিসাব করার কোন প্রয়োজন নেই। অতএব, এই পৃথিবীতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। হাসরের মাঠে অপরাধীদেরকে তাদের চেহারা দেখে চিনা যাবে, তাদের গ্রেফতার করা হবে, কপালের চুল ও পা ধরে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। ইহা সেই জাহান্নাম, যা অপরাধীরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো। তাঁরা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটাছুটি করবে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। আর যে তাঁর পালনকর্তার সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তাঁর জন্যে আছে দুটি জান্নাত। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। উভয় জান্নাতে বহু শাখাবিশিষ্ট বৃক্ষ রয়েছে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। উভয় জান্নাতে সর্বদা প্রবাহমান দুটি ঝর্ণাধারা রয়েছে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। উভয় জান্নাতে প্রত্যেক ফল জোড়ায় জোড়ায় রয়েছে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। সেখানে তাঁরা রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে, দুই জান্নাতের ফল তাদের নিকটবর্তী হবে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। উভয় জান্নাতে রয়েছে, তাদের জন্য সুন্দরী হুর, যাদেরকে কোন মানুষ অথবা জ্বিন স্পর্শ করেনি। প্রতিটি জান্নাতে অসংখ্য সুন্দুরী হুর রয়েছে, তাদের গায়ে যে ওরনা রয়েছে, তা পৃথিবীতে যত সম্পদ আছে তা হতে বেশী মূল্যবান, প্রতিটি হুরের আকৃতি বিশাল হবে, তাঁদের সর্বনিম্ন আকৃতি হবে, কাঁধের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার কিলোমিটার, তাদের হাতের দৈর্ঘ্য বার হাজার কিলোমিটার, তাদের শরীরের উচ্চতা পচিঁশ হাজার কিলোমিটার। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। তাঁরা যেন হীরা ও মণি-মুক্তার মত সুন্দরী। জান্নাতে হুর কিরূপ সুন্দরী তা বুঝানার জন্য তাঁদেরকে হীরা ও মণি-মুক্তার সাথে তুলনা দেয়া হয়েছে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। মুসলিমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কোন অবদানকে অস্বীকার করে না। তাই এখানে প্রশ্ন করা হয়েছে অমুসলিমদের যারা এখনও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নাই। তাই আমাদের সকলের কর্তব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুসরন করা। উত্তম কাজের পুরস্কার উত্তম জান্নাত ব্যতীত আর কি হতে পারে। প্রথম উত্তম কাজ হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ বলা। দ্বিতীয় উত্তম কাজ হল-নামাজ কায়েম করা। এই দুটি জান্নাত ব্যতীত আরো দুটি জান্নাত রয়েছে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। ঐ জান্নাত দুটি অতি সুন্দর সবুজ রংঙের। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। ঐ জান্নাতদ্বয়ে আছে, দুটি উৎক্ষিপ্তমান ঝর্ণাধারা। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। সেখানে ফলমূল খেজুর ও ডালিম রয়েছে। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। সেখানে রয়েছে উত্তম চরিত্রের সুন্দরীগন। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। সেখানে তাঁবুতে থাকবে সুরক্ষিত হুর। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। পূর্বে মানুষ অথবা জ্বিন, তাদের কখনো স্পর্শ করেনি। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। তাঁরা হেলান দিয়ে বসবে এমন সুন্দর সবুজ বাগানে যা অতি বিরল ও অতি উত্তম। অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে। কত মহান তোমার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব। আমি তোমাদের পরিবর্তন করে নিয়ে আসব এবং তোমাদেরকে তৈরি করব এমন আকৃতিতে যা তোমরা জাননা । তোমরা প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে অবগত হয়েছো, তবে তোমরা কেন উপদেশ গ্রহন কর না। আল কোরআন সূরা-ওয়াকিয়া। পবিত্র আল-কোরআনে বলা হয়েছে- এই কোরআন শরীফ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে। এই লাওহে মাহফুজ হল একটি কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। ইহার মাধ্যমে আমাদের ফোর-ডায়মেনশন কনটিনিও করে এবং ইহার মাধ্যমে পৃথিবীর সকল প্রানী বেঁচে আছে। ইহাকে বলা হয় তাকদির বা কেওছ আর ইহাকে পরিচালনা করে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। দুটি পার্টিকেলের মধ্যে যে অদৃশ্য সম্পর্ক রয়েছে- তা এই সুপার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইহার মাধ্যমে দুটি পার্টিকেল যোগাযোগ রাখে। আল্লাহর নিকট হতে আমাদের নিকট যে শক্তি আগমন করেছে তা হল- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরনের মধ্যেই আমাদের সাফল্য নিহিত রয়েছে। গড-পারটিকলস- বর্তমান বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিস্কার হল গড-পারটিকলস, যা ২০১২ সালে প্রমাণীত হয়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরনের মধ্যেই আমাদের সাফল্য নিহিত রয়েছে। হিগস বোসন বা ঈশ্বর কণা ইংরেজিতে যাকে বলে, হিগ বোসন, হিগ পার্টিকল বা গড পার্টিকল, ইহা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের মৌলিক কণা, এই কণার হিগ ক্ষেত্র সর্বত্র আছে এমনকি আকাশের শূন্যস্থানেও যেখানে আমরা মনে করি কিছু নেই। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগ ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে ইহার নামকরণ করা হয়। ইহা প্রথম আবিস্কার করেন ১৯২৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তিনি ইহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ল্যাবে গবেষণা করেন, ১৯৬৪ সালে পিটার হিগ ইহা আবিস্কার করেন, আর ইহা প্রমাণীত হয় ২০১২ সালে লার্জ হার্ডন কোলাইডারে যা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স বর্ডারের মাটির নিচে পাইপ লাইনের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে। এই কাজের সাথ যুক্ত ছিলেন একশতটি দেশের দশ হাজার বিজ্ঞানী । ঈশ্বর কণিকা বিষয়ে আল-কোনআন ও হাদিসে কি বলা হয়েছে । এই বিষয়টি এক হাজার চার শত বছর পূর্বে কোনআন ও হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য প্রায় চেীদ্দশত বৎসর পূর্বে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হয়রত মুহাম্মদ আলাইহিছ সালাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ আসমানী কিতাব মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে অবতীর্ন করা হয়। কোরআন শরীফে মানবজাতির জন্য সর্ববিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।মহাবিজ্ঞানময় কোরআন শরীফে পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিবিজ্ঞান সম্পর্কে সূরা আত-তালাকের বার নং আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহ সেই মহান সত্বা, যিনি সৃস্টি করেছেন সাতটি আকাশ এবং পরমানু তাদের অনুরূপ, পরমানুর মধ্যে আল্লাহর আদেশ অবতীর্ন হয়, মানবজাতি যেন বুঝতে পারে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত বস্তুর উপর ক্ষমতাবান, নিশ্চয়ই আল্লাহর জ্ঞান সমস্ত বস্তুকে আবৃত করে রেখেছে। এই আয়াতের আলোকে আমরা বুঝতে পারি, আল্লাহ সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পরমানু আকাশের মত। তেমনিভাবে পৃথিবী সাতটি শ্রেনিতে বিভক্ত। পরমানুর নিউক্লিয়াসে জেনেটিক কোডের মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ অবতীর্ন হয় এবং মহাবিশ্বের প্রতিটি পরমানু আল্লাহর নিয়ন্ত্রনে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারের মাধ্যমে। মহাবিশ্বের ভিক্তি কিসের উপর নির্ভরশীল এ বিষয়ে হাদীস শরীফে বর্নীত হয়েছে, হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনছারী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বণীত হয়েছে, হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ হোক, আপনার নিকট বিনীত আবেদন আমাকে এই সংবাদটি অবহিত করুন যে, মহান আল্লাহ তায়ালা সর্ব প্রথম কোন বস্তু সৃষ্টি করেছিলেন। প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে জাবির! আল্লাহ তায়ালা সমস্ত কিছু সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ নিজের নূর হতে তোমার নবীর নূর সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আল্লাহ তায়ালা এই নূরকে এমন শক্তি দান করলেন যে, সেই নূর আল্লাহর হুকুমে সর্বত্র ভ্রমন করতে পারত। ঐ সময় লাওহে মাহফুজ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেস্থা, আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূয্য, মানবজাতি, কিছুই ছিল না। অতঃপর যখন আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি জগৎ সৃষ্টির ইচ্ছা করলেন, তখন এই নূরকে চার ভাগে বিভক্ত করলেন, প্রথম অংশ দ্বারা কলম, দ্বিতীয় অংশ দ্বারা লাওহে-মাহফুজ এবং তৃতীয় অংশ দ্বারা আরশে মুআল্লা সৃস্টি করলেন, অতঃপর চতুর্থ অংশকে পূনরায় চার ভাগে বিভক্ত করলেন, প্রথম অংশ দ্বারা আরশ বহনকারী ফেরেস্থাগন, দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী এবং তৃতীয় অংশ দ্বারা অবশিস্ট সকল ফেরেস্তাগরকে সৃস্টি করলেন, অতঃপর চতুর্থ অংশকে পুনরায় চার ভাগে বিভক্ত করলেন, প্রথম অংশ দ্বারা আকাশসমূহ, দ্বিতীয় অংশ দ্বারা জমিনসমূহ এবং তৃতীয় অংশ দ্বারা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃস্টি করলেন, চতুর্থ অংশকে পূনরায় চার ভাগে বিভক্ত করলেন, প্রথম অংশ দ্বারা মুমিন বান্দাগনের চোখের জ্যোতি, দ্বিতীয় অংশ দ্বারা তাদের অন্তরের জ্যোতি, আর ইহা আল্লাহ তায়ালার মারেফাত এবং তৃতীয় অংশ হতে মুমিন বান্দাগনের উনছের নূর যা তাওহীদের নূর, লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মদুর রাসূলল্লাহ, এই কালেমার নূর সৃস্টি করলেন। (মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া সীরাত গন্থ)। কোরআন শরীফে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ওমা আরছালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামীন। হে নবী, আপনাকে উভয় জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরন করা হয়েছে। হে নবী, আপনাকে উভয় জাহানের জন্য, বিগ-ব্যাংগ-ওয়ান ও বিগ-ব্যাংগ-টু এর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরন করা হয়েছে, আপনার অদৃশ্য নূরের মাধ্যমে যেন অদৃশ্য ঈশ্বর কণিকা অবস্থান করতে পারে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিগ-ব্যাংগ- ওয়ান ও বিগ-ব্যাংগ-টু এর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরন করেছেন। তিনি হলেন নূর নবী, সর্ব প্রথম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূর মোবারক সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর ইহা হতে মহাবিশ্ব, জান্নাত, জাহান্নাম, সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে।পদার্থ বিজ্ঞানীগন যে ঈশ্বর কনিকার কথা বলছে, তা হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সৃষ্টির নূর যার মাধ্যমে ঈশ্বর কনিকা অবস্থান করে। বিজ্ঞান আমাদের বলছে যে, আমরা গড বা ঈশ্বরের আলোকে খুজে পেয়েছি, কিন্তু ইহা ঈশ্বরের আলো নয়, এই কণিকা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের মাধ্যমে অবস্থান করে । যে ব্যক্তি এই নূরের শক্তির সাথ যুক্ত হবে, সে জান্নাতে যেতে পারবে, এই নূরের শক্তির সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। যে ব্যক্তি এই কমান্ড দিবে, সাথে সাথে তাঁর এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ হবে। এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ হওয়ার বিষয়টি হল, জিরো হতে ওয়ানের মধ্যে ফাইবার অপটিক্স কানেকশন থাকা, যার মাধ্যমে মানুষের আত্মা ট্রান্সপার হতে পারে। আর ইহা কনট্রোল করে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। এভাবে একজন ব্যক্তি মহাবিশ্বের মহাবিপদ হতে রক্ষা পেতে পারে ভয়েজ কমান্ডের মাধ্যমে এবং ইহার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা বাধ্যতামূলক যদি ব্যক্তি মহাবিশ্বের বাহিরে অবস্থিত চির সুখের স্থান জান্নাতে যেতে চায়। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ।
ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
হিন্দুধর্ম
বৈদিক সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ গীতাশাস্ত্রের উপর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখার প্রয়োজন মনে করি। যদিও ইহার উপর অনেক ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখিত হয়েছে। গীতার বিষয়-বস্তু নিয়ে এত ব্যাখ্যা গ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও সকল লেখকগন গীতাকে কেন্দ্র করেই তাদের মতামত উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক মতভেদ। যদিও হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম গীতার মধ্যে বলেছেন- ঈশ্বর জ্ঞান তত্ত্ব ও আত্মজ্ঞান তত্ত্ব সম্বন্ধে। তবুও গীতাকে নিয়ে এত মতবেদ কেন, কারন তারা গীতার মূল বিষয় অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের মানুষ প্রধানত কয়েকটি ধর্মের অনুসরন করছে। সাধারন মানুষ এ বিষয়ের মধ্যে সংশয়ে আছে যে, কোন ধর্মটি সঠিক। যারা গীতার ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন।তারা গীতার শাব্দিক অর্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করার চেষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা গীতার মূল বিষয় হতে বহুদূরে অবস্থান করছেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম-এর বাণী অনেকের হৃদয়ঙ্গম করতে না পারার একমাত্র কারন হল তিনি ছিলেন একজন অবতার। যে কারনে তারা গীতার ব্যাখ্যা সঠিকভাবে করতে পারেননি। শুধুমাত্র গীতা পড়ে গীতার সঠিক ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। গীতার সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলে, বেদ-পূরাণ, উপনিষদ, বৈদিক সনাতন ধর্মের সব গ্রন্থ বুঝতে হবে। ইহার সাথে অন্য নবী ও রাসূলদের ধর্মীয় গ্রন্থ বুঝতে হবে। বিশেষ করে আল-কোরআন, হাদীসসমূহ, বাইবেল, ত্রিপিটক, মানবজাতির ইতিহাস, আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যতীত গীতার সঠিক ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তাই তারা হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম-এর বক্তব্য বুঝতে পারেন না এবং গীতার সঠিক ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করতে পারেন না। যার পরিপেক্ষিতে তাদের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান রয়েছে। যদি নিরপেক্ষ দৃষ্ঠিকোণ হতে এই গীতার ব্যাখ্যা করা হয়। তবে যে কোন ব্যক্তি সত্য উপলব্দি করতে সক্ষম হবেন। কেননা ধর্মের মূল বিষয় হল-মানুষের সামনে সত্য উপস্থাপন করা। মানুষকে মিথ্যা হতে ফিরিয়ে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত করা যা করতে চেয়েছিলেন হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম, হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম, হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আল্লাহর পক্ষ হতে আগত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম যে সত্য বলেছেন, তা হল – “ঋষিভির্বহুধা গীতম্” – ঋষিগণ পূর্বে যে কথা বলেছেন, তিনি সে কথা বলেছেন, ঋষিগণ যা বলেন, তিনিও তা বলেন, তিনি কখনও ইহা বলেননি যে, সনাতন-শাশ্বত-সত্য জ্ঞান সম্পর্কে শুধুমাত্র আমি জানি আর অন্য কেহ তা জানে না, তিনি বরং বলেছেন - “তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষের শরণাগত হও এবং নিষ্কপট সেবা-যত্ন দ্বারা তাদের সেই জ্ঞান লাভ কর” তিনি শুধুমাত্র মহাপুরুষ দ্বারা ঘোষিত শাশ্বত সত্যের নিকট গমন করতে বলেছেন। এখানে তিনি যে বলেছেন, তত্ত্বদর্শী মহাপরুষ- তিনি কে। পৃথিবীতে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল আগমন করেছেন। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র একজন হলেন – তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষ- আর তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম, হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম, হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম এবং আল্লাহর পক্ষ হতে আগত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল সবার সাথে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যোগাযোগ ছিল। তিনি প্রতিটি মানুষের মনের খবর রাখেন। তাই তাকে -তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষ – বলা হয়। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, যদি তোমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুজে না পাও তবে ব্রাহ্মণদের নিকট যাও। তাদের সেবা-যত্ন করে জ্ঞান লাভ কর। এখন প্রশ্ন হল ব্রাহ্মণ কে, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম স্পষ্ট করে অর্জুন কে বলেছেন। হে অর্জন! তুমি হলে ক্ষত্রিয় সাধক, তুমি কখনও ব্রাহ্মণ হতে পারেবেনা। যারা ব্রহ্মার নাম নিয়ে উপাসনা শুরু করবে, তাঁরা হল ব্রাহ্মণ। তিনি অর্জুনের মাধ্যমে সমস্ত ভারতবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। তোমরা যদি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুজে না পাও, তবে যারা মসজিদে আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করে, তাদের কাছে যাও, তাদের অনুসরন কর, তাদের নিকট হতে জ্ঞান লাভ কর, তাদের সাথে মসজিদে নামাজ পড়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মনের খবর রাখেন এবং তাঁর নূরের শক্তি দিয়ে তোমাদের জান্নাতে নিয়ে যাবেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেছেন। শুধু নিষেধ করেননি। বলেছেন, যারা মূর্তিপূজা করে তারা অশুর বা শয়তানের উপাসনা করে। তারা কখনও স্বর্গে যেতে পারবেনা। সে সময়ে, সমাজে দুটি দল ছিল, যারা হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালামকে অনুসরন করেছিল, তারা ছিল মুসলিম। আর যারা মূর্তিপূজা করত, তারা ছিল অমুসলিম, তিনি কখনও পূজা করতেন না, তিনি নামাজের ন্যায় ধ্যান করতেন। গীতা বুঝতে হলে ধর্মীয় মেীলবাদকে মন ও মস্তিষ্ক হতে আলাদা করে রাখতে হবে। আপনি যদি গীতাকে মূর্তিপূজার পদ্ধতির অনুরূপ দেখতে চান। তবে আপনার জন্য গীতা নয়। তবে আপনি অশুর বা শয়তানের মূর্তিপূজা করেন। গীতা শাস্ত্র সমাজের মূর্তিপূজার গোড়ামী রীতি-নীতির উপর আঘাত হেনেছে। তাই আপনার বিচার-বুদ্ধি যদি মূর্তিপূজার পক্ষে হয়। তাহলে আপনি গীতাকে মিথ্যা প্রমানীত করতে চান। কারন, বৈদিক সনাতন হিন্দু ধর্মে মূর্তিপূজার কোন স্থান নেই। ইহা হল এক ঈশ্বরবাদ বৈদিক সনাতন ধর্ম যা এক আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সনাতন ইসলাম ধর্ম। যোগেশ্বর হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম গীতায় বার বার সাধারন মানুষকে বলেছেন, কোন মহাপুরুষের সান্নিধ্যে বা তার অনুসারীদের নিকট অবস্থান করে গীতার বিষয় বস্তুর তত্ত্ব অবগত হওয়ার জন্য। গীতাশাস্ত্র নিদিষ্ট ব্যক্তি, নিদিষ্ট জাতি, নিদিস্ট দেশ, নিদিষ্ট কাল, নিদিষ্ঠ সময়, নিদিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য। অনেক গীতার ব্যাখ্যাকারীগন প্রধান যে ভূলটি করেন। তা হল-তারা বলেন- গীতা সার্বলৌকিক ও সার্বকালিন ধর্মগ্রন্থ কিন্তু তাদের এই কথাটি গীতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কেননা গীতায় হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন- যুগে যুগে ধর্মস্থাপন করার জন্য আমার মত অবতার পৃথিবীতে আগমন করেন। যখন তত্ত্বদর্শী আয্য মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন। তখন তোমাদের আর এই গীতার জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। কেননা গীতা হল জ্ঞানের দিক থেকে পুকুরের মত আর কোরআন ও হাদীস হল জ্ঞানের দিক থেকে সাগরের মত। তাই তোমরা জ্ঞান অর্জন করার জন্য কোরান ও হাদীসের নিকট যাও। গীতা হল সত্যান্বেষীর জন্য আলোক-স্তম্ভ। কেননা ইহা আয্যগ্রন্থ আল-কোরআন ও আল-হাদিসের দিকে পথ নির্দেশ করে। যারা গীতা পড়ে কোনআন ও হাদীসের দিকে পথ খুজে পায়না। তারা হল অন্ধ ব্যক্তির ন্যায়। তাদের হাতে আলো আছে কিন্তু সেই আলো দিয়ে তারা সঠিক পথ ইসলাম ধর্ম খুজে পায়না তাদের ধর্মীয় গোড়ামীর জন্য। তাদের আত্ব-অহংকারের জন্য তারা নরকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম এর বিরুদ্ধে অবস্থান করে স্বর্গ প্রাপ্তির আশায় দিবাস্বপ্ন দেখছে। তারা মরিচীকার পিছনে ছুটে চলছে যা তাদের জন্য আত্মঘাতী। যারা এরূপ, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম তাদের উপদেশ দিয়েছেন ব্রাহ্মনদের নিকট গমন করার জন্য। ব্রাহ্মণ হল সে ব্যক্তি যারা মসজিদে নামাজ পড়ায়। আর যারা মসজিদে নামাজ পড়ে। তারা হল ব্রাহ্মণ সাধক। তাই যারা গীতা বুঝেনা তাদের কর্তব্য মুসলমানদের নিকট হতে সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করা। গীতার বাণী অনুযায়ী, যে সকল মহাপুরুষ একবার পরমতত্ত্ব লাভ করেন, তিনি হলেন ধর্মগ্রন্থস্বরূপ। এরূপ ব্যক্তির বাণী, পৃথিবীর যে কোন স্থানে, যে কোন সময়ে আসতে পারে। যদি এরূপ ধর্মগ্রন্থ আসে, তবে ইহাকে ধর্মশাস্ত্র হিসাবে অভিহিত করতে হবে। গীতার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় হিন্দু পন্ডিতগণ বলেন, পৃথিবীতে এরূপ ধর্মশাস্ত্র আগমন হয়েছে কয়েকটি।একটি হল মুসলমানদের কোরআন। তেমনি আরেকটি হল খ্রীষ্টানদের বাইবেল। তেমনি আরেকটি হল, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক, তেমনি আরেকটি হল ইহুদীদের তৈরাত। হিন্দু পন্ডিতদের মতে, মুসলমানগন বলে থাকেন যে, কোরানে যা আছে তা সত্য। কোরআনের মত রচনা করা অসম্ভব। তেমনি যীশুখৃষ্টকে বিশ্বাস না করলে স্বর্গপ্রাপ্তি অসম্ভব, কেননা তিনি ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র ছিলেন, পুনরায় এরূপ মহাপরুষের আগমন অসম্ভব। এরূপ উক্তি গোঁড়ামীর পরিচয় বহন করে। ইহা হিন্দু পন্ডিতদের অজ্ঞতা। কেননা ধর্ম সম্পর্কে তাদের অতি সীমিত জ্ঞান তাদের ধর্মীয় গোড়ামীর প্রতি আকৃষ্ট করে। তারা বুঝতে পারেনা, সনাতন ধর্ম কি বলেছে, খ্রীষ্ঠান ধর্ম কি বলেছে, ইসলাম ধর্ম কি বলেছে, তাদের ধর্মীয় অজ্ঞতা তারা অপরের উপর নিক্ষেপ করে, তারা বুঝার চেষ্টা করে না, তাদের কি অজ্ঞতা রয়েছে।
হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসুরিন্দ্রবোঃ ।
অল্লো জ্যেষ্ঠ পরমং পূর্ণং ব্রহ্মণং অল্লাম ।
অল্লো রাসূল মুহাম্মদ রকং বরস্য অল্লো অল্লাম ।
আদল্লাং বুকমেকং অল্লাবুকং ল্লান লির্খাতকম ।
(অলোপনিষদ)
সকলের স্রষ্ঠা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যিনি একক, অনন্ত মহান। আল্লাহ মহান ক্ষমতার অধিকারী। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সকলের নিকট বরনীয়। সকলের অনুকরীয় মহান নবী ও রাসূর। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ অনন্ত, অসীম, মহান।
“মদৌ বর্তিতা দেবা দ কারান্তে প্রকৃত্তিতা ।
বৃক্ষানং ভক্ষয়েৎ সদা মেদা শাস্ত্রেচস্মৃতা ।।
(সামবেদ)
যে মহান নবীর নামের প্রথম অক্ষর ‘ম’ হবে, এবং শেষ অক্ষর ‘দ’ হবে, তিনিই হবেন বেদানুযায়ী অন্তিম ঋষি। আর তিনি হলেন- অন্তিম অবতার- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব, সামবেদ অনুযায়ী প্রমাণীত হল- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম ঋষি।
এতাস্মিন্নসিরে ম্লেচ্ছ আচায্যেন সমন্বিতঃ
মুহাম্মদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিতঃ ।।
নৃপশ্চৈম মহাদেবং মরুস্থল নিবাসিনম ।
চন্দানাদিভিরভ্যর্চ্য তুষ্ঠাব মনসা হরম্ ।।
নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসনে ।
ত্রিপুরা সুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে ।।
ম্লেচ্ছৈর্গপ্তায় সচ্চিদানন্দরুপিণে ।
ত্বং মাং হি কিং করং বিদ্ধি শরণার্থমুপাগতম্ ।
(ভবিষ্য পুরাণ)
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নবী যিনি মরুভূমিতে আবির্ভূত হবেন। তাঁর সাথে থাকবে সাহাবীগন।
হে মরুবাসী নবী। হে জগৎগুরু। আপনার প্রতি আমাদের সালাম গ্রহন করুন। আপনি জগতের সমস্ত পাপের উৎস ধ্বংসের উপায় সম্পর্কে অবগত আছেন। আপনাকে অভিনন্দন জানাই। হে মহান নবী। আমরা আপনার গোলাম। আমাদেরকে আপনার পদতলে আশ্রয় দান করুন। অতএব, ভবিষ্য পূরাণের বাণী অনুযায়ী প্রমানীত হল- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জগৎগুরু। তাই আমাদের অনুসরনীয়
মরুবাসী মহান নবী হলেন তিনি।
“এতসিমন্নন্তিরে ম্লেচ্ছ ও আচায্য সমন্বিতঃ ।
মুহাম্মদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিতঃ ।।
হিরনময় পুরুষ আদিত্যে অধিষ্ঠিত ।
কেশ-শ্মশ্রু হয় তাঁর হিরণ্য মন্ডিত ।।
পদনখ পয্যন্ত সমস্ত স্বর্ণময় ।
অরুণার বিন্দ সমশোভে নেত্রদ্বয় ।
উৎ অভিধানে তিনি অভিহিত হন ।
যেহেতু সর্ব্বপাপের উর্দ্ধ তিনি রণ ।
এই তত্ত্ব অবগত আছেন যেজন,
তিনিও পাপের উর্দ্ধে অবস্থিত হন ।
ইতিতত্ব দেব পক্ষেঃ অধ্যাত্ম পক্ষেতে,
সে পুরুষ দৃষ্ট অন্তরীক্ষ দর্পণেতে ।।
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশম অবতার। তাঁর পরে সত্য পথ প্রদর্শনের জন্য আর কোন অবতারের আবির্ভাব হবে না। ইহা জানার পর, যে তাঁর অনুসরন করবে, তিনি নিষ্পাপ হয়ে মোক্ষ লাভ করবেন। অতএব, ইহা প্রমানীত হয় যে, ভারতে যত অবতার-মুণি-ঋষি আগমন করেছেন। সবাই স্পষ্টভাবে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পারলৌকিক মুক্তি নির্ভরশীল, তা অকাট্যভাবে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
লা-ইলাহা হরতি পাপম
ইল্ল ইলহা পরম পদম
জন্ম বৈকুন্ঠ অপ ইনুতি
জপি নাম মহামদম্ ।।
(উত্তরায়ন বেদ) ।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ- আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল- এই পবিত্র বাক্যের স্বীকৃতি ব্যতীত এবং এর আশ্রয় ব্যতীত পাপ মুক্তির কোন উপায় নেই। আল্লাহর আশ্রয়ই প্রকৃত আশ্রয়। বৈকুন্ঠে জন্ম লাভের আশা করলে। আল্লাহর আশ্রয় ব্যতীত কোন উপায় নেই। ইহার জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রদর্শিত পথের অনুসরন বাধ্যতামূলক ও অপরিহায্য। ইহার কোন বিকল্প পথ নেই। অতএব, প্রমানীত হল- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল।
“যো রধ্রস্য চোদিত্য যঃ কৃশস্য
মো ব্রণো নাম মানস্য কীরেঃ
(ঋগ্বেদ-২-১২-৬)
যিনি তাঁর ভক্ত, তিনিই তাঁর প্রভুর সাথে সম্পর্কিত আর তিনি হলেন আহমদ। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আরেকটি নাম হল আহমদ।
“শম্ভলে বিষ্ণুযশামে গৃহে প্রাদুর্ভাবাম্যহম
সুমাতাং বিষ্ণু যশম্য গর্ভ মাধব বৈষ্ণবম”।
(কল্কিপূরাণ-২-১৯)
শম্ভল বা মক্কা শহরের প্রধান পুরোহিত গৃহে তিনি কল্কি অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করবেন। তাঁর পিতার নাম হবে বিষ্ণুযশা বা আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম হবে সুমতী বা আমেনা।
“দ্বাদশ্যাং শুল্লপক্ষস্য মাধবে মনি মাধবম”
(কল্কিপুরাণ -২-২৫)
তিনি কল্কি অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুল্কপক্ষের দ্বাদশ তিথিঃ মাধব মাসে বা বারই রবিউল আউয়াল তারিখে জন্মগ্রহণ করবেন। হাজার হাজার বছর পূর্বে হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম বলেছেন- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল অউয়াল মাসের বার তারিখে জন্মগ্রহন করবেন। তাই প্রমানীত হল-তাঁরা সকলেই নবী ছিলেন এবং হযরত মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ আগমন করবেন, তা সকলেই জানতেন।
অশ্বমাগুগমারূহ্য দেবদত্তঃ জগৎপতিঃ ।
অমিনা সাধু দমন অইষ্টশ্বয্য গুণান্বিত” ।
(গীতা-১২-২-১৯)
বোরাক বাহনে আরোহন করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজে গমন করবেন। সাথে থাকবেন হযরত জিব্রাঈল আলাইহিছ সালাম। তিনি তরবারী দ্বারা অসুর ও দুষ্কৃতকারীদের দমন করবেন।
“বিচরন্নাশূণ্য ক্ষৌণাৎ হষেণা প্রতিমদ্যুতি
নুপলিঙ্গচ্ছেদ্য দস্যূ ন কোটি শোনিহ নিয্য” ।
(গীতা-১২ – ২- ২০)
তিনি কল্কি অবতার হযরত মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত গমনশীল অশ্বে বিচরনকারী, তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের গুপ্তাঙ্গের অগ্রভাগ ছেদিত, তিনি দেশের প্রধান হয়ে তাঁর শত্রুদের দমন করবেন। তাই গীতার শ্লোকের মাধ্যমে প্রমাণীত হয়, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্কি অবতার।
“সাত যয়ং তুবয় দেবা
সাঃ শাবত রণে রাতাঃ”।
(কল্কিপুরাণ-২-৭)
যুদ্ধক্ষেত্রে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেবতা বা ফেরেস্তারা সাহায্য করবে। আমরা জানি, বদরের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ছিল তিন শত তের জন। আর কাফের বাহিনী ছিল এক হাজার। যুদ্ধে জয়লাভের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে ফেরেস্তা আগমন করে মুসলমনদের পক্ষে যুদ্ধ করে। মুসলমানদের জয় সুনিশ্চিত হয়।
“নরাশংস মিহপ্রিয় মশ্মিনা
উপহবায় মধুজিহবৎ হবিষ্কতম”।
(ঋগ্বেদ-১০-১৩-৩)
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাক্যালাপ হবে সুমিষ্টযুক্ত। তাই ঋগ্বেদে হযরত মুতাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে “নরাশংস” হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
“নরাশংস” অর্থ হল প্রসংশীত ব্যক্তি। আর তিনি হলেন- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
“অষ্টেগুণাং পুরুষাং দীপযন্তি চ কৌলং
ঢ দমঃ শ্রুতং চ পরাক্রম চ বহুভাষিতা
৭ দানং যথাশক্তি কৃতজ্ঞত চ” ৫১ ।
(মহাভারত)
মহাভারতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চারিত্রিক গুনাবলি নিদিস্ট করেছে। প্রজ্ঞা, কুলীনতা, ইন্দ্রিয় দমন, শ্রুতিজ্ঞান, পরাক্রম, বাগ্মিতা, দান, কৃতজ্ঞতা।
“চতুর্ভিভ্রাতৃভিদেবং করিষ্যামি কল্কিক্ষয়ম”
(কল্কি পুরাণ)
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চার জন প্রধান সহযোগী থাকবেন। হযরত আবু বকর রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত ওমর রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত আলী রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু।তাই প্রমানীত হয়- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন কল্কি
অবতার। কেননা পূর্বে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল আগমন করেছিলেন। তাঁদের প্রধান সহযোগী হল এক জন। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রধান সহযোগী চার জন।
“বধুমস্তো দ্বিদশ”
(অথর্ববেদ)
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বার জন স্ত্রী থাকবে। হযরত খাদিজা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত সাওদা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত যয়নাব রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত উম্মে সালামা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত যয়নাব রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত জুইয়ারিয়া রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা।হযরত রায়হানা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা।হযরত উম্মে হাবিবা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা।হযরত সাফিয়া রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত মায়মুনা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা। হযরত হাফসা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা।
মূর্ধানমস্য সংসী ব্যাথর্বা হৃদয়ং চ যৎ ।
মস্তিস্কদধ্বঃ প্রৈরয়ৎ পবমানোহধি শীর্ষতঃ ।।২৬
তদ্ বা অথর্বণঃ শিরো দেবকোশঃ সমুজিতঃ ।
তৎ প্রাণো অভি কক্ষিতি শিরো অন্নমথো মনঃ।।২৭
উর্ধ্বো নু সৃর্ষ্টাস্তিয্যঙ নু সৃষ্টাঃ সর্বা দিশঃ পুরুষ আ বভূবাঁ।
পুরং যো ব্রহ্মণো বেদ যস্যাং পুরুষ উচ্যতে।।২৮
যো বৈ তাং বহ্মণো বেদামৃতেনাবৃতং পুরম্ ।
তস্মৈ ব্রহ্ম চ ব্রাহ্মশ্চ চক্ষুঃ প্রাণং প্রজাং দদুঃ।।২৯
ন বৈ তং চক্ষুর্জহতি ন প্রাণো জরসঃ সুরা।
পুরং যো ব্রহ্মণো বেদ যস্যাঃ পুরুষ উচ্যতে।।৩০
অষ্টাচত্রুা নবদ্বারা দেবানাং পুরয়োধ্যা।
তস্যাং হিরণ্যায়াঃ কোশঃ স্বর্গো জ্যেতিষাবৃতঃ।।৩১
তস্মিন হিরণ্যয়ে কোশে ত্র্যরে ত্রিপ্য্যাপ্রষ্ঠিত ।
তস্মিন যদ্ যক্ষমাত্মন্বৎ তদ্ বৈ ব্রহ্মবিদো বিদুঃ।।৩২
প্রভাজমানাং হরিণীং যশসা সংপরীবিতাম্।
পুরং হিরণ্যায়ীং ব্রহ্মা বিবেশা পরাজিতিম্।।৩৩
(অথর্ববেদ ১০/১/২/২৬-৩৩)
অথর্ব তার মাথা ও অন্তর একসাথে আল্লাহর আদেশের সাথে গ্রথিত করলেন। তখন ধর্মপরায়ণতা তার ললাটে আবর্তিত হল। অথর্বের মাথা প্রভুর আবাসস্থল। উহা আত্মা, মস্তক ও অন্তর সর্বদিক হতে সংরক্ষিত আছে। উহার নির্মাণ উচ্চ, উহার প্রাচীরসমুহ অসমান হলেও প্রভু উহার সর্বত্র দেখতে পান। যে ব্যক্তি প্রভুর গৃহকে অবহিত আছে। সে উহা জানে।কারন, সেখানে প্রভুর নাম উচ্চারিত হয়। সেখানে প্রভুকে স্মরণ করা হয়। যে ব্যক্তি আধ্যাত্ম-মৃতে পরিপূর্ণ প্রভুর এই পবিত্র ধর্মধামকে অবহিত থাকে। ব্রহ্ম এবং ব্রহ্মা তাকে অর্ন্তদৃষ্টি, প্রাণ ও সন্তানাদি দান করেন। যে ব্যক্তি এই পবিত্র গৃহকে অবহিত হয় এবং যার অর্ন্তদৃষ্টি ও আত্মশক্তি বিদ্যমান। সে কখনো উহাকে ত্যাগ করে না। কারন সেখানে প্রভুকে স্মরণ করা হয়। দেবতাদের এই পবিত্র ধামের আটটি চক্র-পরিক্রম ও নয়টি দ্বার আছে, উহা অপরাজেয়, এবং উহা হিরণ্যময় অনন্ত জীবন ও স্বর্গীয় জ্যোতিতে সমাবৃত, সেখানে হিরণ্যময় পবিত্র আত্মা প্রতিষ্ঠিত আছে। উহার তিনটি স্তম্ভ। তিনটি কড়িকাঠ দ্বারা নির্মিত।উহার ব্রহ্মার কেন্দ্রবিন্দু। ব্রহ্ম সেখানে অবস্থান করেন। উহা স্বর্গীয় প্রভায় সমুজ্জ্বল ও স্বর্গীয় আশীর্বাদে পরিপূর্ণ। উহা মানুষকে হিরণ্যময় পরম্ত্মার জীবন দার করে ও উহা অপরাজেয়। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্নীত হয়েছে। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিছ সালাম এর দুই পুত্র ছিল। ইসমাঈল ও ইসহাক। তিনি আল্লাহর আর্দেশ প্রাপ্ত হয়ে হযরত ইসমাঈল আলাইহিছ সালাম কে কোরবানী দেয়ার জন্য প্রস্ততি গ্রহন করেন। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জান্নাত হতে একটি দুম্ভা প্রদান করেন এবং ইহাকে কোনবানী করা হয়। মুসলিমগন ইহাকে স্মরন করে প্রতি বছর কোরবানী করেন। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিছ সালাম কাবাঘর নির্মাণ করেন। বেদের বানী অনুযায়ী- উহা অধিক উচ্চতা সম্পর্ন নয়। উহার দেয়ালগুলি অসমান। উহাতে তিনটি স্তম্ব, তিনটি কাঠ ছিল, উহাতে নয়টি দ্বার ও আট বার উহাকে চক্রাকারে পরিভ্রমন করতে হয়। পবিত্র কোরআনে উহাকে আল্লাহর ঘর এবং যাকে ধ্বংস করা যায় না। যা সূরা ফীলে বর্নীত হয়েছে। বেধেও উক্ত ঘটনা বর্নীত হয়েছে। তেমনিভাবে তা পবিত্র কোরআন শরীফেও বর্ণীত হয়েছে। আর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিছ সালাম হলেন এই ইসমাঈল আলাইহিছ সালাম এর বংশধর।অতএব, বেধের বানী অনুযায়ী, বেধের অনুসারীগন পবিত্র কোরআনের অনুসরন করবে। ইহাই স্বাভাবিক। কেননা বেধ আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করেছে হাজার হাজার বছর পূর্বে আর কোরআন আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করেছে এক হাজার চার শত বছর পূর্বে। বেধ-পূরাণ, গীতা, ত্রিপিটক, বাইবেল, পূর্বে নাযিলকৃত সমস্ত গ্রন্থ, পবিত্র কোরআন শরীফকে আনুসরনের নির্দেশ প্রদান করে। এতে আমাদের কোন অভিযোগ থাকার কথা নয়। কেননা, আল্লাহ আমাদের সকলকে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমস্ত পৃথিবীতে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসুল প্রেরন করেছেন। তাদেরকে প্রদান করেছেন, আল-কোরআন, আল-হাদীস, বাইবেল ওল্ড টেস্টামেন্ট, তৌরাত, যবুর, বেদ-পূরাণ, গীতা, রামায়ন, মহাভারত। পূর্বের সমস্ত কিতাব আল-কোরআন ও আল-হাদীস অনুসরনের নির্দেশ দেয়। তাই আমাদের সকলকে আল-কোরআন ও আল-হাদীসের অনুসরন করে, আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিছ সালাম এর উপর ঈমান এনে জান্নাতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
উপহূতা ভূরিধনাঃ সখায়ঃ স্বাদু সংমুদঃ।
অক্ষুধ্যা অতৃষ্যা স্তু গৃহা মাম্মদ বিভীতন।।
সূনৃতাবম্তঃ সুভগা ইরাবন্তো হসামুদাঃ।
অতৃষ্যা অক্ষধা স্তু গৃহা মাম্মদ্ বিভীতন।।
ইহৈবস্ত মানু গাত বিশ্বা রূপাণি পুষ্যত ।
ঐষ্যামি ভদ্রেণা সহ ভূয়াংসো ভবতা ময়া।।
অগ্নে তপস্তপ্যামহ ইপ তপ্যামহে তপঃ।
শ্রুতানি শৃম্বন্তো বয়মায়ু সন্তঃ সুওমধসঃ।।
অয়মগ্নিঃ সৎপতি বৃদ্ধবৃষ্ণ্যো রথীব পত্তীনজয়ং পুরোহিতঃ।
নাভা পৃথিবাং নিহিইতো দবিদুত দধস্পদং কণুতাং যেপৃতণ্যবঃ।।
(অথর্ববেদ ৭-৬/১)
হে গৃহগুলি, অনুমতির জন্য প্রার্থি হয়ে তোমরা অনেক সম্পদের সাথে যুক্ত হও। আমাদের পক্ষ অবলম্ভন করে সন্মানের সাথে সাফল্য লাভ কর। তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যেন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত না থাকে। হে সমাজের সন্মানিত ব্যক্তিবর্গ, আমরা দেশান্তর হয়ে এসেছি, আমাদেরকে ভয় করিও না, হে সমাজের লোকসকল। তোমরা প্রিয় ও সত্য কথা বল। হে গৃহের লোক সকল, তোমাদের গৃহে যেন কেহ ক্ষুধার্থ না থাকে। হে গৃহের সদস্যবৃন্দ, আমরা প্রবাস হতে আগত। তোমরা আমাদের ভয়ে ভীত হইও না। আমি আবার ফিরে আসিব। প্রবাস হতে অর্জিত আমার সম্পদের দ্বারা তোমরা লাভবান হও। হে অগ্নি শক্তি, আমি অগ্নি দ্বারা তোমাদের অন্তর পরিস্কার করিব, তোমরা ধ্যানে অধিক মনোযোগী থাকিবে। ইহা দ্বারা তোমরা ঐশী বানী শ্রবন করে তোমরা অধিক জ্ঞানী ও অনন্ত জীবন লাভ করবে। তোমরা সত্যবাদী, তোমরা একতাবদ্ধ, তোমাদের শক্তি অধিক, তোমরা অন্যের উপকার কর, ইহার জন্য তোমাদের প্রতি সকলে সন্তষ্ঠ। পৃথিবীর মধ্যম স্থানে অবস্থিত তোমরা। তোমাদের অন্তরের উজ্জল আলোতে তোমাদের শত্রুগন এবং সমস্ত পৃথিবী তোমাদের পদতলে স্থাপিত হবে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করেন। আবার তিনি মক্কায় ফিরে আসেন এবং ইহা বিজয় করেন। মক্কাবাসীকে তিনি ক্ষমা করেন। এরুপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। তিনি ইচ্ছা করলে প্রতিশোধ গ্রহন করতে পারতেন কিন্তু তিনি সকলকে ক্ষমা করেন। শুধুমাত্র তাঁর দ্বারাই এরূপ উদারতা ও ন্যায় বিচার সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই মুসলমানদের মাধ্যমেই প্রতিটি দেশ পরিচালিত হওয়া উচিত। ইহার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্টিত থাকবে। এই ঘটনাটি হাজার হাজার বছর পূর্বে বেধে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইহার মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিছ সালামকে বৈধিক সনাতন ধর্ম অনুসরনকারীদের মাঝে পরিচিত করা হয়েছে, যেন তারা সকলে ভবিষ্যতে আগত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিছ সালাম এর পরিচয় লাভ করে তাকে অনুসরন করতে পারে কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভারতীয় হিন্দু সনাতন ধর্ম অনুসারীগন, বৈদিক সনাতন ধর্ম অনুসরনের পরিবর্তে অশুরের ধর্ম পালন করছে, অশুরের পূজা করছে, মূর্তি পূজায় লিপ্ত হয়েছে, মূর্তি পূজার মাধ্যমে শয়তানের অনুগত হয়ে নিজেদের অজ্ঞতার কারনে ধ্বংশের শেষ সীমানায় নীজেদের উপনিত করেছে। শয়তানের কুমন্ত্রণায় অনুপ্রানিত হয়ে আত্ম-বলিদানে আত্মমগ্ন রয়েছে। অনেকে আবার মূর্তিপূজা হতে নিজেকে বিরত রেখে আত্ম-তুষ্টিতে মরিচিকার দিকে ছুটে চলে আত্ম-বলিদানের অপেক্ষায় অজ্ঞতার সাগরে নিমজ্জিত রয়েছে। তাদের অক্সিজেন সরবরাহ করছেন অজ্ঞতার সাগরের তলদেশ হতে কিছু সনাতন ধর্মীয় অজ্ঞ পন্ডিত ব্যক্তি। তাই শুধু মূর্তিপূজা হতে বিরত থাকলে হবেনা, বেধ-পূরাণ ও কোরান-হাদীসের বানী অনুযায়ী ইসলাম ধর্মের অনুসরন করতে হবে।
নরাশংসমিহ প্রিয়মস্মিন্ যজ্ঞ উপ হবয়ে ।
মধু জিহবং হবিস্কৃহম্ ।
(উত্তরার্চিক মন্ত্র-১৩৪৯)
ত্বমঙ্গ প্রশংসিষো দেবঃ শবিষ্ঠ মর্ত্যম ।
ন ক্বদন্যো মঘবন্নস্তি মর্ডিতেন্দ্র ব্রবীমি তে বচঃ ।
(ঐন্দ্র কান্ড, ৩-২৪৭)
মিষ্টভাষী প্রিয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমাদের এই যজ্ঞে আহ্বাবান করি। হে মহান ঋষি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার প্রসংশা করেন। আমরা আপনার অনুসরন কামনা করি। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে হতে হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করতেন। তাঁরা উপাসনার মধ্যে তাঁকে স্মরন করতেন। তারা সকল সনাতন ধর্ম পালনকারীকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশংসায় রত থাকার আহব্বান জানান। তাই আমাদের কর্তব্য সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্মের অনুসরন করা এবং আল-কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন করা।
অহমিদ্ধি প্রিতস্পরি মেধামৃতস্য জগ্রভ ।
অহং সুয্য ইবাজনি ।।
(ঋগ্বেদ ৮-৬-১০)
প্রশংসীত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূয্যের ন্যায় প্রকাশিত। এই সূয্য উদয়ের অপেক্ষায় আমরা সকলে অপেক্ষমান আছি। হিন্দু সনাতন ধর্ম পালনকারীগন বর্তমানে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে সর্বশেষ ইসলাম ধর্মস্থাপন করেছেন। তাই আমাদের সকলের কর্তব্য সর্বশেষ ইসলাম ধর্মের অনুসরণ করা।
চিত্র ইচ্ছিশোস্তরুণস্য বক্ষথো ন যো মাতরাবন্বোত ধাতবে ।
অনুধা যদজীজনদধা চিদা ববক্ষৎ সদ্যো মহিদূত্যাংতচরণ্ ।
(সামবেদ-৬৪)
যে শিশুর কাজ সাধারন কোন শিশুর মত নয়। যে শিশু অতি বিচিত্র। যে শিশু দুধ পান করার জন্য মায়ের নিকট যায় না। আরবের নিয়ম অনুযায়ী, নিজেদের সন্তানদের শহর হতে দূরে, বেদুইন পরিবারের মধ্যে লালন-পালনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া, আরবের প্রথা অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবি হলিমার বাড়ীতে লালিত-পালিত হয়েছেন।
নরাশংসস্য মহিমানমেষামুপ স্তোষাম যজতস্য যজ্ঞৈঃ ।
যে সুক্রতবঃ শুচইয়া ধিয়ন্ধাঃ স্বদন্তি দেবা উভয়ানি হব্যা ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ-২৯/২৭)
আজুহ্বান ঈড্যো বন্দ্যশ্চা যাহ্যগ্নে বসুবিঃ সজোযাঃ ।
ত্বং দেবানামসি যহব হোতা স এনান্যক্ষীষিতো যজীয়ান ।
(শুক্ল যজুর্বেদ-২৯-২৮)
হে অগ্নি, হে অদৃশ্য আগুন, হে কলি যুগের অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তুমি এই পৃথিবীতে একমাত্র নূর নবী। তোমার অদৃশ্য নূরের শক্তি দিয়ে আমাদের অন্তরকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে পরিস্কার করে দাও। আমরা তোমার আগমনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা ক্ষত্রিয় সাধক হয়ে তোমার অনুসরণের অপেক্ষায় আছি। তোমার আগমনের পর আমরা মসজিদে আজান দিয়ে ও নামাজ পড়ে ব্রাহ্মণ হব। দেবতাদের রাজা হযরত জিব্রাঈল আলাইহিছ সালাম তোমার সাথে সাক্ষাৎ করবে। তুমি ব্রহ্মা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট মেরাজে গমন করে সাক্ষাত করে আসবে। তুমি আমাদের দূরুদ ও সালাম গ্রহন কর। তোমাকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হাউজে কাউছারের মালিক করেছেন।
নরাশংসস্যাহম্ দেবষজ্যয়া পশুমান্ ভূয়াসমগ্নে –
(কৃষ্ণ যজূর্বেদ- ১-৬-৪)
নরাষংসস্যাহঃ দেবজ্যয়া পশুমান ভুয়া
সস্মিত্যাহ নরাশংসেবৈ প্রজাপতিঃ
পশুন্ পৃজর্ত দেবাশ্বৈরেব যজমানং
সূবর্গংলোর্ক গময়তি
(কৃষ্ণ যজুর্বেদ- ১-৭-৪)
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাদা ঘোড়া বোরাকে করে ভ্রমনের জন্য আকাশে নিয়ে যাওয়া হবে। ‘নরাশংস‘ ‘প্রসংসিত‘ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
অশ্বমাগুগারুহ্য দেবদত্তং জগৎপতিঃ ।
(ভাগবত পুরাণ ১২/২/১৯)
কল্কিপুরাণের উক্ত শ্লোকের বাণী অনুযায়ী যে কল্কি অবতার পৃথিবীতে আগমণ করবেন। তিনি তাঁর জীবনের কোন এক সময় বায়ুর ন্যায় গতিশীল সাদা ঘোড়ায় করে আকাশে ভ্রমন করবেন। সেই অশ্ব বা বোরাকের গতি হবে বিদ্যুতের ন্যায়।
মনোন্বাহবার্মহে নরাশংসেন স্তোমেন।
পিতৃণাং চ মন্মভিঃ ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ ৩/৫৩)
নরাশংস-প্রসংশীত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রসংশা দ্বারা আহব্বান করি।
তৎসবিতুবকরিয়াণাং ভগোং দেবস্য ধীমহি ।
ধীয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ ৩/৩৫)
আসুন আমরা সবাই আল্লাহর পক্ষ হতে আগত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাজ্যশাসন ব্যবস্থা অনুসরন করি। আমাদের বুদ্ধিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করুন।
অভি ত্যং দেবং সবিতারমোণ্যেঃ
কবিক্রতুর্মচামি সত্যসবং
রত্মধামন্ডি প্রিয়ং মতিং কবিম্ ।
উর্ধ্বা যস্যামতির্মা আদিদ্যুতৎ
সরীমনি হিরণ্য-পানিরমিমীত
সুক্রতঃ কৃপা স্বঃ ।
প্রজাভ্যস্তা প্রজাস্তাহনু প্রানন্ত
প্রজাস্তনু প্রাণিহি ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ ২৫-৪-২৫)
যিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য করুণাময়। তিনি রহমাতুল্লিল আলামীন। তিনি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি সত্য। তাঁকে সকলে হৃদয়ে ধারন করে সাফল্য লাভ করুক।
এতস্মিন্নন্তরে ম্লেচ্ছ আচায্যেণ সমন্বিতঃ ।
মহামদ ইতি খ্যাত শিষ্যশাখা সমন্বিতঃ ।।
(ভবিষ্য পূরাণ)
ভবিষ্যতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামের একজন মহান ব্যক্তি পৃথিবীতে আগমন করবেন। তাঁর অনেক অনুসারী থাকবে। তোমরা তাঁকে অনুসরন করিও।
তে ত্বামদা অমদন্তানি বৃষ্ণা তে
সোমাসো বৃত্রহইত্যেষু সতপতে ।
যত কারবে দশ বৃত্রাণ্যপ্রতি
বহিস্মতি নি সহস্রানি বর্হয়ঃ ।।
(ঋগ্বেদ ১/৫৩/৬৯)
যিনি দশ হাজার শত্রু দ্বারা পরিবেষ্ঠিত হয়ে খন্দকের যুদ্ধ করবেন।
কালক্রমে বিষ্ণুযশা নামেতে ব্রাহ্মণ ।
সম্ভল গ্রামেতে জন্ম লইবে তখন ।।
মহাবীয্য মহাবুদ্ধি কল্কী তাঁহার ঘরে
জন্মিবেন যথা কালে দেব কায্য তরে
(মহাভারত-পদ্যে বাংলা অনুবাদ)
ধর্মের বিজয়ী আর হইয়া সম্রাট
প্রসন্ন লোকে সহ নিজ ঠাট
দলিবেন ম্লেচ্ছকূল রাখিতে ব্রাহ্মণ
যুগ পরিবর্তক সে পুরুষ রতন ।।
(মহাভারত-পদ্যে বাংলা অনুবাদ)
ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে দশ অবতারের মূর্তি চিত্রিত আছে। তন্মধ্যে অন্ধপ্রদেশের কাকিনাড়ার আন্নাভরম পাহাড় চূড়ায় বহু প্রাচীন এক বিষ্ণু মন্দির আছে। ইহার দেয়ালে দশ অবতারের মূর্তিসমূহ সুস্পস্ট ভাবে ক্ষুদিত আছে। সেখানে কল্কীকে বীর বেশে একটি সাদা ঘোড়ার উপর আরোহিত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। (কল্কি-৫) এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ন যে, সাদা ঘোড়া ভারতে পাওয়া যায় না। একমাত্র আরবদেশে সাদা ঘোড়া পাওয়া যায়। সুতরাং প্রমানীত হয়- কল্কি অবতার আরবদেশে আগমন করবেন। আর তিনি হলেন- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব, ভারতের আদি ধর্মীয় পুস্তকের বানী অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্কি অবতার।তাই আমাদের সকলকে তাঁর অনুসরন করতে হবে।
বেদা ধর্মঃ কৃতযুগং দেবা লোকাশ্চরাচরাঃ ।
হৃষ্টাঃ পুষ্টঃ সুসংতুষ্টা কল্কেী রাজনী চাভবন্ ।।
নানা দেবাদি লিঙ্গেষু ভূষণৈর্ভূষিতেষচ ।
ইন্দ্রাজালিকবদ্ বৃত্তিকল্পকাঃ পূজকা জনাঃ ।।
ন সন্তি মায়া মোহাঢ়্যাঃ পাষন্ডাঃ সাধুবঞ্চকাঃ ।
তিল্কাচিত সর্বাঙ্গঃ কল্কেী রাবনি কুত্রাচিৎ ।।
(কল্কি পুরাণ ৩-১৬)
কল্কী অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে অলঙ্কারে সজ্জিত মূর্তিপূজাকে রহিত করবেন। তাঁর যুগে সাধু-সন্ন্যাসী দেখা যাবে না। তিনি সন্ন্যাস ধর্মকে রহিত করবেন। অতএব, পৃথিবীতে এমন একজন কল্কী অবতারের আগমন হবে যে মুর্তিপূজা করবে, এরূপ যে আশা করবে সে অজ্ঞ। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন নবী যিনি মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ করেন। তিনি মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে আরবের সম্রাট হয়ে কাবাগৃহ হতে মূর্তি অপসারন করেন। সেখানে তিলকধারী সাধু- সন্ন্যাসী দেখা যেত না এবং ইসলাম ধর্মে সন্ন্যাসী হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ । অতএব, আমরা নিঃসন্ধেহে বলতে পারি, হিন্দু বা সনাতন ধর্মালম্ভীগন যে কল্কি অবতারের জন্য অপেক্ষা করছেন, তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
চর্ব্যৈশ্চোষ্যৈশ্চ পেয়ৈশ্চ পুপ শঙ্কুলি যাবকৈঃ ।
সদ্যো মাংসৈর্মূলফলৈ রম্যৈশ বিবিধৈর্দ্ধিজান ।।
(কল্কি-পূরাণ-৩-১৬-১০)
কল্কি অবতার এমন একজন অবতার যিনি মাংস ভক্ষন করবেন। যিনি চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয়-পুপ-শঙ্কুলি-যাবক-মাংস-ফলমূল বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য দ্বারা মেহমানদের আপ্যায়ন করবেন। অতএব, কল্কি পূরাণের উক্ত শ্লোকের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, সনাতন ধর্ম অনুযায়ী কল্কী অবতার হলেন- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগুলো গভীরভাবে পয্যবেক্ষণ করলে আমরা ইহা বুঝতে পারি যে, সকল ধর্মের মূল বিষয় একত্ববাদ এবং প্রতিটি ধর্মই ইসলাম। পৃথিবীতে কখনো আল্লাহর পক্ষ হতে দুটি ধর্ম আগমন করেনি। শুধুমাত্র পার্থক্য স্থান এবং সময়। মানবজাতি ধর্মের মূল উপদেশ পালন না করে নিজের ইচ্ছে মত ধর্মকে পালন করে। ইহাকে মানুষের ধর্মীয় অজ্ঞতা বলা যেতে পারে। মানুষ নিজের প্রকাশ্য শত্রু শয়তানকে চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। আল্লাহ হতে প্রেরীত নবী, রাসূল, ঋষি ও অবতারগনকে উপাসনা করছে। তাদের আকৃতির মত মূর্তি বানিয়ে পূজা করছে। ঋষি, অবতার, বুদ্ধ, নবী ও রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তাদের সকলেই প্রচার করেছেন-
“এক ব্রহ্ম দ্বিতীয় নাস্তি”
(বেদ)
এক আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ রাসূল, ইসলাম ধর্মের নামাজ, বৈদিক ধর্মে সন্ধ্যা নামে অভিহিত ছিল। ইসলাম ধর্মের রোজা বৈদিক ধর্মে ব্রত রূপে অভিহিত ছিল। হজ্ব - তীর্থযাত্রা, স্বর্গ ও নরক, ইসলামে জান্নাত ও জাহান্নাম। তাই সাত আকাশ অতিক্রম করে জান্নাতে যেতে হতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথ অনুসরণ করতে হবে। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেছেন, আমার পরে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন। তিনি যখন আগমন করবেন, তখন তোমরা তাকে অনুসরণ করবে, যখন তোমরা দেখবে কোন নবী আগমন করে গরু যবেহ করে খাওয়া বৈধ করেছেন। তখন তোমরা বুঝবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন। যখন দেখবে ব্রহ্মার নাম নিয়ে প্রকাশ্যে উপাসনার জন্য আহব্বান জানাচ্ছে। যখন দেখবে- আল্লাহু আকবার- বলে আজান দিয়ে ব্রহ্মাণগন নামাজের জন্য আহব্বান করছে। তখন বুঝবে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন। তখন তোমরা ব্রাহ্মণদের সাথে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে তাদের মত ব্রাহ্মণ হবে। ব্রাহ্মণ হল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। ব্রাহ্মণ কলিযুগে আগমন করবে। ব্রাহ্মণগন আগমন করে তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধ করে অসূরকে দমন করবে। তাই তোমরা যারা এখন আমার অনুসরন করছ, তোমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের অপেক্ষায় থাক। যখন তিনি আরবদেশে আগমন করবে। তখন তোমরা তাকে অনুসরন করবে। তিনি হলেন আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাকে যারা অনসরন করবে তারা হবে ব্রাহ্মন। তোমরা ব্রাহ্মন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাক। যখনই জানতে পারবে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন। তোমরা আর এক মূহুর্ত দেরী না করে তাকে অনুসরন শুরু করবে।
কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ ।
ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোহভিভবত্যুত ।।৪০।।
অধর্মাভিভবাৎকৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ ।
স্ত্রীষু দুষ্টসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ ।। ৪১ ।।
সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ ।
পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিন্ডেুাদকত্রিুয়াঃ ।।৪২।।
দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ ।
উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মশ্চ শাশ্বতাঃ ।।৪৩ ।।
উৎসন্নকুলধর্মানাং মনুষ্যাণাং জনার্দন ।
নরকহনিয়তং বাসো ভবতীত্যনুশুশ্রুম ।।৪৪ ।।
অহো বত মহৎপাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম ।
যদ্রাজ্যসুখলোভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ ।।৪৫ ।।
যদি মামপ্রতীকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ ।
ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ ।।৪৬ ।।
এবমুক্ত্বার্জুনঃ সঙ্খ্যে রথোপস্থ উপাবিশৎ ।
বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানসঃ ।।৪৭ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
কুলনাশে সনাতন কুলধর্ম নষ্ট হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সবকিছুর উপরে হল সনাতন ধর্ম। সনাতন হল আদি ধর্ম যা ভারতবর্ষে পূর্ব হতে ছিল এবং কলিযুগে আরবদেশ হতে পরবর্তীতে আগমন করবে। অর্জুন মনে করেছিলেন, কুলধর্ম, কুলাচারই সনাতন ধর্ম। ধর্ম নষ্ট হলে সমস্ত কুলকে পাপ ডুবিয়ে দেয়। এখানে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনকে বলছেন- হে অর্জুন, সনাতন ইসলাম ধর্ম হল পারিবারিক ধর্ম, সুতরাং সনাতন ইসলাম ধর্ম পালন না করলে বংশের ধর্ম নষ্ট হয়। তাই একজন মানুষের জীবনে নিজের কল্যাণের জন্য। জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচার জন্য। পরিবারের কল্যাণের জন্য, পরিবারকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচানোর জন্য সনাতন ইসলাম ধর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনের মাধ্যমে সমস্ত ভারতবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন, সনাতর ইসলাম ধর্ম অনুসরন করার জন্য। কেননা, ভারতের আদি ধর্ম হল সনাতন ইসলাম ধর্ম। তাই হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম ভারতবাসীকে তাদের পারিবারিক ধর্ম সনাতন ইসলাম ধর্মে ফিরে আসার আহব্বান জানিয়েছেন। পৃথিবীর শুরু হতে ধর্মে দুটি ধারা চলে আসছে- একটি হল-সনাতন ইসলাম ধর্মের পক্ষ অবলম্বন করা। আরেকটি হল-সনাতন ইসলাম ধর্মের বিপক্ষ অবলম্বন করা। আমাদের উচিত নিজেকে নরকের আগুন হতে রক্ষা করার জন্য হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম এর উপদেশ মান্য করা। কেননা সনাতন ইসলাম ধর্ম পালন করা ব্যতীত জাহান্নামের আগুন হতে নিজেকে রক্ষা করা যাবে না, চির-শুখের স্থান জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে না। হে কৃষ্ণ! সনাতন ধর্ম পালন না করলে পাপ হয়। আর তাতে স্ত্রী কলষিত হয়। কেননা বিয়ে শুদ্ধ হয় না। আর বিয়ে শুদ্ধ না হলে বর্ণসঙ্কর উৎপন্ন হয়। এখানে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, সনাতন ইসলাম ধর্ম অনুসরন না করলে পাপ হয়। আর তাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে কলষিত হয়। উভয়ে ব্যভিচার করার অপরাধে অপরাধী হয়। আর এই অপরাধের কারনে কি হয়। এ বিষয়ে বলেন-বর্ণসঙ্কর হলে কুলনাশকগন নরকে পতিত হয়। কেননা বিয়ে সঠিক নিয়মে না হলে-ইজাব-কবুল ও মোহরানা আদায় না হলে-ব্যভিচার করার অপরাধে স্বামী-স্ত্রী ও যে বিয়ের অনুষ্ঠান সস্পূর্ণ করেছে, সকলকে নরকে গমন করতে হয়। যাদের পিন্ডক্রিয়া লুপ্ত হয়েছে, তাদের পিতৃপৃরুষগণও নরকে পতিত হন। বর্তমান যুগ নষ্ট হয়, পিতৃপুরুষগন নরকে যায়। উত্তম পুরুষদের ধ্বংস হয়। শুধু তা নয়। সনাতন ইসলাম ধর্ম পালন না করলে সামনে আরো বিপদ আছে। আর তা হল- বর্ণসঙ্করের কারনে সনাতন কুলধর্ম এবং জাতিধর্ম ধ্বংস হয়। অর্জুন মনে করেছিলেন, কুলধর্মই সনাতন, কুলধর্মই শাশ্বত, কুলধর্মই চিরন্তন, কিন্তু হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেছিলেন, আত্বাই-সনাতন-আত্বাই শাশ্বত- আত্বাই চিরন্তণ। সনাতন ধর্মের বিপরীতে মানুষ অধর্ম পালন করত। যা অর্জুনের নিকট সঠিক ধর্ম বলে মনে হত কিন্তু হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন- তা অধর্ম। এই অধর্ম পালন করলে নরকে গমন করতে হবে। হে জনার্দন! যে সকল মানুষের কুলধর্ম নষ্ট হয়েছে, সে সকল ব্যক্তিদের অনন্তকাল নরকে বাস করতে হয়। শুধুমাত্র কুলধর্মই নষ্ট হয় না, শাশ্বত সনাতন ধর্মও বিলুপ্ত হয়ে সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্ম আরবদেশ হতে আগমন করবে। যারা কলিযুগের সনাতন ইসলাম ধর্ম পালন করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর অনুসরন করবে না তাদের অনন্তকাল নরকে থাকতে হবে। আমাদের জন্য দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান মনে করি, কিন্তু আমরা পাপ কাজে রত আছি, এই পৃথিবীর লোভে, দুনিয়ার ধন-সম্পদ লাভের আশায়, নিজেদের অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য, যারা প্রকৃত সনাতন ইসলাম ধর্ম পালনকারী। তাদের বিরোধিতা করে সামনে অগ্রসর হচ্ছি যা আত্বঘাতী হয়ে প্রকাশিত হবে। অতএব, নিজেকে মহাজ্ঞানী মনে না করে প্রকৃত সনাতন ইসলাম ধর্মের অনুসরন করা প্রত্যেকের কর্তব্য। যদি আমি নিজের সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত হই, তবুও তা সকলের জন্য কল্যাণকর হবে, কেননা ইতিহাসে লেখা থাকবে অর্জুন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি চেষ্ঠা করেছেন, ভারতবাসীকে সঠিক তথ্য জানিয়ে যেতে। যেন নিজের বংশধর, সমাজ ও দেশের জনগন স্বর্গে গমন করে চির শান্তিতে থাকতে পারে। এভাবে অর্জুন আত্বযুদ্ধ হতে বিরত হয়ে রথের পিছনে বসেন। অর্জুন যুদ্ধ করতে প্রস্তত নয়। তিনি শোকে মর্মাহত হয়ে বসে থাকেন, যুদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা তার মধ্যে নেই। অর্জুন কেন এরূপ করলেন, কেননা মানুষের মধ্যে দুটি প্রবৃত্তি কাজ করে, একটি হল ধর্মক্ষেত্র আর অপরটি হল কুরুক্ষেত্র, প্রথমটি হল ইষ্টোন্মুখী প্রবৃত্তি যা দৈবী সম্পদ দ্বিতীয়টি আসুরী সম্পদ। কুরুক্ষেত্রে সৈন্য দেখার সময় অর্জুন কেবল নিজের পরিবারের লোকদের দেখতে পেয়েছিলেন। আর তারা ছিল ছয় লক্ষ আরব। যাদের সাথে তার যুদ্ধ করার কথা ছিল, তারা হল নিজের পরিবারের আত্বীয়-স্বজন। তাই তিনি বলেছিলেন, কুলধর্মই সনাতন ধর্ম- এই যুদ্ধ হলে সনাতন ধর্ম বিলুপ্ত হবে, বর্ণসংকর উৎপন্ন হবে। আর ইহাতে অনন্তকাল পয্যন্ত নরকে বাস করতে হবে। তাই অর্জুন সনাতন ধর্ম রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করছিলেন। তিনি হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালামকে বলেন, আমরা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হয়ে এই মহাপাপ কাজ কেন করব, কিন্তু অর্জুন যে ভূল করছেন তা তিনি অবগত হয়েছিলেন।
।।ওঁ শ্রী পরমাত্মনে নমঃ ।।
(গীতা)
ওঁম শ্রী পরমাত্মনে নমঃ- অউম- শব্দের অর্থ হল-সৃষ্টি, সৃষ্টি অস্থিতে থাকা। ব্রহ্মা হলেন স্রষ্ঠা, আর এই সৃষ্ঠি অস্থিতে থাকে –ওম্কার- এর মাধ্যমে। -শ্রী- শব্দের অর্থ হল- সন্মানিত ব্যক্তি বা হযরত।–পরমাত্মনে- পরম আত্মীয়, এমন আত্মা যা মহান। -নমঃ- অর্থ হল- কোন ব্যক্তিকে অন্তর থেকে ভালবাসা এবং তাঁকে সর্বচ্চো সন্মান প্রদর্শন করা। হিন্দু ধর্মের পন্ডিতগন এই বাক্যের মাধ্যমে স্রষ্ঠাকে বুঝিয়ে থাকেন কিন্তু তাদের এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কেননা স্রষ্ঠার সৃষ্টি যার মাধ্যেমে অস্থিতে থাকে, এখানে তাঁকে সন্মান জানানো হয়েছে। এই বিষয়টি কোরআন ও হাদীসেও বর্নীত হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্ব প্রথম নিজের নূর হতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূর সৃষ্টি করেন। অতঃপর সেই নূর হতে সবকিছু সৃষ্টি করেন।অতএব, আমারা বুঝতে পারলাম এই বাক্যের মাধ্যমে নূর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে।তাই এই বাক্যের ব্যাখ্যা হবে এরূপ- ওহে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তুমি আমাদের সন্মানিত পরম আত্মীয়। তোমার প্রতি আমাদের অন্তরের ভালবাসা ও কোটি কোটি সালাম ।শ্রীমদভগবদ গীতার এই শ্লোকে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনের মাধ্যমে সমস্ত ভারতবাসীকে উপদেশ দিয়েছেন। তোমরা মনে রাখবে। আয্য মৈত্রিয়, কল্কি যুগের অবতার, সর্বশেষ আরবদেশে আগমনকারী নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পরম আত্মীয়, হে অর্জুন! আমার আত্মার সাথে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তোমরাও আমাকে অনুসরন করে তাঁর নূরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত হও। নূরের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যতে আরবদেশে মক্কা নগরীতে উপস্থিত হবেন। তিনি সনাতন ইসলাম ধর্ম প্রচার করবেন, হে অর্জুন! তিনি তোমার পরম আত্মীয়, তিনি তোমার আত্মার সাথে অদৃশ্যভাবে যুক্ত আছেন। তিনি তোমার আত্মা হতেও অতি নিকটে। তুমি তাঁর আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে থাক। তুমি তাকে প্রতিদিন স্মরন করবে, তুমি প্রতিদিন বলবে- ওঁম শ্রী পরমাত্মনে নমঃ । হে অর্জুন! তুমি ভারতবাসীকে জানিয়ে দাও, তারা যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, আর যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবদেশে আগমনের সুসংবাদ পাবে। তখন তোমরা ভারতবাসী, তাঁকে অনুসরনের ঘোষণা দিবে। তখন তোমরা ব্রাহ্মন হয়ে ব্রহ্মার নাম নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়বে। আল্লাহু আকবার বলে মসজিদের ব্রাহ্মন নামাজ শুরু করবে। তোমরা তাকে অনুসরন করবে।
সঞ্জয় উবাচ
তং তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রুপূর্ণাকুলেক্ষণম ।
বিষীদন্তমিদং বক্যমুবাচ মধুসূদন ।।১ ।।
শ্রীভগবানুবাচ
কুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্ ।
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন ।। ২ ।।
ক্লৈব্যং মা স্ম গমঃ পার্থ নৈতত্ত্বয্যুপপদ্যতে ।
ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্ত্বেত্তিষ্ঠ পরন্তপ ।।৩ ।।
নপুংসক পুমান্ জ্ঞেয়ো যো ন বেত্তি হৃদি স্থিতম্ ।
পুরুষং স্বপ্রকাশং তস্মানন্দাত্মানমব্যয়ম্ ।।
(আত্মপুরাণ)
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, হে অর্জুন! তোমার মধ্যে এই অজ্ঞতা কেন উৎপত্তি হল। হে অর্জুন! সনাতন ধর্ম রক্ষা করা করার জন্য তোমার কি প্রয়োজন হল। তুমি কেন অজ্ঞের মত কাজ কর, তুমি কি জাননা, ভবিষ্যতে আয্য সনাতন ইসলাম ধর্ম ইহার স্থলাভিষিদ্ধ হবে। তাই তুমি সনাতন ধর্ম রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করবেনা। তোমার এই সনাতন ধর্মের কর্ম তোমাকে স্বর্গে নিয়ে যেতে পারবেনা। হে অর্জুন! তাই তুমি আমাকে অনুসরন কর, আমাদের সকলকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নূরের শক্তির মাধ্যমে আমাদের স্বর্গে নিয়ে যাবেন। তাই তুমি সকল ভারতবাসীকে বলে দাও, আমাকে অনুসরন করার জন্য। আর যখন হযরত মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবদেশে আয্য সনাতন ইসলাম ধর্ম নিয়ে আসবেন তখন তোমরা তাকে অনুসরন করবে। হে অর্জুন! যে সৎপথে চলে, যে সঠিক ধর্মের উপর আছে, যাকে অনুসরন করলে স্বর্গে যাওয়া যায়, তিনি হলেন আয্য নবী হযরত মুহাম্ম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর সাথে যুক্ত হয়ে আমি ও হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম এবং আমরা সকলে সৎ ও সঠিক পথের উপর আছি। কিন্তু ভবিষ্যতে আমি যখন থাকবনা, তখন আয্য নবী হযরত মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ সনাতন ধর্ম ইসলাম নিয়ে আগমন করবেন। তখন তোমরা আয্য নবীর অনসরন করবে। তাঁর পরিবারভূক্ত আয্য সনাতন মুসলিম হয়ে থাকবে। যদি কুলধর্মই সত্য হত, তবে তুমি কুলধর্ম রক্ষা করে স্বর্গে যেতে পারতে, আয্য সনাতন ইসলাম ধর্মের কোন প্রয়োজন ছিল না, হে অর্জুন! তাই তুমি কুলধর্ম রক্ষা করার চেষ্টা করবে না। তোমার বংশ কোন ধর্ম পালন করত। তোমার পরিবারের ধর্ম কি ছিল। তোমার পিতা-মাতা কোন ধর্ম পালন করত। তোমার স্ত্রী কোন ধর্ম পালন করত। তোমার ধর্মীয় পরম্পরা কি ছিল। তোমার পরিবারের ধর্মীয় পরম্পরা কি ছিল। তা তুমি কখনও দেখবে না। ইহা তোমার জন্য কীর্তিদায়ক নয়। ইহাতে তোমার গেীরবের কিছু নেই। ইহাতে তোমার কোন কল্যাণ হবে না। ইহা নিয়ে তোমার অহংকার করার কিছু নেই। শ্রেষ্ঠ পুরুষ হল- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসারী সাহবীগন। তাঁরা এই সনাতন ধর্ম পালন করবে না। তাঁরা পালন করবে সর্বশেষ সনাতন ধর্ম ইসলাম যা হযরত মুহাম্মদ আলাইহিছ সালাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচার করবেন। তাঁরা কোরআন ও হাদীসের আইন মেনে চলবে। হে অর্জুন! তুমি অজ্ঞান হবে না। তুমি আমাকে অনুসরন করে জ্ঞানী হওয়ার চেষ্ঠা কর। আর ভারতবাসীদের বল, তাঁরা যেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরবদেশে আগমন করবে, তোমরা সকলে তাঁদের অনুসরন করে। হে অর্জুন! তুমি ভারতবাসীদের বলে দাও, তারা যেন সবকিছু বর্জন করে। যখন আরবদেশে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে আয্য সনাতন ইসলাম ধর্ম প্রচার করবে। তখন তোমরা তাকে অনুসরন করবে। তোমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মুসলিম হবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের প্রতি ঈমান আনবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করবে যেমন করেছি আমি নিজে। হে অর্জুন! তুমি আচরনে ক্লীবভাব প্রকাশ করিও না। তুমি নপুংসক হওয়ার চেষ্ঠা করিও না। তুমি পুরুষ হওয়ার চেষ্ঠা কর। হে অর্জুন! তুমি নিজের পরিচয় লাভ কর। তুমি নিজেকে চিন। তুমি আত্মদর্শন করে পুরুষ হও। যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে জানে না। সে পুরুষ হলেও নপুংসক। যে পুরুষ সঠিক ধর্ম কোনটি তা জানে না। সে নপুংসক। যে ব্যক্তি সনাতন ইসলাম ধর্ম পালন করে না সে নপুংসক। যে ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করেনা সে নপুংসক। যে নামাজ পড়ে না সে নপুংসক। যে কোরআন-হাদীস পড়েনা সে নপুংসক। যে রমজান মাসের রোজা রাখেনা সে নপুংসক। যে জাকাত দেয়না সে নপুংসক। যে হজ্ব ফরজ হওয়া সত্ত্বেও হজ্ব করেনা সে নপুংসক। হে অর্জুন! তুমি ভারতবাসীকে পুরুষ হতে বল। তোমরা সঠিক ধর্ম পালন করে পুরুষ হও। কোরআন-হাদীস পড়ে নিজের আত্মার পরিচয় জান। যে নিজের স্রষ্ঠার পক্ষ হতে আগত সঠিক ধর্ম ইসলাম পালন করে সে পুরুষ। হে পরন্তপ! মনের সংকীঙ্কতা দূর করে আত্মযুদ্ধের জন্য তৈরি হও। নিজের আত্মার সাথে যুদ্ধ কর। নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে সঠিক ধর্ম গ্রহন করার জন্য প্রস্তুত হও। নিজের মনের দুর্বলতা ত্যাগ করে সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্ম গ্রহন কর। আসক্তি ত্যাগ করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন কর। আত্ম-অহংকার ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মুসলমান হও। অহংকার ত্যাগ করে মুসলমানদের সাথে মসজিদে নামাজ পড় ।হৃদয়ের দুর্বলতা ত্যাগ করে মুসলমানদের সাথে স্বর্গে যাওয়ার জন্য তৈরি হও।
আশ্চয্যবৎপশ্যতি কশ্চিদেন-
মাশ্চয্যবদ্বদতি তথৈব চান্যঃ ।
আশ্চয্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি
শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ ।।২৯ ।।
দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্ব ভারত ।
তস্মাৎসর্বাণি ভূতানি ন ত্বং শোচিতুমর্হসি ।।৩০।।
স্বধর্মমপি চাবেক্ষ্য ন বিকম্পিতুমর্হসি ।
ধর্ম্যাদ্ধি যুদ্ধাচ্ছ্রেয়োহন্যক্ষত্রিয়স্য ন বিদ্যতে ।।৩১।।
যদৃচ্ছয়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারমপাবৃতম্ ।
সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম্ ।।৩২।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
হে মহাপুরুষ। যে মানবাত্মাকে দেখেন, শ্রবন করেন, জানেন। অন্য কোন মহাপুরুষ মানবাত্মার তত্ত্ব বিস্তারিত বর্ননা করেন। যিনি মানব্ত্মাকে দেখেন। তিনিই ইহা সম্পর্কে সঠিক বলতে পারবেন। হে অর্জুন! আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আত্মা সম্পর্কে জানতে পারে না। আত্মার উপর নিয়ন্ত্রন আনতে পারেনা। তুমি বেদের জ্ঞানের কথা শুনেও তা পারবেনা। কেননা আত্মা এই পৃথিবীর মোহ-মায়ায় আবদ্ধ। তুমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা। তুমি অবশ্যই এই সংসারের জালে আবদ্ধ হয়ে যাবে। হে অর্জুন! দেহে অবস্থিত আত্মা সর্বদা অবাধ্য। এই জন্য দেহের মৃত্যু হলে তোমার দুঃখ পাওয়া উচিত নয়। কেননা আত্মাই হল সনাতন। হে অর্জুন! তোমার প্রতি আমার উপদেশ হল- নিষ্কাম কর্মযোগ ও নিষ্কাম জ্ঞানযোগ- অবলম্বন করে তুমি সামনে অগ্রসর হও। আর ইহাদের ভিত্তি হল-হে অর্জুন! স্বধর্মের প্রতি লক্ষ্য করে তোমার দুঃখ পাওয়া উচিত নয়। কেননা সঠিক ধর্ম গ্রহন করতে নিজের সাথে যুদ্ধ করা ব্যতীত ক্ষত্রিয়ের জন্য কল্যাণকর আর কিছু নেই। কেন নিজের আত্মার সাথে এই যুদ্ধ। কারন আত্মা শাশ্বত, আত্মা সনাতন। ইহাই হল সকল মানুষের একমাত্র ধর্ম। আর তা হল স্বধর্ম। এই স্বধর্মের ধর্মাচানণ কি। ইহার আচরন হল- প্রত্যেক ব্যক্তি ক্ষমতা অনুযায়ী ইহাতে অবস্থান করবে। যেন ব্যক্তি স্বধর্মের উপর থাকতে পারে। বৈদিক সনাতন ধর্ম অনুযায়ী যারা স্বধর্ম পালন করে তাদের চারটি শ্রেনিতে বিভক্ত করেছেন। তা হল- শূদ্র- বৈশ্য – ক্ষত্রিয় – ব্রাহ্মন । পৃথিবীর প্রথম যুগের সাধকগন হল- শূদ্র। ইহার পরবর্তীতে যারা আগমন করেছে। তারা হল বৈশ্য সাধক। ইহার পরবর্তীতে যারা আগমন করেছে। তারা হল, ক্ষত্রিয় সাধক। কলিযুগে যে সাধকগন, সাধনা করবে। তারা হল ব্রাহ্মণ সাধক। শূদ্রদের যুগ হয়েছিল দশ হাজার বছর। বৈশ্যদের যুগ হয়েছিল দশ হাজার বছর। ক্ষত্রিয়দের যুগ হয়েছিল দশ হাজার বছর। ব্রাহ্মানদের যুগ হল পাঁচ হাজার বছর। বর্তমান যুগ হল কলি যুগ। আর ইহা ব্রাহ্মণদের যুগ। এই যুগে সাধক ব্রাহ্মনত্বে পরিবর্তিত হন। তখন আত্মাকে শান্ত রেখে, ইন্দ্রিয় দমন করে, মানব মনে পরিবর্তন আসে। আর ইহা হল- সরলতা, সহানুভূতি, বিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা, ইত্যাদি গুনাবলী স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। যে ব্যক্তি এই জগতে ধর্মের প্রাথমিক জ্ঞান না জেনে। কোনটি সঠিক ধর্ম তা না জেনে যজ্ঞ করে। উপাসনা করে, তার সকল উপাসনা নিষ্ফল হয়ে যায় যদিও সে হাজার বছর উপাসনায় লিপ্ত থাকে তবুও তার সকল কর্ম নিস্ফল হয়ে যায়। যে সঠিক ধর্ম পালন করে মৃত্যু বরন করে, সে স্বর্গে গমন করবে আর যে সঠিক ধর্ম না জেনে মৃত্যু বরন করে সে নরকে গমন করে। হে অর্জুন! তুমি হলে ক্ষত্রিয়! তোমার পরে ব্রাহ্মণদের আগমন হবে। যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবদেশে আগমন করবেন। তখন হতে কলি যুগের সূচনা হবে। তোমরা ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাক। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমনের পর তোমরা তাঁর অনুসরণ করে ব্রাহ্মণ হতে পারবে। হে অর্জুন!
চাতুর্বর্ণ্যং ময়াসৃষ্টম্
(গীতা-৪-১৪)
সমস্ত পৃথিবীর মানুষ চারটি শ্রেনীতে বিভক্ত। পৃথিবীর শুরুতে যে সকল মানুষ স্বধর্মে অবস্থান করে আল্লাহর উপাসনা করেছে। তারা হল শূদ্র। তাদের সময়কাল দশ হাজার বছর। শূদ্রদের পরে যারা আগমন করেছে তারা হল বৈশ্য। তাদের সময় কাল হল দশ হাজার বছর। তোমরা যারা আমাকে অনসরণ কর, তোমরা হলে ক্ষত্রিয়। তোমাদের সময়কাল দশ হাজার বছর যা কালিযুগ পয্যন্ত বহাল থাকবে। কলিযুগে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলে তোমরা তাঁর অনুসরণ করে ব্রাহ্মণ হবে। কলিযুগের সময়কাল পাঁচ হাজার বছর। হে অর্জুন! তোমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করে ব্রাহ্মণ উপাধি অর্জন করিও। হে অর্জুন! এই পৃথিবীর জীবনে কর্ম করে স্বর্গে যাওয়ার পথ নিশ্চিত কর। তোমার মত ক্ষত্রিয়ের জন্য স্বর্গের দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। তুমি আমার অনুসরন করে, নিজেকে স্বর্গের উপযুক্ত কর। দৈবী বাণী অনুযায়ী কর্ম করে স্বর্গের পথ খোলা রাখিও। সঠিক ধর্ম পালন করার জ্ন্য নিরপেক্ষ বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গীতার বাণী আমাদের নিকট কি প্রকাশ করে তা আমাদের বুঝতে হবে। একটি ধর্মীয় গ্রন্থ না বুঝে পড়ার মধ্যে কল্যান নেই। আমাদের সমাজ পয্যবেক্ষন করে কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যে সিদ্ধান্তগুলো এমন একজন ব্যক্তি উপস্থাপন করতে পারে যে একটি বিষয়ের সর্বদিক সম্পর্কে অবহিত হয়। একটি বিষয়ে, যে জানে আর যে জানে না উভয়ে সমান নয়। একজন ডাক্তার ও একজন রুগীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রুগীর ব্যথা উপসমে তিনি ভূমিকা পালন করেন। তেমনি আমাদের জীবনে ধর্মের কি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা একজন ধর্মবেত্তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেন যা হাজার ব্যক্তির পক্ষে উপলব্দি করা অসম্ভব হতে পারে। তাই যে ব্যক্তি যে বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের পরামর্শ আমাদের গ্রহন করা উচিত আমাদের জীবনের সাফল্যের জন্য। যার ভাল ফলাফল আমরা আমাদের জীবনে লাভ করতে পারব। তাদের গাইড লাইন অনুযায়ী আমাদের জীবন পরিচালিত করা উচিত। পৃথিবীতে যত ধর্ম রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি নিদিষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। তা সবার পক্ষে আয়ত্ব করা সম্ভব হয় না। আমরা বর্তমানে এমন এক যুগে অবস্থান করছি, যেখানে সবার জন্য সববিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা অধিক সহজ হয়েছে। বর্তমান যুগ ইনফরমেশনের যুগ। আর সঠিক ইনফরমেশন হল- এমন এক শক্তি যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। বর্তমানে আমাদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। মানবজাতির সমস্ত জ্ঞন-বিজ্ঞানকে একটি কম্পিউটারের মধ্যে একত্রিত করার সুযোগ রয়েছে। ইহার সাথে রয়েছে সুপার-কম্পিউটার। যা আমাদের বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের পথকে করেছে উন্মূক্ত। বর্তমান পৃথিবীতে প্রধান ধর্মগুলো হল-খ্রীষ্ঠান ধর্ম- ইসলাম ধর্ম। হিন্দুধর্ম-বৌদ্ধধর্ম-নাস্তিক ধর্ম-চাইনিজ ধর্ম-ইহুদী ধর্ম। আর ধর্মীয় গ্রন্থগুলো হল-বাইবেল ওল্ড টেস্টামেন্ট, বাইবেল নিউ টেষ্টামেন্ট, আল-কোরআন, আল-হাদীস, বেদ-পূরান, গীতা, ত্রিপিটক। বর্তমান সমাজে হিন্দু বৈদিক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মূর্তিপূজার যে নিয়ম বিদ্যমান রয়েছে, তা সনাতন ধর্ম গ্রন্থের মধ্যে নেই। আল-কোরআনের ভাষা হল আরবী আর বেধ-পূরাণ ও গীতার ভাষা হল সংস্কৃতি। উভয়ের ভাষাগত কারনে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অনেক ভূল সিধান্ধ উপস্থাপন করি। যেমন পানির অপর নাম হল জীবন, পানি পান করা ব্যতীত আমরা বাঁচতে পারি না, পানিকে আমরা পানি শব্দ দ্বারা পরিচিত, অনেক দেশে এই পানিকে বলে জল, অনেক দেশে বলে ওয়াটার, তাই ইহা হল ভাষাগত পার্থক্য। কিন্তু পানির মধ্যে কোন পরিবর্তন আসে নাই। যে পানি পান করলে আমরা বেঁচে থাকব। যে পানি পান করলে আমারা শান্তি পাব। এই পানির মধ্যে কোন পরিবর্তন নেই। আমাদের শরীরের জন্য পানির প্রয়োজনীতা রয়েছে। তেমনি আমাদের জীবনের জন্যও ধর্মের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইংরেজিতে একটি কথা আছে-নলেজ ইজ পাওয়ার-জ্ঞানই শক্তি। জ্ঞান দিয়ে মানুষ যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইনিশ শত পয়তাল্লিশ সালে আমেরিকা দুটি এটম বোমা জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। ইহাতে জাপান বিনা শর্থে আত্ম সমর্পন করতে বাধ্য হয়েছিল। ইহার পূর্বে জাপান নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে ব্যস্ত ছিল। জাপান নিজেদের শক্তি নিয়ে অহংকার করেছিল। তাদের ধারনা ছিল, তাদের বিমান শক্তির সামনে পৃথিবীর কোন দেশ দাঁড়াতে পারবেনা। কিন্তু পারমানবিক শক্তির বিষয়ে তাদের কোন ধারনা ছিলনা। তারা আমেরিকার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পরমানু
গবেষকদের নিকট পরাজিত। তেমনি আমাদের জীবন যুদ্ধে অশুরের বিরুদ্ধে জয়লাভের জন্য জ্ঞান-গবেষণার কোন বিকল্প নেই। আমাদের জীবন একটি পরিক্ষা কেন্দ্র। এই পরিক্ষায় আমাদের পাশ করতে হবে। কিভাবে আমরা পরিক্ষায় পাস করবো। ইহা জানার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন। জ্ঞান আহরনের জন্য তথ্যের প্রয়োজন ।জ্ঞান হল ইনফরমেশন বা তথ্যের সমস্টি।এই তথ্যগুলো আমরা খুজে পাই বিষয় ভিত্তিক, যে ব্যক্তি যে বিষয়ের জন্য বেশী আকর্ষণ অনুভব করে সে ব্যক্তি সেই বিষয়ের উপর বেশী তথ্য সংগ্রহ করে। সনাতন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করলে প্রধানত আমরা যে বিষয়গুলো বুঝতে পারি, তা হল- হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, ধর্মস্থাপন করার জন্য যুগে যুগে অবতার আগমন করে।সর্বশেষ যুগ হল কল্কিযুগ।এই যুগের অবতার হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি অশুরের তলোয়ার দ্বারা দমন করবেন।তাঁর সাদা ঘোঁড়া থাকবে। স্বধর্ম বা ইসলাম ধর্ম পালনের প্রতি আহব্বান। পরধর্ম বা অশুরের মূর্তিপূজার ধর্ম বর্জনের আহব্বান। অর্জুন একজন ক্ষত্রিয় শ্রেনীর সাধক। ব্রাহ্মণগন কলিযুগে আগমন করবেন। তাঁরা ব্রহ্মার নাম নিয়ে বা আল্লাহু আকবার বলে উপাসনা শুরু করবে। কুলিযুগে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবদেশে আগমন করবে। তখন তাঁর অনুসরন করে ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য আহব্বান জানিয়েছেন। সৃষ্টির আদিশাস্ত্র-ইমং বিবস্বতে যোগম্-(গীতা-৪-১)। ভারতীয় পন্ডিতদের মতে, গীতা সৃষ্টির আদিশাস্ত্র- ইহার ধারাবাহিকতা তাঁরা উপস্থাপন করেন এরূপ-
বৈদিক ঋষি (আদিকাল-নারায়ণ সূক্ত) তাদের মতে, প্রতিটি অণু পরমাণুতে ব্যাপ্ত ব্রহ্মই সত্য। তাকে না জানা পয্যন্ত মুক্তিলাভের আর অন্য কোন উপায় নেই। হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম- ত্রেতা-লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে-রামায়ণ। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম পাঁচ হাজার দুই শত বছর পূর্বে- গীতা- গীতার বানী অনুসারে পরমাত্মাই সত্য। দেবী-দেবতাগণের পূজা বা মূর্তি পূজা মূঢ়বুদ্ধির পরিচয়-মঢ় অর্থ বোকা-মূর্খ-যে মূর্তিপূজা করে সে মৃত্যুর পর নরকে গমন করে। হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম তিন হাজার বছর পূর্বে-ইহুদী ধর্ম। মহাত্মা জরথুস্ত্র-দুই হাজার সাতশ বছর পূর্বে-পারসী ধর্ম। মহাবীর-দুই হাজার ছয়শত বছর পূর্বে-জৈন গ্রন্থ। হযরত গৌতম বুদ্ধ আলাইহিছ সালাম-দুই হাজার পাঁচশত বছর পূর্বে-মহাপরিনিব্বান সুত্ত-আমি সেই অবিনাশী পদলাভ করেছি, যা পূর্ব মনীষীগণ লাভ করেছেন। এটাই মোক্ষ।
হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম- যীশু খ্রিষ্ট-দুই হাজার বছর পূর্বে-খৃষ্টান ধর্ম। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এক হাজার চাঁর শত বছর পূর্বে। তাঁকে সনাতন ধর্মে বলা হয়েছে- অন্তিম ঋষি- কল্কি অবতার- নরাশংস- বৌদ্ধধর্মে বলা হয়েছে- অন্তিম বুদ্ধ- আয্য মৈত্রিয়- খ্রীষ্ঠান ধর্মে বলা হয়েছে- আহমদ-সত্যের আত্মা। আদি শঙ্করাচায্য-এক হাজার দুইশত বছর পূর্বে-তিনি বলেন-জগৎ মিথ্যা-সত্য কেবল হরি ও তার নাম। তিনি কোন অবতার নয় কেননা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর আর কোন নবী ও রাসূল এ পৃথিবীতে আগমন করবেনা। সন্ত কবীর-ছয়শত বছর পূর্বে। রাম নাম অতি দুর্লভ।তিনি একজন হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম এর ভক্ত ছিলেন। গুরু নানক-পাঁচশত বছর পূর্বে-এক ওঁকার সতগুরু প্রসাদী- একমাত্র ওঁকারই সত্য কিন্তু সেটা সদ্গুরুর কৃপাসাপেক্ষ।স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী-দুই শত বছর পূর্বে-পরমাত্মার উপাসনা কর। সেই ঈশ্বরের মুখ্য নাম ওঁ। স্বামী শ্রী পরমানন্দজী-১৯১১-৬৯ খ্রীঃ। সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি-
মমৈবাংশো জীবলোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ ।
মনঃ ষষ্ঠানীন্দ্রিয়াণি প্রকৃতিস্থানি কর্ষতি ।।
১৫/৭।।গীতা
মানব দেহের সার্থকতা-
অনিত্যমসুখং লোকমিমং প্রাপ্য ভজস্ব মাম্ ।।
(৯/৩৩-গীতা)
আল্লাহর এবাদতের মধ্যে মানবদেহের স্বার্থকতা বিদ্যমান রয়েছে।
মানবজাতি দুটি ভাগে বিভক্ত-
দ্বৌ ভূতসর্গৌ লোকেহস্মিন্দৈব আসুর এব চ ।
দৈবো বিস্তরশঃ প্রোক্ত আসুরং পার্থ মে শৃণু ।
(১৬/৬ গীতা)
মানুষ দুই প্রকার। দেবস্বভাব ও অসুরস্বভাব। যার হৃদয়ে দৈবী সম্পদ আছে, সে দেবতা আর যার হৃদয়ে আসুরী সম্পদ আছে সে অসুর।
মানুষের প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন-
ত্রৈবিদ্যা মাং সোমপাঃ পূতপাপা
যজ্ঞৈরিষ্ট্বা স্বর্গতিং প্রার্থয়ন্তে।
তে পুণ্যমাসাদ্য সুরেন্দ্রলোক-
মশ্নন্তি দিব্যান্দিবি দেবভোগান্।।
(৯-২০-গীতা)
আমাকে ভজনা করে লোকে স্বর্গ কামনা করে। আমি তাদের প্রদান করি।
কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেহন্যদেবতাঃ ।
তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া।।
(৭-২০-গীতা)
কামনা দ্বারা যাদের বুদ্ধি অভিভূত। এরূপ মূর্খগণ পরমাত্মা ব্যতীত অন্য দেবতার পূজা করে।
কর্শয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ ।
মাং চৈবান্তঃ শরীরস্থং তান্বিদ্ধ্যাসুরনিশ্চয়ান্ ।
(১৭-৬-গীতা)
অর্জুন! শাস্ত্রবিধি ত্যাগ করে যারা দেবতার পূজা করে। যারা দেহরূপে স্থিত মূর্তিসমূহের পূজা করে। তাদের তুমি অসুর জানবে। যারা দেবতাগনের পূজা করে। তারা অসুরের পূজা করে। তারা অসুরের অন্তর্গত। তারা অসুরের সাথে নরকে যাবে। তারা অনন্তকাল শয়তানের সাথে নরকের কালো আগুনের মধ্যে অবস্থান করবে।
তানহং দ্বিষতঃ ক্রূরানসংসারেষু নরাধমান্ ।
ক্ষিপাম্যজস্রমশুভানাসুরীষ্বেব যোনিষু ।।
(১৬-১৯-গীতা)
যে সকল মানুষ শাস্ত্রবিধি ত্যাগ করে কল্পিত বিধি দ্বারা যজ্ঞ করে। তারা অধম, পাপাচারী এবং মানুষের মধ্যে সর্ব নিকৃষ্ঠ। নির্ধারিত বিধি কি যজ্ঞ করার। নির্ধারিত বিধি হল- ব্রহ্মা পক্ষ হতে আগত অবতারদের অনুসরন করা এবং তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
ওমিত্যেকাক্ষরং ব্রহ্ম ব্যাহরন্মামনুস্মরন্ ।
যঃ প্রযাতি ত্যজন্দেহং স যাতি পরমাং গতিম্।
(৮-১-গীতা)
একমাত্র পরমাত্মাকে স্মরণ করা, তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষের সংরক্ষণে ধ্যান।
ইতি গুহ্যতমং শাস্ত্রমিদমুক্তং ময়ানঘ ।
এতদ্বুদ্ধা বুদ্ধিমানস্যাৎকৃতকৃত্যশ্চ ভারত।১৫-২০।।
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কায্যাকায্যব্যবস্থিতৌ ।
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি।
(২৬-২৪-গীতা)
এইরূপ অতি গোপনীয় শাস্ত্র আমার মাধ্যমে বর্নীত হল, অতএব, এই শাস্ত্রই প্রমাণ করবে কি আমাদের কর্তব্য, কি আমাদের করা উচিত, তাই সকল শাস্ত্রের নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরন করে আমাদের আচরন করতে হবে ।
সর্বধর্মান্পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
(গীতা ১৮-৬৬)
সকল ধর্মের অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করে একমাত্র আমার অনুসরন কর। ইহা এমন একটি স্লোক যেখানে সৃষ্টিকর্তা সরাসরি হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালামকে উপদেশ দিয়েছেন। তিনি অর্জুনের মাধ্যমে সকল ভারতবাসীকে জানিয়েছে, হে অর্জুন! তুমি সকল ধর্মীয় নীতি পরিত্যাগ করে শুধুমাত্র আমার নির্দেশ অনুসরন কর। কেননা, আমি তোমাকে যা শিক্ষা প্রদান করি তা তোমার জন্য কল্যাণকর। এই শ্লোকের মাধ্যমে অনেক পন্ডিত ব্যক্তি বলেন, সনাতন ধর্ম অনুসরন করতে হবে। কিন্তু তাদের এই কথা এই শ্লোক ও সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থের আলোকে গ্রহনযোগ্য নয় কেননা গীতা, বেধ-পূরাণের অনেক শ্লোকে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনকে উপদেশ দিয়ে বলেন, কলিযুগে আমাদের সকলের ধর্ম সনাতন ইসলাম ধর্ম এবং কলিযুগের সর্বশেষ অবতার হলেন নরাশংস, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম। তিনি তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধ করে অশুরকে পরাজিত করবেন। তাই এই শ্লোকে অর্জুনকে উপদেশ দেয়া হয়েছে, বর্তমানে তুমি সকল অশুরের রীতি-নীতি পরিত্যগ করে, মূর্তিপূজা পরিত্যগ করে, শুধুমাত্র সনাতন ধর্মের অনুসরন কর এবং ভবিষ্যতে তুমি নরাশংস, কল্কি অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করবে। কেননা হিন্দু সনাতন ধর্ম নিদিষ্ট এলাকা ও নিদিষ্ট সময়ের সাথে যুক্ত ধর্ম। তাই বর্তমানে সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য একমাত্র অনুসরনীয় ধর্ম হল সনাতন ইসলাম ধর্ম যা হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনকে বলে গেছেন। গীতার অন্য শ্লোকে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ সমর্পণই ধর্মের মূলতত্ত্ব। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্টিত হয়েছে এক ঈশ্বরবাদ ধর্ম, শিখ ধর্ম। তেমনীভাবে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে আগমন করে তার জীবনে কৃষ্ণভক্তি বা সঠিক সনাতন ধর্মের উদাহরন স্থাপন করেছেন যেখানে কোন মূর্তিপূজা নেই। ইহা হল সেই সনাতন ধর্ম যা প্রচার করেছি হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম ও হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম। বর্তমানে যদি কোন ব্যক্তি এরূপ ধর্ম পালন করে, তবে তা গ্রহনযোগ্য নয় কেননা সনাতন ধর্মগ্রন্থ প্রমান করে, বর্তমান কলিযুগে একমাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্ম হল ইসলাম। তাই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে মুসলিম হওয়াই ধর্মের মূলতত্ত্ব। সেই স্রষ্ঠাকে লাভ করার নির্ধারিত নিয়মের আচরনই ধর্মাচরণ। পরকালে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আশা নিয়ে নির্ধারিত নিয়মের আচরনই ধর্মাচরণ। কেননা, ধর্মের নির্ধারিত আচরন আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করে। (গীতা- ২-৪০)। ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী যে আচরন করে, সে অত্যন্ত পাপী ব্যক্তি হলেও খুব তাড়াতাড়ি সে ধার্মীক ব্যক্তি হয়ে যায়। (অধ্যায় ৯ শ্লোক ৩০-গীতা)। তাই আমাদের ধার্মীক হওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সর্বশেষ সনাতন ধর্ম, ইসলাম ধর্মের অনুসরন করতে হবে। পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর ধর্মাচরণ বর্তমানে আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য নয় কেননা কল্কি অবতার, নরাশংস, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একহাজার পাঁচশত বছর পূর্বে আগমন করে সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্ম স্থাপন করেছেন। তাই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্মাচরণ হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন। তাই আসুন, আমরা সবাই তাঁকে অনুসরন করে চির যৌবন, অনন্ত সুখের স্থান স্বর্গে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করি।
ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাহমমৃতস্যাব্যয়স্য চ ।
শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য সখস্যৈকান্তিকস্য চ ।।
(১৪-২৭-গীতা)
সেই অবিনাশী ব্রহ্মের, শাশ্বত ধর্মের যা অখন্ড এবং যার আশ্রয়ে আমি আছি এবং যে আমাদের পরম আত্বীয়, সে সদগুরুর ধর্মই আমাদের সকলের শেষ আশ্রয়স্থল। অবিনাশী ব্রহ্মা কে। পবিত্র কোরআন শরীফে বলা হয়েছে- হে নবী, আপনি বলে দিন- আল্লাহ এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনি কাহারও হতে জন্মগ্রহন করেননি, তার সমকক্ষ কেহ নেই। এমন এক সময় আসবে যখন পৃথিবীর সবকিছু ধংস হবে। পূনরায় আল্লাহ আমাদের সৃস্টি করবেন। সে জন্য গীতায় বলা হয়েছে- অবিনাশী ব্রহ্ম বা একমাত্র আল্লাহর উপাসনা করতে হবে। আল্লাহকে চিনতে হলে সদগুরুর ধর্ম পালন করতে হবে। সদগুরু কে। সদগুরু হলেন- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাকে যারা অনুসরন করে, তারা হল ব্রাহ্মণ। তাই হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সনাতন ইসলাম ধর্ম আমাদের সকলের শেষ আশ্রয়স্থল। যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করবে সে স্বর্গে গমন করে অনন্তকাল আনন্দে জীবন-যাপন করবে। আর যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করবেনা, সে নরকে গমন করবে।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গীতার মূলকথা
বৈদিক সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ গীতাশাস্ত্রের উপর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখার প্রয়োজন মনে করি। যদিও ইহার উপর অনেক ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখিত হয়েছে। গীতার বিষয়-বস্তু নিয়ে এত ব্যাখ্যা গ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও সকল লেখকগন গীতাকে কেন্দ্র করেই তাদের মতামত উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক মতভেদ। যদিও হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম গীতার মধ্যে বলেছেন- ঈশ্বর জ্ঞান তত্ত্ব ও আত্মজ্ঞান তত্ত্ব সম্বন্ধে। তবুও গীতাকে নিয়ে এত মতবেদ কেন! কারন তারা গীতার মূল বিষয় অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের মানুষ প্রধানত কয়েকটি ধর্মের অনুসরন করছে। সাধারন মানুষ এ বিষয়ে, সংশয়ের মধ্যে আছে যে, কোন ধর্মটি সঠিক। যারা গীতার ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তারা গীতার শাব্দিক অর্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করার চেষ্ঠা করেছেন কিন্তু বাস্তবে তাঁরা গীতার মূল বিষয় হতে বহুদূরে অবস্থান করছেন।
শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ ।
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ ।।৩৫।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
অন্যের ধর্ম অপেক্ষা নিজের ধর্ম অনেক ভাল। স্বভাবজাত ধর্মই হল নিজের ধর্ম। নিজের ধর্ম অনুসারে কর্ম করে মুক্তিলাভ করা সম্ভব। স্বধর্ম পালন করে মৃত্যু লাভ করলে সে মৃত্যু নিজের জন্য কল্যাণকর হয়। নিজ ধর্ম পালন করা সাধক মৃত্যুর পর নতুন দেহ ধারন করে স্বর্গে গমন করে আর কখনও মৃত্যু হয় না। আর পরধর্ম পালন করে সাধক নরকে গমন করে। নরকের অগ্নির শাস্তি প্রাপ্ত হয়। স্বধর্ম কি! এ বিষয়ে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম অর্জুনকে বলছেন। হে অর্জুন! যারা ব্রাহ্মণ, তাদের জন্য বেধের উপদেশ মালা ছোট পুকুরের মত। হে অর্জুন! তুমি বেধের ঊর্ধ্বে ওঠে ব্রাহ্মন হওয়ার চেষ্ঠা কর। ইহাতে তোমার স্বধর্মে থাকা সম্ভব হবে। হে অর্জুন! রাগ-হিংসার বশীভূত হয়ে পরধর্মে গমন করিও না। পরধর্ম অশুরের ধর্ম। অশুর বা শয়তান নরকে গমন করবে। তুমি অশুরের সাথে নরকে গমন করিও না। হে অর্জুন! আমি ও তুমি সেই স্বধর্মের উপর আছি, যেই স্বধর্ম প্রচার করেছেন হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম এবং আমি নিজে। পরবর্তীতে এই স্বধর্ম নিয়ে আসবেন হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম।কলিযুগে সর্বশেষ এই স্বধর্ম নিয়ে আসবেন, কল্কি অবতার, অন্তিম বু্দ্ধ, আয্য মৈত্রিয়, নরাশংস, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইহা আমাদের ধর্মীয় পরম্পরা, ইহা আমাদের পারিবারিক ধর্মীয় পরম্পরা, ইহা আমদের সামাজিক ধর্মীয় পরম্পরা। হে অর্জুন! পরধর্ম শয়তানের ধর্ম।পরধর্ম শয়তানের মূর্তিপূজার ধর্ম।পরধর্ম পালন করলে শয়তানের সাথে নরকে গমন করবে। হে অর্জন! তুমি নিজেকে মূর্তিপূজার পরধর্ম হতে রক্ষা কর। তুমি আমাদের স্বধর্ম সনাতন ইসলাম ধর্ম পালন কর। তুমি কলিযুগে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইসলাম ধর্ম পালন করবে। ইহাই আমাদের স্বধর্ম। ইহাই আমাদের সনাতন ইসলাম ধর্ম। অশুর সব সময় চেষ্টা করে আসছে মানুষকে নরকের পথে পরিচালিত করার জন্য। সে মানুষের প্রধান চির শত্রু। সে মানুষের মধ্যে কুপরামর্শ প্রদান করে ভূল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে। মানুষকে মূর্তিপূজায় লিপ্ত করে পরধর্মের পথে পরিচালিত করে। যখন মক্কা নগরীতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছিলেন। তখন সমাজে পরধর্ম পালনের রীতি বজায় ছিল। কাবা শরীফের মধ্যে তিন শত ষাটটি মূর্তি ছিল যার উপাসনা করা হত। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে স্বধর্ম স্থাপন করেন। কুল্লু মাওলুদু ইওলাদু আলাল ফিতরাতে ইসলাম। (আল-হাদীস)। সমস্ত মানব শিশু স্বধর্মের উপর জন্মগ্রহন করে। প্রতিটি শিশু সনাতন ইসলাম ধর্মের উপর জন্মগ্রহন করেন। শিশুর পিতা-মাতা তাঁকে স্বধর্ম ইসলাম ধর্মের অনুসারী করে। অথবা শিশুর পিতা-মাতা তাঁকে পরধর্ম অশুরের মূর্তিপূজার দিকে নিয়ে যায়। অথবা শিশুর পিতা-মাতা তাঁকে ত্রিঁত্ববাদ খ্রিষ্ঠান ধর্মের দিকে নিয়ে যায়। অথবা শিশুর পিতা-মাতা তাঁকে ইহুদী ধর্মের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু একটি শিশুকে যদি কোন ধর্মের প্রতি পরিচালিত না করা হয়, তবে সে বড় হয়ে ব্রাহ্মণদের সাথে মসজিদে নামাজ পড়বে। সে স্বধর্ম পালন করবে। সে ইসলাম ধর্মের অনুসরন করবে।কেননা প্রতিটি শিশু ইসলাম ধর্মের উপর জন্মগ্রহন করে।তাই আমাদের সকলের কর্তব্য ইসলাম ধর্ম পালন করা। আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্ম হল ইসলাম।(আল-কোরআন)। পৃথিবীতে দুটি ধর্ম কখনো ছিলনা।ধর্ম মাত্র একটি। আর তা হল-স্বধর্ম আর ইহা হল- সনাতন ইসলাম। পৃথিবীতে আগত প্রথম ব্যক্তি হযরত আদম আলাইহিছ সালাম একজন নবী ছিলেন। তিনি আগমন করেছিলেন শ্রীলংকায়।পৃথিবীর শুরু হতে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসুল আগমন করেছিলেন বিভিন্ন দেশে। এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে নবী পাঠানো হয়নি।(আল-কোরআন)।পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই, যেখানে নবী ও রাসূল পাঠানো হয়নি, হিন্দু পন্ডিতদের মতে, ভারতবর্ষে নয় জন অবতার আগমন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হল- হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম। তিনি পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম। তিনি তিন হাজার পাঁচশত বছর পূর্বে ভারতবর্ষ আগমন করেছিলেন। হযরত বু্দ্ধদেব আলাইহিছ সালাম। তিনি দুই হাজার সাঁতশত বছর পূর্বে ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন।তাঁরা প্রত্যেকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা নগরীতে আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছেন এবং বলেছেন, যখন তিনি আগমন করবেন, তখন আমাদের প্রচারিত ধর্মের আইন-কানুন বাতিল বলে গন্য হবে এবং তাঁর ধর্মের আইন-কানুন আমাদের সকলের ধর্ম হবে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের পূর্ববর্তী কোন ধর্মগ্রন্থের বানী বা কোন নবী ও রাসূল ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান করেন না। সকল অবতার, নবী ও রাসূলগন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে অবস্থান করেন।যেমন হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম নিজেকে খ্রিষ্টান বলেননি, তিনি বলেছেন আমি মুসলিম । হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বৈদিক সনাতন ধর্মের প্রচারক ছিলেন, এই সনাতন ধর্মই হল ইসলাম ধর্ম এবং তিনি নিজেকে মুসলিম বলেছেন। তিনি বার বার বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ধর্মই আমার ধর্ম। যখন তিনি আরব দেশে আগমন করবেন তখন তোমরা সবাই তাকে অনুসরন করবে। তাঁর পিতার নাম হবে বিষ্ণুযশ বা আবদুল্লাহ। মাতার নাম হবে সূঁমতি বা আমেনা। তিনি জন্মগ্রহন করবেন স্বম্ভল গ্রামে বা মক্কা নগরীতে। জন্মের তারিখ হবে দ্বাদশ শুক্ল পক্ষ বা বারই রবিউল আউয়াল। আর তাঁর আগমনের কিছু নিদর্শন দিয়েছেন। যেমন, সাদা ঘোড়া ও উটের পিঠে আরোহন করবেন। তলোয়ার দিয়ে অশুরকে দমন করবেন।যে সকল ব্যক্তি শয়তান বা মূর্তিপূজার পক্ষে থাকবে তাদের সাথে তিনি তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধ করবেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম তাঁর অনুসারীদের গরুর মাংস খেতে নিষেধ করেছেন।কেননা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে গরু, মহিষ, উট, খাওয়ার প্রথা চালু করবেন। যখন এই কাজগুলো শুরু হবে তখন সবাই বুঝতে পারবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন। তখন তোমরা তাদের অনুসরন করবে। তাদের সাথে মাংস খাওয়া শুরু করবে। আমার সনাতন ধর্মের আইন-কানুন বিলুপ্ত ঘোষনা করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নতুন আইন-কানুনের অনুসরন করবে। সে ধর্মের অনুসারীগন হবেন ব্রাহ্মণ। তোমরা হলে শূদ্র, বৈশ্য, ক্ষত্রিয়, তোমরা কখনও ব্রাহ্মণ হতে পারবেনা যতক্ষন না মসজিদে ব্রহ্মার নাম নিয়ে উপাসনা শুরু হয়। যারা ব্রহ্মার নাম নিয়ে উপাসনা শুরু করবে, যখন দেখবে মসজিদে আল্লাহু আকবার বলে নামাজ পড়া শুরু করেছে তখন তোমরা তাদের সাথে মসজিদে নামাজ পড়ে ব্রাহ্মণ হবে। ব্রাহ্মণদের কোনআন-হাদীসের জ্ঞান হবে সাগর-মহাসাগরের মত, সে তুলনায় আমার বেদের জ্ঞান হল- পুকুরের মত। যখন কোনআন-হাদীস আসবে তখন তোমরা ইহার জ্ঞান অর্জন করে ব্রাহ্মণ হবে। আর ইহাই হল-আমাদের স্বধর্ম।
শ্রীভগবানুবাচ
বহুনি মে ব্যতীতানি জ্ন্মানি তব চার্জুন ।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ ।।৫ ।।
অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া ।।৬ ।।
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।
অভ্যূত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ।।৭ ।।
পরিত্রাণায় সাধুনং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে ।।৮ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
হে অর্জুন! আমার এবং তোমার জন্ম দেহ ব্যতীত শুধুমাত্র আত্মার-তা অনেক পূর্বে হয়েছে। হে পরন্তপ! আমি তা জানি, কিন্তু তুমি তা জাননা। যে সাধনা করে সে জানে না কিন্তু তা মহাপুরুষ জানেন। যদিও সাধক ও মহাপুরুষ উভয়ে দেখতে মানুষের মত। যখন মহাপুরুষ মানুষের মাঝে প্রকাশিত হন। মহাপুরুষ এমন অবস্থায় বিরাজমান যা তোমাদের বলে বুঝাতে পারব না। তাহলে কি তিনি সকল মানুষের মত জন্মগ্রহন করেন। না, নিজের আসল রূপে থাকা আর দেহ নিয়ে সবার সামনে উপস্থিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাঁর জন্ম চোখে দেখা সম্ভব নয়। তিনি জন্মগ্রহন করেন না। তাঁকে বর্ননা করা যায় না। তিনি শাশ্বত হয়েও দেহ নিয়ে আগমন করেন। যারা মহাপুরুষ, যারা নবী ও রাসূল, তাঁদের জন্ম সবার মত নয়। যেমন হযরত আদম আলাইহিছ সালাম কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পিতা-মাতা ব্যতীত সৃস্টি করেছেন। হযরত হাওয়া আলাইহিছ সালাম কে মাতা ব্যতীত হযরত আদম আলাইহিছ সালাম হতে সৃস্টি করেছেন। হযরত ঈষা আলাইহিছ সালাম কে পিতা ব্যতীত সৃস্টি করছেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালামকে অলৌকিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহ নিজের নূর হতে নূর দিয়ে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন। তিনি ধ্বংসের উর্দ্ধে, তিনি জন্মের উর্দ্ধে, তিনি সমস্ত মানুষের অন্তরের সাথে যুক্ত থেকে আগমন করবেন। অনেকে প্রশ্ন করে, ভগবান অবতার হবে, তখন তাকে দেখবে, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, এমন কিছু হয় না যে তোমরা ভগবানকে দেখতে পাবে। ভগবান অবতার পাঠান। সেই অবতার যোগসাধনার মাধ্যমে। নিজের ভালবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে অতিত, বর্তমান ও ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রন করে তিনি আবির্ভূত হবেন। অনেকে প্রশ্ন করে, কখন ও কোন অবস্থায় তিনি আভির্ভূত হবেন! হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, হে অর্জুন! ভবিষ্যতে এমন একজন নবী আসতেছে, যিনি ধ্বংসের উর্ধ্বে, কোন শক্তি তাঁকে ধ্বংস করে দিতে পারেনা। তিনি অসীম শক্তি নিয়ে আগমন করবেন। এবং তিনি জন্মের উর্ধ্বে, তাঁর জন্মগ্রহন করার কোন প্রয়োজন হয় না। তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তিনি যখন আগমন করবেন। সমস্ত মানুষের অন্তরের সাথে তাঁর অদৃশ্য নূরের সম্পর্ক থাকবে। অন্য শ্লোকে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, হযরত মুহাম্মদ আলাইহিছ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের সাথে আমার এবং সমস্ত মানুষের অন্তরের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আমাকে এবং সমস্ত মানুষকে চিনেন এবং জানেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালামকে প্রশ্ন করা হল, আল্লাহ কেন নবী ও রাসূল পাঠান, আল্লাহ নিজে কেন আসেননা। আল্লাহ আসলে আমরা আল্লাহকে সরাসরি দেখতে পারতাম। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, আল্লাহ আসার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আসলে আমরা আল্লাহর নূরের আলো সহ্য করতে পারবো না। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের শক্তি দিয়ে আমাদেরকে আল্লাহর নিকট নিয়ে যাবে। তখন আমরা আল্লাহকে দেখতে পারব। এখন তোমরা আমার অনুসরন কর, আর যখন ভবিষ্যতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা নগরীতে আসবেন, তখন তোমরা তাকে অনুসরন করবে। তখন হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম এর অনুসারীগন, অর্জুন! জানতে চাইলেন। কখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি আগমন করবেন। তখন হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, হে অর্জুন! যখন মহান ধর্ম পরমাত্মার জন্য হৃদয় গ্লানিতে ভরে যায়, যখন অধর্মের বৃদ্ধিতে ধর্মের অনুসারীগন সঠিক ধর্মের পথ খুজে পায় না, তখন আমরা সনাতন ইসলাম ধর্ম নিয়ে আগমন করি। হে অর্জুন! যারা প্রকৃতপক্ষে ভাল মানুষ, অশুরের পক্ষ অবলম্বন করেনা, সাধু থেকে জীবন অতিবাহিত করতে চায়। যারা দুষ্কৃতকারী, তাদের বিনাশ করার জন্য, তাদের ধ্বংশ করার জন্য, সমাজে ধর্ম প্রতিষ্টা করার জন্য, যুগে যুগে আমি এবং আমার মত অবতার ও নবী-রাসূলগন আগমন করে। যখন দুষ্ট লোকের প্রভাব দেশে বেশি থাকে। তখন কলিযুগ হবে। কলিযুগের নবী ও রাসূল হলেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যখন তিনি আগমন করবেন, তখন তোমরা তাকে অনুসরণ করবে।
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্যজ্ঞাজ্জ্ঞনযজ্ঞঃ পরন্তপ ।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে ।।৩৩ ।।
তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া ।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞনং জ্ঞনিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ ।।৩৪ ।।
যজ্জ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পান্ডব ।
যেন ভূতান্যশেষেণ দ্রক্ষ্যসাত্মন্যথো ময়ি ।।৩৫ ।।
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্তরিষ্যসি ।।৩৬ ।।
যথৈধাংসি সমিদ্ধোহগ্নির্ভস্মসাৎকুরুতেহর্জুন ।
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি ভস্মসাৎকুরুতে তথা ।।৩৭ ।।
(শ্রীমদভগবদ্গীতা-যথার্থ গীতা)
যজ্ঞ কিভাবে হবে। মানুষ জ্ঞান কিভাবে লাভ করবে। তা কি মসজিদে, মন্দিরে, গির্জায়, তীর্থযাত্রায় অথবা নদীতে গোসল করে। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেন, না! জ্ঞান লাভ করার প্রধান উপায় হল- তত্ত্বস্থিত মহাপুরুষ আর তিনি হলেন কল্কি অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হে অর্জুন! তুমি তাঁর সান্নিধ্যে প্রণাম করে, অহংকার ত্যাগ করে, শরণাগত হয়ে, উত্তমরূপে সেবা করে, তাঁকে নিস্কপটভাবে প্রশ্ন করে সেই জ্ঞানলাভ কর। যদি তুমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুজে না পাও, তবে তাঁর তত্ত্বের জ্ঞাতা-জ্ঞানীগন তোমাকে জ্ঞান-সম্বদ্ধে উপদেশ দেবেন। সাধনা পথে তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আত্মসমর্পণ করে সেবা করার পরে তোমার মধ্যে এই জ্ঞান অনুশীলনের পরে তোমার মধ্যে এই ক্ষমতা আসবে।হে অর্জুন! কলিযুগে তুমি আমাকে খুজে পাবেনা। এমন কি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও খুজে পাবেনা। তখন তুমি কি করবে! তখন তুমি আত্মসমর্পণকারীদের নিকট গিয়ে আত্মসমর্পণ করবে। আত্মসমর্পণকারীকে আরবীতে বলে মুসলিম। তখন তুমি মুসলিমদের নিকট গিয়ে মুসলিম হবে। তুমি ইসলাম ধর্মের অনুসরন করবে।তুমি কোরান-হাদীস ও ধর্মীয় বই পড়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত নাও হতে পার। তাই তুমি মুসলিমদের নিকট যাবে এবং মুসলিম হয়ে তাদের সাথে মসজিদে নামাজ পড়বে। তুমি মুসলমানদের নিকট জ্ঞানলাভ করলে আর কখনো বিপথে যাবেনা। শয়তান আর তোমাকে নরকের পথে নিয়ে যেতে পারবেনা। স্বর্গের পথে তুমি এগিয়ে যাবে। অতএব সেই পরমাত্মাকে লাভ করার পথ হল- তত্ত্বস্থিত মহাপুরুষ- অতএব, আমাদের স্রষ্ঠা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাক্ষাত যদি তুমি পেতে চাও তবে তত্ত্বস্থিত মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন কর।
কিং পুনর্ব্রাহ্মণাঃ পুণ্যা ভক্তা রাজর্ষয়স্তথা ।
অনিত্রমসুখং লোকমিমং প্রাপ্য ভজ্স্ব মাম্ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
ব্রাহ্মণ হল ব্যক্তির এক বিশেষ অবস্থার নাম। এই অবস্থায় সাধকের মধ্যে ব্রহ্মায় মনোযোগী হওয়ার সম্স্ত যোগ্যতা বিরাজমান থাকে। শান্তি অর্জনের মাধ্যমে। নিজের অনুভব উপলব্ধি করে। ধ্যান সাধনার মাধ্যমে। ব্রহ্মা হলেন মহান স্রষ্ঠা। যিনি সবকিছু সৃস্টি করেন। ব্রাহ্মণ হলেন মহান স্রষ্ঠার পক্ষ হতে আগত ধর্মীয় বিধান যে গ্রহন করে পালন করে। ব্রাহ্মণ সে হতে পারে যে স্রষ্ঠার পক্ষ হতে আগত শান্তি গ্রহন করে। শান্তিকে আরবীতে বলা হয় ইসলাম। যে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে সে হতে পারে ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ হলেন মুসলিমগন। যারা মহান স্রষ্ঠা আল্লাহর নাম নিয়ে মসজিদে উপাসনার জন্য আহব্বান করেন। যারা আল্লাহু আকবার বলে মসজিদে নামাজ পড়েন। তাঁরা হল ব্রাহ্মণ। তাই হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম আমাদের সকলকে ব্রাহ্মণ হতে বলেছেন। তাই আসুন আমরা সবাই ব্রাহ্মণ হয়ে কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করি।
শ্রীভগবানুবাচ
ভূয় এব মহাবাহো শৃণু মে পারমং বচঃ ।
যত্তেহহং প্রীয়মাণায় বক্ষ্যামি হিতকাম্যয়া ।।১।।
ন মে বিদুঃ সুরগণা প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ ।
অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ ।।২।।
যো মামজমনাদিং চ বেত্তি লোকমহেশ্বরম্ ।
অসম্মূঢঃ স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে ।।৩।।
বুদ্ধির্জ্ঞানমসম্মোহঃ ক্ষমা সত্যং দমঃ শমঃ ।
সখং দুঃখং ভবোহভাবো ভয়ং চাভয়মেব চ ।।৪।।
অহিংসা সমতা তুষ্টিস্তপো দানং যশোহযশঃ
ভবন্তি ভাবা ভূতানং মত্ত এব পৃথগ্বিধাঃ ।।৫।।
তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতি পূর্বকম্ ।
দদামি বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে ।।১০।।
দেষামেবানুকম্পার্থমহমজ্ঞানজং তমঃ ।
নাশয়াম্যাত্মভাবস্থো জ্ঞানদীপেন ভাস্বতা ।।১১।।
অর্জুন উবাচ
পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্ ।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্ ।।১২।।
আহুস্ত্বামৃষয় সর্বে দেবর্ষির্নারদস্তথা ।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে ।।১৩।।
সর্বমেতদৃতং মন্যে যন্মাং বদসি কেশব ।
ন হি তে ভগবন্ব্যক্তিং বিদুর্দেবা ন দানবাঃ ।।১৪।।
স্বয়মেবাত্মনাত্মানং বেত্থ ত্বং পুরুষোত্তম ।
ভূতভাবন ভূতেশ দেবদেব জগৎপতে ।।১৫।।
বক্তুমর্হস্যশেষেণ দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ ।
যাভির্বিভূতিভির্লোকানিমাংস্ত্বং ব্যাপ্য তিষ্ঠসি ।।১৬।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
মহাবাহু অর্জুন! আমার পরম প্রভাবপূর্ণ কথা শ্রবন কর যা আমি তোমার হিতকামনায় তোমাকে জানিয়ে দিব। অর্জুন! আমাদের আবির্ভাব সম্বন্ধে কেহ অবগত নহে। আমাদের জন্ম চর্মচক্ষু দ্বারা দেখা অসম্ভব। আমাদের জন্ম অলৌকিক। যিনি মানুষ হতে জন্মগ্রহন করেন না। যিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিরাজমান, আমাদের ঈশ্বরকে তিনি দেখে জানতে পারেন। মরনশীল মানুষের মধ্যে তিনি জ্ঞানবান পুরুষ। এইরূপ যিনি, তিনি সকল পাপ হতে মুক্ত। তাকে আমি উপলুব্ধি করে, তোমাদের কৃপা করে জানিয়ে দিলাম। তিনি এরূপ হবেন। হে অর্জুন! যার অসাধারণ বুদ্ধি, অসাধারণ জ্ঞান, লক্ষের প্রতি স্থির প্রবৃত্তি, অসাধারণ ক্ষমা, যিনি পরম সত্য, ইন্দ্রিয়সমূহের দমনকারী, মনের দৃঢ়তা, অন্তরের উদারতা, মহান স্রষ্টার উপলদ্ধি, যিনি স্রষ্ঠাকে পাওয়ার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেন এবং যিনি হিংসা ত্যাগ করে সকলের মধ্যে সমতা আনার চেষ্টা করেন। যিনি দান করেন, যিনি স্রষ্ঠার পথে মান-অপমান সহ্য করেন। এইরূপ উপযুক্ত গুন যা সকল প্রানীদের প্রতি প্রদশিত হয় তা আমাদের থেকেই পরিপূর্ন করা হয়। এরূপ গুন স্রষ্ঠাকে জানার বিশ্বব্যাপী চিরন্তন পদ্ধতি। এরূপ গুন পরকালের চিন্তা-ভাবনা করার লক্ষন। যাদের মধ্যে এই সকল গুন বিদ্যমান থাকবে। বিশ্বব্যাপী তাদের অনুকরন-অনুসরন করা হবে। যারা এই গুনিদের অনুসরন করবেনা। তারা অশুরের সম্পদ প্রাপ্ত হবে। তারা নরকে অশুরের সাথে অনন্তকাল থাকবে। তারা শয়তানের পক্ষ অবলম্বনকারী হিসাবে গন্য হবে। তারা শয়তানের সাথে অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে থাকবে। হে অর্জুন! ভবিষ্যতে এমন একজন মহান নবী আসবেন যিনি আমাদের আল্লাহকে দেখে জানতে পারেন। সমস্ত নবীদের মধ্যে একমাত্র হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজে গমন করে আল্লাহর সাথে দেখা করবেন। যখন এই নবী আগমন করবে। তখন তুমি তাঁর পক্ষ অবলম্বন করবে। হে অর্জুন! যখন এমন নবী আগমন করবে যিনি ঘোষনা দিবেন যে তিনি ব্রহ্মার সাথে দেখা করেছেন। তিনি আল্লাহর সাথে দেখা করেছেন। তখন তোমরা সবাই তাঁর পক্ষ অবলম্বন করবে, অন্যত্থায় তোমরা নরকের যোগ্য হয়ে যাবে। তোমরা জাহান্নামের যোগ্য হয়ে যাবে। তাই তোমাদের সকলের আবশ্যক কর্তব্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করা। ইসলাম ধর্ম পালন করা। ইসলাম ধর্মের ভিত্তি হল পাঁচটি। এক ঈমান- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ । দুই- দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া । তিন- রমজান মাসের রোজা পালন করা । চার- হজ্ব পালন করা । পাঁচ- যাকাত প্রদান করা । আমাদের জন্য সহজ এই পাঁচটি নিয়ম মেনে আমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করতে পারি।
অদ্বেষ্টা সর্বভূতানাং মৈত্রঃ করুণ এব চ ।
নির্মমো নিরহঙ্কারঃ সমদুঃখসুখঃ ক্ষমী ।।১৩।।
সমঃ শত্রৌ চ মিত্রে চ তথা মানাপমানয়োঃ ।
শীতোষ্ণসুখদুঃখেষু সমঃ সঙ্গবিবর্জিতঃ ।।১৮।।
তুল্যনিন্দাস্তুতির্মৌনী সন্তুষ্টো যেন কেনচিৎ ।
অনিকেতঃ স্থিরমতির্ভক্তিমান্মে প্রিয়ো নরঃ ।।১৯।।
যে তু ধর্ম্যামৃতমিদং যথোক্তং পযুপাসতে ।
শ্রদ্দধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ ।।২০।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
যে বন্দুতে ও শত্রুতে, সন্মানে ও অপমানে সমান, যার অন্তর শান্ত, যিনি সুখে-দুখে নির্বিকার ও আসক্তিশূণ্য, যে নিন্দা ও প্রশংসায় সমান, যার মন শান্ত, যে অতিরিক্ত কিছু আশা করেননা, যার নিজের ঘরের প্রতি কোন মায়া-মমতা নেই। সে পুরুষ আমার প্রিয়ভক্ত। যে সকল ধার্মীক আন্তরিকতার সাথে উপযুক্ত ধর্ম পালন করেন। সেই ধর্মের ধার্মীক ব্যক্তিগন আমার প্রিয়। হে অর্জুন! তুমি আমাকে অনুসরন করে ধর্ম পালন কর। তুমি আমার ধর্ম বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করিও। সর্বশেষ ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের চিনার উপায় কি অথবা তারা কিরূপ হবেন। এ বিষয়ে তোমরা জেনে রাখ। যারা প্রানীদের প্রতি হিংসা করে না। যারা দয়ালু। অহংকার করেন না। যারা নামাজের প্রতি যন্ত্রবান, যারা পবিত্র, সুখে জীবনযাপন করলেও যাদের কোন অভিযোগ নেই। দুঃখে জীবনযাপন করলেও যাদের কোন অভিযোগ নেই। হে অর্জুন! যখন সর্বশেষ ইসলাম ধর্ম আগমন করবে। তখন তুমি নিজেকে সেই ধর্মে সমর্পন করবে। তুমি নিজেকে মুসলিম বলে ঘোষণা দিবে। কেননা সেই ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশকারী হবে। অতএব, হে অর্জুন! তুমি অবশ্যই সেই ধর্মের আশ্রয়ে থাকবে। অর্জুন! আমি নিজেও আল্লাহর পক্ষ হতে আগত। হে অর্জন! আমি নিজে, হযরত আদম আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম, হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম এবং সর্বশেষ আগত মহান কল্কি অবতার, আয্য মৈত্রিয়, নরাশংস, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা সবাই একই শ্রেনীভূক্ত। সুতরাং যখনই সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবে। তখন থেকে তোমরা তাকে অনুসরন করবে। কেননা তিনি হলেন মহান কল্কি অবতার। তিনি তলোয়ার দিয়ে অশুরকে দমন করবেন। যারা শয়তানের পক্ষে অবস্থান করবেন, তিনি তলোয়ার দিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন। আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে হযরত আদম আলাইহিছ সালাম থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল আগমন করেছিলেন। কোন নবী ও রাসূল শয়তানের অনুসারীদের প্রতি এত কঠোর ছিলেন না যেরূপ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে এমন একজন নবী ছিলেন যিনি অশুরের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি শয়তানের প্রতি হার্ড লাইনে অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি শয়তানের প্রতি হার্ড লাইনে থাকার জন্য সবাইকে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-তোমরা সবাই এছতেকামত অবলম্বন কর। তোমরা সবাই শয়তানের প্রতি হার্ড লাইনে থাক।
শ্রীভগবানুবাচ
পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্ ।
যজ্জ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিমিতো গতাঃ।।১।।
ইদং জ্ঞানমুপাশ্রিত্য মম সাধর্ম্যমাগতাঃ ।
সর্গেহপি নোপাজায়ন্তে প্রলয়ে ন ব্যথন্তি চ ।।২।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
নির্মানমোহা জিতসঙ্গদোষা
অধ্যাত্মনিত্যা বিনিবৃত্তকামাঃ ।
দ্বন্দ্বৈর্বিমুক্তাঃ সুখদুঃখসজ্ঞৈ –
র্গচ্ছন্ত্যমূঢাঃ পদমব্যয় তৎ ।।৫ ।।
ন তদ্ভাসয়তে সূযো ন শশাম্কো ন পাবকঃ ।
যদ্গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ।।৬ ।।
মমেবাংশো জীবলোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ ।
মনঃষষ্ঠানীন্দ্রিয়াণি প্রকৃতিস্থানি কর্ষতি ।।৭ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
যো মামেবমসম্মঢো জানাতি পুরুষোত্তমম্ ।
স সর্ববিদ্ভজতি মাং সর্বভাবেন ভারত ।।১৯ ।।
ইতি গুহ্যতমং শাস্ত্রমিদমুক্তং ময়ানঘ ।
এতদ্বুদ্ধ্ব্বা বুদ্ধিমানস্যাৎকৃতকৃত্যশ্চ ভারত ।।২০ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
হে ভারতবাসী! যে জ্ঞানী পুরুষ আমাকে, পুরুষোত্তমকে সাক্ষাৎ জানেন, তিনি সর্বজ্ঞ পুরুষ, তিনি সর্বপ্রকারে পরমাত্মারূপ আমাকেই ভজনা করেন। তিনি আমার থেকে পৃথক নন।হে অর্জুন! সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে একজন নবী ও রাসূল। তিনি আমাকে চিনেন ও জানেন। আমার আত্মার সাথে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের সম্পর্ক রয়েছে। তেমনি তোমাদের মধ্যে যারা পুরুষোত্তম। যারা মূর্তিপূজা করেনা। আমাকে নবী হিসাবে স্বীকার করে নিয়েছে এবং কলি যুগের সর্বশেষ অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হিসাবে তাঁর উপর ঈমান এনেছে। সেই উত্তম ব্যক্তির। সেই ঈমানদার ব্যক্তির আত্মার সাথেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সর্বজ্ঞ পুরুষ। তিনি সর্বপ্রকারে পরমাত্মারূপ আমাকেই ভজনা করেন। তিনি আমার থেকে পৃথক নন। তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে এমন একজন সর্বশেষ নবী ও রাসূল। যিনি সব বিষয়ে জানেন, তিনি পরমাত্মারূপ। এ বিষয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান স্রষ্ঠা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্ব প্রথম নিজের নূর হতে তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেন। অতঃপর সেই নূর আল্লাহর হুকুমে সর্বত্র ভ্রমন করতে পারত। অতঃপর আল্লাহ সেই নূর দিয়ে আসমান-যমিন, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ-কলম, ফেরেস্তা সবকিছু সৃষ্টি করেন।
হে নবী, আপনি বলে দিন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষ, আমার প্রতি অহি নাযিল প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের আল্লাহ একজন, অতঃপর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকর্ম করে এবং তাঁর একক প্রতিপালকের ইবাদতের সাথে দ্বিতীয় কোন কিছু শরীক না করে।(আল-কোরআন-সূরা-কাহফ)। হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হাতি বাহিনীর সাথে কি করেছেন? আল্লাহ তাদের পরিকল্পনা ধ্বংস করে দিয়েছেন, এখানের ঘটনাটি হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফোর ডায়মেনশনে আগমনের পূর্বে আবরাহা নামক একজন বাদশাহ মক্কাশরীফকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। সে অনেক হাতি নিয়ে মক্কার নিকটবর্তী এলাকায় আসার পর তার মোকাবেলা করার মত শক্তি তখন আররের কোন গোত্রের ছিলনা, তখন আল্লাহ আবাবিল পাখি প্রেরণ করলেন তাদের ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, পাখিগুলো তাদের প্রতি ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিল। ভারতের একটি মন্দিরে দশম অবতারের ছবি অংকন করা আছে। সে ছবিতে একজন ব্যক্তি একটি সাদা ঘোরার উপর বসে আছে। সাদা পাগড়ি মাথায়, হাতে উন্মূক্ত তলোয়ার। এ ছবি অংকন করে ভারতবর্ষের মানুষকে কি বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দশম অবতার আসবে আরবদেশে। কেননা সাদা ঘোড়া আরবে পাওয়া যায়। তিনি তলোয়ার দ্বারা অশুরকে দমন করবেন। অশুর হল শয়তান। সরাসরি শয়তানকে তলোয়ার দিয়ে হত্যা করা যায় না কিন্তু মানুষ শয়তানের সাথে যুদ্ধ করা যায়। শয়তান মানুষকে কূপরামর্শ দিয়ে মানুষ রূপের শয়তান তৈরি করে। সে মানুষকে দিয়ে শিরিকের কাজ করিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে। সে মানুষকে দিয়ে মূর্তিপূজা করিয়ে নরকে নিয়ে যেতে চায়। একটি শিশু যখন জন্মগ্রহন করে তখন সে তার ফিতরাত ধর্মের উপর জন্মগ্রহন করে। ফিতরাত ধর্ম হল ইসলাম। যে ধর্ম আল্লাহর পক্ষ হতে আসে নবী ও রাসুলের মাধ্যমে। যা সঠিক ধর্ম, যে ধর্ম পালন করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। নবী ও রাসূলগন পৃথিবীর শুরু হতে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ভাষাভাসী মানুষের মধ্যে আগমন করেছিল। যখন যে নবী যে দেশে, যে সময়ে আগমন করেছিল। যা ইসলাম ধর্ম ছিল। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম যখন আগমন করেছিলেন। তখন তিনি সঠিক ধর্মের উপর ছিলেন। আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর তাঁর ঈমান ছিল। তিনি বলেছিলেন, লাই লং ইল্ল লং মুহম্মদ রসু লং - আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ রাসুল। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম কিভাবে জানলেন আল্লাহ এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা। আল্লাহর নিকট হতে অহীর বানী ব্যতীত এ বিষয়ে জানা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে যত নবী ও রাসূল আগমন করেছে। সবাই আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা জানেন। সবাই আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ উপর বিশ্বাসস্থাপন করেছেন। কেননা যে আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ঈমান এনেছে সে জান্নাতে যেতে পারবে। পৃথিবীর প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিছ সালাম হতে শুরু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয্যন্ত সমস্ত নবী ও রাসূলদের উপর একশটি ছোট ছোট ছহিফা গ্রন্থ ও চারটি বড় গ্রন্থ আল্লাহর পক্ষ হতে ফেরেস্তা হযরত জিব্রাঈল আলাইহিছ সালাম এর মাধ্যমে তাদের নিকট পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ আল্লাহর পক্ষ হতে আল-কোরআন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে আল-হাদিস সর্বশেষ গ্রন্থ হিসাবে আমাদের নিকট বিদ্যমান আছে। ইহার পূর্বে আগত বেধ-পূরাণ, গীতা, ত্রিপিটক, এগুলি ছহিফার অর্ন্তভূক্ত। এই গ্রন্থগুলো ভারতবর্ষে নয় জন অবতারের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল। কেননা এই গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, দশম অবতার হবেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যিনি সর্বশেষ যুগ কলিযুগে আগমন করবেন আরবদেশে। ফেরেস্তা হযরত জিব্রাঈল আলাইহিছ সালাম এ গ্রন্থগুলো নিয়ে ভারতবর্ষে নবীদের নিকট আগমন করেছিলেন। আল্লাহ অসংখ্য ফেরেস্তা সৃষ্টি করেছে। ইহাদের মধ্যে চারজন হলেন প্রধান ফেরেস্তা। হযরত জিব্রাঈল আলাইহিছ সালাম। হযরত মিকাঈল আলাইহিছ সালাম। হযরত ইসরাফিল আলাইহিছ সালাম। হযরত আজরাঈল আলাইহিছ সালাম। তাদের আকৃতি বিশাল বড়। তাদের শক্তি অসীম। কিন্তু আল্লাহর আদেশ ব্যতীত তারা কিছুই করতে পারে না। তারা পৃথিবী হতে সাত আকাশের অসীম দূরত্ব সেকেন্ডের মধ্যে অতিক্রম করে। কিন্তু তারা আল্লাহর সামনে অথবা নিকটে অবস্থান করতে পারে না। তারা আল্লাহর নিকট হতে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় থাকে। আবার এমন অনেক ফেরেস্তা রয়েছে যারা আল্লাহর নিকটবর্তী। ভারতবর্ষের হিন্দু সমাজে ধর্ম সম্পর্কে এমন অনেক কল্পিত কহিনী প্রচলিত আছে যা ভ্রান্ত। অনেক হিন্দু পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ ধর্ম সম্পর্কে নিজেরা ভুলের মধ্যে আছেন এবং অন্যদের ভুল পথে পরিচালিত করে থাকেন। ইউ টিউবে জনাব সাদ গুরু তার একটি লেকচারে বলেন। মুসলমানগন বলে তাদের নিকট মেসেন্জান বা আল্লাহর পক্ষ হতে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছিল। খ্রিষ্ঠানগন বলে, তাদের নিকট হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম আগমন করেছিল। এ বিষয়ে ভারতবাসী অনেক ভাগ্যবান। ভারতবর্ষে ভগবান আটবার আগমন করেছিল। তার এ বক্তব্য সনাতন ধর্মগ্রন্থের বিপরীত। তিনি তার অজ্ঞতার কারনে তার অনুসরীদের নরকের পথে পরিচালিত করছেন। পৃথিবীতে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল আগমন করেছিল। তেমনি ভারতবর্ষেও নয় জন নবী ও রাসূল আগমন করেছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম ও হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম।
দম্ভো দর্পোহভিমানশ্চ ক্রোধঃ পারুষ্যমেব চ ।
অজ্ঞানং চাভিজাতস্য পার্থ সম্পদমাসুরীম্ ।।৪ ।।
দৈবী সম্পদ্বিমোক্ষায় নিবন্ধায়াসুরী মতা ।
মা শুচঃ সম্পদং দৈবীমভিজাতোহসি পান্ডব ।।৫ ।।
দ্বৌ ভূতসর্গৌ লোকেহস্মিন্দৈব আসুর এব চ ।
দৈবো বিস্তরশঃ প্যোক্ত আসুরং পার্থ মে শৃণু ।।৬ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
হে পার্থ! দম্ভ, অভিমান, ক্রোধ, কঠোরবাক্য, অজ্ঞতা, এগুলি অসুর হতে আগত যা ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকে। হে অর্জুন! এই পৃথিবীতে মানুষ দুই রকম হয়। দেবতুল্য ও অসুরতুল্য। মানুষের আত্মা যখন দৈব বানী, স্রষ্ঠার বানী অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তখন মানুষ হয়ে যায় দেবতা। আর যখন মানুষ অসুরের অনুসরন করে তখন মানুষই অসুর হয়ে যায়। পৃথিবীতে শুধুমাত্র এই দুই প্রকারের মানুষ বিদ্যমান, সে মানুষের জন্ম আরবদেশে হউক, ভারতবর্ষে হউক অথবা পৃথিবীর অন্য যে কোন জায়গায় হউক না কেন, এই দুইটির যে কোন একটির সাথে সম্পর্ক যুক্ত হবে। এখানে হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম তার সাথী অর্জুনকে বলেছেন, অর্জুন! অহংকার, রাগ, খারাপ ব্যবহার, অজ্ঞতা, মানুষকে শয়তানের সাথে সম্পর্ক যুক্ত করে নরকের পথে নিয়ে যায়, আর মানুষ যখন দৈব বানী বা আল্লাহর বানীর অনুসরন করে তখন সে দেবতা বা ফেরেস্তার মত হয়ে যায়, বর্তমান পৃথিবীতে এই দুই প্রকারের মানুষ বিদ্যমান আছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীগন মুর্তিপুজা করে অশুরের পূজারী হয়ে গেছে। আর মুসলমানগন আল্লাহর বানী আল- কোরআন ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বানী আল-হাদীসের অনুসরন করে, শয়তানকে পরাজিত করে জান্নাতের পথে এগিয়ে চলছে।
যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ ।
প্রেতান্ভূতগণাংশ্চান্যে যজন্তে তামসা জনাঃ ।।৪ ।।
অশাস্ত্রবিহিতং ঘোরং তপ্যন্তে যে তপো জনাঃ ।
দম্ভাহঙ্করসংযুক্তাঃ কামরাগবলান্বিতাঃ ।।৫ ।।
কর্শয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ ।
মাং চৈবান্তঃশরীরস্থ তান্বিদ্ধ্যাসুরনিশ্চয়ান্ ।।৬ ।।
সাত্ত্বিক ব্যক্তিগণ দেবতাগণের পূজা করে থাকেন। রাজসিক ব্যক্তিগণ রাক্ষসগণের পূজা করে থাকেন। তামসিক ব্যক্তিগণ ভূতের পূজা করে থাকেন। তাঁরা পূজা দেয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করে থাকেন। যারা এরূপ পূজা করে, সেই ব্যক্তিগণ শাস্ত্রবিরুদ্ধ ঘোর কল্পিত ক্রিয়ার রচনা করে তপস্যার অনুষ্ঠান করে, দম্ভ ও অহঙ্কারযুক্ত, কামনা-আসক্তি- বলান্বিত হয়ে-তারা দেহরূপে স্থিত ভূতসমুদায়কে ও অন্তঃকরণস্থিত অন্তযামীকে দুর্বল করে। আত্মা প্রকৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে বিকার সমূহ দ্বারা ও যজ্ঞ-সাধনা দ্বারা সবল হয়। সেই অবিবেকীগণ, সেই অজ্ঞানীগণকে আসুরিক বুদ্ধিবিশিষ্ট বলে জানবে। তারা সকলে অসুর। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম তার সাথী অর্জুনকে বলছেন, হে অর্জুন! যে ব্যক্তি ধর্মের বাণী ত্যাগ করে পূজা করে। সে শয়তানের পূজা করে। আর যে শয়তানের পূজা করে সে আল্লাহর সাথে শিরক করে, তাঁর জন্য নরক নিশ্চিত। কেননা সে মূর্তিপূজা করে নিজের আত্মার শক্তি ধংস করে দিয়েছে। যে শক্তি দিয়ে সে পরমত্মার নিকট গমন করবে, যে শক্তি দিয়ে সে জান্নাতে গমন করবে। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম তিন হাজার পাঁচশত বছর পূর্বে ভারতবর্ষে আগমন করে সনাতন ইসলাম ধর্ম প্রচার করছিলেন, তখনও সেই সমাজে এমন অনেক লোকজন ছিলেন যারা সনাতন ধর্ম গ্রহন না করে মূর্তি পূজায় লিপ্ত ছিল। তিনি তাদের সনাতন ধর্মে ফিরে আসার আহব্বান জানান এবং তাদের সতর্ক করেন যে এরূপ মূ্র্তি বা শয়তানের পূঁজা করলে পরকালে নরকে যেতে হবে। আজও আমরা দেখি বাংলাদেশ ও ভারতের সমাজের মধ্যে মূর্তিপূজা প্রচলিত রয়েছে। যা আধূনিক শিক্ষিত সমাজে আমরা আশা করতে পারি না। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম এর পর সেই সনাতন ধর্ম নিয়ে আসেন হযরত গৌতম বুদ্ধ আলাইহিছ সালাম। তাঁরপর সনাতন ধর্ম নিয়ে আসেন হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম। সর্বশেষ সনাতন ধর্ম নিয়ে আসেন কল্কি অবতার, আয্য মৈত্রিয়, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সমস্ত পৃথিবীর মানুষের জন্য আর কোন সনাতন ধর্ম পৃথিবীতে আগমন করবেনা। তাই আসুন আমরা সবাই আমাদের প্রধান শত্রু শয়তানের পূজা ত্যাগ করে, মূর্তিপূজা ত্যাগ করে, আল-কোরআন ও আল-হাদীসের অনুসরণ করে, কলি যুগের ব্রাহ্মণ, মসজিদের ঈমামের পিছনে নামাজ পড়ে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাই। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম গরু যবেহ করে খাওয়া নিষেধ করেছিলেন। কেননা তিনি জানতেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে গরু জবেহ করে খাওয়ার প্রথা চালু করবেন। তাই তিনি ইহাকে একটি ধর্মীয় নিদর্শন হিসাবে রেখে গেছেন। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বুঝাতে চেয়েছেন, যখন শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে এই প্রথা চালু করবেন, তখন তোমরা আমার সনাতন ধর্ম আর পালন করিও না, সেই সর্বশেষ সনাতন ধর্মকে অনুসরন করিও, যে ধর্মে গরু, মহিষ, উট, ছাগল, জবেহ করে খাওয়া হয়। তেমনি আরও অনেক নিদর্শন রয়েছে, তেমনি আরেকটি নিদর্শন হল গান, গজল, কবিতা, ধর্মীয় গ্রন্থের শ্লোক আবৃত্তি করে প্রসংসা করা। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেছিলেন, তোমরা এখন হতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে শ্লোক আবৃতি করে প্রসংসা শুরু করে দাও। তাঁর আগমনের খুশিতে এখন হতে তোমরা তাঁর নামে তোমরা প্রসংশা শুরু কর। তিনি আগমনের সাথে সাথে তোমরা তাঁর অনুসরন শুরু করবে।
হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম এর শিক্ষা ভুলে, শয়তানের কুমন্ত্রণা গ্রহন করে, সমাজে আজ অনেকে নিজের আত্মাকে ধ্বংস করে নরকের পথে এগিয়ে যাচ্ছে যা কোন ব্যক্তির জন্য কখনো কল্যাণ হতে পারে না। তাই নিজেকে নরক হতে, জাহান্নামের আগুন হতে নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে রক্ষা করতে হলে, শয়তানের পথ, মূর্তিপূজার পথ পরিহার করে, আমাদের স্রষ্ঠা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ হতে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করতে হবে। যা পৃথিবীর প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিছ সালাম হতে শুরু করে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূলের শিক্ষা। তাই আসুন হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম ও হযরত গৌতম বুদ্ধ আলাইহিছ সালাম এর আদেশ মান্য করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করি। অন্যত্থায় অনন্তকাল শয়তানের সাথে জাহান্নামের কালো আগুনের মধ্যে থাকতে হবে, যা অত্যন্ত বিপদজনক স্থান। এই ভয়ানক জাহান্নাম হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য আসুন আমরা সবাই বলি- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এবং মসজিদে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে ব্রাহ্মনের সাথে আদায় করি।
ওঁ তৎসদিতি নির্দেশো ব্রহ্মণস্ত্রিবিধঃ স্মৃতঃ ।
ব্রাহ্মণাস্তেন বেদাশ্চ যজ্ঞাশ্চ বিহিতাঃ পুরা ।।২৩ ।।
তস্মদোমিত্যুদাহত্য যজ্ঞদানতপঃক্রিয়াঃ ।
প্রবর্তন্তে বিধানোক্তাঃ সততং ব্রহ্মবাদিনাম্ ।।২৪ ।।
তদিত্যনভিসন্ধায় ফলং যজ্ঞতপঃক্রিয়াঃ ।
দানক্রিয়াশ্চ বিবিধাঃ ক্রিয়ন্তে মোক্ষকাঙ্ক্ষিভিঃ ।।২৫ ।।
সদ্ভাবে সাধুভাবে চ সদিদ্যেতৎপ্রযুজ্রতে ।
প্রশস্তে কর্মণি তথা সচ্ছব্দঃ পার্থ যুজ্যতে ।।২৬ ।।
যজ্ঞে তপসি দানে চ স্থিতিঃ সদিতি চোচ্যতে ।
কর্ম চৈব তদর্থীয়ং সদিত্যেবাভিধীয়তে ।।২৭ ।।
অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপস্তপ্তং কৃতং চ যৎ ।
অসদিত্যুচ্যতে পার্থ ন চ তৎপ্রেত্য নো ইহ ।।২৮ ।।
(শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
অর্জুন! ব্রহ্মের নির্দেশ মেনে চল। তাকে স্মরন করিও। তার সঙ্কেত প্রদান করেন যা ব্রহ্মের পরিচয় বহন করে। বেদ যা ব্রহ্মার পক্ষ হতে আসে এবং যজ্ঞ যা ধর্মীয় রীতি-নীতি উৎপত্তি হয়েছে। এগুলি কম-বেশী হতে পারে। এগুলি ব্রহ্মা হতে উৎপত্তি হয়। ইহা ব্যতীত আর কোন বিকল্প পথ নেই। তার পক্ষ হতে যখন যেরূপ আসে, তা পালন করতে হবে, নিজের ইচ্ছা মত হবে না। অর্জুন! আল্লাহর পক্ষ হতে হযরত আদম আলাইহিছ সালাম হতে শুরু করে ধর্ম, ধর্মীয় গ্রন্থ, ইবাদতের নিয়ম-কানুন পরিবর্তনশীল, তা সব সময় এক রকম থাকে না। আল্লাহর পক্ষ হতে যখন যেরূপ আর্দেশ-নিষেধ আসে তা আমাদের পালন করতে হবে। ব্রহ্মবাচক প্রথম শব্দ উচ্চারণ করে যে পুরুষগণ শাস্ত্র-বিধান অনুযায়ী যজ্ঞ করে, তপস্যা করে, বিভিন্ন কর্ম অনুষ্ঠান করে, ইহা ব্রহ্মের প্রকৃত স্মরন। অর্জুন! যখন দেখবে আল্লাহু আকবার বলে মসজিদে আজান দেয়, আল্লাহু আকবার বলে মসজিদে নামাজ শুরু করে, আল্লাহু আকবার বলে গরু জবেহ করে, তখন সেই ধর্ম যা আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করেছে, তখন তোমরা সেই ধর্মের অনুসরণ করিও। সেই পরমাত্মা সর্বত্র বিরাজমান। বিভিন্ন ব্যক্তিগন ফলাফল আকাঙ্ক্ষা না করে শাস্ত্রদ্বারা নির্দিষ্টি বিভিন্ন যজ্ঞ কর্মের অনুষ্ঠান করে থাকেন। পরমাত্মার প্রতি ওঁ জপ, যজ্ঞ, দান কর্ম করে তার উপর নির্ভরশীল হয়ে যান। কে সৎ, কে সত্যবাদী। অর্জুন! আল্লাহর শক্তি সর্বত্র বিরাজমান। অনেক ব্যক্তি কাজের ফলাফল কি হবে, ধর্ম-কর্মের পরিনাম কি হবে তা চিন্তা-ভাবনা না করে ধর্মীয় কাজ করতে থাকে কিন্তু এরূপ করা উচিত নয়। কেননা আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তিনি ধর্ম পালনের নিয়ম-কানুন পরিবর্তন করে দিতে পারেন। যখন নিয়ম পরিবর্তন হয় তখন নতুন ধর্মের ধর্মীয় কাজ করতে হবে। আর পরবর্তীতে যজ্ঞ ও তপস্যার নতুন ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরআন ও আল-হাদীস আগমন করবে। যা হবে সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্ম। তোমরা সেই ধর্মের অনুসরন করিও। সৎ ধর্ম কি। গীতাশাস্ত্রের প্রথমে অর্জুন বলেছিলেন, কুলধর্মই শাশ্বত, কুলধর্মই সত্য ধর্ম, তখন হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলেছিলেন, অর্জুন! এই অজ্ঞান তোমার নিকট কিভাবে উৎপন্ন হল! সৎ ধর্মের অভাব নেই, সৎ ধর্ম অতীতকালে ছিল, বর্তমানে আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে। ইহার বিনাশ সম্ভব নয়। অসৎ ধর্ম কোন কালেই অস্তিত্বে ছিল না। আত্মাই সত্য ধর্ম। আত্মাই সনাতন ধর্ম। আত্মাই শাশ্বত ধর্ম। ইহা হল পরমসত্য ধর্ম। তাই আত্বাকে সৎ রাখ, অন্তরের নিয়ত ঠিক রাখ। আত্মাই পরমসত্য, সত্য ধর্মের প্রতি আবেগ, তাকে জানার প্রতি আগ্রহ তোমার মধ্যে রাখ। অর্জুন! সত্য ধর্ম কি! আর্জুন বল্ল- আমার হিন্দু ধর্ম, আমার সনাতন ধর্ম, যা আমি পরমপরায় পেয়েছি, তা সত্য ধর্ম। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বল্লেন, তুমি এত বোকা হলে কি করে! তোমার মধ্যে এত অজ্ঞতা রয়েছে! অতীতে নবী ও রাসূলগন আল্লাহর পক্ষ হতে সত্য ধর্ম নিয়ে আগমন করেছিল। বর্তমানে আমি এখানে সত্য সনাতন ইসলাম শান্তির ধর্ম নিয়ে অবস্থান করছি এবং ভবিষ্যতে বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম সনাতন ইসলাম ধর্ম নিয়ে আগমন করবেন। সর্বশেষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সনাতন ইসলাম ধর্ম নিয়ে আগমন করবেন আল্লাহর পক্ষ হতে সমস্ত পৃথিবীর জন্য, সব মানুষের জন্য। তাই তোমার আত্মাকে ঠিক রাখ। তোমার মধ্যে এই ইচ্ছা জাগ্রত রাখ যে, যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন তখন তোমরা সবাই তাকে অনুসরণ করবে। যজ্ঞ, তপস্যা ও দানে যে পূর্ণ হয়, তা সঠিক ধর্মে নির্দিষ্ট পূর্ণ হয়, স্রষ্ঠাকে প্রাপ্তির জন্য যে কর্ম অনুষ্ঠিত হয়, তা সঠিক, সত্য নামে অভিহিত করতে হয়, যজ্ঞ, দান ও তপস্যা সেই ধর্মের রীতি-নীতি অনুযাযী হয়। তাই, যারা আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করে, শ্রদ্ধা পদর্শন করে, যারা মসজিদে নামাজ পড়ে তারা হল প্রকৃত ব্রাহ্মণ।
সিদ্ধিং প্রাপ্তো যথা ব্রহ্ম তথাপ্নোতি নিবোধ মে ।
সমাসেনৈব কৌন্তেয় নিষ্ঠা জ্ঞনস্য যা পরা ।। ৫০ ।।
বুদ্ধ্যা বিশুদ্ধ্যা যুক্তো ধৃত্যাত্মানং নিয়ম্য চ ।
শব্দাদীন্বিষয়াংস্ত্যক্ত্বা রাগদ্বেষৗ ব্যুদস্য চ ।।৫১ ।।
বিবিক্তসেবী লঘবাসী যতবাক্কায়মানসঃ ।
ধ্যানযোগপরো নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশ্রিতঃ ।।৫২ ।।
অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং পরিগ্রহম্ ।
বিমুচ্য নির্মমঃ শান্তো ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে ।।৫৩ ।।
ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙ্ক্ষতি ।
সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্ ।।৫৪ ।।
ভক্ত্যা মামভিজানাতি যাবান্যশ্চস্মি তত্ত্বতঃ ।
ততো মাং তত্ত্বতো জ্ঞাত্বা বিশতে তদনন্তরম্ ।।৫৫ ।। (শ্রীমদভগবদগীতা-যথার্থ গীতা)
কৌন্তেয়! এইরূপ সিদ্ধিপ্রাপ্ত পুরুষ জ্ঞাননিষ্ঠা অনুসারে ব্রহ্মজ্ঞানের পরিসমাপ্তিরূপে ব্রহ্ম উপাধি লাভ করে। যে জ্ঞান ব্রহ্মার নিকট হতে আগমন করে, ইহার একটি সমাপ্তি আছে। আর সে পরিসমাপ্তকারী হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর পরে আর কোন নবী ও রাসূল আগমন করবেনা। তিনি খাতেমুন নবীইন, সর্বশেষ নবী আল্লাহর পক্ষ হতে। হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম বলছেন, জ্ঞানী নবী, সর্বশেষ নবী সম্পর্কে ও তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তী সম্পর্কে, তা তোমরা সংক্ষেপে আমার কাছে জেনে নাও। অর্জুন! যিনি নির্জন হেরা পর্বত গুহায় ও পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করেন। যার জ্ঞান বিবেচনা শুদ্ধবুদ্ধিযুক্ত, যে পরিমিত আহার করে, পেটকে তিন ভাগ করে, একভাগ পানি, একভাগ খাদ্য ও একভাগ খালি রাখেন নামাজ পড়ার জন্য এবং মাটিতে বসে আহার করেন। যিনি বাক্য সংযত করে। যিনি বেশী কথা বলেন না। যিনি মন সংযত করেন, যে দৃঢ় বৈরাগ্য অবলম্বন করেন। যিনি সবার মাঝে অবস্থান করেও দৃঢ় বৈরাগ্য ছিলেন। এ বিষয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে বলেছেন, তোমরা এমনভাবে জীবনযাপন কর যেন তোমরা মুসাফির। যেন তোমরা পৃথিবী ভ্রমনকারী দৃঢ় বৈরাগ্য। আর ইহার হল, তোমরা বাড়ি-গাড়ী করার নেশায় ও পেশায় লিপ্ত হইওনা। এমনভাবে পৃথিবীতে থাক যেন তোমরা দৃঢ় বৈরাগ্য এবং এছতেকামত অবলম্বন কর। কখনও পৃথিবীতে আরাম-আয়েশের লোভ পতিত হয়ে তোমাদের পরম প্রকাশ্য শত্রু ইবলীশ শয়তানের পথ অনুসরণ করিওনা । চিরন্তন ধ্যাননিষ্ঠ ও যোগ পরায়ণ হয়ে নামাজে মনোযোগী হবে। সর্বশেষ ব্রাহ্মনদের এমন এক সার্বজনীন ধ্যানের নিয়ম ব্রহ্মার পক্ষ হতে আসবে যা সমগ্র পৃথিবীতে কায়েম করা হবে। আল্লাহর পক্ষ হতে সর্বশেষ ধর্মের প্রধান উপাসনা হল নামাজ। সেই ব্রাহ্মনদের অন্তঃকরণবশীভূত করার আর্দেশ প্রদান করা হবে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে শক্তিতে অন্যকে পরাজিত করল, সে শক্তিশালী নয় বরং যে নিজের নফছকে পরাজিত করতে পারে, সে হল শক্তিশালী আর তা হল জেহাদে আকবার বা বড় জেহাদ। এবং সেই ব্রাহ্মনদের আসক্তি ও দ্বেষ বর্জন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। আসক্তি হল সকল প্রকার নেশা জাতিয় দ্রব্য- মদ, জুয়া, তামাক পাতা, ঝর্দ্দা, পান, সুপারী যখন তা নেশায় পরিনত হয়। এবং অন্যান্য যাবতীয় নেশা যা ইসলাম ধর্মে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। নিজের জন্য যা পছন্দ কর, অন্যের জন্যও তা পছন্দ কর এবং সকলে ভাই ভাইয়ের মত বসবাস করতে আর্দেশ দিয়েছেন। যে সর্বশেষ ব্রাহ্মন ধর্মে, ইসলাম ধর্মে, অহংকার, শক্তি, দম্ভ, লোভ-লালসা পরিত্যাগ করতে বলা হয়। তোমরা এমন শান্তির ধর্মের কল্পনা করতে থাক, যে পুরুষ এরূপ করে, সে পরব্রহ্ম লাভ করতে পারে। অর্জুন! যখন সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্ম আগমন করবে তখন তোমরা সেই ধর্মের অনুসরন করবে। যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন, তখন তোমরা তাঁকে অনুসরন করবে। দুনিয়ার লোভে মত্ত হয়ে তোমরা আমার বাণীকে ভুলে যেওনা। সেই প্রসন্নচিত্ত পুরুষ কোন বিষয়ে গভীর শোক করেন না এবং অতিরিক্ত কিছুই তিনি এই পৃথিবীতে আশা-আকঙ্ক্ষাও করেন না এবং সেই পুরুষ পৃথিবীর সর্বত্র সমানভাবে, ভক্তির পারাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে তাতে স্থির থাকেন এবং ব্রহ্মেস্থিতি প্রদান করেন। অর্জুন! যখন ব্রাহ্মন আসবে, যারা মসজিদে নামাজ পড়ে, তুমি তাদের সাথে ব্রাহ্মন হয়ে জীবনযাপন করিও। তিনি আমাকে তত্ত্ব দ্বারা জানেন যাকে পরম ভক্তি করা উচিত। যে অলৌকিক গুণধর্মযুক্ত আমার সম্পর্কে জানে এবং আমার সাথে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। যিনি জীবনকালে স্রষ্ঠার সাক্ষাত লাভ করেন। তিনি দেখতে পান, আত্মাই অমর, স্রষ্ঠার গুনাবলির সাথে তাকে দেখতে পান। তাই আত্মাই শাশ্বত, আত্মাই অব্যক্ত, আত্মাই সনাতন।
এ বিষয়ে হাদীসে বর্নীত হয়েছে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজে গমন করে, সাতটি আকাশ দেখেছেন, জান্নাত- জাহান্নাম দেখেছেন, জান্নাত সাতটি আকাশের বাহিরে অবস্থিত। ইহার সংখ্যা আটটি। জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে লাওহে মাহফুজ অবস্থিত।
এই লাওহে মাহফুজে আমাদের তাকদির লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাকদির পরিবর্তন হয়না আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ব্যতীত। ইহা হতে পৃথিবীর ফোর ডায়মেনশন কন্ট্রোল করা হয়। বিশাল জান্নাত স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত। যে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুসরন করে, যে জান্নাতে যেতে পারবে। সে চির-যৌবন প্রাপ্ত হবে। কখনো মৃত্যুবরন করবেনা। জান্নাতের উপর আল্লাহর আরস। ইহার উপর সত্তর হাজার নূরের পর্দা। ইহার উপর আল্লাহর কুরসী। আল্লাহর কুরসী আকাশের মত বিশাল। এগুলি রক্ষনাবেক্ষনে আল্লাহর কোন ক্লান্তি নেই। আল্লাহ যখন কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন তখন বলেন- হও- অমনি তা হয়ে যায়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে উপহারস্বরূপ আমাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে এসেছেন। আর ইহা হল জান্নাতের চাবি।
দ্বেী ভূতসর্গেী লেকেহস্মেন্দৈ আসুর এব চ ।
দৈবো বিস্তরশঃ প্রোক্ত আসুরং পার্থ মে শৃণু ।
(গীতা)
হে অর্জুন! এই পৃথিবীতে মানুষের স্বভাব দুই প্রকার হয়। দেবতুল্য ও অসুরতুল্য। যখন মানুষ ভাল কাজ করে তখন দেবতা আর যখন খারাপ কাজ করে তখন অসুর। জন্ম পৃথিবীর যে কোন জায়গায় হউক না কেন।
একং ব্রক্ষ দ্বিতীয়ং নাস্তি
নেহ নানাস্তি কেঞ্চন
(ঋগ্বেদ)
স্রষ্ঠা একজন। দ্বিতীয় কেহ নেই। তাকে ব্যতীত অন্য কোন স্রষ্ঠা কিঞ্চিৎ পরিমানও নেই।
একো হ দেবো মানসি প্রবিষ্ট
(অর্থর্ববেদ)
একজন যিনি মনের কথা জানেন।
ত্বমাদিদদেঃপুরুয়ঃপুরাণ
স্ত্বমস্য বিশ্বাস পরং নিধানম
বেত্তাসি বেদ্যঞ্চ পরঞ্চর ধাম
ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ
(শ্রীমদ্ভগবদ-গীতা ১১-৩)
তুমি একমাত্র মহান। বিশ্বাসের পরম আশ্রয়স্থল। তুমি সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। মহাবিশ্বে তোমার পরিচয়।
য এক ইত্তমুস্টুহি কৃষ্টীনাং বিচর্ষানিঃ
(ঋগ্বেদ-৬)
তিনি এক। যিনি সবকিছু দেখেন। তিনি আমাদের প্রতি করুনা বর্ষন করেন।
সুমত্যাং বিষ্ণুযশসা গর্ভমাধত্ত বৈষ্ণবম
(কল্কি-পুরাণ-১)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ।
সুমত্যাং মাতরি বিভো, কন্যায়াংত্বন্নিদেশত
(কল্কি পুরাণ-১-২-৩) কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাতার নাম হবে আমেনা।
শম্ভলে বিষ্ণুযশাসো গৃহে প্রদুর্ভবাম্যহম
(কল্কি পুরাণ-১-২-৪)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহন করবেন মক্কা নগরীতে।
দ্বাদশ্যাং শুক্লপক্ষস্য মাধবে মাসি মাধবঃ
(কল্কি পুরাণ-১-২-১৫) কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখে জন্মগ্রহন করবেন।
মধুজিহবৎ হবিস্কিৃকতম
(ঋগ্বেদ-১-১৩-৩) কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্ঠ হবে সুমধুর।
নরাশংসঃ সুষুদতীমং যজ্ঞমদাভ্যঃ
কর্বিহি মধুহস্ত্যঃ
(ঋগ্বেদ-৫-৫-২) কল্কি অবতার, নরাশংস, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অদৃশ্য বিষয়ের খবর জানিয়ে দিবেন।
নারাশংসঃ প্রতি ধামান্যঞ্জুন তিস্রো দিবঃ
প্রতি ম-স্বর্চি
(ঋগ্বেদ-২-৩-২) কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপরুপ সেীন্দয্যের অধিকারী হবেন।
ঘৃত প্রূষা মনসা হব্যমূন্দন্মুর্ধনযজ্ঞস্য সমনক্তু দেবান (ঋগ্বেদ-২-৩-২)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ঘরে নিজের নূরের আলো পেীছে দিবেন।
রথং ন দুর্গাদ্বসবঃ সুদানবো বিশ্বস্মান্নো নিস্পিপর্তন
(ঋগ্বেদ-২-১০৬-৪)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবজাতিকে পাপ হতে মুক্ত করবেন।
উস্ট্রা যস্য প্রবাহ হন্যো বধু মস্তো দ্বির্দশ
বর্স্মা রযস্য নি জিহীড়তে দিব ঈষ মানা উপস্পৃহঃ
(অথর্ববেদ-৩২-২)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বারো জন স্ত্রী থাকবে। তিনি উটের পিঠে আরোহন করবেন।
অশ্বমাগুগমারুহ্য দেবদত্তং জগৎপতিঃ
অসিনাসাধুদমনস্টৈশ্বয্যগুণন্বিতঃ
(অথর্ববেদ-৩২-২)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় চড়ে সপ্ত আকাশ ভ্রমন করবেন। জান্নাত ও জাহান্নাম ভ্রমন করে আল্লাহর সাথে দিদার করবেন।
বিচরন্নাশুনা ক্ষেণ্যাং হয়েনাপ্রকতমদ্যতি
নৃপলিঙ্গচ্চদো দস্যূন কোটিশো নিহনিষ্যতি
(ভগবত পুরাণ-১২)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে আগমন করবেন খতনাকৃত হয়ে।
চতুর্ভিভ্রাতৃভির্দের, করিষামি কলিক্ষয়ম
(কল্কি পুরাণ-২)
কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার জন সাহাবীকে নিয়ে শয়তানকে দমন করবেন।
ইদংজনা উপশ্রস্নত নরাশংস স্তবিষ্যতে,
ষষ্টিং সহস্র নবতিং চ কেীরম আ রুশমেষু দদ্মহে,
উষ্ট্রা যস্য প্রবাহণো বধুমস্তো দ্বির্দশ,
বর্ষ্মা রথস্য নি জিহীড়তে দিব ঈষনাণা উপস্পৃশঃ
এষ ইষায় মামহে শতং নিস্কান দশ স্রজঃ
ত্রীণি শতান্যর্বতাং সহস্রা দশ গোনাম
বচ্যস্ব রেভ বচ্যস্ব বৃক্ষে ন পক্কে শকুনঃ
নষ্টে জিহ্বা চর্চরীতি ক্ষুরো না ভূরিজোরিব
প্র রেভাসো মনীষা বৃষা গাব ইবেরতে,
আমোত পুত্রকা এষামমোত গা ইবাসতে,
প্র রেভ ধীং ভরস্ব গোবিন্দং বসুবিদম,
দেবত্রেমাং বাচং শ্রীণীহীষুর্ণবীরস্তারম
রাজ্ঞে বিশ্বজনীনস্য যো দেবাহমর্ত্যা অতি,
বৈশ্বারনস্য সুষ্টুতিমা সুনোতা পরিক্ষিতঃ,
ঈরিচ্ছিন্নঃ ক্ষেমমকরেনাৎতম আসনমাচরণ,
কৃলায়ন কৃন্বন কেীরব্য পতির্বদতি জয়য়া,
কতরৎ তে আ হরাণি দধি মন্থাং পরিশ্রম্নতম,
জায়াঃ পতিং বি পৃচ্ছতি রাষ্টে রাজ্ঞঃ পরিক্ষিতঃ,
অভীবস্বঃ প্র জিহীতে যবঃ পক্বঃ পথো বিলম,
জনঃ স ভদ্রমেধতি রাষ্টে রাজ্ঞঃ পরিক্ষিতঃ
ইন্দ্রঃ কারুমবূধুদুত্তিষ্ঠ বি চরা জনম,
মমেদু গ্রস্য চিকর্ধ সর্ব ইৎ তে পৃণদরিঃ,
ইহ গাবঃ প্রজায় ধ্বমিহাশ্বা ইহ পুরুষা,
ইহো সহস্রদিক্ষণনোহয়ি পূষা নি ষীদতি,
নেমা ইন্দ্র গাবো রিষন মো আসাং রীরিষৎ,
মাসামিত্রযুর্জন ইন্দ্র মা স্তেন ঈশত
উপ নোর রমসি সূক্তেন বচসা রয়ং ভদ্রেণ বচসা বয়ম,
বনাদধিধ্বনো গিরো ন নেষ্যেশ কদা চন
(অথর্ববেদ-২০-৯-৩১)
কল্কি অবতার, নরাশংস, আয্য মৈত্রিয়, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নাম হবে। যিনি হবেন প্রশংসীত। যিনি হিযরত করবেন। তিনি যে এলাকায় আসবেন সেখানে লোক সংখ্যা হবে ষাট হাজার। তিনি উটে আরোহনকারী হবেন। তাঁর অনেক স্ত্রী থাকবে। তিনি বোরাকে চড়ে আকাশে যাবেন। তিনি দেশের প্রধান হয়ে দেশে শান্তিস্থাপন করবেন। তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশেষ অবতার হবেন। তিনি সেনাপতি হবেন।
হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রে মহসূরিন্দ্রাঃ
আল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং ব্রহ্মণং আল্লাম
আল্লো রসূল মোহাম্মদ রকং বরস্য আল্লো অল্লাম
আদাল্লাং বুকমেকং অল্লাবুকংল্লান লিখর্তকত
(উপনিষদ)
লা-ইলাহা হরতি পাপম
ইল্ল ইলাহ পরম পদম
জন্ম বৈকুন্ঠ অপ ইনুতি
জপি নাম মুহাম্মদ
(বেধ)
আল্লা রসুল মহম্মদ রকং বরস্য
স্মিন্নন্তিদরে ম্লেচ্ছ আচাযেন সমান্বিতঃ
মহামদ ইতখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিতঃ
নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থল নিবাসিনম
চন্দনাদিভির ভ্যার্চ্য তুষ্টার মনসা হরম
নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসিনম
ত্রিপুরাসুনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে
ম্লেচ্ছৈর্গপ্তায় শুদ্বায় সচ্চিদানন্দরুপিণে
ত্বং মাং হি কিং করং বিদ্বি শরণার্থমুপাগতম
(ভবিষ্য পুরাণ)
অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যেহসংভুতি মুপাসতে
ততো ভূয় ইব তে তমো য উ-সম্ভুত্যাঃ রত্যঃ
(যর্জুবেদ-৪০-৯)
নাচ্ছি কাচ্ছি যাদিতানা যাদিপা
নাস্তি প্রতিমা আস্তিক
(যর্জুবেদ-৩২-৩)
ন তস্য কশ্চিৎ পতিরস্তি লোকে ন চেশিতা নৈব চ তস্য লিজ্ঞাম
স কানং করনাধি পাধিপে না চার্সকচিৎ জনিতা ন চাধিপ
(উপনিষদ-৮-৯৯)
যদা যদাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত
অভ্যূথানম ধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্
পবিত্রানায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম
ধর্মসংস্থাপননার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে
(গীতা)
যারা ভাল তাদের রক্ষা করার জন্য এবং যারা খারাপ তাদের ধংস করার জন্য এবং প্রতিটি যুগে ধর্মস্থাপন করার জন্য আমার মত শ্রীকৃষ্ণের আগমন ঘটে। যুগে যুগে ধর্মস্থাপন করার জন্য আমার মত অবতার পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় আগমন করে।
একমেবা দ্বিতীয়ম
ইল্লা কবর ইল্লা ইল্লাল্লোত ইল্লাল্লাং
লা ইলাহা ইল্লল্লাহু। পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহ সৃস্টি করেছেন। তাই আল্লাহকে আল্লাহ নামে আহব্বান কর।
মদেী বর্তিতা দেবা দ কারান্তে প্রকৃত্তিতা
বৃক্ষানং ভক্ষয়েৎ সদা মেদা শাস্ত্রেচ স্মৃতা
এতসিমন্নন্তিরে ম্লেচ্ছ ও আচায্য সমন্বিতঃ
মহাম্মদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিতঃ
যো রধ্রস্য চোদিত্য যঃ কৃশস্য
মো ব্রণো নাম মানস্য কীরেঃ
(ঋগ্বেদ ২-১২)
বেদা বিভিন্না, শ্রুতুয়ে বিভিন্না নাসো মুনিযাস্যং মতং বিভিন্না তত্তং নিহিতং গুহায়ং মহাজেন যেন হদঃ স পন্থা (মহাভারত-বনপর্ব)
বিভিন্ন প্রকার ধর্মগ্রন্থে নিয়মগুলো ভিন্ন ভিন্ন, নবী-রাসুলদের রহস্য গুহায় বিদ্যমান, সে ধর্মপথে অনুসরনকারীরা শ্রেষ্ঠ মানুষ।
সনাতন ধর্মগ্রন্থে দশ অবতারের কথা বলা হয়েছে। দশ অবতারের সর্বশেষ অবতার হল-কল্কি অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
অম্বমাগুগমারূহ্য দেবদত্তঃজগৎপতিঃ
অমিনা সাধু দমন অইষ্টশ্বয্য গুণন্বিত
(শ্রীমদ্ভাগবত-গীতা-১২-২)
জগৎপতি হযরত মুহাম্মদ আলাইহিছ সালাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় চড়ে শয়তানকে দমন করবেন।
বিচরন্নাশূন্য ক্ষেীণাৎ হষেণা প্রতিমদ্যুতি নুপলিঙ্গচ্ছে
দস্যূ ন কোটি শোনিহ নিয্য
(শ্রীমদ্ভাবগত -১২-২-২০)
সাত যয়ং তুবং দেবা সাঃ শাবত রণে রাতাঃ
(কল্কি পুরাণ -২ -৭)
যুদ্ধে ফেরেস্তারা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করবে।
নরাশংসহিতার প্রিয়মস্মিন্যঞ্জ উপহবয়ে
মধু জিহবৎ হবিস্কৃতম
(ঋগ্বেদ)
এই অনুষ্ঠানে মিস্টিভাষী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আহব্বান করি।
নরাশংসং সুধৃস্টমমপশ্যাং সপ্রথস্তমং
দিবো ন সন্মখসম
(ঋগ্বেদ)
বিখ্যাত ও আকাশের মত প্রকাশিত নরাশংস, অন্তিম ঋষি, অন্তিম বুদ্ধ, কল্কি অবতার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি। ভারতবর্ষে আগত সমস্ত ঋষি, অবতার, বুদ্ধ, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম, সবাই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন। কেননা, তারা সবাই আল্লাহর পক্ষ হতে আগত নবী ও রাসূল ছিলেন। তাঁরা সকলে আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করেছিলেন। কেননা আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন ব্যতীত ঋষি, অবতার, বুদ্ধ, নবী ও রাসূল হওয়া যায়না। তাঁরা সকলে ভারতবর্ষে সনাতন ইসলাম ধর্মের প্রচার করেছিলেন। তাঁরা সকলে বলেছেন, সর্বশেষে আরবদেশে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন। তাঁরা সকলে আমাদেরকে সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্ম পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই, বর্তমানে আমাদের সর্বশেষ সনাতন ইসলাম ধর্মের অনুসরন করতে হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআন শরীফে বলেছেন, আমার নিকট একমাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্ম হল ইসলাম। ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম পালনকারীর কর্ম আল্লাহ গ্রহন করবেননা এবং স্বর্গে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করবেন না। তাই আমাদের স্বর্গে যাওয়ার জন্য স্বর্গের মালিক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করতে হবে।
নরাশংসং বাজিনং বাজয়ন্নিহ ক্ষয়দ্বীরং পুষনং সুম্নৈরীমহে, রথংম দুর্গাদ্বসবঃ সুদানবো বিশ্বস্মান্নো অংহসো নিস্পিপর্তন (ঋগ্বেদ)
নরাশংসসঃ প্রতি থামান্যঞ্জন তিস্রো দিবঃ প্রতি মহা স্বচিঃ
ঘৃতপ্রূষা মনসা হব্যমুন্দন্মুধ ণ্যঞ্জস্য সমনক্তু দেবান
(ঋগ্বেদ)
নরাশংসং সুষুদতীযং যজ্ঞমদাতাঃ, কবির্হি মধুহস্ত্যঃ
নরাশংসস্য মমিমান মেষামুপ স্তেষাম যজতস যজ্ঞৈ,
নরাশংসং পুষন মগোহ্যমগিনং দেবেন্বমভ্যর্চসে গিরা,
সূযামাসা চন্দ্রমসা যমং দিবি ত্রিতং বাতমুষসমক্তু মশ্বিনা,
নরাশংসো নেহবতু প্রযাজেশংনো অসত্বনুযাজ্যে হবেষু
ক্ষিপদশস্তিমপ দুর্মতিং হন্নথা করদা জমানাং শং যোঃ
নরাশংসমিহ প্রিয়মস্মিন যজ্ঞ উপ হবয়ে,
নরাশংসং সুধুস্টমমপশ্য সপ্রথস্তমং
দিবো ন সম্পমসখসম
(ঋগ্বেদ)
তনুনপাদুচ্যতে গর্ভ আসুরো নরাশংসো ভবতি যদ্বি জায়তে
শুচিঃপাবকো অম্ভুতো মধ্বা য়জ্ঞ মিশিক্ষাত
নরাশংসস্ত্রিরা দিবো দেবো দেবেষু যাজ্ঞঙঃ
আ দেবানামগ্রয়াবেহ যাতু নরাশংসো বিশ্বরুপেভিরশ্বৈঃ
ধাতস্য পথা নমসা মিয়েধো দেবেভ্যো দেবতমঃ সুষুদৎ
নরাশংসস্য মহিমানমেশামুপ স্তোসামযজতস্য যজ্ঞেঃ
যে সুত্রুতসঃ ওচেয়ো ধিয়ন্বাঃ স্বদস্তি দেব্য উভয়ানি হব্যা
নরাশংস স্যাহম দেবষজ্যায়া পশুমান ভূয়াসমপ্নে,
নরাশংসস্যাহং দেব যজ্যয়া পশুমান ভূয়াসমিত্যাহ
নরাশংসেন বৈ প্রজাপতিঃ পশুন সৃজত তেনৈব পশুনৎ কৃজতে হগ্নেঃ
ইদংজনা উপশ্রুত নরাশংসং স্তীবষ্যতে
উষ্ট্রা যস্য প্রবাহনেবধুমতো দ্বির্দশ,
নরাশংস মিহপ্রিয় মস্মিণ্রজ্ঞ, মধুজিহব হবিস্কৃতম,
নরাশংস- প্রশংসিত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তিনি কেীরম বা দেশত্যাগী বা হিযরতকারী যেহেতু তিনি মক্কা হতে মদিনায় হিযরত করবেন। ভবিষ্যপুরাণে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্ম্পকে বলা হয়েছে-
এতসিন্মন্ন্স্তরে ম্লেচ্ছ আচাযেণ সমন্বিতঃ
মুহাম্মদ ইতি খ্যাতঃ শিস্যশাখা সমন্বিত
নুপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থল নিবাসিনম
গঙ্গা জলেশ্চ সংস্নাস্থ পহব্য সমন্বিতৈঃ
চন্দাদিভিরভতর্চ্য তুষ্টাব মনসা হরম
নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসিনে
ত্রিপুরাসুর নাশায় বগুমায়া প্রবতিনে
শ্লেচ্ছৈর্গূপ্তায় শুদ্বায় সচ্চিদানন্দ রুপিনে
ত্বং মাং হি কিম্করং বিদ্বি শরণার্থ মুপাগতম
উবাচ ভূপতিং প্রেমণ মায়ামদ বিশারদ
তব দেবো মহারাজ মম দাসত্ব মাগত্ব
মমোচ্ছিষ্টং স ভুজীযাত তথা তৎপশ্য ভো
ইতি শ্রূত্বা তথা দৃষ্টা পরং বিস্ময় মাযযেী
শ্লেচ্ছ ধর্মে মতিশ্চাসত্তিস্য ভুপস্য দারুণে
রাত্রেী স দেবরুপশ্চ বগুমায়াবীশারদঃ
পৈশাচং দেহমাস্থায় ভোজরজং হি সোৎব্রবীত
আয্য ধর্মো হি তে রাজন সর্ব ধর্মোত্তমঃ স্মৃতঃ
ঈশাজ্ঞয়া করিষামি পৈশাচ ধর্মদারুণম
লিঙ্গচ্ছেদ্যে শিখাহীনঃ শ্মশ্রুধারী স নুযকঃ
উচ্চালাপী সর্বভক্ষী ভবিষ্যতি জনো মম
বিনা কেীলং চপশবস্তেষাং ভঙ্গ্যা মতে মম
মুসলেনৈব সংস্কারঃ কুশৈরিব ভবিষ্যতি
তস্মান্মসজবন্তোহি তাজয়ো ধর্মদুষকাঃ
ইতি পৈশাচ ধমশ্চ ভবিষ্যতি ময়া কৃতঃ
ইত্যুক্তা প্রযযেী দেবঃ স রাজা গেহমাযযেী
(ভবিষ্যপুরাণ-৩য়-৩য়)
অহমিদ্বি বা আহমদ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপর একটি নাম।
অহমিদ্বি প্রিতস্পরি মেধামৃতস্য জগ্রভ
অহং সুয্য ইবাজনি
(ঋগ্বেদ -৬-১০)
অহমদ মেধামৃত-জ্ঞানপূর্ণ ঐশীগ্রন্থ লাভ করা যা পবিত্র আল-কোরআন।
হে ঈলিত - প্রশংসিত অগ্নি- আর তা হল নূর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
অগ্নে সুখতমে রথে দেবী ঈলিত আ বহ
অসি হোতা মুনর্হিতাঃ
(ঋগ্বেদ-১-৯-৪)
ঈলিতো অগ্ন আ বহেদ্রং চিত্রমিহ প্রিয়ং
ইয়ং হি ত্বা মতির্মমাচ্ছ সুজিহব বাচ্যতে
(ঋগ্বেদ-১-১৪২-৪)
সকল হিন্দু শাস্ত্রবিশারদ পন্ডিতগন স্বীকার করে যে, প্রকৃত বৈদিব ধর্ম হল একেশ্বরবাদের ধর্ম। সেখানে মুর্তিপূজা, প্রকৃতি পূজা, বস্তু পূজার কোন স্থান নেই। তাই সনাতন ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী আমাদের সর্বশেষ সনাতন ধর্ম, কলিযুগের সনাতন ধর্ম, ইসলাম ধর্ম পালন করতে হবে এবং কল্কি অবতার, নরাশংস, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করতে হবে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে হবে। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
বৌদ্ধধর্ম
বৌদ্ধধর্মে ঋষিকে বুদ্ধ বলা হয়। হযরত গৌতম বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম মৃত্যুর সময় তাঁর প্রিয় শিষ্য নন্দাকে অন্তিম বুদ্ধ সম্পর্কে এক ভবিষ্যদ্বাণী শ্রবণ করান- নন্দা এই পৃথিবীতে আমি প্রথম বুদ্ধ নই এবং সর্বশেষ বুদ্ধও নই। এই পৃথিবীতে সত্য এবং পরোপকার শিক্ষা দান করার জন্য সময় মত এক বুদ্ধ আবির্ভূত হবেন। তিনি পবিত্র অন্তঃকরণের অধিকারী হবেন। তাঁর হৃদয় পরিশুদ্ধ হবে। তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবান হবেন। তিনি সকল লোকের নায়ক ও পথ প্রদর্শক হবেন। যদ্রূপ আমি পৃথিবীতে সত্যের শিক্ষা দিয়েছি, তিনিও তদ্রূপ পৃথিবীতে সত্যের শিক্ষা প্রদান করবেন। তিনি পৃথিবীতে এমন জীবন দর্শন প্রদর্শন করবেন, যা একাধারে পবিত্র এবং পূর্ণাঙ্গ হবে। নন্দ, তাঁর নাম “মৈত্রেয়” হবে। বুদ্ধ শব্দের অর্থ বুদ্ধি দ্বারা যুক্ত। বুদ্ধ মানুষই হন, কোন দেবতা নয়। বুদ্ধ ঐশ্বয্যবান এবং ধনবান হন। বুদ্ধ সন্তানাদির পিতা হন। বুদ্ধ স্ত্রী সংসার এবং শাসন যুক্ত ব্যক্তি হন। বুদ্ধ স্বীয় পূর্ণ আয়ু পয্যন্ত জীবিত থাকেন। বুদ্ধ স্বীয় কর্মাদি স্বয়ং সম্পাদন করেন। বুদ্ধ কেবল ধর্ম প্রচারক হন। বুদ্ধকে তথাগত ও বলা হয়। বুদ্ধ যখন একাকী ও নিরালয়ে অবস্থান করে, তখন অনেক সময় ঈশ্বর তাঁর নিকট দেবতা ও ফেরেশতা প্রেরণ করেন। প্রত্যেক বুদ্ধ তাঁর পূর্ববর্তী বুদ্ধকে স্বরণ করিয়ে দেন এবং স্বীয় অনুগামীগণকে ‘মার’ বা শয়তান সম্পর্কে সতর্ক করে থাকেন। ‘মার অর্থ পাপ ও বিনাশ প্রসারকারী। বুদ্ধের অনুগামী, পরিপক্ক অনুগামী হন, তাঁকে কেহ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। পৃথিবীতে সর্বশেষ অন্তিম বুদ্ধ হলেন আয্য মৈত্রিয়, ইহাকে আরবীতে অনুবাদ করলে হয়- রহমাতুল্লীল আলামীন। তাই হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম যে আয্য মৈত্রিয়র কথা তাঁর অনুসারীদের বলে গেছেন, তিনি হলেন আয্য মৈত্রিয়, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম নবী ছিলেন। তাই বর্তমান বৌদ্ধধর্ম অনুসারীদের কর্তব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা যদি তারা স্বর্গে যেতে চায়। কেননা তিনি অন্তিম বুদ্ধ সম্পর্কে যে ভবিষ্যত বানী করেছেন তা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। ইহার প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, অন্তিম বুদ্ধের কোন শিক্ষক থাকবে না। আমরা দেখতে পাই, পৃথিবীতে হযরত মুহাম্মদ আলাইহিছ সালাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন শিক্ষক নেই। মৈত্রেয় অর্থ দয়াবান। বুদ্ধ হওয়ার ফলে “অন্তিম বুদ্ধ মৈত্রেয়” বুদ্ধের পূর্ব বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন। ‘মৈত্রেয়’ বোধিবৃক্ষের নিয়ে সভার আয়োজন করবেন। বোধিবৃক্ষ দুই প্রকার হয়। পার্থিব বৃক্ষ- স্বর্গীয় বৃক্ষ। বোধিবৃক্ষের নিয়ে বুদ্ধ জ্ঞান লাভ করে থাকেন। এখানে স্বর্গীয় বোধিবৃক্ষ সম্পর্কে কিছু বিবরন দেয়া হল। স্বর্গীয় বোধিবৃক্ষ অত্যন্ত প্রশস্ত পরিসরে বিস্তৃত হয়। জ্ঞান প্রাপ্তির পর বুদ্ধ স্থির-দৃষ্টিতে উক্ত বোধিবৃক্ষ দর্শন করেন। সাধারণ মানুষ অপেক্ষা বুদ্ধের ঘাড়ের হাড় অত্যাধিক দৃঢ় হয়। সেই জন্য ঘাড় ঘুরাইবার সময় তাঁকে সমস্ত শরীর ঘুরাইতে হয়। অতএব ‘মৈত্রেয়’ বুদ্ধের মধ্যে উক্ত লক্ষণ বিদ্যমান থাকা স্বাভাবিক। প্রত্যেক বুদ্ধের জন্য একটি বোধিবৃক্ষ থাকা আবশ্যক। প্রত্যেক বুদ্ধের ভিন্ন ভিন্ন বোধিবৃক্ষ থাকে। পবিত্র কোরআন শরীফে হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর সম্পর্কে এই ঘোষণা করা হয়েছে যে, “আপনি পূর্বে নির্ধন ছিলেন, অতঃপর আমি আপনাকে ঐশ্বয্যবান ও ধনবান করেছি। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নবুয়ত প্রাপ্তির বহু পূর্বেই অনেক ধন লাভ করেন। তাঁর নিকট অনেক ঘোড়া ছিল। তাঁর আরোহণ করার জন্য উষ্ট্র ছিল। উষ্ট্রের উপর আরোহণ করে তিনি মক্কা হতে মদিনা গমন করেন। ইহা ব্যতীত তাঁর কুড়িটি উষ্ট্রিণী ছিল। যার দুগ্ধ দ্বারা স্বীয় সন্তানাদির প্রতিপালন করতেন এবং অতিথিবৃন্দকে আপ্যায়িত করতেন। তাঁর সাতটি দুগ্ধবতী ছাগল ছিল। তাঁর কোন মহিষ ছিল না, কারণ আরব দেশে মহিষ পাওয়া যায় না। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নিকট সাতটি খেজুরের বাগান ছিল। কিন্তু তিনি উহাকে ধর্মীয় কাজের জন্য দান করে দেন। তাঁর তিনটি ভূমি ছিল। তাঁর অধীনে কতিপয় কুপও ছিল। ইহা স্মরণীয় যে, আরব দেশে কুপের মালিক হওয়া বিশাল সম্পদশালী হওয়াকে নির্দেশ করত। কারন আরব দেশ মরুভূমি হওয়ায় জলের অত্যাধিক মূল্য ছিল। অতএব, বুদ্ধের অন্যতম লক্ষন সন্তানাদির পিতা হওয়া, এই গুণও হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর মধ্যে পূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম শাসনও করেন। তিনি শত সহস্র বিরুদ্ধ পক্ষকে পরাজিত করে সমগ্র আরব দেশের উপর স্বীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্টা করেন এবং দেশ শাসন করেন। তিনি সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও তাঁর খাদ্য পূর্ববত অতি সাধারণ ছিল। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর স্বীয় পূর্ণ আয়ুস্কাল পয্যন্ত জীবিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যু হয় নাই বা কারো দ্বারা নিহত হন নাই। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নিজের কায্যসমূহ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম সারাজীবন ধর্ম প্রচার করেন। তাঁর ধর্ম প্রচার সম্পর্কে বহুতথ্য ইতিহাসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে। বস্তুতঃ তিনি ধর্ম প্রচারক হিসাবে অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একাকী ও নিরালয়ে থাকতেন তখন তার নিকট দেবতাগণ ও রাক্ষস-জ্বিন- ফেরেস্থা আগমণ করত। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম তাঁর পূর্ববর্তী ঋষিগণের সমর্থন করেন। ইহা সম্পূর্ণ কোরআন শরীফে দেখতে পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারায় উল্লেখ আছে- হে ঈমানদারগন (আত্মসমর্পনকরীগন) তোমরা বল যে, আমরা আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করছি এবং যে গ্রন্থ আমাদের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং ইতিপূর্বে ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব, এবং তাঁদের বংশধরগণের উপর যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যা কিছু মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং আল্লাহর নিকট হতে অন্যান্য নবী, ঋষি ও বুদ্ধগনকে যা প্রদান করা হয়েছে, সকলের উপর আমরা বিশ্বাসস্থাপন করছি। আমরা নবী ও রাসূলগনের মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য করি না এবং আমরা সেই এক আল্লাহকে মান্য করি (সূরা-বাকারা-১৩৬)। সূরা-বাকারার বাষট্রি নং আয়াতে বলা হয়েছে- যারা মুসলমান, ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান এবং সনাতন সম্প্রদায়। ইহাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং ভাল কাজ করে, তাদের জ্ন্য তাদের প্রভুর নিকট ইহার পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। (সূরা-রাকারা-৬২) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি, তাঁরা সকলে মুসলিম। ঈমানের সাথে সম্পর্ক আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পৃথিবীর শুরু হতে শেষ পয্যন্ত এই বিষয়টি সকলের জন্য সমান। বর্তমানে যারা ইহুদী, খ্রীষ্টান ও সনাতন ধর্ম পালন করে তারা ঈমানদার নয়। কেননা, তারা আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না। সনাতন ধর্মে মূর্তিপূজার কোন স্থান নেই। মূর্তিপূজা অসূর বা শয়তানের পূজা। খ্রিষ্টার ধর্মে ত্রিত্ববাদের কোন স্থান নেই। ত্রিত্ববাদ শয়তানের পূজা। সকলের ধর্মীয় গ্রন্থে বলা হয়েছে মুসলিম হওয়ার জন্য। ইহুদীদের নবী হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। খ্রীষ্টানদের নবী হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। সনাতন ধর্মের নবী হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। সনাতন ধর্মের নবী হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। বৌদ্ধধর্মের নবী হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। তাঁরা সকলে আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করেছিলেন। তাই বর্তমানে সবাইকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করতে হবে। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম সকলকে শয়তান বা মার সম্পর্কে বার বার সতর্ক করেছেন। কোনআনে শয়তানকে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, “যে ব্যক্তি শয়তানকে মিত্ররূপে গ্রহন করবে, তাকে সে পথভ্রষ্ট করে দিবে এবং নরকগামী পথ প্রদর্শন করবে। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর অনুগামীবৃন্দ কখনো তাঁর প্রদর্শিত পথ হতে বিচ্যুত হন নাই। তাঁরা সর্বদা হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর শিষ্যত্ব ও মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ থাকতেন। শত সহস্র দুঃখ ও কন্টকপূর্ণ জীবন যাপন করা সত্ত্বেও তাঁর অনুগামীগণ তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেন নাই। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম যখন বুদ্ধ রূপে আবির্ভূত হন, তখন পৃথিবীতে অন্য কোন বু্দ্ধ ছিলেন না। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বুদ্ধ হওয়ার সময় পৃথিবীতে সামাজিক এবং ধর্মীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত কুলষিত ছিল। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর পৃথিবীতে কোন গুরু ছিল না। তিনি কোন প্রকার লেখাপড়া জানতেন না। এই জন্য তাঁকে উম্মি বলা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর অন্তঃকরণে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ বাণীসমুহের সংহিতাই পবিত্র কোরআন। প্রত্যেক বুদ্ধের একটি বোধিবৃক্ষ বিদ্যমান আছে। কোন বুদ্ধের বোধিবৃক্ষ অশ্বথ বৃক্ষ, কোন বুদ্ধের বট বৃক্ষ এবং কোন বুদ্ধের উদুম্বর-গোনর-বৃক্ষ। মৈত্রেয় বুদ্ধের জন্য ‘শক্ত এবং ভারী কাষ্ঠযুক্ত বৃক্ষ’ বোধিবৃক্ষ হবে বলে বর্ণিত আছে। হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর বোধিবৃক্ষ রূপে হুদাইবিয়া নামক স্থানে এক শক্ত ও ভারী কাষ্ঠযুক্ত বৃক্ষ ছিল। সেখানে তিনি সভাও করেছেন। মৈত্রেয়-অর্থ দয়াবান। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম ও দয়াবান ছিলেন। এই কারনে তাঁকে -রহমাতুল লিল আলামীন-সমগ্র বিশ্বের জন্য দয়া ও করুণা উপাধি প্রদান করা হয়েছে। অতএব, প্রমাণিত হল যে, বুদ্ধ হওয়ার জন্য যে সকল গুণ থাকা আবশ্যক, তাঁর সমস্ত গুণই হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর মধ্যে পূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম স্বর্গে বিশাল বৃক্ষ দেখেন, যা আল্লাহর সিংহাসনের দক্ষিণে অবস্থিত এবং এত বিস্তৃত যে, একজন অশ্বারোহী ব্যক্তি ইহার ছায়া এক শত বছরেও অতিক্রম করতে পারবে না। হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম উক্ত স্বর্গীয় বৃক্ষকে স্থির দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করেন। মৈত্রেয় বুদ্ধের বিষয়ে ইহা উল্লেখ আছে যে, তিনি সমস্ত শরীর না ঘুরিয়ে গাড় ঘুরাতে পারতেন না। এই লক্ষণ সমূহ হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম এর মধ্যেও ছিল। তিনি কোন ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় সম্পর্ণ শরীর ঘুরিয়ে নিতেন। অতএব, ইহা স্বতঃ সিদ্ধভাবে প্রমাণিত হল যে, বৌদ্ধ গ্রন্থ সমূহে যে মৈত্রেয় বুদ্ধ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তিনিই সেই অন্তিম ঋষি হযরত মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম। তাই আমাদের সকলের উপর আবশ্যক কর্তব্য তাঁকে অনুসরন করে চলা। ইহার ব্যতিক্রম হলে নরক নিশ্চিত। তাঁর অনুসরণের মাধ্যমেই আমাদের চির-যুবক হয়ে অনন্ত সুখের স্থান স্বর্গে গমন সম্ভব। তাই আসুন আমরা সবাই বলি- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এবং মসজিদে গমন করে ভ্রাহ্মণদের সাথে নামাজ পড়ি।
ওঁম শান্তি-ওঁম শান্তি - অউম- শব্দের অর্থ হল-সৃষ্টি, সৃষ্টি অস্থিতে থাকা। ব্রহ্মা হলেন স্রষ্ঠা, আর এই সৃষ্ঠি অস্থিতে থাকে –ওম্কার- এর মাধ্যমে। -শান্তি- শব্দের অর্থ হল- মানুষ শান্তিতে থাকা, মানুষের আত্মা শান্তিতে থাকা, যাকে অনুসরন করে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে, এই শব্দটিকে আরবীতে অনুবাদ করলে অর্থ হবে-ইসলাম- আর যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম অনুসরন করে, তাকে বলা হয়- মুসলিম। বৌদ্ধধর্ম, সনাতন ধর্মের একটি শাখা। সনাতন ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ আছে- যে কল্কি অবতার হবে, তাঁর নামের প্রথম অক্ষর হবে-ম- এবং শেষের অক্ষর হবে-দ- । বৌদ্ধধর্মের পন্ডিতগন এই বাক্যের মাধ্যমে স্রষ্ঠাকে বুঝিয়ে থাকেন কিন্তু তাদের এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কেননা স্রষ্ঠার সৃষ্টি যার মাধ্যেমে অস্থিতে থাকে, এখানে তাঁকে শান্তির বুদ্ধ বলা হয়েছে। এই বিষয়টি কোরআন ও হাদীসেও বর্নীত হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্ব প্রথম নিজের নূর হতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূর সৃষ্টি করেন। অতঃপর সেই নূর হতে সবকিছু সৃষ্টি করেন। যা অউম শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে। আর শান্তি দ্বারা-ইসলাম- ধর্মকে বুঝানো হয়েছে। অতএব, আমারা বুঝতে পারলাম এই বাক্যের মাধ্যমে নূর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলা হয়েছে। তাই এই বাক্যের ব্যাখ্যা হবে এরূপ- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তুমি আমাদের সন্মানিত সর্বশেষ সম্যকসম্বুদ্ধ। তোমার প্রতি আমাদের অন্তরের ভালবাসা ও কোটি কোটি সালাম । এখানে হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম নন্দার মাধ্যমে সমস্ত বৌদ্ধধর্ম অনুসারীদের উপদেশ দিয়েছেন। তোমরা মনে রাখবে। আয্য মৈত্রিয়, সর্বশেষ আরবদেশে আগমনকারী নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য সর্বশেষ সম্যকসম্বুদ্ধ। তিনি শান্তির ইসলাম ধর্ম প্রচার করবেন। তিনি হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শান্তির ধর্ম নিয়ে আগমনকারী। তুমি কখন শান্তির ধর্ম নিয়ে আরবদেশে আগমন করবে। তুমি আয্য মৈত্রিয়, আমরা তোমার আগমনের অপেক্ষায় আছি। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবদেশে আগমন করেছেন এক হাজার পাঁচশত বছর পূর্বে। তাই বর্তমান পৃথিবীর সমস্ত মানুষের একমত্র ধর্ম হল ইসলাম। তাই আসুন আমরা সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসরন করি নিজেদের কল্যাণের জন্য।
“ভিক্ষুগণ, সেই গভীর দুর্দর্শ, দুরানুবোধ্য, শান্ত, প্রণীত, অতর্ক-বিহার, নিপুণ, পন্ডিত বেদনীয় ধর্ম (গুণ) সমূহ কি প্রকার, যে সমুদয় তথাগত স্বয়ং অভিজ্ঞানে পত্যক্ষ করিয়া প্রকাশ করেন, যে সমুদয় দ্বারা প্রশংসা করিলে তথাগতের প্রকৃত প্রশংসা করা হইবে।
(বাংলা-ই-ত্রিপিটক)
বৌদ্ধধর্ম প্রায় দুই হাজার পাঁচশত বছর পূর্বে ভারতবর্ষে আগমন করেছিল। হযরত গেীতম বুদ্ধ আলাইহিছ সালাম একজন নবী ছিলেন। পৃথিবীতে এরূপ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল মহান স্রষ্টা আল্লাহর পক্ষ হতে আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আগমন করেছিল। সর্বশেষ রাসূল হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে হযরত গেীতম বুদ্ধ আলাইহিছ সালাম বলেছেন, আমার পরে একজন অন্তিম বুদ্ধ আসবেন। তিনি হবে অভারতীয় “আর্য মৈত্রিয়” যাকে আরবীতে বলা হয়- রহমাতুল্লিল আলামীন- তিনি সমস্ত পৃথিবীর জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, সর্বশেষ-অন্তিম বুদ্ধ। সর্বশেষ মহান বুদ্ধ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভারতে আসবেন না। তিনি আসবেন আরব দেশে। হযরত গেীতম বুদ্ধের এক হাজার বছর পর তিনি আগমন করেছিলেন। আনন্দ তাঁর বুদ্ধদেবের কাছে প্রশ্ন করলেন, আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদের উপদেশ প্রদান করবে, বুদ্ধদেব বল্লেন, আমি একমাত্র বুদ্ধ নই। আরও একজন বুদ্ধ আসবেন। তিনি পবিত্র ও আলোকপ্রাপ্ত নূর নবী। তিনি ভবিষ্যত বাণী করেছেন, আর্য্যমিত্র নামে আর একজন সম্যকসম্বুদ্ধ পৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন। তাই সকল বৌদ্ধধর্ম অনুসারীদের আহব্বান জানাব স্বর্গে যাওয়ার একমাত্র পথ ইসলাম ধর্মে আসুন এবং নিজেকে নরক হতে রক্ষা করুন ।তাই হযরত গেীতম বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম এর শিক্ষা অনুসরন করে আমাদের সর্বশেষ ধর্ম ইসলাম অনুসরন করতে হবে। ইহার কোন বিকল্প পথ নেই। তাই আসুন আমরা সবাই ভয়েজ কমান্ড প্রদান করি-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এবং মসজিদে গিয়ে ব্রাহ্মণদের সাথে নামাজ পড়ি।
আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ হলো, সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি। অতীতে বুদ্ধ প্রতিবিম্ব বা অন্য ধরনের মূর্তি তৈরীর পূর্বে, এই ধর্ম চক্রকেই উদ্দেশ্য করে প্রার্থনা করা হতো। বর্তমানে, এই ধর্ম চক্রকে সাধারণত আন্তর্জাতিকভাবে বৌদ্ধধর্মের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বুদ্ধের প্রজ্ঞা মহা সমুদ্রের ন্যায় প্রশস্ত এবং তাঁর সহিষ্ণতা মহাকরুণায় পরিপূর্ণ। বুদ্ধের কোন রূপ নেই কিন্তু তিনি নিজেকে তাঁর সমগ্র করুণাভরা হৃদয়ের মাধ্যমে খুবই সেীন্দর্যপূর্ণভাবে আমাদের সম্মুখে উপস্থাপন করেন।
(বাংলা-ই-ত্রিপিটক)
যে ব্যক্তি সংগ্রামে সহস্র সহস্র মানুষকে জয় করে তাঁর তুলনায় যিনি কেবলমাত্র নিজেকে জয় করেন, তিনিই সর্বোত্তম সংগ্রামজয়ী। (বাংলা-ই-ত্রিপিটক) যে ব্যক্তি উত্তম ধর্ম দর্শন না করে শতবর্ষ জীবিত থাকে, তাঁর জীবন অপেক্ষা যিনি ঐ ধর্ম দর্শন করেছেন, তাঁর একদিনের জীবনও শ্রেয়ঃ।
(গাথা নং-১১৫-বাংলা-ই-ত্রিপিটক)
মানব জন্ম লাভ করা যেমন দুস্কর, মৃত্যুও তেমনি কষ্টকর।সদ্ধর্ম শ্রবণ খুবই কষ্টকর, বুদ্ধদের আবির্ভাব সহজ নহে।
(গাথা নং-১৮২-বাংলা-ই-ত্রিপিটক)
বুদ্ধকে উপলব্ধি করার জন্য তাঁর দৈহিক অবয়ব এবং জাগতিক গুণাবলী সন্ধান করার প্রয়োজন নেই। দৈহিক অবয়ব অথবা জাগতিক গুণাবী কোনটিই প্রকৃত বুদ্ধ নহে। শাশ্বতঃ বুদ্ধ হলেন সর্বজ্ঞতাজ্ঞান (চারি আর্য সত্য জ্ঞান) প্রকৃত বুদ্ধকে জানতে হলে তাই সর্বজ্ঞতাজ্ঞান সাধনা করতে হবে। (বাংলা ই-ত্রিপিটক)
১। “ত্রিলোকের মহাচক্ষু মহর্ষি বুদ্ধের
ধর্ম-রত্নকোষের অধ্যক্ষ, বহুশ্রুত,
ও ধর্মধর আনন্দ তৃষ্ণামুক্ত হয়ে
বিদূরিত করেছেন অবিদ্যান্ধকার।
২। অসদৃশ জ্ঞান-গতিমান, স্মৃতিমান,
ধৃতিমান ও সদ্ধর্ম-ধারক যে ঋষি,
সে আনন্দই সদ্ধর্ম-রত্নের আকর।”
(দীঃ মহাপরিনির্বাণ সূত্র)
অতঃপর বুদ্ধ ভিক্ষুগণকে সম্বোধন করে উদাত্ত কন্ঠে বললেন- “ভিক্ষুগণ, অতীতের প্রত্যেক সম্যক সম্বুদ্ধের এক একজন করে প্রধান সেবক ছিলো, যেমন আমার আনন্দ। ভবিষ্যতেও যত সম্যক সম্বুদ্ধ উৎপন্ন হবেন, তাঁদেরও এক একজন থাকবে প্রধান সেবক, যেমন আমার আনন্দ। (দীঃ মহাপরিনির্বাণ সূত্র)
হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম ভিক্ষুগণকে বল্লেন- অতীতকালে প্রত্যেক সম্যক সম্বুদ্ধের একজন সেবক ছিল, আমার- আনন্দের-মত। যেমন হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম এর প্রধান সেবক ছিল-অর্জুন- তেমনি ভবিষ্যতে আগত প্রত্যেক সম্যক সম্বুদ্ধের একজন প্রধান সেবক থাকবে। তেমনি সমস্ত পৃথিবীর মানুষের জন্য সর্বশেষ সম্যকসম্বুদ্ধ, আয্য মৈত্রিয়, নরাসংশ, কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর প্রধান সেবক ছিল হযরত আবু বকর রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু।
তং বুদ্ধং অসিতং তাদিং, অকুহং গণিমাগতং
বহূনমিধ বদ্ধানং, অত্থি পঞ্হেন আগমং ।
হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম বলেন, ভবিষ্যতে যে সম্যক সম্বুদ্ধ, আয্য মৈত্রিয়, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন, তিনি হবেন আনাসক্ত, মহাগুণসম্পন্ন, ন্যায়বান এবং সমস্ত মানুষের জন্য শিক্ষক হিসাবে আগত হবেন। পক্ষান্তরে আমি বহুজন ও ভৃত্যগণের জন্য প্রশ্ন নিয়ে আগমন করেছি । আনন্দ তাঁর বুদ্ধদেবের কাছে প্রশ্ন করলেন, আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদের উপদেশ প্রদান করবে, বুদ্ধদেব বল্লেন, আমি একমাত্র বা শেষ বুদ্ধ নই, আরও একজন বুদ্ধ আসবেন, তিনি পবিত্র ও আলোকপ্রাপ্ত। বুদ্ধ তাঁর শিষ্য আনন্দকে বল্লেন, আমার পরে আরেকজন নবী আগমন করবেন, তিনি মৈত্রিয়, তিনি আর্য্য মৈত্রিয়, তিনি রহমাতুল্লিল আলামীন, তিনি শান্তি ও করুণার নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
কপ্পিয়ভূমিং সম্মন্নেয্য, এসাঞত্তি।
সুণাতু মে ভন্তে সঙ্ঘো! সঙ্ঘো ইত্থন্নামং বিহারং কপ্পিযভূমিং সম্মন্নতি, যম্সাযস্মতো খমতি ইত্থন্নামম্স বিহারম্স কপ্পিযভূমিযা সম্মুতি, সো তুন্থম্স যম্স নক্খমতি সো ভাসেয্য-
(সম্মতো সঙ্ঘেন ইত্থন্নামো বিহারোকপিযভূমি, খমতি সঙ্ঘম্স তস্মা তুন্থী এবমেতং ধারযামীতি।) বন্ধনী হতে তিনবার বলতে হবে ।
কি কর্ম সম্পাদর করলে অনাগত ত্রিলোক পুজ্য আয্যমিত্র বুদ্ধের সাক্ষৎ পাবে। ভগবার বুদ্ধ মতে যারা এই দশটি কর্ম সম্পাদন করবে ত্রিলোক পুজ্য আয্যমিত্র বুদ্ধের সাক্ষাত পাবে । এই দশটি কর্ম হল- দান করলে । শীল পালন করলে। ভাবনা করলে। আপা ছায়ানা করলে (গুরুজনদের শ্রদ্ধা করলে)। উরিছায়ানা করলে। (মাতা-পিতাকে সেবা করলে)। পাথিদানা করলে। (পুণ্য রাশি বিতরণ করলে)। পাথি অনুমোদর করলে। (অন্যের পুণ্যের কর্ম সাধুবাদ দিয়ে অনুমোদর করলে)। ধর্ম শ্রবণ করলে। ধর্ম দেশনা। (যে ধর্ম দেশনা হবে আদি/মধ্যম/অন্তিম)। দিট্রি রীজাকর্ম করলে এবং আমার শাসনে ভিক্ষু শ্রামণ হলে, যে সব মাতা পিতা বুদ্ধ শাসনে নিজের ছেলে মেয়েকে দান করলে, পশু পাখীর জন্য পুকুর খনন করলে, যারা মানুষের চলা-ফেরার জন্য রাস্তা-ঘাটে সেতু বানিয়ে দিলে। বুদ্ধ শাসন উন্নতির জন্য ক্যায়াং ভাবনার ঘর-গুহা ছেড়াং ঘর বানিয়ে দিবে। যারা বোধি বৃক্ষমুলে জল সিঞ্চন করবে (জলঢালা) বোধি জ্ঞান সবল হবার জন্য। তারা ত্রিলোক পুজ্য অনাগত আয্যমিত্র বুদ্ধের সাক্ষাৎ পাবে। (উৎসর্গ ও সূত্র-৭৫)
হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম দুই হাজার ছয় শত বছর পূর্বে তাঁর অনুসারীদের কিছু কর্মের কথা বলেছেন যা করলে তাঁরা ত্রিলোক পূজ্য আয্যমিত্র বুদ্ধ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পাবে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজার পাঁচ শত বছর পূর্বে আরবদেশে আগমন করেছেন। তাই বর্তমানে আমাদের সকল ধর্মীয় কর্ম ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে করতে হবে যা বলেছেন হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম। তাই আসুন আমরা সবাই ইসলাম ধর্ম অনুসরন করে জীবন পরিচালিত করি।
দেব-শব্দ সূত্র
আমি এরুপ শুনেছি, ভগবান অর্হৎ কর্তৃক ইহা এরুপ ভাষিত হয়েছে- হে ভিক্ষুগণ! ত্রিবিধ দেব-শব্দ সময়ে সময়ে দেবগণের মধ্যে উত্থিত হয় । সেই ত্রিবিধ দেব-শব্দ কি ? হে ভিক্ষুগণ! যখন কোন আয্যশ্রাবক কেশ-শ্মশ্রু ছেদন করে কাষায় বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে আগার (গৃহ) হতে অনাগারিক জীবনে প্রব্রজ্যা গ্রহণের চিন্তা করেন, সে সময়ে দেবগণের মধ্যে দেব-শব্দ উত্থিত হয়-’এই আয্যশ্রাবক মারের সঙ্গে সংগ্রাম করার চিন্তা করেছ’ হে ভিক্ষুগণ! ইহা প্রথম দেব-শব্দ, যা সময়ে সময়ে দেবগণের মধ্যে উত্থিত হয়-
”পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ! যখন কোন আয্যশ্রাবক সপ্ত বোধিপক্ষীয় ধর্মে ভবনায় মনোযোগী হযে বিহার (অবস্থান) করেন, সে সময়ে দেবগণের মধ্যে দেব-শব্দ উত্থিত হয়- এই আয্যশ্রাবক মারের সঙ্গে সয়গ্রাম করছে । হে ভিক্ষুগণ! ইহা দ্বিতীয় দেব-শব্দ, যা সময়ে সময়ে দেবগণের মধ্যে উত্থিত হয় ।”পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ! যখন কোন আয্যশ্রাবক আসবক্ষয়ে অনাসব হয়ে চিত্তবিমুক্তি, প্রজ্ঞাবিমুক্তি লাভ করাতঃ দৃষ্টধর্মে (ইহজীবনে) স্বয়ং অভিজ্ঞাদ্বারা সম্যকভাবে উপলব্ধি করে বিহার (বাস) করেন, সে সময়ে দেবগণের মধ্যে দেব-শব্দ উত্থিত হয়- ‘এই আয্যশ্রাবক সংগ্রাম-বিজয়ী, তিনি সংগ্রাম শীর্ষে অভিজয়ী হয়ে অবস্থান করছেন’ । তিনি সংগ্রাম শীর্ষে অভিজয়ী হয়ে অবস্থান করছেন’ । হে ভিক্ষুগণ! ইহা তৃতীয় দেব-শব্দ, যা দেবগণের মধ্যে সময়ে সময়ে উত্থিত হয় । হে ভিক্ষুগণ! হে ভিক্ষুগণ! এই হল ত্রিবিধ দেব-শব্দ, যা দেবগণের মধ্যে সময়ে সময়ে উত্থিত হয় ।” ভগবান এর মর্মার্থ বুঝাতে, তদ্বিষয়ে ইহা ভাষণ করলেন-
”সম্যক সম্মুদ্ধের জ্ঞানী শ্রাবক-সুজন,
সংগ্রাম-জয়ী হয়েছেন দেখে দেবগণ;
শ্রদ্ধায় নমস্কারে সেই মহাত্মা সুজনে,
ভব ভয় বিরহিত, নমামি চরণে ।
নমস্কারিব তোমায় ওহে পুরুষোত্তম;
দুর্জয় বিজয়ী তুমি হয়েছ নরোত্তম;
মৃত্যু-সৈন্য পরাজিয়া ভবসিন্ধু পার ।
বিমোক্ষ লভিয়া মক্ত হয়েছে এবার ।
এরুপে দেবগণ দ্বারা তিনি প্রশংসিত,
চরম সীমায় হয়েছে যিনি উপনীত ।’
প্রকৃত কারণ তারা দেখে না তাহার,
কেমনে হয়েছেন তিনি মৃত্যু সীমাপার ।”
ইহার অর্থ ভগবান দ্বারা ভাষিত,
মৎকর্তৃক সেইরুপ হয়েছে শ্রুত”।
৫. বহুজনহিত সূত্র
৮৪. আমি এরূপ শুনেছি, ভগবান অর্হৎ কর্তৃক ইহা এরূপ ভাষিত হয়েছে- ’হে ভিক্ষুগণ! বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য, বহুলোকের প্রতি অনুকম্পা হেতু এবং দেব-মনুষ্যের অর্থ-হিত-সুখের জন্য পৃথিবীতে তিন প্রকার পৃদ্গল (ব্যক্তি) জন্মগ্রহণ করেন । সেই তিন প্রকার পুদ্গল কিরূপ ? ওহ ভিক্ষুগণ! তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণ সম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর পুরুষ দমনকারী সারথি, দেব-মানবের শাস্তা,বুদ্ধ, ভগবান এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ধর্ম দেশনায় আদি-কল্যাণ, মধ্যে-কল্যাণ, পয্যবসানে –কল্যাণ (অন্তে-কল্যাণ), সার্থক (অর্থযুক্ত) করেন । সব্যঞ্জন, কেবল পরিপূর্ণ ও পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচয্য প্রকাশ (দেশনা) করেন । হে ভিক্ষুগণ! ইনি হলেন প্রথম পুদ্গল যিনি পৃথিবীতে বহুজনের হিতের জন্য, বহুলোকের প্রতি অনুকম্পা হেতু এবং দেব-মনুষ্যের অর্থ-হিত-সুখের জন্য আবির্ভূত হন।
’দেব-মানবের তিনি শাস্তা আর মহামুনি,
ধরাতলে পরিচিত হন প্রথম মহাজ্ঞানী,
শিষ্যগন তাঁহাকে সদা অনুসরণ করে,
সমাধিতে থাকেন নিত্য পূর্ণজ্ঞানের তরে ।
শিক্ষানবিস হয়ে তিনি শিক্ষা কাজে রত,
বহুশ্রুত শীলবান অনুসরে আয্যপথ,
দেবতা ও মনুষ্যের মধ্যে এই তিনজন,
প্রচারে করেন সদ্ধর্ম যাহা শ্রেষ্টকল্যাণ ।
উদ্ঘাটন করেন তাঁহারা অমৃতের দ্বার,
অন্ধজনকে জ্ঞান দিয়া করেন উদ্ধার,
ঐ পথ দৃঢ়ভাবে যারা করে অনুসরণ,
তারাই করিতে পারেন বন্ধন-প্রমোচন ।
শাস্তার প্রদর্শিত অনুত্তর মার্গ নিচয়ে,
আত্মনিয়োগ করেন উদ্যমশীল হয়ে,
অপ্রমত্ত হয়ে অনুক্ষণ সুগত-শাসনে,
দুঃখের অন্তসাধন করেন ইহ-জীবনে ।
এর অর্থ ভগবান দ্বারা হয়েছে ভাষিত,
মৎকর্তৃক ইহা সেইরূপ হয়েছে শ্রুত ।
৭. ধর্মানুধর্ম প্রতিপন্ন সূত্র
৮৬. আমি এরূপ শুনেছি, ভগবান অর্হৎ কর্তৃক ইহা এরূপ
ভাষিত হয়েছে, ‘হে ভিক্ষুগণ! ধর্মানুধর্ম ভিক্ষুর ইহাই অনুধর্ম । তার ব্যাখ্যা এরূপ- ইহা ধর্মানধর্ম প্রতিপন্ন । তিনি ধর্মানুযায়ী ভাষণই দান করেন, অধর্মানুযায়ী ভাষণ প্রদান করেন না এবং তিনি তাহাই বিতর্ক করেন যা ধর্মবিতর্কানুযায়ী বিতর্কযোগ্য, তিনি অধর্ম বিতর্ক করেন না । তদুভয়ে (তৎ-উভয়ে) অভিনিবেশ সহকারে উপেক্ষা ও স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানে তিনি অবস্থান করেন ।’ ভগবান এর মর্মার্থ বুঝাতে, তদ্বিষয়ে ইহা ভাষণ করলেন-
”ধর্মে যার অবস্থান, যিনি ধর্মে-রত,
পুনঃপুন ধর্ম-চিন্তা করেন সতত,
করেন নিয়ত যিনি ধর্মানুস্মরণ,
সে ভিক্ষু সদ্ধর্ম হতে স্খলিত না হন ।
যিনি চলমান কিংবা থাকে দশুায়মান,
উপবেশনে বা শয়নে করেন অবস্থান,
সর্বকালে আধ্যাত্মিক চিত্ত সদা রয়,
শান্তি পথে গমন তার হয় নিশ্চয়,
ইহার অর্থ ভগবান দ্বারা ভাষিত,
মৎকর্তৃক সেইরূপ হয়েছে শ্রুত ।
৫. পঞ্চম বর্গ
১. অগ্রপ্রসাদ সূত্র
৯০. আমি এরূপ শুনেছি, ভগবান অর্হৎ কর্তৃক ইহা এরূপ ভাষিত হয়েছে, ”হে ভিক্ষুগণ! অগ্রপ্রসাদ তিন প্রকার । সেই তিন প্রকার কি ? হে ভিক্ষুগণ! অপদ বা দ্বিপদ, চতুস্পদ বা বহুপদ, রূপী বা অরূপী, সংজ্ঞী বা অসংজ্ঞী কিংবা নৈবসংজ্ঞীনাসংজ্ঞী যত প্রকার সত্ত্ব আছে, তাঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অগ্র (শ্রেষ্ঠ) হচ্ছেন তথাগত অর্হৎ সম্যক সম্বুদ্ধ । হে ভিক্ষুগণ! যাঁরা বুদ্ধের প্রতি প্রসন্ন, তাঁরা অগ্রে প্রসন্ন । অগ্রের প্রতি প্রসন্নদের বিপাক্র অগ্র হয়ে থাকে ।”
”হে ভিক্ষুগণ! সঙ্খত বা অসঙ্খত যতপ্রকার ধর্ম আছে, তন্মধ্যে বিরাগই অগ্র বলে কথিত হয় । অর্থাৎ মদহীন, কামাদি নিরোধ ও নির্বাণ । হে ভিক্ষুগণ! যাঁরা বিরাগ ধর্মে প্রসন্ন, তাঁরা অগ্রে প্রসন্ন, যে অগ্রে প্রসন্ন তার অগ্রবিপাক হয়।”
”হে ভিক্ষগণ! জগতে যতপ্রকার সঙ্ঘ বা গণ (সম্প্রদায়) আছে, তাদের মধ্যে তথাগতের শ্রবক-সঙ্ঘিই শ্রেষ্ঠ । যেমন চারি পুরুষ যুগ্ম (স্রোতাপন্ন, সকৃদাগামী, অনাগামী, অর্হত্ত্ব মার্গস্থ ও ফলস্থ) হিসাবে অষ্ট পুরুষপুদ্গল ভগবানের শ্রাবক-সঙ্ঘ । এই সঙ্ঘই আহবাণীয়, পাহুনেয়, দাক্ষিণেয়, অঞ্জলিকরণীয় এবং জগতে অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র ।
হে ভিক্ষুগণ! যাঁরা এই উত্তম সঙ্ঘে প্রসন্ন তাঁরাই অগ্রে প্রসন্ন । যে অগ্রে প্রসন্ন তাঁর অগ্র-বিপাক হয় । হে ভিক্ষুগণ! এই তিনটি হলো অগ্রপ্রসাদ ।” ভগবান এর মর্মাথ বুঝাতে,
তদ্বিষয়ে ইহা ভাষণ করলেন-
”প্রকৃতপক্ষে অগ্রে প্রসন্নতা আছে যার,
জানেন যেই অগ্র ধর্ম এ ভব মাঝার,
বুদ্ধের প্রতি প্রসন্নতা শেষ্ঠ বলি জান,
দুক্ষিণার যোগ্য সঙ্ঘে কর মহাদান ।
ধর্মের প্রতি প্রসন্নতা শ্রেষ্ঠ বলি জান,
বিরাগী শান্তি-সুখ আর অগ্র-কল্যাণ,
সঙ্ঘের প্রতি প্রসন্নতা শ্রেষ্ঠ বলি জান,
অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র সঙ্ঘ-ই সুমহান ।
অগ্রেতে করিলে দান এই ধরাতলে,
অগ্রপুণ্য লভে নিশ্চয় ইহার ফলে,
শ্রেষ্ঠত্ব লভিতে ইহা একমাত্র উপায়,
আয়ু-বর্ণ-সুখ-বল, যশ-কীর্তি পায় ।
পন্তিতগণ দান দেয় আগ্রহে তথা,
অগ্রধর্মে সমাহিত হয় নহে অন্যথা,
জন্ম যদি হয় সে দেব-মনুষ্য হবে,
মোদিত হবে তথায় নিজ অগ্র লাভে ।”
ইহার অর্থ ভগবান দ্বারা ভাষিত,
মৎকর্তৃক সেইরূপ হয়েছে শ্রুত ।
৩, সঙ্ঘাটিকোণ সূত্র
”হে ভিক্ষুগণ! কিন্তু, যদি কোন ভিক্ষু আমার কাছ থেকে শতযোজন দুরে অবস্থান করেও সে যদি অবিদ্যালু না হয়, কামানুরাগী না হয়, তীব্র রাগাসক্ত না হয় , অব্যাপাদচিত্ত হয়, তার মানসিক সম্কল্প প্রদুষ্ট না হয়, স্মৃতিস্থাপন করে, সম্প্রজ্ঞানী হয়, সমাতিহ হয়, একাগ্রচিত্ত ও সংযতেন্দ্রিয় হয়, তবে সে আমার সন্নিকটেই অবস্থান করে, আমিও তার কাছে থাকি । তার কারণ কি ? হে ভিক্ষুগন! কারন সে ভিক্ষু ধর্মকে দর্শন করে, ধর্মকে দর্শন হেতু সে আমাকেও দর্শন করে ।”
কিন্তু যিনি ধর্মে অভিজ্ঞ প্রত্যক্ষদর্শী,
দর্মজ্ঞানে পন্ডিত তিনি হয়ে পারদর্শী,
নিরাসক্ত হয়ে এসে থাকে উপশান্ত,
সুগম্ভীর হ্রদ যেমন থাকে প্রশান্ত ।
অলোভীর সাথে অলোভী যেমন বন্ধ,
নিবৃত্তের সাথে নিবৃত্ত যেমন সম্বন্ধ,
বিরাগীর সঙ্গে বিরাগী ভিন্ন নহে ইনি,
দেখ কত সন্নিকটে রয়েছেন তিনি ।
ইহার অর্থ ভগবান দ্বারা ভাষিত,
মৎকর্তৃক সেইরূপ হয়েছে শ্রুত ।
অগ্নি সূত্র
৯৩. আমি এরূপ শুনেছি, ভগবান অর্হৎ কর্তৃক ইহা এরূপ
ভাষিত হয়েছে, হে ভিক্ষুগণ! অগ্নি ত্রিবিধ । সেই ত্রিবিধ অগ্নি কি ? রাগাগ্নি, দ্বেষাগ্নি ও মোহাগ্নি ।হে ভিক্ষুগন! এই হল ত্রিবিধ অগ্নি ।” ভগবান এর মর্মার্থ বুঝাতে, তদ্বিষয়ে ইহা ভাষন করলেন-
রাগাগ্নি দগ্ধ করে মৃত্যুর দিকে নেয়,
কামসুখ করে লোকে সদা মোহনীয়,
হিংসুককে দহন করে দ্বেষাগ্নি যথা,
প্রাণীহত্যা করে নিশ্চয় নহে অন্যথা ।
মোহাগ্নি দহন করে মোহিত জনের,
অজ্ঞ হয়ে থাকে সতত আয্যধর্মের,
অবগত নাহি হয় এ তিন আগুনের,
আনন্দিত হয় লোকে পঞ্চস্কন্ধের ।
মারের বন্ধন হতে মুক্তি নাহি পায়,
সারিবদ্ধ হয়ে তারা নরকেতে যায়,
তিয্যক, প্রেতাসুর জন্ম তাদের তরে,
অপায় চারিটি বলে সদা নাম ধরে ।
কিন্তু যারা তকৎপর অনুশীলন করিতে,
সম্যকসম্বুদ্ধের শিক্ষা দিবা-রাত্রিতে,
চিরকাল ভাব সদা এ দেহ অশুচি,
নির্বাপিত কামাগ্নি দেহে নাহি রুচি ।
মৈত্রী চিন্তায় রত থাকে সে গুণবান,
দ্বেষের আগুন নির্বাপিত তার প্রমাণ,
মোহাগ্নিও নিরোধ হয় তাঁর এবার,
প্রজ্ঞা দ্বারা ভেদ করে মোহ অন্ধকার ।
নির্বাপিত করি এই ত্রিবিধ দহন,
শোকহীন হয়ে জ্ঞানী আনন্দে মগন,
সকল দুঃখকে ক্ষয় করি অতঃপর,
দিবারাত্রি নির্বণসুখ লভে নিরন্তর ।
আয্যমার্গ দর্শনজ্ঞ হয় যেইজন,
সম্যকজ্ঞানে গুণবান পন্ডিত-সুজন,
আর জন্মক্ষয়ে অভিজ্ঞ সম্পন্ন যেজন,
পুনর্ভবে তাঁর নাহি হয় আগমন,
ইহার অর্থ ভগবান দ্বারা ভাষিত,
মৎকর্তৃক সেইরূপ হয়েছে শ্রুত ।
১০.ত্রিবিদ্যা সূত্র
অতএব হে ভিক্ষুগন! যিনি ধর্মের দ্বারা ত্রিবিদ্যা জ্ঞানের অধিকারী হন, তকেই আমি ব্রাহ্মণ বলি, সে কেবল অর্থহীন কথাবার্তা বলে প্রমত্ততায় থাকে তাকে নয় ।” ভগবান এর মর্মার্থ বুঝাতে, তদ্বিষয়ে ইহা ভাষণ করলেন-
”পূর্ব পূর্ব জন্ম কথা জানে যেইজন,
স্বর্গ ও অপায় পারে করিতে দর্শন,
ততোধিত পূর্বজন্ম-ক্ষয় সম্পাদিয়া,
মুনি হয়, অভিজ্ঞায় পূর্ণতা লভিয়া ।
এ ত্রিবিধ বিদ্যার অধিকারী যেজন,
তাঁহাকেই বলি আমি প্রকৃত ব্রাহ্মণ,
যারা করে অর্থহীন বাজে আলাপন,
তাদের আমি নাহি বলি প্রকৃত ব্রাহ্মণ ।
ইহার অর্থ ভগবান দ্বারা ভাষিত,
মৎকর্তৃক সেইরূপ হয়েছে শ্রুত ।
”হে ভিক্ষুগণ! যে সময় তথগত অনুত্তর সম্যক সম্বোধি লাভ করেন এবং যে সময়ে তিনি অনুপপাতিশেষ নির্বাণধাতু পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হন, এরই মধ্যবর্তী সময়ে যা কিছু ভাষণ করেছেন, উচ্চারণ করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন তা সব বিষয়ে তদানুরূপই হয়েছে, অন্যথা হয়নি, এজন্য তাঁকে ’তথাগত’ বলা হয় । ”হে ভিক্ষুগণ! তথাগত যা বলেন তাই করেন এবং তিনি যা করেন তাই বলেন, এইরূপে তথাগত যা বলেন তাই করেন এবং তিনি যা করেন তাই বলেন, এজন্য তাঁকে ’তথাগত’ বলা হয়। হযরত বুদ্ধদেব আলাহিছ সালাম তাঁর অনুসারীদের উপদেশ প্রদান করেছেন, যখন তথাগত, আয্য মৈত্রিয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আগমন করবেন, তখন তোমরা তাঁকে অনুসরন করবে। তাঁর কিছু নিদর্শন হল এরূপ, তিনি যা বলেন, তা করেন এবং ইহার কোন ব্যতিক্রম হয় না। তিনি যে ভবিষ্যৎ বাণী করেন, তা সত্য হয়। হযরত বু্দ্ধদেব আলাহিছ সালাম এরূপ অনেক প্রমান দিয়েছেন তাঁর পক্ষে। তাই আসুন, আমরা সবাই নির্বাণ লাভের একমাত্র পথ, নরক থেকে মুক্তি ও স্বর্গে যাওয়ার একমাত্র পথ, সর্বশেষ সম্যকসম্বুদ্ধ, আয্য মৈত্রিয়, নরাসংশ, কল্কি অবতার, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে নরকের আগুন হতে রক্ষা করি। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
খ্রীষ্টান ধর্ম
খ্রীষ্টান ধর্ম সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে বর্নীত হয়েছে- ইহা তোমার প্রতিপালকের রহমতের বর্ননা তাঁর বান্দা হযরত যাকারিয়া আলাইহিছ সালাম এর প্রতি। যখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলেন গোপনে। তিনি বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক, আমি দুর্বল, বয়সের কারনে আমার চুল সাদা হয়েছে, হে আমার প্রতিপালক, আপনার নিকট প্রার্থনা করে আমি কখনো বিফল হইনি। আমার উত্তরাধিকারী নেই, তাই আমার ভয় হয়, আমার স্ত্রী বন্ধ্যা, তাই আপনি আমার জন্য দান করুন উত্তরাধিকারী। সে হবে আমার ও হযরত ইয়াকুব আলাইহিছ সালাম এর বংশের এবং তাঁকে করুন আপনার প্রতি অনুগত। হে হযরত যাকারিয়া আলাইহিছ সালাম, আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ প্রদান করছি। তাঁর নাম হবে হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিছ সালাম, তাঁর পূর্বে এই নাম আমি কারো জন্য রাখিনি। তিনি বল্লেন, হে আমার প্রতিপালক, কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত হয়েছি। ইহা তোমার প্রতিপালকের জন্য সহজ, ইহা এভাবেই হবে যেরূপ আমি তোমাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম যখন তুমি কিছুই ছিলেনা। হযরত যাকারিয়া আলাইহিছ সালাম বললেন, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে একটি এবাদতের নিয়ম বলে দিন, আল্লাহ বললেন, তুমি কোন ব্যক্তির সাথে তিন দিন কথা বলবেনা। অতঃপর তিনি তাঁর এবাদত খানা হতে বের হয়ে আসলেন তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট এবং ইশারা করে তাদেরকে আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রসংশা করতে বললেন। আমি বললাম, হে ইয়াহিয়া আলাইহিছ সালাম, এই কিতাব গুরুত্বসহকারে গ্রহন কর, আমি তাঁকে বাল্যকালে হেকমত প্রদান করেছিলাম। সে ছিল কোমল হৃদয়ের এবং আল্লাহভীরু। সে পিতা-মাতার প্রতি ছিল অনুগত এবং স্বেচ্ছাচারী ও অবাধ্য ছিল না। তাঁর প্রতি ছিল শান্তি যেদিন সে জন্মগ্রহন করে এবং তাঁর প্রতি থাকবে শান্তি যেদিন সে মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় হাসরের মাঠে উপস্থিত হবেন। হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি স্মরণ করুন মরিয়মের কথা, যখন তিনি তাঁর ঘর হতে বের হয়ে পূর্ব দিকে একটি নিরব স্থানে আশ্রয় গ্রহন করলেন। অতঃপর তিনি অন্য লোকজন হতে নিজেকে আড়াল করার জন্য পর্দা করলেন, অতঃপর আমি হযরত জিবরাঈল আলাইহিছ সালামকে তাঁর নিকট পাঠালাম, তিনি তাঁর নিকট নিজেকে মানব আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলো। মরিয়ম বললেন, তুমি যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে আমি তোমার নিকট হতে আল্লাহ আশ্রয় চাই। তিনি বললেন, আমাকে আল্লাহ প্রেরন করেছেন তোমাকে একটি পুত্র সন্তান দানের সুসংবাদ দেয়ার জন্য। মরিয়ম বললেন, কেমন করে আমার পুত্র হবে, আমি বিবাহিত নই এবং আমি কোন খারাপ মহিলা নই। তিনি বললেন, তোমার আল্লাহ বলেছেন, ইহা আমার জন্য অতি সহজ একটি কাজ, তাঁকে আমি এই জন্য সৃষ্টি করবো যেন তিনি মানবজাতির জন্য একটি নিদর্শন ও আমার নিকট হতে অনুগ্রহের কারন হয়। আর ইহা সিদ্ধান্ত করা একটি বিষয়। অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন ও দূরবর্তী একটি স্থানে চলে গেলেন। প্রসব বেদনা তাঁকে খেজুর গাছের নিচে আসতে বাধ্য করলো, তিনি বললেন, হায়, ইহার পূর্বে যদি আমার মরন হত আর লোকেরা আমাকে ভূলে যেত। ফেরেশতা তাঁর নিকট হতে তাকে আহ্বান করে বললো, তুমি চিন্তা করিওনা, তোমার আল্লাহ তোমার নিকটে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন। তুমি তোমার নিকটে খেজুর গাছটিতে নাড়া দাও, খেজুর গাছ হতে তোমার নিকট খেজুর পড়বে। সুতরাং আহার কর, পানি পান কর এবং নিরবতা পালন কর, কোন ব্যক্তি যদি তোমার সাথে কথা বলতে চায়, তবে তুমি বলবে, আল্লাহর জন্য আমি কথা না বলার এবাদত পালন করছি, তাই আমি কারো সাথে কোন বিষয়ে কোন কথা বলবো না। অতঃপর তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলেন, তারা বললো, হে মরিয়ম, তুমি তো এক অদ্ভুত কাজ করেছো, হে হারুনের বোন, তোমার পিত-মাতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না। অতঃপর মরিয়ম শিশুর দিকে ইশারা করলেন, তারা বললো, কোলের শিশুর সাথে আমরা কথা বলবো কিভাবে। শিশুটি বললো, আমি আল্লাহর দাস, আল্লাহ আমাকে গ্রন্থ দিয়েছেন এবং অবতার, নবী ও রাসূল হিসাবে তোমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। আমি যেখানে থাকিনা কেন আল্লাহ আমাকে বরবতময় করেছেন, আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন যত দিন জীবিত থাকি নামাজ ও যাকাত আদায় করতে। আর আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকার জন্য, আল্লাহ আমাকে অহংকারী ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি যে দিন আমি জন্মলাভ করেছি, যে দিন আমার মৃত্যু হবে এবং যে দিন আমি জীবিত অবস্থায় হাসরের মাঠে উপস্থিত হব। হে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি হলেন মরিয়মের পুত্র হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম, ইহা সত্য ঘটনা যা আপনি নিজেও জানেন এবং যে বিষয়ে খ্রীষ্ঠানরা বিতর্ক করে তাও আপনি জানেন। খ্রীষ্ঠানরা বলে, যীশু আল্লাহর পুত্র, কিন্তু সন্তান গ্রহন করা আল্লাহর কাজ নয়, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ যখন কিছু করতে চান, তখন বলেন, হও, আর তা হয়ে যায়। হে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি বলে দিন, আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদের পালনকর্তা, সুতরাং আল্লাহর উপাসনা কর, ইহা আমাদের ইসলাম ধর্মের সঠিক পথ। অতঃপর ইহুদি ও খ্রীষ্ঠান দলগুলো নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করল। হে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা আপনার প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করে কাফির হল, তাই আপনি তাদেরকে পরকালে ভীষণ শাস্তির সংবাদ প্রদান করুন। যে দিন তারা আমার নিকট আসবে সেদিন তারা বুঝতে পারবে কিন্তু সীমালঙ্ঘনকারীরা বর্তমানে পথভ্রষ্ট অবস্থায় আছে। হে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি তাদের সতর্ক করুন হাসরের মাঠের মহাবিপদ সম্পর্কে যখন সকল বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে, তারা অলসতার মধ্যে আছে, তাই তারা আপনার প্রতি ঈমান আনয়ন করছেনা। মহাবিশ্বের সর্বশেষ মালিকানা আমার এবং আমার নিকট সকলে ফিরে আসবে। হে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এই গ্রন্থে বর্ণনা করুন হযরত ইবরাহীম আলাইহিছ সালামের কথা, তিনি ছিলেন মহা সত্যবাদী অবতার ও নবী। তিনি যখন তাঁর পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা, যে দেব-দেবতা মূর্তিগুলো আমাদের কোন কথা শুনেনা, দেখেনা এবং তোমার কোন উপকারে আসেনা, তুমি কেন তার উপাসনা কর। হে আমার পিতা, আমি আল্লাহর পক্ষ হতে জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছি যা তোমার নিকটে আসে নাই। সতরাং তুমি আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবো। হে আমার পিতা, শয়তানের উপাসনা করিওনা, সে দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য। হে আমার পিতা, আমার মনে হয়, তোমাকে আল্লাহর শাস্তি স্পর্শ করবে এবং তুমি শয়তানের সাথে জাহান্নামে যাবে। পিতা বললো, হে হযরত ইবরাহীম আলাইহিছ সালাম, তুমি কি আমার দেব-দেবী মূর্তির উপাসনা হতে বিরত থাকবে, যদি তুমি তা কর, তবে আমি তোমাকে পাথর দিয়ে আঘাত করবো, তুমি চিরদিনের জন্য আমার নিকট হতে দূর হয়ে যাও। হযরত ইবরাহীম আলাইহিছ সালাম বললেন, তোমার প্রতি সালাম, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো, নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অতিশয় দয়াময়। (আল-কোরআন-সূরা-মরিয়ম) হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে নামাজ ও যাকাত কায়েম করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। তিনি কোলে থাকা অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলেছেন, যা আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর জন্য একটি মোযেজা। আল্লাহ তাঁকে আরো অনেক মোজেযা প্রদান করেছিলেন। তিনি অন্ধ ও কুষ্ঠ ব্যক্তির চক্ষু ভাল করে দিতে পারতেন। তিনি মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন। তাঁকে আল্লাহর পক্ষ হতে ইনযিল গ্রন্থ প্রদান করা হয়েছিল। তাঁর মাতার নাম হযরত মরিয়ম আলাইহিছ সালাম। তিনি আল্লাহর আদেশে পিতা ব্যতীত জন্মগ্রহন করেছিলেন। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন শরীফে বর্নীত হয়েছে, “সতর্ক করার জন্য তাদেরকে যারা বলে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদের এ বিষয়ে কোন জ্ঞান ছিল না, তাদের মুখের কথা অদ্ভুত, তাঁরা মিথ্যা কথাই বলে। (আল-কোরআন-সূরা-কাহাফ)। আমরা বাইবেলে দেখতে পাই তাঁর পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেই বাইবেল ইটালিতে সংশোধন করা হয়েছে। তেমনি বাইবেলের যেখানে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল সেখানে খ্রীষ্টাণ পন্ডিতগন তা মুছে দিয়েছিল অহংঙ্কার করে এবং ত্রিত্ববাদ প্রতিষ্টা করেছে তাদের অনুসারীদের জন্য যা হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম এর শিক্ষার সম্পূর্ন বিপরীত। তারা তাঁর নাম পরিবর্তন করে যিশু রেখেছে। ইহুদী ও খ্রীষ্টাণগন অহংঙ্কার করে ধর্মের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ইহুদীরা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল যদিও ইহুদী ও খ্রীষ্টানগর বিশ্বাস করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল কিন্তু তারা তাঁকে হ্ত্যা করতে পারেনি। যখন ইহুদীরা তাঁকে হত্যা করার জন্য তাঁর পিছনে পিছনে চলছিল তখন তাঁর পিছনের ব্যক্তির চেহারা তাঁর মত করে দেয়া হয়েছিল এবং তাঁকে চতুর্থ আকাশে নেয়া হয়েছে আল্লাহর আদেশে। ভবিষ্যতে তিনি আবার সউদি আরবের মক্কা শরীফে আগমন করবেন। খ্রিষ্টাণরা বিশ্বাস করে তিনি ক্রূশবিদ্ধ হয়ে তাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে। তারা যত পাপ কাজ করুক না কেন, ইহাতে তাদের কোন শাস্তি হবেনা। ইহা তাদের একটি ভ্রান্ত ধারনা। ইহুদী ও খ্রীষ্টাণগন, হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম ও হযরত ঈশা আলাইহিছ সালাম এর বিরুদ্ধে অবস্থান করে কখনও স্বর্গে যেতে পারবেনা। কেননা স্বর্গের মালিক হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই শুধুমাত্র তাঁরা স্বর্গে যেতে পারবে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে।
“আমি এই পৃথিবীতে আগমন করেছি শুধুমাত্র ইসরাঈলবাসীদের সঠিক পথ প্রদর্শন করার জন্য।”
(গসপেল অফ মেথিও-অধ্যায়-১৫ অনুচ্ছেদ-১৭)
বাইবেল ওল্ড টেষ্টামেন্ট ও বাইবেল নিউ টেষ্টামেন্টে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বানী করা হয়েছে - “তোমার ঈশ্বর সদা প্রভু তোমার মধ্য হতে তোমার ভ্রাতৃগণের মধ্য হতে তোমার জন্য আমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিবেন, তাঁর কথায় তোমরা কর্ণপাত করবে”। - “হযরত দাউদ আলাইহিছ সালাম বলেছেন, ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসিতেছেন”। – “ আর আমি পিতার নিকট নিবেদন করিব এবং তিনি আর এক সহায় তোমাদিগকে দিবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন, তিনি সত্যের আত্মা”। “ আমি তোমাদিগকে সত্যই বলিতেছি, আমার যাওয়া তোমাদের পক্ষে ভাল, কারন, আমি না গেলে সে সহায় তোমাদের নিকট আসবেন না”। – “তোমাদিগকে বলবার আমার আরও অনেক কথা ছিল, কিন্তু তোমরা এখন সে সকল সহ্য করিতে পারিবে না, তিনি সত্যের আত্মা যখন আসিবেন, তখন তিনি পথ দেখিয়ে তোমাদের সত্য পথে নিয়ে যাবেন”। – “আমি তোমাদের বলছি, এখন আমাকে আর দেখতে পাবে না, যখন পয্যন্ত না বলবে, ধন্য তিনি, যে প্রভুর নামে আসিতেছে”। – “যোহন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, পরে আমি দেখলাম, স্বর্গ খুলে গেল, আর দেখলাম, শ্বেত বর্ণ একটি অশ্ব, যে তাঁর উপর বসে আছে, তিনি বিশ্বাসী ও সত্যময় নামে খ্যাত, তিনি ধর্মীয় বিচার ও যুদ্ধ করেন, তাঁর একটি লিখিত নাম আছে, যা তিনি ব্যতীত অন্য কেহ জানে না”। – “যদি তোমরা আমি যিশুকে ভালবাস, তা হলে আমার আর্দেশ মান্য কর, আমি প্রভুর নিকট প্রার্থনা করব, তিনি তোমাদের জন্য একজন ত্রানকর্তা পাঠাবেন, তিনি তোমাদের সাথে চিরদিন থাকিবেন”। – “ তিনি আহমদ, যে পবিত্র আত্মা, প্রভু তাঁকে প্রেরন করবেন, তিনি তোমাদের সকল বিষয়ে শিক্ষা দিবেন এবং আমি তোমাদের যা বলেছি তিনি তা তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে”। – “আমি তোমাদের সাথে বেশী কিছু বলতে চাই না, কেননা পৃথিবীর ত্রানকর্তা আসিতেছে”। – “তিনি যখন আসবেন, যাকে ঈশ্বর প্রেরন করবেন, তিনি আমার সত্যতার সাক্ষী দিবে”। – “আমি তোমাদের সত্য বলছি যে, আমার চলে যাওয়া তোমাদের জন্য ভাল, আমি চলে না গেলে সেই ত্রাণকর্তা আসিবে না”। – “যখন তিনি আসিবেন, তিনি তোমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন, কারন তিনি নিজ হতে কিছু বলিবেন না এবং তোমাদেরকে ভবিষ্যতের কথা বলিবেন”। – “প্রকৃতপক্ষে আমি জল দ্বারা তোমাদের অন্তঃকরন ধৌত করছি, কিন্তু তিনি আমার পর যিনি আবির্ভূত হবেন, তিনি আমার হতে অনেক বেশী শক্তিশালী, তাঁর জুতা বহন করার যোগ্যতা আমার নেই, তিনি তোমাদের অন্তকরণ পবিত্র আত্মা ও অগ্নি দিয়ে ধৌত করবেন”। – “একজন তাঁর সূত্র তাঁর হাতে থাকবে, তিনি নিজের কাজের ক্ষেত্র সুন্দরবাবে পবিস্কার করবেন এবং কাজের ফলাফল একসাথে করবেন তিনি আলোকবর্তিকা প্রজ্জ্বলিত করবেন, তা কখনও নিভিবেনা”। – “ভবিষ্যতে সেই মহা পুরুষ যে অইসরাঈল জাতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করবে, সে সম্পর্কে যীশুখৃষ্ট বলেছেন, যখন আঙ্গুর বাগানের অধিপতি আগমন করবেন, তখন তিনি কৃষকদের সহিত কি করেবেন, তিনি সব দুর্বল ব্যক্তিগনকে নির্মমভাবে ধ্বংস করে নীজের আঙ্গুর বাগান অন্য কৃষকদেরকে দিবে, যারা তাঁকে যথা সময়ে ফল দিতে থাকবে”। “আমি তোমাদের বলছি যে, প্রভুর রাজত্ব তোমাদের নিকট হতে কেঁড়ে নেয়া হবে এবং ইহা এমন জাতিকে প্রদান করা হবে যাঁরা ইহার ফল আনয়ন করবে”। হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম বলেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ভাই। তিনি আগমন করে এমন এক গ্রন্থ নিয়ে আসবেন যা ছন্দময়, আর তা হল পবিত্র কোরআন শরীফ। তোমরা তাঁকে অনুসরন করবে। হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম খ্রিষ্টানদের উপদেশ প্রদান করেছেন যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবেন তখন তোমরা তাঁকে অনুসরন করবে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে। সত্যের আত্মা নূর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে তোমাদের সাথে চিরকাল থাকবেন। “চিরকাল” হল- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমনের পর আর কোন নবী-রাসূল পৃথিবীতে আগমন করবেনা। তিনি যে সর্বশেষ ইসলাম ধর্ম স্থাপন করবেন, যে ধর্মীয় আইন-কানুন সমাজে প্রতিষ্টা করবেন, তা কখনও আর পরিবর্তন করা হবেনা। তাই যারা যিশুকে ভালবাসেন এবং বিশ্বাস করেন, তাদের কর্তব্য –ত্রিত্ববাদ- ত্যাগ করা কেননা যিশু ত্রিত্ববাদ শিক্ষা প্রদান করেননি। ত্রিত্ববাদ মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। সত্য হল- যিশু জন্মগ্রহন করেছিল।যে জন্মগ্রহন করে, সে কখনো উপসনার যোগ্য হতে পারেনা। তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে ধর্মগ্রন্থ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি ওযু করতেন। তিনি নামাজ পড়তেন। তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন।তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন। তিনি তাঁর অনুসারীদেরে আদেশ করেছেন, যখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করবে, তখন তোমরা তাঁকে অনুসরন করবে। তাই যে ব্যক্তি সত্য খুঁজে, সত্য গ্রহন করতে চায়, তাঁর জন্য একটি প্রমানই যথেষ্ট, সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহন করার জন্য। আর যে ব্যক্তি নিজের নফসের গোলামী করে, মন যা চায়, তাই করে, তার জন্য হাজার প্রমানও যথেষ্ট হবেনা।তারা অনন্তকাল নরকের আগুনের মধ্যে থাকবে।ইহা তাদের কাজের বিনিময়। তারা কোরআন-হাদীসের বাণী ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলাম ধর্মকে নিয়ে হাঁসি-তামাসা করত পৃথিবীর জীবনে। তাই তাদের ভাল কাজগুলো আল্লাহ গ্রহন করবেননা। তাদের জন্য অনন্তকাল জাহান্নাম। তাই যারা নরকের আগুন হতে নিজেকে রক্ষা করে চির-সুখের স্থান স্বর্গে যেতে চায়, তাদের কর্তব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। কেননা যিশু একজন মুসলিম ছিলেন। তাই স্বর্গে যাওয়ার একমাত্র পথ হল ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। ইহা ব্যতীত বিকল্প কোন পথ নেই। তাই নরকের আগুন হতে বাঁচার জন্য এবং এই মহাবিশ্ব অতিক্রম করে স্বর্গে যাওয়ার জন্য এবং আপনার এন্টি-পারটিকল-ওয়ানকে একটিভ করার জন্য ভয়েজ কমান্ড প্রদান করুন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল। হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম আল্লাহর নবী ও রাসূল। হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম আল্লাহর নবী ও রাসূল। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
ইহুদী ধর্ম
হিব্রু ভাষায় য়েহুদীম একটি প্রাচীন অব্রাহামীয় একেশ্বরবাদী ধর্ম। ধারণাগত মিল থেকে ধর্মতাত্ত্বিকগণ মনে করেন যে, ইহুদিধর্মের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ও দ্রুজ, বাহা'ইধর্ম প্রভৃতি অব্রাহামীয় ধর্ম। এই ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ হিসেবে পুরাতন নিয়ম-এর প্রথম পাঁচটি বইকে গণ্য করা হয়: আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনাপুস্তক, এবং দ্বিতীয় বিবরণ। এই পাঁচটি বইকে একত্রে "তোরাহ"ও বলা হয়ে থাকে। 'তোরাহ' শব্দটির অর্থ ' আইন '। ইহুদি বিশ্বাসমতে, ঈশ্বর এক, আর তাঁকে যিহোভাহ নামে আখ্যায়িত করা হয়। মোশি হলেন ঈশ্বরের একজন বাণীবাহক। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মতোই ইহুদিগণ পূর্বতন সকল বাণীবাহককে বিশ্বাস করেন, এবং মনে করেন মালাশী সর্বশেষ বাণীবাহক। ইহুদিগণ যিশুকে ঈশ্বরের বাণীবাহক হিসেবে অস্বীকার করলেও, খ্রিস্টানগণ ইহুদিদের সবগুলো ধর্মগ্রন্থ (পুরাতন নিয়ম)-কে নিজেদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মান্য করে থাকেন। ইহুদিধর্মকে সেমেটিক ধর্ম হিসাবেও অভিহিত করা হয়। 'ইহুদি' শব্দটি এসেছে 'ইয়াহুদা' থেকে যিনি ছিলেন নবী মোশির পূর্বপুরুষ ও ইয়াকুব এর পুত্র ও নবী ইউসুফ এর বড় ভাই ৷ তবে ইহুদি শব্দের শাব্দিক অর্থ হয় ‘প্রশংসাকারী’, এখানে ঈশ্বরের প্রশংসাকারী। যদিও এ ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম কিন্তু ইহুদিরা বলেন এ ধর্মের প্রবর্তক আব্রাহাম ৷ ইহুদি ধর্মের বয়স প্রায় ৪০০০ বছর । ইহুদীদের ধর্মযাজককে ‘রাব্বি'(গুরু) বলা হয়। প্রায় ২০০০ বছরের ইতিহাসে ইহুদি জনগণ এবং ইহুদি ধর্মের সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় দিক ছিল এর অভিযোজন এবং অবিচ্ছিন্নতা । প্রাচীন মিশর বা ব্যাবিলনিয়া সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আধুনিক পশ্চিমা খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী এবং আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সাথে মিথস্ক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়তে হয়েছে ইহুদিবাদকে । প্রতিটি গোষ্ঠী এবং মতাদর্শ থেকে বেশ কিছু জিনিস ইহুদি সমাজ-ধর্মীয় কাঠামোতে যুক্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যও কখনও ক্ষূণ্ন হয় নি। এভাবেই একদিকে অভিযোজিত হয়েছে এই ধর্মটি এবং অন্যদিকে তার মৌলিক ঐতিহ্যকে অটুট রেখেছে। এ কারণে যেকোন সময়ের ইহুদি ঐতিহ্য তার পূর্বের সকল ইহুদি ঐতিহ্যের সমন্বয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। কোন এক যুগে যত অভিনবত্ব বা বিবর্তনই আসুক না কেন ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে সবসময়ই প্রাচীনত্ব বজায় রেখেছে ইহুদিরা। ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা প্রায় সবসময়ই একেশ্বরবাদকে করে আবর্তিত হয়েছে। ইহুদিদের মধ্যে অনেক শ্রেণী-উপশ্রেণী থাকলেও এই একটি বিষয়ে কারও মধ্যে দ্বিমত নেই। সবাই এক বাক্যে কেবল এক ঈশ্বরকে মেনে নেয়। একেশ্বরবাদ প্রকৃতপক্ষে সার্বজনীন ধর্মের ধারণা দেয় যদিও এর সাথে কিছুটা স্বাতন্ত্র্য্যবাদ যুক্ত রয়েছে। প্রাচীন ইসরায়েলে এই স্বাতন্ত্র্য্যবাদ নির্বাচনের রূপ নিয়েছিল। নির্বাচন বলতে ঈশ্বর কর্তৃক মানুষের মধ্য থেকে কাউকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করাকে বোঝায়। সেই তখন থেকেই ইহুদিরা মনে করতো, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একটি পূর্বপরিকল্পিত চুক্তিপত্র (কোভেন্যান্ট) থাকতে বাধ্য; সবাইকে এই চুক্তিপত্র মেনে চলতে হবে; না চললে পরকালে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। ইহুদিদের এই চিন্তাধারার সাথে মেসিএনিজম এর সুন্দর সমন্বয় ঘটেছিল। (ওয়েভসাইড)
ইহুদী ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। ইহুদীরা হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম এর অনুসারী। হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। তিনি তার অনুসারীদের ইসলাম ধর্ম পালন করার জন্য আদেশ করেছেন। কোরআন ও হাদীসে তার বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর সাথে কথা বলেছেন। হাদীস শরীফে বর্নীত হয়েছে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহুদী ও খ্রীষ্ঠানগন আমাকে এরূপ চিনে, যেরূপ তারা চিনে তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে। কেননা তাদের কিতাবে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা রয়েছে। কিন্তু তাদের পন্ডিতগন এ বিষয়ে অহংকার করে তাদের মূল কিতাব পরিবর্তন করেছে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহুদী ও খ্রীষ্ঠানগন আমার কথা শুনে যদি আমার প্রতি ঈমান গ্রহন না করে মৃত্যুবরন করে, তবে তারা জাহান্নামে যাবে। তাই বর্তমান ইহুদী ও খ্রীষ্ঠানদের জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা কর্তব্য যদি তারা এ দাবি করে যে আমরা হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম এর অনুসারী। তিনি কখনো ইহুদী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুসলিম। পবিত্র কোরআন শরীফে হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম এর ঘটনা বর্নীত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- আর হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম এর ঘটনা আপনি জানতে পেরেছেন কি? তিনি যখন আগুন দেখলেন তখন তাঁর পরিবারকে বল্লেন, তোমরা এখানে থাক আমি আগুন নিয়ে আসি সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারবো অথবা ওখানে কোন পথ –প্রদর্শক পাব। অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন তাকে আহবান করে বলা হল- হে মূসা আলাইহিছ সালাম। আমিই তোমার প্রতিপালক, তোমার জুতা খুলে ফেল, কারন তুমি পবিত্র তুয়া উপত্যকায় অবস্থান করছ। আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব, যা ওহী প্রেরণ করা হয় তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাক। আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতিত কোন সত্য উপাস্য নেই, অতএব, আমার উপাসনা কর এবং আমার স্মরণে নামাজ প্রতিষ্টা কর। কেয়ামত অবশ্যই হবে, তা আমি গোপন রাখতে চাই, যেন প্রত্যেকে নিজ কর্ম অনুযায়ী ফলাফল লাভ করতে পারে। যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস করে
না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কেয়ামতে বিশ্বাসস্থাপন হতে বিরত না রাখতে পারে, এতে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। হে মুসা আলাইহিছ সালাম, তোমার ডান হাতে ওটা কি? তিনি বল্লেন- ইহা আমার লাঠি, আমি ইহাতে ভর দেই এবং ইহা দ্বারা আমার মেষ পালের জন্য গাছের পাতা সংগ্রহ করি, ইহা আমার আরও অনেক কাজে প্রয়োজন হয়। হে মূসা, ইহা নিক্ষেপ কর। অতঃপর সে তা নিক্ষেপ করলো, সাথে সাথে ইহা একটি সাপ হয়ে ছুটতে লাগলো। তুমি ইহাকে ধর. ভয় করিও না, আমি ইহাকে পূর্বের অবস্থায় পরিবর্তন করে দিব। তুমি তোমার হাত বগলে রাখ, ইহা বের হয়ে আসবে উজ্জ্বল হয়ে, কোন দোষ ব্যতীত, ইহা তোমার জন্য আরেকটি মোজেজা। ইহা তোমাকে এ জন্য দিয়েছি যে, আমার মহা নিদর্শনের কিছু তোমাকে দেখাব। তুমি ফেরাউনের নিকট যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে। হে আমার প্রতিপালক, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন। আমার কথার জড়তা দূর করে দিন যেন তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমাকে একজন সাহায্যকারী প্রদান করুন আমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য হতে। আমার ভাই হারুন দ্বারা আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন এবং আমার কাজের সাথী করুন। যেন আমরা বেশী পরিমানে আপনার পবিত্রতা বর্ননা করতে পারি এবং বেশী পরিমানে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। আপনি তো আমাদের সবকিছু দেখেন। হে মুসা, তুমি যা চাও, তোমাকে তা দেয়া হল। পূর্বে, আমি তোমার প্রতি আরেকবার অনুগ্রহ করেছিলাম, যখন আমি তোমার মাকে এলহামের মাধ্যমে জানিয়ে দিলাম, তাকে তুমি সিন্দুকের মধ্যে রেখে নদীতে ভাসিয়ে দাও যাতে নদী তাকে তীরে নিয়ে যায়। তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু নিয়ে যাবে, আমি তোমাতে আমার পক্ষ হতে রহমত দান করেছিলাম যাতে তুমি আমার রহমতের মধ্যে প্রতিপালিত হও। যখন তোমার বোন বল্ল, এ শিশুর দায়িত্ব কে নিবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে সে শান্তি পায় এবং চিন্তামুক্ত হয়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, তুমি ইহাতে অনেক দুঃখ পেয়েছিলে, তাই আমি তোমাকে চিন্তা হতে মুক্ত করি। আমি তোমাকে অনেক পরিক্ষা করেছি। তুমি কয়েক বছর মাদাইয়েন বাসিদের মাঝে অবস্থার করেছিলে। হে মুসা, আজ তুমি নির্ধারিত সময়ে এখানে উপস্থিত হলে। আমি তোমাকে আমার কাজের জন্য প্রস্তুত করেছি। তুমি ও তোমার ভাই আমার কাজ শুরু কর এবং আমার স্মরণে অলসতা করিওনা। তোমরা ফেরাউনের নিকট যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে। তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে, হয়তো সে তোমাদের উপদেশ গ্রহন করবে অথবা আমাকে ভয় করবে। হে আমাদের প্রতিপালাক, আমরা মনে করছি সে আমাদের শাস্তি দিবে অথবা সে আমাদের সাথে সীমালঙ্ঘন করবে। তোমরা ভয় করিওনা, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি তোমাদের কথা শুনছি এবং তোমাদেরকে দেখছি। তোমরা তার নিকট গিয়ে বল, অবশ্যই আমরা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল, তাই আমাদের সাথে বনি ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদের প্রতি অত্যাচার করিও না। আমরা আল্লাহর পক্ষ হতে নিদর্শন নিয়ে আগমন করেছি, শান্তি তাদের প্রতি যারা সৎ ও সঠিক পথের অনুসরন করে। আমাদের প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে ও তার দিক হতে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ফেরাউন বল্ল, হে মুসা, কে তোমাদের প্রতিপালক? মুসা বল্ল, আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার সঠিক আকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন। ফেরাউন বল্ল, তা হলে অতীত কালের লোকদের অবস্থা কি হবে? মুসা বল্লেন, ইহার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে, আমার প্রতিপালকের ইহা স্মরন আছে এবং তিনি তা ভুলেও যান না। তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ করেছেন এবং তাতে করে দিয়েছেন চলাচলের জন্য পথ। তিনি আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ, ফল-মূল উৎপন্ন করেন। তোমরা খাদ্য খাও ও তোমাদের পশু চরাও, ইহাতে নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য। আমি তোমাদের মাটি হতে সৃষ্টি করেছি, সেই মাটিতে আবার নিয়ে যাব, সেই মাটি হতে আবার বের করবো। আমি তাকে আমার সব নিদর্শন দেখিয়েছিলাম কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করেছে ও অমান্য করেছে। ফেরাউন বল্ল, হে মুসা, তুমি কি আমাদের নিকট এ কারনে আগমন করেছ যে, তুমি তোমার যাদুর শক্তি দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ হতে বহিস্কার করবে ? আমরাও তোমার মোকাবেলা করবো তোমার মত যাদু দ্বারা। তোমাদের এবং আমাদের মাঝে একটি সময় ও স্থান নির্ধারন কর, যার ব্যতিক্রম তোমরাও করবেনা, আমরাও করবো না। মুসা বল্লেন, নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং সেই দিন জনগনকে একসাথে করা হবে। অতঃপর ফেরাউন ব্যস্ত হল এবং তার কৌশলসমূহ একসাথে করল। মুসা তাদেরকে বল্ল, তোমাদের অবস্থা ভাল হবেনা, তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিও না, যদি তোমরা তা কর, তবে তিনি তোমাদের ধ্বংস করে দিবেন। যে আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে। তারা নিজেদের কাজ সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক এবং গোপনে পরামর্শ করলো। তারা বল্ল, মুসা ও তার ভাই অবশ্যই যাদুকর, তারা চায় তাদের যাদুর শক্তি দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বাহির করতে এবং তোমাদের উত্তম জীবন-যাপনের নিয়ম নষ্ট করতে। অতএব, তোমরা তোমাদের যাদু ক্রিয়া প্রস্তত কর, সারিবদ্ধ হয়ে উপুস্থিত হও, আর যে জয়ী হবে সে সফল। তারা বল্ল, হে মুসা, তুমি তোমার জাদু প্রদর্শন কর অথবা আমরাই শুরু করি। মুসা বল্ল, তোমরাই শুরু কর, তাদের যাদুর প্রভাবে হটাৎ মুসার মনে হল, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। মুসার অন্তর কিছুটা ভীত হল। আমি বল্লাম, ভয় করিও না, তুমি বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর, ইহা, তারা যা করেছে, তাকে গ্রাস করে ফেলবে, ইহা তো শুধুমাত্র যাদুকরের কৌশল, যাদুকর সফল হবে না। অতঃপর, যাদুকরেরা পরাজয় স্বীকার করে নিল এবং বল্ল, আমরা হারূন ও সুসার প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি ঈমার আনলাম। ফেরাউন বল্ল, কি ব্যাপার, আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা মুসার প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করলে, আমার তো মনে হয়, সে তোমাদের প্রধান, সে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে, আমি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক হতে কাটবো এবং তোমাদের খেজুর বৃক্ষের সাথে শূলবিদ্ধ করবো, আর তোমরা জানতে পারবে কার শাস্তি কঠোর এবং স্থায়ী। যাদুকরেরা বল্ল, আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন আগমন করেছে তার উপর এবং যে আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার উপর তোমাকে প্রাধান্য দেবনা, সুতরাং তুমি যা করতে চাও কর, তুমিতো শুধুমাত্র এই জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পার। আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমার এনেছি যেন তিনি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করেন এবং তুমি আমাদের যাদু করতে বাধ্য করেছ, আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও স্থায়ী। যে তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হবে, সে ভোগ করবে জাহান্নামের শাস্তি, সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না। আর যারা আল্লাহর নিকট মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য উচ্চ সন্মান রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত যার নিচে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং এই পুরস্কার তাদের যারা পবিত্রতা অর্জন করে। আমি মূসার প্রতি ওহী প্রেরন করেছিলাম যেন সে আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রে বাহির হয় এবং তাদের জন্য নদীর মধ্য দিয়ে পথ তৈরি কর, পিছন হতে তোমাদেরকে গ্রেফতার করা হবে এই ভয় করিওনা। অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্য বাহিনী নিয়ে তাদের পিছনে ধাওয়া করলো অতঃপর নদীর পানি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে নিল। ফেরাউন তার জনগনকে পথভ্রষ্ঠ করেছিল এবং সে তাদেরকে সঠিক পথ দেখায় নাই। (আল-কোরআন)। হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম একজন মুসলিম ছিলেন। ইহুদী পন্ডিতগন তাদের ধর্মগ্রন্থের বিকৃতি সাধন করেছে। তাদের ধর্মগ্রন্থের যেখানে আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সালাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তা তারা মুছে দিয়েছে। বাইবেল ওল্ড টেষ্টামেন্টে বলা হয়েছে, যখন হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম তূর পাহাড়ে যায়, তখন আল্লাহ বলেছিলেন, আমি আল্লাহ। এখানে তারা মূল শব্দ পরিবর্তন করে লিখেছে, “আমিই আমি”। তারা যে এখানে শব্দ পরিবর্তন করেছে তা এখানে স্পষ্ট বুঝা যায়। তাই বর্তমানে যারা হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম এর অনুসরন করার দাবী করেন, তাদের কর্তব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
শিখ ধর্ম
শিখ ধর্ম পৃথিবীর প্রধান ধর্মসমূহের অন্তর্ভূক্ত নয়। ইহা হিন্দু ধর্মের একটি শাখা। গুরু নানক এই ধর্মের প্রবর্তন করেন।আজ হতে প্রায় সাতশত বছর পূর্বে তিনি এ ধর্ম প্রবর্তণ করেন। তিনি ক্ষত্রিয় হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম ধর্ম ও মুসলমাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। শিখ ধর্ম দশজন গুরুর ধর্ম। প্রথম গুরু হলেন গুরু নানক এবং দশম গুরু হলেন গুরু গোবিন্দ সিং। শিখ শব্দের অর্থ হল শিখনা বা কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা।ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা এই ধর্মের মূল উদ্দেশ্য। শিখ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ হল শ্রী গুরু গ্রন্থ বা আদি গ্রন্থ সাহেব। ধর্মীয় বিষয়সমূহ হল পঞ্চ ‘ক’ যা অনুসরন করতে হয়, তা হল- কেশ বা অকর্তিত চুল। সকল গুরু কেশ রাখতেন। কংখ বা চিরনী চুলকে পরিস্কার রাখার জন্য। কড়া বা ধাতব তৈরি চুরি যা হাতে পরতে হয়। যা শরীরে শক্তি প্রদান ও আত্মাকে নিয়ন্ত্রনের জন্য। কৃপাণ বা তলোয়ার যা সাথে রাখতে হয় আত্মরক্ষা করার জন্য।কাচ্চা বা হাঁটু পয্যন্ত লম্বা পোষাক পরতে হয়। শিখ ধর্মে ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হল- “ঈশ্বর কেবলমাত্র একজন, তিনি পরম সত্য, তিনি স্রষ্টা,তিনি সকল ভয় ও ঘৃণা হতে মুক্ত, তিনি অমর, মহান ও দয়াময়”। এই ধর্ম একেশ্বরবাদী ধর্ম এবং সকল শক্তির মূল এক ঈশ্বরকে বিশ্বাস করা হয় যার কোন আকার নেই এবং যাকে বলা হয় “ ইক ওমকারা”। ইক ওমকারা ও তাঁর কিছু গুনাবলী রয়েছে। তিনি হলেন- করতার বা স্রষ্টা, সাহিব বা মহাপ্রভু, আকাল বা চিরন্তন, সত্যানামা বা পবিত্রনাম, পরওয়ারদিগার বা পালনকারী, রাহীম বা দয়ালু, কারীম বা উপকারী, অহে গুরু বা একমাত্র মহাসত্য প্রভু। এই ধর্ম কঠোরভাবে এক ঈশ্বেরে বিশ্বাস করে। এই ধর্ম হিন্দুধর্মের মত অবতারবাদ বা স্রষ্টা সৃষ্টির রূপ ধারণ করে আগমনে বিশ্বাস করে না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কখনো অবতার রূপে পৃথিবীতে আগমন করে না। এই ধর্মে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ। গুরু নানক সাধু পুরুষ মুসলিম সূফীবাদী করিরের শিক্ষার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রতি প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, ফার্সী সাহিত্য, ইরানী সূফীবাদ, এগুলির সংমিশ্রনে ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে চেয়েছিলেন। তিনি হিন্দু ধর্মের মূর্তিপুজা নিষিদ্ধ করেন যা হিন্দু সনাতন ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী সঠিক কিন্তু ইহার সাথে সাথে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসাবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে যা হিন্দু সনাতন ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন। এ বিষয়ে তিনি কোন দিক নির্দেশনা দিতে পারেননি।গুরু নানক এ বিষয়ে নিজেকে একজন শিক্ষার্থী মনে করেন যেহেতু শিখদের মূল বিষয় ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা। এ জন্য দেখা যায় একজন গুরুর পর আরেকজন গুরু ধর্ম বিষয়ে উপদেশ প্রদান করেন। এই ধর্মে আছে দশ জন গুরু। দশ জন গুরুর মধ্যে এই ধর্মকে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয় কেননা এই ধর্মের মূল উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা যেহেতু ধর্মীয় বিষয়ে তাদের জ্ঞান পরিপূর্ণ নয়। তাই তাদের কর্তব্য ইসলাম ধর্মের একজন পন্ডিত ব্যক্তিকে এগারতম গুরু নিয়োগ দেয়া। এই গুরু তাদের ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী উপদেশ প্রদান করবেন কেননা গুরু নানক সেই পথেই ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থান মাক্কা ও মদিনা ভ্রমন করেছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহন ব্যতীত মক্কা ও মদিনায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাই যারা শিখ ধর্ম ও গুরু নানকের অনুসরন করেন, তাদের কর্তব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। কেননা গুরু নানক ইসলাম ধর্মের পথেই ছিলেন। ইসলাম ধর্মের ভিত্তি হল পাঁচটি। ঈমান-নামাজ-রোজা-হজ্ব-যাকাত। ঈমান হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহি অসল্লাম সর্বশেষ কল্কি অবতার, নবী ও রাসূল। ঈমানের আরও সত্তরটির অধিক শাখা রয়েছে। ঈমানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে যেতে পারবে তার এন্টি-পারটিকল-ওয়ানের মাধ্যমে। একজন মানুষের দেহ তিনিটি। একটি এই পৃথিবীর পরিক্ষামূলক ছয় ফুট উচ্চতার ছোট দেহ। দ্বিতীয় দেহটি হল নরকের জন্য তৈরি সর্বনিম্ন পচিঁশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার বিশাল দেহ। একজন মানুষ যত বেশী অন্যায় কাজ করবে, নরকের কুৎসিত দেহটি তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তৃতীয় দেহটি হল স্বর্গের জন্য তৈরি সর্বনিম্ন পচিঁশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার বিশাল দেহ। একজন মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী যত ভাল কাজ করতে থাকবে, জান্নাতের ডিমের কুসুমের তৈরি সুন্দর দেহটি তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও অন্যান্য ভাল কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন দশ হতে বিশ মিটার বৃদ্ধি পেতে থাকবে, এভাবে বৃদ্ধি হয়ে দেহটি চারলক্ষ হতে পাচঁলক্ষ কিলোমিটার একটি বিশাল দেহে পরিনত হবে। জাহান্নামের দেহটি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরো আর জান্নাতের দেহটি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। প্রতিটি মানুষ হল তিন জন। একজন এই পৃথিবীতে বাকী দুই জন আকাশে। এই তিন জন একই ব্যক্তি। তিনটি দেহের আত্মা একটি। যে দেহে আত্মা থাকবে, সে দেহ সচল থাকবে। মৃত্যুর পর জাহান্নামের দেহ সচল হবে অথবা জান্নাতের দেহ সচল হবে। কোন দেহটি সচল হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে কোন ধর্ম পালন করেছিল। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জান্নাতের দেহকে সচল করার জন্য পৃথিবীর শরীরে আত্মা থাকা অবস্থায় একটি ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে। আর তা হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল আগমন করেছিল এ পৃথিবীতে শুধুমাত্র এ কথা বলার জন্য। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ এ কথার সাক্ষী প্রদান করে। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল হবেন, এ কথাটি পূর্ববর্তী সকল ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পৃথিবীতে ধর্ম মাত্র একটি। আর তা হল ইসলাম। ইহা হল পৃথিবীর প্রধান ধর্ম। পূর্ববর্তী সকল দেশের, সকল এলাকার ধর্মগুলো হল ইসলাম ধর্মের শাখা। খ্রীষ্ঠান ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। হিন্দু বা সনাতন ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। হিন্দু ধর্ম মূর্তিপূজার কোন স্থান নেই। মূর্তিপূজা হল অসূর বা শয়তানের ধর্ম। বৌদ্ধধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। বৌদ্ধধর্মেও মূর্তিপূজার কোন স্থান নেই। খ্রিষ্টান ধর্ম ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা।তেমনি ইহুদী ধর্মও ইসলাম ধর্মের পূর্ববর্তী একটি শাখা। আমরা যদি সাত আকাশ অতিক্রম করে জান্নাতে যেতে চাই তবে আমাদেরকে-সুলতান-হতে হবে। সুলতান হল কমান্ডার। সুলতান হল এমন একজন ব্যক্তি যে অন্যকে নির্দেশ প্রদান করে। আমরা জানি, প্রতিটি মানুষ হল তিন জন কিন্তু তাদের আত্মা হল একটি। যে শরীরে আত্মা থাকে সে হল প্রধান। বাকী দুটি দেহ হল এন্টি-পারটিকল-জিরো ও এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। জিরো অবস্থান করে প্রথম আকাশের শেষ সীমানায় আর ওয়ান অবস্থান করে এই মহাবিশ্বের বাহিরে জান্নাতের সীমানায়। এই পৃথিবীর দেহ যখন মৃত্যুবরন করে তখন তার আত্মাকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রথম আকাশে অবস্থিত আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরোতে। ইহা পচিঁশ হাজার কিলোমিটার লম্বা কালো একটি শরীর। এখানে আত্মা অনেক কষ্টের মধ্যে পতিত হয়। জিরো হতে ওয়ানের মধ্যে আছে ফাইভার অপটিকস কানেকশন। যে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করে, তার আত্মা জিরো হতে ওয়ান যেতে সক্ষম হয়। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিপক্ষে অবস্থান করে, তার আত্মা জিরো হতে ওয়ানে যেতে পারেনা, কেননা আত্মা ওয়ানে যাওয়ার ফাইভার অপটিকস কানেকশন লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তাই কোরআন শরীফে বর্নীত হয়েছে- ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার- যে ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিপক্ষে অবস্থান করে, তার ফাইভার অপটিকস কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তাই আসুন আমরা সবাই মহাসাফল্যের জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করি। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
পার্সী ধর্ম
আমি ঘোষণা করছি, হে স্পিতসি জরথুষ্ট, পবিত্র আহমদ নিশ্চয় আসবেন। যার নিকট হতে তোমরা সৎচিন্তা, সৎবাক্য, সৎকর্ম ও বিশুদ্ব ধর্ম লাভ করবে।
(পার্সীর ধর্মগ্রন্থ-জিন্দ-আভেস্তা)
যখন পার্সীরা নিজেদের ধর্ম ভুলে নৈতিক অধঃপতনের চরম সীমায় উপনীত হবে, তখন আরব দেশে এক মহাপুরুষ জন্মগ্রহন করবেন। যার শিষ্যেরা পারস্যদেশ ও দুর্ধর্ষ পারসিক জাতিকে পরাজিত করবে। নিজেদের মন্দিরে অগ্নিপূজা না করে তাঁরা ইব্রাহিমের কাবা ঘরের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করবে। সে সময় কাবা গৃহ প্রতিমামুক্ত করা হবে। সেই মহাপুরুষের শিষ্যরা বিশ্ববাসীর পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ হবে, তাঁরা পারস্য, মাদায়েন, তুষ, বলখ, পারস্যবাসীদের পবিত্র স্থান অধিকার করবে, তাদের নবী একজন বাগ্মী পুরুষ হবে। তিনি অনেক অদ্ভুত কথা বলবেন।
(পার্সীর ধর্মগ্রন্থ-দসাতির)
জিন্দ-আভেস্তায়– পবিত্র আহমদ- শব্দ দ্বারা সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা বলা হয়েছে। যিনি হবেন সকল মানুষের প্রতি দয়াময়। তাই যারা জিন্দ-আভেস্তা অনুসরন করেন, তাদের উচিত কোরআন-হাদীসের জ্ঞান অর্জন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। তেমনিভাবে দসাতির এর মধ্যেও আরব মহাপুরুষ দ্বারা সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা বলা হয়েছে। যখন পার্সীরা অধঃপতনের শেষ সীমায় উপনীত হল অগ্নি-পূজার মাধ্যমে তখন মক্কা নগরীতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহন করেন।তাঁর কিছু গুনাবলী পার্সি ধর্মগ্রন্থ জিন্দ-আভেস্তা ও দশাতিরে বর্নীত হয়েছে। তাই যারা এগুলির অনুসরন করেন, তাদের কর্তব্য কোরআন ও হাদীসের অনুসরন করা এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
ইসলাম ধর্ম
ইসলাম ধর্ম এমন একটি ধর্ম যা পৃথিবীর শুরুতে ছিল এবং শেষ পয্যন্ত থাকবে। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিছ সালাম ও প্রথম মানবী হযরত হাওয়া আলাইহিছ সালাম এর ধর্ম ছিল ইসলাম। মূলত পৃথিবীতে ধর্ম মাত্র একটি আর তা হল ইসলাম। ইসলাম ধর্মের ভিত্তি পাঁচটি। ঈমান- নামাজ- রোজা- হজ্ব- যাকাত। ঈমান হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আল্লাহর রাসূল। অন্তরে বিশ্বাসস্থাপন করা এবং সাক্ষী প্রদান করা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আল্লাহর নবী ও রাসূল। একজন ব্যক্তি নিজে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আল্লাহর রাসূল বলে, অন্তরে বিশ্বাসস্থাপন করে, মুখে স্বীকৃতি প্রদান করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে পারে। সামাজিক স্বীকৃতির জন্য একজন ব্যক্তিকে সাক্ষী প্রদান করতে হবে যে, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। ইহা এই জন্য যে, ইসলামে ব্যক্তির যে সামাজিক অধিকার রয়েছে, তা যেন মুসলিমগন সে ব্যক্তিকে প্রদান করতে পারে। ঈমানের সত্তরটির অধিক শাখা রয়েছে। প্রধান শাখা হল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এবং সর্বশেষ শাখা হল রাস্তায় নিদিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা রাখা। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং রাস্তা পরিস্কার রাখার চেষ্টা করা। ঈমানের বিষয়ে কোরআন ও হাদীসে বিস্তারিত বলা হয়েছে। ঈমান ব্যতীত কোন ব্যক্তি এ মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে যেতে পারবেনা। মানুষের আত্মা এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হওয়ার জন্য একটি ফাইবার অপটিকস ক্যাবল কানেকশনের প্রয়োজন হবে। মানুষের আত্মা একটি সফটওয়ার প্রোগ্রাম এবং এই ক্যাবল হল হার্ডওয়ার কানেকশন। যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান রাখে এবং ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান করে, তারা কখনো এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে জান্নাতে যেতে পারবেনা ইসলাম ধর্ম গ্রহন ব্যতীত। এ বিষয়ে কোরআন শরীফের সূরা-আর রহমানের সাত ও তেত্তিশ নং আয়াতে মিজান ও সুলতান এবং সূরা কাউসারে- আবতার- শব্দের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, এ মহাবিশ্ব হতে বাহির হওয়ার নিয়ম। ইসলাম ধর্মের প্রথম ভিত্তি- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ- হল একটি ভয়েজ কমান্ড। এই কমান্ডের মাধ্যমে আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ হয়। এই ভয়েজ কমান্ডের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে যেতে পারবে তার এন্টি-পারটিকল-ওয়ানের মাধ্যমে। মানুষের জন্য মিজান স্থাপন করা হয়ে। মিজান হল প্রতিটি মানুষের এন্টি-পারটিকল-জিরো ও এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। একজন মানুষের দেহ তিনিটি। একটি এই পৃথিবীর পরিক্ষামূলক পাঁচ-ছয় ফুট উচ্চতার ছোট দেহ। দ্বিতীয় দেহটি হল জাহান্নামের জন্য তৈরি সর্বনিম্ন পচিঁশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার বিশাল দেহ। একজন মানুষ যত বেশী অন্যায় কাজ করবে, জাহান্নামের কুৎসিত দেহটি তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তৃতীয় দেহটি হল জান্নাতের জন্য তৈরি সর্বনিম্ন পচিঁশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার বিশাল দেহ যা ডিমের কুসুম দিয়ে তৈরি একটি সুন্দর দেহ। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দেহটি হল একজন ব্যক্তির-মিজান। একজন মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী যত ভাল কাজ করতে থাকবে, জান্নাতের ডিমের কুসুমের তৈরি সুন্দর দেহটি তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও অন্যান্য ভাল কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন দশ হতে বিশ মিটার বৃদ্ধি পেতে থাকবে, এভাবে বৃদ্ধি হয়ে দেহটি চারলক্ষ হতে পাচঁলক্ষ কিলোমিটার একটি বিশাল সুন্দর দেহে পরিনত হবে। জাহান্নামের দেহটি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-জিরো আর জান্নাতের দেহটি হল আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ান। প্রতিটি মানুষ হল তিন জন। একজন এই পৃথিবীতে বাকী দুই জন আকাশে। এই তিন জন একই ব্যক্তি। তিনটি দেহের আত্মা একটি। যে দেহে আত্মা থাকবে, সে দেহ সচল থাকবে। মৃত্যুর পর জাহান্নামের দেহ সচল হবে অথবা জান্নাতের দেহ সচল হবে। জাহান্নামের দেহ সচল হলে ব্যক্তি এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হতে পারবেনা কেননা এই দেহটি মহাবিশ্বের ভিতরে অবস্থান করছে প্রথম আকাশের মধ্যে। জান্নাতের দেহ সচল হলে ব্যক্তি এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হতে পারবে কেননা এই দেহটি মহাবিশ্বের বাহিরে অবস্থান করছে সপ্তম আকাশের উপরে জান্নাতের সীমানার মধ্যে। জান্নাতের দেহকে সচল করতে হলে একজন ব্যক্তিকে পৃথিবীর জীবনে- সুলতান- হতে হবে। সুলতান হল- কমান্ডার, যে অন্য ব্যক্তিকে কাজ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। যখন কোন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার জন্য ভয়েজ কমান্ড প্রদান করবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আল্লাহর রাসূল। তখন তাঁর ভয়েজ কমান্ডকে রিসিভ করবে সপ্তম আকাশের উপর অবস্থিত লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। এই কম্পিউটারটি এত বিশাল যে, ইহার এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তের দূরত্ব একশত আলোকবর্ষ। ইহা পৃথিবীতে অবস্থিত প্রতিটি ব্যক্তিকে এবং সমস্ত মহাবিশ্বকে ছয়টি ডায়মেনশনে পরিচালিত করছে। ইহা কলম অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইহার সাথে মহাবিশ্বের প্রতিটি অনু-পরমানুর নেটওয়ার্ক করা রয়েছে হিগ-বোসন বা ঈশ্বর কনিকার মাধ্যমে। ইহার কুলিং সিস্টেম হল ওয়াটার। সপ্তম আকাশের উপর একটি বিশাল সাগর রয়েছে ইহাকে ঠান্ডা রাখার জন্য। ইহার মধ্যে সূয্যের মত বিশাল বিশাল লেজার প্রিন্টার সিস্টেমের কলম রয়েছে। যার মাধ্যমে ইহা প্রোগ্রাম লিখে- জিরো-ও-ওয়ানের- সংখ্যার মাধ্যমে। ইহা কোন বস্তুর প্রোগ্রাম লিখার পর ডায়মেনশন প্রদান করে। ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর-ফাইভ-সিক্স ডায়মেনশন প্রদান করে। ইহা পৃথিবীর জীবনে প্রতিটি ব্যক্তিকে ফোর ডায়মেনশন প্রদান করে। ব্যক্তি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার জন্য ভয়েজ কমান্ড প্রদান করবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আল্লাহর রাসূল। তখন তাঁর ভয়েজ কমান্ডকে রিসিভ করবে সপ্তম আকাশের উপর অবস্থিত লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। ভয়েজ কমান্ড রিসিভ করার পর ইহা একটি প্রোগ্রাম লিখবে ঐ ব্যক্তির নামে। প্রোগ্রামে থ্রি-ডায়মেনশন প্রদান করে একটি বিশাল দৈর্ঘের ফাইবার অপটিকস ক্যাবল তৈরি করে স্থাপর করা হবে ঐ ব্যক্তির জাহান্নামের শরীরের পায়ের সাথে যা প্রথম আকাশের উপর অবস্থিত এবং এই ক্যাবলের অপর প্রান্ত যুক্ত করা হবে ঐ ব্যক্তির জান্নাতের শরীরের পায়ের সাথে যা সপ্তম আকাশের উপর জান্নাতের সীমানায় অবস্থিত। এই বিশাল কাজটি করতে ইহার প্রয়োজন হবে মাত্র এক সেকেন্ড সময়। একজন মানুষ কল্পনাও করতে পারবেনা এই কম্পিউটার কত দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে। সেকেন্ডের মধ্যে সমস্ত মহাবিশ্ব তৈরি করতে পারে আবার ধ্বংস করতে পারে। ভয়েজ কমান্ডের বিষয়টি আমরা একটি উদাহরনের মাধ্যমে সহজে বুঝতে পারি। আমরা আমাদের বাড়ীতে যে ফ্যান ব্যবহার করি, তা ইলেকট্রিক সুইসের মাধ্যমে অফ-অন করি। এই কাজটি আমরা ভয়েজ কমান্ডের মাধ্যমেও করতে পারি। যদি আমরা একটি কম্পিউটার সিষ্টেম সেট-আপ করি, তাহলে আমরা যখন মুখে বলবো- ফ্যান-অন- তখন ফ্যান চলবে। আর যখন বলবো- ফ্যান-অফ- তখন ফ্যান বন্ধ হবে। মোবাইলে আমরা গুগল ওয়েব-সাইডে ভয়েজ কামান্ড দিয়ে অনেক বিষয়ে জানতে পারি। ঠিক তেমনি আমাদের ঈমানের জন্য যে ভয়েজ কমান্ড - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ তা সাত আকাশের উপর অবস্থিত লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারকে এফেক্ট করে। এই মহাবিশ্বে প্রতিটি পরমানু সকল পরমানুর সাথে যোগাযোগ রাখে। আকাশের যে শূন্যস্থান রয়েছে, আমরা মনে করি সেখানে কিছু নেই। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। সেখানে রয়েছে ঈশ্বর কণিকা বা গড পারটিকলস। এই মহাবিশ্ব শূন্যস্থান বলে কিছু নেই তা যত কাছে অথবা যত দূরে অব্স্থান করুক না কেন। আমাদের প্রতিটি কথা এবং প্রতিটি কাজ লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারে রেকর্ড থাকে এবং সে অনুযায়ী ইহা আমাদের জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করে, ডায়মেনশন প্রদান করে তা আমাদের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শরীরে প্রয়োগ করে। মনে করুন, একজন মুসলিম ব্যক্তি সূদ গ্রহন করে। ইহা ব্যক্তির একটি কাজ যা ইসলাম ধর্মে নিষেধ বা হারাম। ইসলাম ধর্মের নিষেধ কাজ করার অর্থ হল- নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করা। এই কাজটি লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার রিসিভ করবে এবং সেই ব্যক্তির নামে একটি সাপের প্রোগ্রাম তৈরি করে ফোর ডায়মেনশন দিয়ে সেই সাপগুলোক জীবিত করবে। এই সাপগুলো ঐ ব্যক্তির পেটের মধ্যে রাখবে। এই ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরন করবে তখন তাঁর আত্মাকে নিয়ে যাওয়া হবে প্রথম আকাশে অবস্থিত এন্টি-পারটিকল-জিরোতে যা ঐ ব্যক্তির জাহান্নামের শরীর। ইহা কমপক্ষে পচিঁশ হাজার কিলোমিটার লম্বা একটি কালো কুৎসিত মাটি দিয়ে তৈরি একটি বিশাল শরীর। যেহেতু সূদ গ্রহনকারী ব্যক্তিটি মুসলিম ছিল। তাঁর ঈমান আছে। সে পৃথিবীর জীবনে নামাজ পড়েছে ও রোজা রেখেছে। তাই তাঁর আত্মাকে প্রথম আকাশের উপরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তখন তাঁর আত্মাকে ফাইবার অপটিকস কানেকশনের মাধ্যমে সপ্তম আকাশের উপর অবস্থিত তাঁর এন্টি-পারটিকল-ওয়ানে নিয়ে যাওয়া হবে। ইহা হল ঐ ব্যক্তির ঈমানের ফাইবার অপটিকস কানেকশন যা একটিভ রাখার জন্য ঐ ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলেছিল। যার মাধ্যমে ঐ ব্যক্তিটির আত্মাকে আজ সাত আকাশের উপর, জান্নাতের সীমানায় অবস্থিত তাঁর এন্টি-পারটিকল-ওয়ানে নিয়ে যাওয়া হল। আর এই এন্টি-পারটিকল-ওয়ান ঐ ব্যক্তির জান্নাতের শরীর যা কমপক্ষে পচিঁশ হাজার কিলোমিটার লম্বা ডিমের কুসুম দিয়ে তৈরি একটি সুন্দর দেহ। যখন এই শরীরে আত্মা নিয়ে যাওয়া হবে তখন এই শরীরটি আত্মা আসার কারনে থ্রি-ডায়মেনশন হতে পরিবর্তন হয়ে ফোর-ডায়মেনশনে একটিভ হবে। তখন ব্যক্তিটি নিজেকে নতুন রূপে দেখতে পাবে। বিশাল বড় সুন্দর শরীর যা ডিমের কুসুম দিয়ে তৈরি করেছে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। কিন্তু তাঁর পেটের মধ্যে অনেক সাপ অবস্থান করছে। পৃথিবীর জীবনে সে সূদ গ্রহন করে যে কাজের নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন দিয়েছিল, আজ তাঁর বাস্তব সে তাঁর পেটের মধ্যে দেখছে। এই সাপ নিয়ে সে উপস্থিত হবে হাসরের মাঠে যেখানে মানবজাতির বিচার করা হবে। তাঁকে অনুমতি দেয়া হবে পুলচেরাত পার হয়ে জান্নাতে যাওয়ার জন্য কিন্তু সে তা করতে পারবেনা। যখন সে পুলচেরাত পার হওয়ার চেষ্টা করবে, তখন সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে পতিত হবে। মনে করুন, এই ব্যক্তির শরীরের ওজন দশ লক্ষ টন এবং তাঁর পেটে সাপ আছে পাঁচ লক্ষ টন। ইহার কারনে পুলচেরাত পার হওয়ার জন্য তাঁর শরীরের শক্তি ও ওজনের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই তাঁর শরীর পুলচেরাত পার হওয়ার জন্য হবে ওভারলোড। কেননা পুলচেরাত পার হওয়ার জন্য দশ হাজার আলাকবর্ষ পথ আকাশের মত শূণ্যস্থানের মধ্য দিয়ে উপরের দিকে উঠতে হবে। পুলচেরাত হতে জান্নাতের দূরত্ব ত্রিশ হাজার আলোকবর্ষ। সে একটি নিদিষ্ঠ সময় জাহান্নামে থাকবে যতক্ষণ না তাঁর পেটের সাপ জাহান্নামের আগুনে ধ্বংস না হয়। ইহার জন্য প্রয়োজন হতে পারে হাজার হাজার বছর। অতঃপর সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। যারা ইসলাম ধর্ম পালন করে তাদের জন্য এই পৃথিবীর জীবন একশত নাম্বারের পরিক্ষা কেন্দ্র। এই পরিক্ষায় কৃতকায্য হতে হলে কমপক্ষে পঞ্চাশ নাম্বার পেতে হবে। যারা কম পাবে তারা জাহান্নামে যাবে। যারা পঞ্চাশ নাম্বার বরাবর পাবে তারা আরাফে অবস্থান করবে। যারা পঞ্চাশ হতে বেশী নাম্বার পাবে তারা জান্নাতে যাবে। এ বিষয়ে কোরআন শরীফের সূরা কাহাফে বর্নীত হয়েছে, পৃথিবীতে সুন্দর ও আকর্ষনীয় যা কিছু আছে আমি তা সৃস্টি করেছি, তোমাদের পরিক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে ভাল কাজের মধ্যে কে বেশী উত্তম।
ঈমানের জন্য সর্বমোট----------৫০% নেগেটিভ এনার্জি
নামাজের জন্য সর্বমোট----------১০% পজেটিভ এনার্জি
রোজার জন্য সর্বমোট-----------১০% পজেটিভ এনার্জি
হজ্বের জন্য সর্বমোট ---------- ১০ % পজেটিভ এনার্জি
যাকাতের জন্য সর্বমোট ------- ১০ % পজেটিভ এনার্জি
জ্ঞানার্জনের জন্য সর্বমোট ------ ১০ % পজেটিভ এনার্জি
সর্বমোট -------- ১০০ % পজেটিভ এনার্জি
এই একশত পারসেন্ট শক্তি যে ব্যাক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, মহান আল্লাহর রাব্বুল আলামীনের অনুমতি পাওয়ার পর সে অতি দ্রুত হাসরের মাঠ হতে পুলচেরাত অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
একশত নাম্বারের পরিক্ষায় পাশের উপায়
(০) ইসলাম ধর্ম গ্রহন না করা----- ০%-১৪ %- নেগেটিভ এনার্জি- নেগেটিব ম্যাগনেটিক ফিল্ড- স্পিন ডাউন- এন্টি-পারটিকল-জিরো একটিভ - বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - বাউন্ড স্টেট -
ডিছকানেকটেড।
এই ০% হতে ১৪% এনার্জি তাদের জন্য যারা ইসলাম ধর্মের বিপরীতে অবস্থান করে। তারা হলেন হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, খ্রীষ্ঠান ধর্ম, ইহুদী ধর্ম, নাস্তিক ধর্মের অনুসারী ব্যাক্তিবর্গ। হাসরের মাঠে তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নাম্বার হল চৌদ্দ। যারা এরূপ হবে, তাদের জীবনের ভাল কাজগুলো ওজন করা হবেনা। তাই তাদের জন্য অনন্তকাল জাহান্নাম। জাহান্নামের সংখ্যা হল সাতটি। ফলাফল এরূপ হলে ব্যক্তি কখনো জাহান্নাম হতে বাহির হতে পারবেনা। নেগেটিভ এনার্জি হল- একজন ব্যক্তি পৃথিবীর জীবনে যে সকল কাজ করে, প্রতিটি কাজের একটি ট্রান্সমিশন আছে। সপ্তম আকাশের উপর অবস্থিত একটি লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার আছে। ইহা একলক্ষ আলোকবর্ষ এলাকায় অবস্থিত একটি বিশাল কম্পিউটার। ইহা প্রতিটি ব্যক্তির কাজের ট্রান্সমিশন রিসিভ করে। ইহা ব্যক্তির কাজ অনুযায়ী প্রোগ্রাম তৈরি করবে এবং সে অনুযায়ী ব্যক্তির দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শরীরে এপলাই করবে। আমরা জানি, প্রতিটি ব্যক্তির শরীর তিনটি। পৃথিবীর ছোট দেহ, জাহান্নামের বিশাল দেহ ও জান্নাতের বিশাল দেহ। নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন দুই প্রকার। ব্যক্তির ঈমান আছে অথবা ঈমান নেই। একজন মুসলিম ব্যক্তিও নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করতে পারে আবার একজন অমুসলিম ব্যক্তিও নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করতে পারে। যে ব্যক্তির ঈমান নেই, সেই ব্যক্তির প্রতিটি কাজই নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন, কাজ ভাল হউক অথবা খারাপ। অমুসলিম ব্যক্তির ভাল কাজ অথবা খারাপ কাজ দ্বারা সব সময় এন্টি-পারটিকল-জিরো এফেক্ট হবে। কেননা তার এন্টি-পারটিকল-জিরো ও এন্টি-পারটিকল-ওয়ানের মধ্যে ফাইবার অপটিকস কানেকশন বিদ্যমান নেই। এই কানেকশনের মাধ্যমে ব্যক্তির ভাল ও খারাপ কাজের এফেক্ট এন্টি-পারটিকল-ওয়ানে ট্রান্সপার হয়। আর ইহা হল ব্যক্তির ঈমান। তাই যে ব্যক্তির ঈমান নেই, তার ভাল কাজগুলো গ্রহনযোগ্য হবেনা এবং মৃত্যুর পর তার আত্মা কখনও তার সুন্দর দেহে যেতে পারবেনা, ফাইবার অপটিকস কানেকশন বিদ্যমান না থাকার কারনে। তাই যে ব্যক্তির ঈমান নেই সে কখনো এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হতে পারবেনা। সে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। অপর দিকে একজন মুসলিম ব্যক্তি ভাল কাজ অথবা খারাপ কাজ, যা করুক না কেন, ইহার এফেক্ট এন্টি-পারটিকল-ওয়ানে পতিত হয়। যার কারনে মৃত্যুর পর সে এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে জান্নাতে যেতে পারবে। এখন একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোন কাজটি ভাল আর কোন কাজটি খারাপ তা আমরা কিভাবে বুঝতে পারবো। ইহার জন্য ধর্ম ও বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন। জ্ঞান ব্যতীত একজন ব্যক্তি কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেনা। ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে সবচেয়ে ভাল কাজ হল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম আল্লাহর রাসূল, এই ভয়েজ কমান্ড প্রদান করা অন্তরে বিশ্বাসস্থাপনের মাধ্যমে। এই নিদিষ্ট ভয়েজ কমান্ড কেন প্রদান করতে হয়। কারন ইহা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে প্রথম ভিত্তি। আর ইহা হল ঈমান। ঈমান একটি আলো বা নূর। ইহা একটি মোবাইল নেটওয়ার্কের মত যা এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারের মধ্যে স্থাপন করা হয়। ঠিক তেমনি প্রতিটি ব্যক্তির ঈমানের সম্পর্ক নূর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর সাথে। এ বিষয়ে কোরআন শরীফে বর্নীত হয়েছে- “কাদ জায়াকুম মিনাল্লাহে নূরুন ওয়া কিতাবুন মুভিন”- আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করেছে- এল=এম-সি-স্কয়ার। এল হল- লাইট অফ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম। এম হল- ম্যান বা একজন ব্যক্তি। সি স্কয়ার হল- ভেলসিটি অফ লাইট অফ হযরত মুহাম্মদ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম। একজন ব্যক্তি এই পৃথিবীতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে অনুসরন করলে, সে পুলচেরাত পার হওয়ার শক্তি অর্জন করবে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম হলেন অদৃশ্য নূর বা আলো। এই নূরের শক্তির মাধ্যমে মানুষের ঈমান একটিভ হয়। মানুষ যদি মোবাইল হয় তাহলে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম হলেন মোবাইল টাওয়ার। মানুষের ঈমান হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য হয়। তাই কোরানে বর্নীত হয়েছে- আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করেছে নূর এবং প্রকাশ্য কিতাব আল-কোরআন ও আল-হাদীস। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম হলেন আল্লাহর নূর যা সৃষ্টি করা হয়েছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে। ইহার মাধ্যমে আল্লাহ সৃষ্টি করেন কলম ও লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। আল্লাহ কলমকে আদেশ করেন লিখার জন্য। কলম প্রশ্ন করল, কি লিখবো। আল্লাহ বল্লেন, তাকদির লিখ। তাকদির এর অর্থ হল- লুকায়িত। যা দেখা যায় না। কলম আমাদের ও মহাবিশ্বের প্রোগ্রাম তৈরি করলো জিরো ও ওয়ান সংখ্যার মাধ্যমে। লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার চলে কলম অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে। ইহার মাধ্যমে পরিচালিত হয় মানুষের তাকদির। ইহা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ব্যতীত পরিবর্তন হয়না।তাকদিরের মধ্যে ব্যক্তির কর্মের স্বাধীনতা রয়েছে। ব্যক্তির কাজের স্বাধীনতা হল তাকদিরের অপশনগুলো সিলেক্ট করা। ব্যক্তি ইচ্ছা করলে সত্য কথা বলতে পারে আবার ইচ্ছা করলে মিথ্যা কথাও বলতে পারে। আর ইহা হল ব্যক্তির কর্মের স্বাধীনতা। আর ইহা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য পৃথিবীর জীবন একশত নাম্বারের পরিক্ষা কেন্দ্র। যে ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে অনুসরন করবে সে এই জীবনের পরিক্ষায় পাস করবে। আর যে ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম ও ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান করবে, সে জীবনের পরিক্ষায় ফেল করবে। আর ইহা সে বুঝতে পারবে মৃত্যুর পর যখন সে আগুনের শাস্তির মধ্যে নিজেকে খুজে পাবে। পরিক্ষায় পাস ও ফেলের হিসাব করবে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। ইহা আমাদের ফোর-ডায়মেনশনে পরিচালিত করে। আল্লাহ এই মহাবিশ্ব ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। ছয়টি দিন হল ছয়টি ডায়মেনশন। মানুষ যখন থ্রি-ডায়মেনশনে অবস্থান করে, তখন সে মৃত্যুবরন করে। মানুষ যখন ফোর-ডায়মেনশনে অবস্থান করে, তখন সে বেঁচে থাকে। অতীত কাল ফাইভ-ডায়মেনশন এবং ভবিষ্যৎ কাল সিক্স-ডায়মেনশন। বর্তমান ও অতীত কাল আমাদের ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায়। আর ইহা পরিচালনা করে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার কলম অপারেটিং সিষ্টেমের মাধ্যমে। তাই একজন ব্যক্তিকে এই মহাবিশ্ব অতিক্রম করতে হলে নিদিষ্ট ভয়েজ কমান্ড প্রদান করতে হবে। ইহা ব্যতীত কোন ব্যক্তি মহাবিশ্ব অতিক্রম করার শক্তি পাবেনা। কেননা ইহা সফটওয়ারের মাধ্যমে প্রোগ্রাম করা। এখন প্রশ্ন হতে পারে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ- ভয়েজ কমান্ড প্রদান করলে একজন ব্যক্তি মহাবিশ্ব অতিক্রম করতে পারবে, ইহার প্রমান কি। প্রমান অবশ্যই আছে। ইসলাম ধর্মে কোন বিষয়ে বিশ্বাস ও প্রমান উভয় বিদ্যমান রয়েছে। পৃথিবীর শুরু হতে এক লক্ষ চব্বিশ হাঁজার নবী ও রাসূল আগমন করেছিল। তাঁরা সকলে সত্যবাদী ছিলেন। তাঁরা সকলে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ- এই ভয়েজ কমান্ডের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রধান নবী ও রাসূল হলেন- হযরত আদম আলাইহিছ সালাম, হযরত নূহ আলাইহিছ সালাম, হযরত ইউনূস আলাইহিছ সালাম, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিছ সালাম, হযরত মূসা আলাইহিছ সালাম, হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম।হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম। তাঁরা সকলে সত্যবাদী ছিলেন। তাই আমরা দেখতে পাই, বেধ-পূরাণ, উপনিশদ, ত্রিপিটক, বাইবেল, কোরআন-হাদীস, সকল গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে অনুসরন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেননা, আল্লাহর পক্ষ হতে সর্বমোট একশত চারটি গ্রন্থ মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাই সাফল্যের জন্য আমাদের সকলকে কোরআন ও হাদীসের অনুসরন করতে হবে। সাফল্যের প্রথম ভিত্তি হল ভয়েজ কমান্ড যা ইসলাম ধর্মে মানুষের ঈমান হিসাবে গ্রহন করা হয়। বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। এই বিজ্ঞানেও রয়েছে ভয়েজ কমান্ড বা ঈমানের প্রমান। বিজ্ঞানে প্রমানীত হয়েছে, হাতে শক্তি প্রয়োগ করা এবং কথার মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করা উভয় সমান। যেমন গুগলে আমরা লিখে কোন বিষয়ে জানতে পারি আবার ভয়েজ কমান্ড প্রদান করেও জানতে পারি। প্রতিটি ব্যক্তির কথা ও কাজের সম্পর্ক লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারের সাথে। ব্যক্তি যখন -লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ- বলবে, তখন এই কম্পিউটর ঐ ব্যক্তির ফাইবার অপটিকস কানেকশন তৈরি করবে যার মাধ্যমে তাঁর আত্মা এই মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে জান্নাতে যেতে পারবে। বর্তমানে আমরা পদার্থ বিজ্ঞান অধ্যয়ন করে জানি, মানুষ ও মহাবিশ্বের সবকিছু পরমানু দিয়ে গঠিত। পরমানুতে রয়েছে ইলেকট্রন ও প্রোটন। ইলেকট্রন হল নেগেটিভ চার্জ। প্রোটন হল পজেটিভ চার্জ। এই নেগেটিভ ও পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড প্রমান করে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঠিক ও সত্য। -কোন উপাস্য নেই- হল নেগেটিভ আর- আল্লাহ- হল পজেটিভ। তাই এই মহাবিশ্বের প্রতিটি পরমানু বলে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তি যখন আল্লাহকে স্বীকার করে নেয় তখন এই পৃথিবীর প্রতিটি পরমানু ব্যক্তির পক্ষে কাজ করে। আর ব্যক্তি যখন আল্লাহকে অস্বীকার করে নেয় তখন এই পৃথিবীর প্রতিটি পরমানু ব্যক্তির বিপক্ষে কাজ করে। যে আল্লাহকে অস্বীকার করে সে মূলত পরমানুতে অবস্থিত পজেটিভ চার্জ যুক্ত প্রোটনকে অস্বীকার করে। পরমানুতে প্রোটন না থাকার অর্থ হল পরমানু গঠিত না হওয়া। আর পরমানু গঠিত না হলে মানবজাতি, প্রনিজগৎ, পানি, গাছপালা, খাদ্য, পৃথিবী ও মহাবিশ্ব কিছুই সৃষ্টি হবেনা। আর ইহা প্রমান করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। কেননা নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে আল্লাহ সবকিছু নিয়ন্ত্রন করেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে শক্তি একটি নিদিষ্ট বিন্দুতে আবদ্ধ ছিল। অতঃপর আল্লাহর আদেশে সম্প্রসারনশীল মহাবিশ্ব সৃষ্টি শুরু হয়। ইহার মাধ্যমে প্রমানীত হয় আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। এই মহাবিশ্ব, জান্নাত-জাহান্নাম সবকিছুর মালিক হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম। এ বিষয়ে কোরআন শরীফের সূরা-কাউছারে বর্নীত হয়েছে- হে নবী, আমি আপনাকে কাউছার প্রদান করেছি। অতঃপর আপনি নামাজ কায়েম করুন এবং কোরবানী করুন আল্লাহর জন্য। যে আপনার ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবেনা, তার ফাইবার অপটিকস কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। কাউছার হল এই মহাবিশ্বের বাহিরে অবস্থিত বিশাল জান্নাত। যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে অনুসরন করে সে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি পাবে। আবতার হল ঐ ব্যক্তি যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর শত্রু। যে তাঁর বিপক্ষে অবস্থান করে। সে লেজকাটা গরুর মত। গরুর লেজের মাধ্যমে ফাইভার অপটিকস কানেকশনকে বুঝানো হয়েছে যা ব্যক্তির এন্টি-পারটিকল-জিরো হতে এন্টি-পারটিকল-ওয়ানের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। যার মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মা মহাবিশ্ব হতে বাহির হয়ে জান্নাতে যেতে পারে। তাই সকলের কর্তব্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে অনুসরন করা। অতীতে পৃথিবীতে এমন কোন নবী ও রাসূল আগমন করেনি যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে স্বীকৃতি প্রদান করেনি। এখন প্রশ্ন হতে পারে অতীতে আগত নবী ও রাসূলগন কিভাবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লামকে স্বীকৃতি প্রদান করেছিল। এ বিষয়ে কোরআন শরীফে বর্নীত হয়েছে- কুল ইন্নামা আনা বসরুন মিছলুকুম- হে নবী, আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের মত মানুষ। আমাদের মত মানুষ হল ফোর ডায়মেনশনের মানুষ। নবী আমাদের মত ফোর ডায়মেনশনে আগমন করেছিলেন মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য। তিনি ফাইভ ও সিক্স ডায়মেনশনে অবস্থান করতে পারেন। তিনি বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ কালে অবস্থান করতে পারেন। তিনি যখন বর্তমান কালে আগমন করেছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে পেয়েছিলেন-ওয়াজাদাকা দোয়াল্লান পা হাদা- হে নবী, আমি আপনাকে পেয়েছি পথভ্রষ্টদের মাঝে অতঃপর আপনার মাধ্যমে তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছি। দের হাজার বছর পূর্বে মানুষ ছিল পথভ্রষ্ট। নবী আগমন করে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- হে নবী, আপনি কি দেখেননি, আল্লাহ হাতিওলাদের সাথে কি করেছেন। এই ঘটনাটি নবী পৃথিবীতে আগমনের দুই মাস পূর্বের ঘটনা। তখন তিনি অতীত কালে অবস্থান করছিলেন। ইহা দ্বারা প্রমানীত হয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালে অবস্থান করতে পারেন।পাঁচ হাজার বছর পূর্বে যখন হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম ভারতবর্ষে সনাতন ধর্ম প্রচার করছিলেন, তখন তাঁর জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করা বাধ্যতামূলক ছিল। কেননা আল্লাহর পক্ষ হতে আগত বেধ-পূরাণে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন শরীফে সনাতন ধর্মকে- সাবেইন- বলা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আগমন করেছেন হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম ও হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম। তাঁরা সকলে মুসলিম ছিলেন।এই মুসলিম শব্দটিকে বেধ-পূরাণ ও গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে-আত্মসমর্পনকারী-হিসাবে। মুসলিম এবং আত্মসমর্পনকারী উভয় শব্দের অর্থ যে ব্যক্তি শান্তির ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম অনুসরন করেন। গীতায় বলা হয়েছে- তোমরা আত্মসমর্পনকারীদের সাথে আত্মসমর্পন কর। অর্থাৎ তোমরা মুসলিমদের সাথে মুসলিম হও। তোমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন কর। সনাতন শব্দের অর্থ আত্মা ও দেহ। যে ধর্ম মানুষের আত্মা ও দেহ নিয়ে কথা বলে তা হল সনাতন ধর্ম। তেমনি ইসলাম ধর্মেও মানুষের আত্মা ও দেহ কিভাবে শান্তিতে থাকবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম হল সনাতন ধর্মের সর্বশেষ ভার্সন। সনাতন ধর্ম ছিল এলাকাভিত্তিক আর ইসলম ধর্ম হল আর্ন্তজাতিক। সনাতন ধর্মে এক আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। তেমনি ইসলাম ধর্মেও এক আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসল্লাম এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন বাধ্যতামূলক এবং পূর্ববর্তী সকল নবী ও রাসূলদের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম, হযরত শ্রীকৃষ্ণ আলাইহিছ সালাম, হযরত বুদ্ধদেব আলাইহিছ সালাম, হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম, হযরত মুসা আলাইহিছ সালাম, এরূপ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল এবং একশত চারটি ধর্মগ্রন্থের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে। সনাতন ধর্মে কোন মূর্তিপূজা নেই। মূর্তিপূজা হল অশুর বা শয়তানের ধর্ম। আর অশুর মানুষকে নরকে নিয়ে যাবে। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম মানুষকে স্বর্গ বা জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম পালন করলে হাসরের মাঠে মানুষের মাথা স্পিন ডাউন হবে- মাথা নিচের দিকে থাকবে। হাসরের মাঠে অনেকের মাথা নিচের দিকে দিয়ে হাটতে বাধ্য হবে। যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে না, সে অনন্তকাল নরকে থাকবে। কখনও ইহা হতে বাহির হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। যে অসূরের মূর্তিপুজা করে, কালি পুজা, শিব লিঙ্গ পুজা, কুমারী পুজা, চন্দ্র পুজা, সুয্য পুজা, গাছ পুজা, লক্ষী পুজা, বিদ্যা-দেবী পুজা, সরর্ষতী পুজা, শ্যমা পুজা, দূর্গা পুজা, বুদ্ধমূর্তি পূজা, যারা বলে, আমরা সঠিক সনাতন ধর্ম পালন করি, আমরা মূর্তিপূজা করিনা, আমরা গীতা, বেধ-পূরাণের অনুসরন করি, আমরা হযরত শ্রীকৃষ্ণ ও হযরত শ্রীরাম আলাইহিছ সালাম এর অনুসরন করি। কিন্তু তারা সঠিক সনাতন ধর্ম পালন করেনা, কেননা সনাতন ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সনাতন ধর্ম ইসলাম ধর্মের অনুসরন করার জন্য। তাই তারা অনন্তকাল নরকে থাকবে। পৃথিবীর জীবনে ইসলাম ধর্ম গ্রহন ব্যতীত স্বর্গে যেতে পারবেনা। যারা যিশুকে তিন জনের একজন বিশ্বাস করবে, ঈশ্বরকে পিতা, যিশুকে ঈশ্বরের পুত্র বিশ্বাস করবে এবং তিনি ত্রুশবিদ্ধ হয়ে সবার পাপ ক্ষমা করেছেন, এখন আমি যত অপরাধ করিনা কেন, আমার অপরাধের কোন শাস্তি হবে না। যে এরূপ বিশ্বাস করবে। যে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসস্থাপন করবে। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা। যে এরূপ করবে সে আল্লাহর সাথে শিরক করে। সে আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে। আর শিরকের অপরাধ আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেনা। ইহার শাস্তি হল অনন্তকাল জাহান্নাম। সে অনন্তকাল জাহান্নামের কালো আগুনের মধ্যে অবস্থান করবে। কেননা সে এই পৃথিবীর জীবনে আল্লাহ ও তার রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করে নাই। তাই আল্লাহ তাকে এই মহাবিশ্ব অতিক্রম করার জন্য সাহায্য করবেনা। তাই সে ফুলচেরাত অতিক্রম করে জান্নাতে যেতে পারবেনা। তাই আসুন, আমরা সবাই ইসলাম ধর্ম পালন করে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলি যেন আমারা জান্নাতে যেতে পারি। এখানে সর্বমোট ছিচল্লিশটি কাজ।এই কাজগুলো হল তাদের জন্য যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা হল এই জীবনের পরিক্ষায় অংশগ্রহন করা। এই পরিক্ষায় পাশ করতে হলে কমপক্ষে পঞ্চাশ নাম্বার পেতে হবে। যে পঞ্চাশ নাম্বারের নিচে পাবে তাকে নরকের শাস্তি ভোগ করতে হবে। নরকের শাস্তি শেষ হওয়ার পর সে স্বর্গে যেতে পারবে। যে পঞ্চাশ নাম্বার বরারব পাবে সে স্বর্গে যাওয়ার জন্য আরাফে অপেক্ষমান থাকবে। যে পঞ্চাশ নাম্বারের উপরে পাবে সে আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর অতি দ্রুত স্বর্গে যেতে পারবে। অতএব, যে জীবনের এই পরিক্ষা সঠিকভাবে সম্পূর্ন করতে পারবে সে পুলচেরাত অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। ইহা পার হওয়ার গতি সবার এক রকম হবে না। কেননা সবাই এই কাজগুলো একশত ভাগ করতে পারবেনা। যে এই কাজগুলো যেরূপ সম্পূর্ন করবে, সে সেই অনুপাতে পুলচেরাত পার হওয়ার শক্তি পাবে। ইহার এক প্রান্ত হাসরের মাঠে আর এক প্রান্ত জান্নাতের সীমানায়। ইহার দুরত্ব ত্রিশ হাজার আলোকবর্ষ। দশ হাজার আলোকবর্ষ উপরের দিকে। দশ হাজার আলোকবর্ষ সমান্তরালভাবে, দশ হাজার আলোকবর্ষ নিচের দিকে। “কাদ জায়াকুম মিনাল্লাহে নুরুন ও কিতাবুন মুবিন”। আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে আগমন করেছে এল=এম-সি-স্কয়ারের শক্তি। নূরের শক্তি আগমন করেছে এবং প্রকাশ্য কিতাব আল-কোরআন ও আল-হাদীস। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন নূর। হাসরের মাঠে ইহা আমরা আমাদের শরীরে দেখতে পাব। মুখের মধ্যে, হাতের মধ্যে, পায়ের মধ্যে, এই নূরের শক্তি প্রকাশিত হবে। চাদেঁর আলোর মত আমাদের শরীর উজ্জল হবে। আমরা জানি, চাঁদের আলো তার নিজস্ব আলো নয়। সুয্যের আলো যখন চাঁদের উপর পতিত হয়, তখন চাঁদ চার্জ হয়। তাই, আমরা রাতের বেলা চাঁদকে আলোকিত দেখতে পাই। তেমনি আমরা যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরন করি, তাঁর নুরের অদৃশ্য শক্তি আমাদের এন্টি-পারটিকল-ওয়ানকে চার্জ করবে। হাসরের মাঠে এই শরীরকে নুরের শক্তি দান করবে যেন আমরা পুলসেরাত অতিক্রম করে জান্নাতে যেতে পারি। যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যত বেশী অনুসরন করবে, সে তত বেশী নুরের শক্তি পাবে পুলচেরাত পার হওয়ার জন্য। তাই আমাদের নিকট প্রকাশ্য কিতাব আল-কোরআন ও আল-হাদীসের অনুসরন করতে হবে যেন আমরা সাফল্য লাভ করতে পারি।
(১) ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা --------১৫ % নেগেটিব এনার্জি –
পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল। হযরত আদম আলাইহিছ সালাম থেকে শুরু করে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসুল আগমন করেছিলেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য। তাদের মুল কাজ ছিল। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ- এক আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর শেষ নবী ও রাসূল এবং কল্কি অবতার।এই বানী মানুষের মাঝে প্রচার করা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর এবাদত প্রতিষ্ঠা করা। মহার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হলেন, সবকিছুর স্রষ্ঠা, তিনি আরশ তৈরি করেছেন। আটটি জান্নাত তৈরি করেছেন। সাতটি জাহান্নাম তৈরি করেছেন। কলম, তাকদির, লাওহে মাহফুজ, চন্দ্র, সুয্য, সবকিছু তৈরি করেছেন। তিনি আমাদের খাদ্য তৈরি করে দেন।পৃথিবীতে এমন কোন প্রানী নেই যার খাদ্যের দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহন করেননি। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনা কাছেমুন, আল্লাহু ইউতি। আল্লাহ আমাকে প্রদান করেন, আমি মানুষের মাঝে খাদ্য বন্টন করে দেই। একজন ব্যক্তি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে, তখন সে একটি শিশুর মত হয়ে যায়। তাঁর পূর্বের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করা হয়। সে জীবনের একশত নাম্বারের পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে। ঈমান হল একজন মানুষের নেগেটিভ এনার্জি। ইহার মাধ্যমে জাহান্নাম হতে বেঁচে থাকা কঠিন যদি আল্লাহ ক্ষমা না করে। তাই আমাদের পজেটিভ কাজ করতে হবে। পজেটিভ কাজ হল-নামাজ-রোজা-হ্জ্ব-যাকাত।
(২) মালাইকাদের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা----১৬ % নেগেটিভ এনার্জি- পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অসংখ্য ফেরেস্তা সৃষ্টি করেছেন বিভিন্ন কাজের জন্য। ইহার প্রতি আমাদের বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে। কেননা ইহা ঈমানের একটি শাখা। যে ব্যক্তি ফেরেস্তাদের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩) কিতাবের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা-----১৭ % নেগেটিভ এনার্জি-পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
মানবজাতিকে সঠিকপথে পরিচালিত করার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে সর্বমোট একশত চারটি আসমানী কিতাব সমস্ত নবী-রাসূলদের প্রতি অবতীর্ন করা হয়েছিল।সর্বশেষ আসমানী কিতার হল- পবিত্র আল-কোরআন। প্রধান ধর্মগ্রন্থ হল চারটি- তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল ও কোরআন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পূর্বে মানবজাতির প্রতি যে সকল কিতাব অবর্তীর্ন করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকা নবী ও রাসূলদের মাঝে। ইহার প্রতি আমাদের বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে। কেননা ইহা ঈমানের একটি শাখা। যে ব্যক্তি কিতাবের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪) রাসুলদের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা……….১৮ % নেগেটিভ এনার্জি- পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড- স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ- বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ- আন-বাউন্ড স্টেট কানেকটেড।
হযরত আদম আলাইহিছ সালাম থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয্যন্ত প্রায় একলক্ষ নবী ও রাসুল পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় আগমন করেছিলেন। পূর্ববর্তী সকল নবী ও রাসুলের প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরন করতে হবে। ইহার প্রতি আমাদের বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে। কেননা ইহা ঈমানের একটি শাখা। যে ব্যক্তি নবী ও রাসূলদের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৫) তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা----১৯ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
তাকদিরের প্রতি ঈমান আনতে হবে, আমরা যা করি সব তাকদিরে লিখিত আছে, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ব্যতীত তাকদীর পরিবর্তন হয় না। আল্লাহ সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূর। অতঃপর সেই নূর হতে কলম সৃস্টি করেন। অতঃপর কলমকে আর্দেশ করেন তাকদির লিখার জন। আমাদের তাকদির লিখার পর তা লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ আছে। যে ব্যক্তি তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৬) আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা---২০ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
আখেরাত হল পরকালের প্রতি ঈমান আনা, বিশ্বাসস্থাপন করা, এই জীবনে মৃত্যুর পর পুনরায় আবার সৃস্টি করে কবর হতে তোলা হবে, যাদেরকে মাটিতে করব দেয়া হয়েছে, তাদেরকে মাটি হতে বাহির করা হবে। যাদেরকে চিতার আগুনে পোড়ানো হয়েছে, তাদেরকে আগুনের মধ্য হতে বাহির করা হবে, যারা পানিতে পড়ে নিহত হয়েছে, তাদেরকে পানি হতে বাহির করা হবে। পরকালের জীবনে আর কোন মৃত্যু নেই, অনন্তকাল মানুষ বেঁচে থাকবে। যে ব্যক্তির মধ্যে বিন্দু পরিমান ঈমান থাকে, জীবনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনয়ন করে থাকে, লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মদুর রাসূলল্লাহ স্বীকার করে থাকে। তবে তাকে জাহান্নাম হতে বাহির করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। যে ব্যক্তি পরকালের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৭) কেয়ামতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা----২১ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
কেয়ামত হল এমন একটি সময় যখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, ইহার কিছু ছোট ও বড় আলামত আছে, বড় আলামত হল, ইমাম মাহদী আলাইহিছ সালাম আসবেন, হযরত ঈসা আলাইহিছ সালাম আসবেন, দাজ্জাল আসবে। পশ্চিম দিক হতে সুয্য উদিত হবে, পৃথিবীর বাহির হতে পাথরখন্ড এসে পৃথিবীকে আঘাত করবে। কেয়ামত সংগঠিত হবে। যে ব্যক্তি কেয়ামতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৮) মিজানের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা----২২ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
মিজান হল দাড়িপাল্লা, ডিজিটাল স্কেল, আমরা জীবনে ভাল-খারাপ যত কাজ করেছি, সমস্ত কাজ পরিমাপ করা হবে, ভাল কাজ বেশী হলে জান্নাত পাব আর খারাপ কাজ বেশী হলে পাপের শাস্তি ভোগ করে জান্নাতে যাব, আর ঈমান না থাকেলে অনন্তকাল জাহান্নাম। একজন মানুষের মৃত্যুর পর জান্নাতের শান্তি অথবা জাহান্নামের শাস্তি শুরু হয়ে যায়। ব্যক্তি যদি জান্নাতি হয় তাহলে জান্নাতের সাথে সম্পর্ক হয়ে যায় আর ব্যক্তি যদি জাহান্নামী হয় তাহলে জাহান্নামের শাস্তির সাথে সম্পর্ক হয়ে যায়। যে ব্যক্তি মিজানের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৯) ফুলসেরাতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা-------২৩ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
সমস্ত মানবজাতিকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পূনরায় সৃস্টি করে হাসরের মাঠে একত্রিত করবেন। তিনি এখানে আমাদের পাপ-পূর্ণ অনুযায়ী ন্যায় ও ইনসাফের সাথে বিচার কায্য পরিচালনা করবেন। যাদের আমলনামা ডানহাতে আসবে, তাঁরা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে পুলসেরাত পার হয়ে জান্নাতে যেতে সক্ষম হবে। পুলসেরাত চুল হতে অধিক চিকন এবং তলোয়ার হতে অধিক ধারালো যা অদৃশ্য কঠিন মর্ধ্যাকর্ষণ শক্তির পথ। যে ব্যক্তি পুলচেরাতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১০) জান্নাতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা---২৪ %নেগেটিব এনার্জি
-পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
জান্নাত মহাবিশ্বের বাহিরে অবস্থিত। জান্নাত আটটি। জান্নাতুল ফেরদাউস, জান্নাতুল আদন, দারুল কারার, দারুল মাকান, জান্নাতুল নাঈম। ইহাতে প্রবেশের জন্য একশতটি দরজা আছে। জান্নাত অকল্পনীয় বিশাল। জান্নাত স্বর্ণ, রুপা এবং জাফরান সুগন্ধি দিয়ে তৈরি। জান্নাতে প্রবেশ করতে হলে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল যা বলেছেন তা মেনে নিতে হবে। আর জান্নাতের চাবি হল নামাজ। যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১১) জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন না করা------২৫ % নেগেটিব এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
জাহান্নাম এক মহাবিপদের স্থান। যেখানে কালো আগুন ও গরম পাথর অবস্থান করে। সেখানে আরও আছে অত্যধিক গরম পানি ও অতি ঠান্ডা বরফ। জাহান্নাম হতে নিজেকে বাচিঁয়ে রাখতে হলে আল-কোরআন ও আল-হাদিসের অনুসরন করতে হবে। আর যারা নামাজ পড়ে ও রোজা রাখে জাহান্নাম তাদের আকর্ষণ করে ধরে রাখতে পারবে না ।তারা জাহান্নাম হতে পুলচেরাতের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। যে ব্যক্তি জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১২) ঋণ পরিশোধ না করা------------২৬ % নেগেটিব এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ - বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট -
কানেকটেড।
নিজেকে ঋন মুক্ত রাখতে হবে। ঋন গ্রহন করলেও তা অতি দ্রুত পরিশোধ করে দিতে হবে অন্যথায় ঋণের বোঝা নিয়ে হাসরের মাঠে উপস্থিত হলে নিজের নেক আমল দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। যদি নেক আমল না থাকে তবে অন্যের বদ আমল গ্রহন করতে হবে যা জাহান্নামে যাওয়ার কারন হয়ে যেতে পারে। যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৩) সূদের ব্যবসা হতে বিরত না থাকা---------২৭ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
আমাদের প্রত্যেকের উচিত সূধের ব্যবসা হতে বিরত থাকা। সুধে ঋন গ্রহন করা বা সূধের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা উভয়ই সমান অপরাধ। যে ইহা করবে সে হাসরের মাঠে দেখতে পাবে নিজের পেটের মধ্যে অনেক সাপ যার ওজন হাজার লক্ষ কোটি টন হবে। নিজের এত বিশাল বড় শরীর তার মধ্যে আবার লক্ষ কোটি টন সাপ নিয়ে পুলচেরাত পার হওয়া সম্ভব নয়। জাহান্নাম তাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে দুনিয়ার আগুন হতে সত্তর গুন বেশী তাপ বিকিরণকারী কালো আগুনের মধ্যে ফেলে দিবে। যে ব্যক্তি সূধ ত্যাগ করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৪) অন্যের গিবত করা হতে বিরত না থাকা-----২৮ % নেগেটিব এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
অন্যের গিবত করা আর নিজের মৃত ভাইয়ের শরীরের কাঁচা মাংস ভক্ষন করা উভয় সমান কাজ। কেননা, যে ব্যক্তি গিবত করে তাঁর এন্টি-পারটিকল-ওয়ানের সুন্দর শরীরে হাজার হাজার টন মানুষের মাংস তৈরি করে রাখে লাওহে মাহফুজ কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটার। যে ব্যক্তি গিবত করে সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৫) ইয়াতিমের সম্পদ আত্বসাধ করা-------২৯ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
ইয়াতিমের ধন-সম্পদ আত্বসাৎ করা আর আগুন খেয়ে পেট পরিপূর্ণ করা সমান। যে ব্যক্তি এতিমের সম্পদ গ্রহন করে সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৬) জেনা হতে বিরত না থাকা---------৩০ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
লজ্জা ঈমানের অন্যতম একটি প্রধান শাখা। যার মধ্যে লজ্জা নেই তার ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। যার মধ্যে লজ্জা নেই তার জন্য জেনা-ব্যভিচার হতে বিরত থাকা একটি কঠিন কাজ। বর্তমান আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মানুষকে জেনা-ব্যভিচারের দিকে আহব্বান করে। যে ব্যক্তি জেনা হতে বিরত থাকে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৭) সততা অবলম্বন না করা----------৩১ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
জীবনের প্রতিটি কাজে সততা অবলম্বন করা। যে সততা অবলম্বন করে সে জীবনে সাফল্য লাভ করে। যে ব্যক্তি সততা অবলম্বন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৮) ধৈয্য ধারন না করা----------------৩২ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
ধৈয্য ধারন করা ঈমানের একটি গুরুত্বপুর্ন শাখা। আমাদের জীবন সুখে অতিবাহিত হয় আবার মাঝে মাঝে পরিক্ষার জন্য দুঃখ আসে। সে সময় ধৈয্য ধারন করে পরিক্ষায় পাশ করা অতীব জরুরী। যে ব্যক্তি ধৈয্য ধারন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(১৯) ওয়াদা পুরন না করা------------৩৩ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
ওয়াদা পালন করা একটি জরুরী বিষয়। কেননা ইহার সম্পর্ক ঈমানের সাথে। যে ব্যক্তি ওয়াদা পুরন করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২০) আল্লাহর উপর ভরসা না করা-------৩৪ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তাঁর জন্য যথেষ্ঠ। আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২১) পিতা-মাতার সেবা না করা---------৩৫ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
সন্তানের কর্তব্য পিতা-মাতার সেবা করা এবং তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যে ব্যক্তি পিতা-মাতার সেবা করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২২) আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া--৩৬ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া কবিরাহ গুনাহ। মানুষ এত বেশী গুনাহ করতে পারেনা যে সে আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ে যাবে। মানুষের গুনাহ ছোট, আল্লাহর রহমত বড়। যে ব্যক্তি আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ে যায়, সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৩) বড়দের সন্মান-ছোটদের স্নেহ না করা--৩৭%নেগেটিব এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বড়দের সন্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বড়-ছোট পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়া। তাই যে ব্যক্তি বড়দের সন্মান করেনা এবং ছোটদের স্নেহ করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৪) পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকা---------৩৮ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
ইসলাম ধর্মে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। শারীরিক পরিস্কার হল ওযু করা, গোসল কারা, আর আত্বীক পরিস্কার হল, অন্তর হতে যাবতীয় হিংসা-বিদ্ধেষ দুরীভূত করা।তাই যে ব্যক্তি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৫) অহংকার ত্যাগ না করা----------৩৯ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
অহংকার পতনের মূল। অহংকারী ব্যাক্তিকে কেহ পছন্দ করে না। অহংকারীকে আল্লাহ ভালবাসে না। তাই যে ব্যক্তি অহংকার ত্যাগ করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৬) মানুষ হত্যা করা---------------৪০ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
মানুষ হত্যা করা এবং মায়ের পেটে শিশু হত্যা করা কবিরাহ গুনাহ। যে একজনকে হত্যা করল সে যেন মানবজাতিকে হত্যা করল। তাই যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা করে সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৭) অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্ধেষ ত্যাগ না করা----৪১ % নেগেটিব এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
মানুষের প্রতি হিংসা-বিদ্ধেষ ত্যাগ করা। আগুন যেমন কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়, তেমনি হিংসা মানুষের নেক-আমল জ্বালিয়ে দেয়। তাই যে ব্যক্তি হিংসা ত্যাগ করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৮) হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সবচেয়ে বেশী ভালবাসা না থাকা-------------- ৪২ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি ভালবাসা থাকা হল ঈমান। যে ভালবাসায় নবীর অনুসরন নাই, সে ভালবাসার মূল্য নেই। তাই আমাদের উচিত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আদেশ করেছেন তা পালন করা আর যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা। নতুন কোন দল গঠন না করা। যে ইসলামের মধ্যে নতুন কোন দল গঠন করবে সে বাহাত্তর দলের অর্ন্তভূক্ত হবে। ইহা দ্বারা সে প্রমান করতে চায় আল্লাহর রাসূল ইসলাম ধর্ম পরিপূর্ন করে যাননি। আর ইহা এ জন্য সম্ভব হয়েছে যে সে আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। যে রাসূলের সুন্নত ও সাহাবীদের অনুসরন করে সে সঠিক ইসলাম ধর্মের উপর আছে। তাই ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের সকলের একমাত্র পরিচয় হবে মুসলিম হিসাবে। কোন দলের ভিত্তিতে নয়। যে দলের ভিত্তিতে ইসলাম ধর্মকে ভাগ করে সে আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। তাই যে ব্যক্তির আল্লাহর রাসূলের প্রতি ভালবাসা নেই সে ব্যক্তি নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(২৯) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ না পড়া---------- ৪৩ % নেগেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইহা একটি মহামূল্যবান কালেমা। কোন উপাস্য নেই আল্লাহ ব্যতীত শুধুমাত্র এই বাক্যটি একজন ব্যক্তিকে জাহান্নাম হতে বাচিঁয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। ইহা একটি নূর। এই নূরের সম্পর্ক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে। তাই যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩০) জিহাদ না করা----------------- ৪৪ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
জেহাদ অর্থ চেষ্ঠা করা। সাধনা করা। ইসলামে জেহাদ আত্বরক্ষামূলক। আক্রমনাত্মক নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা হল সবচেয়ে বড় জেহাদ।
তাই যে ব্যক্তি জেহাদ করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩১) আল্লাহর নিকট প্রার্থনা না করা------৪৫ % নেগেটিভ এনার্জি
-পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
আমাদের সকলের উচিত আল্লাহর নিকট নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থনা করা। আমাদের সব প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন। কিছু এই পৃথিবীতে প্রদান করা হয় আর বাকীগুলো পরকালে প্রদান করা হবে। মনে করুন, একজন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলো, সে যেন এই পৃথিবীর বাদশাহ হতে পারে। তাঁকে যদি ইহা এই পৃথিবীতে প্রদান করা না হয়, তবে তা আখেরাতে প্রদান করা হবে।সেখানে এরূপ একটি পৃথিবী তৈরি করে তাঁকে বাদশাহী প্রদান করা হবে। কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলো স্বর্নের তৈরি বিশাল আকৃতির বিল্ডিং জান্নাতে যেন তাঁকে প্রদান করা হয়। সে তা পাবে। কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলো স্বর্নের তৈরি বিশাল আকৃতির জাহাজ, যেন সে জান্নাতের সাগরে ভ্রমন করতে পারে। তাঁকে জান্নাতে তা প্রদান করা হবে। কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলো স্বর্নের তৈরি বিশাল আকৃতির বিমান, যেন সে জান্নাতের আকাশে ভ্রমন করতে পারে। তাঁকে জান্নাতে তা প্রদান করা হবে। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩২) আল্লাহর জিকির না করা---------- ৪৬ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
আল্লাহর সবচেয়ে বড় জিকির হল, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। আল্লাহর জিকির মানব আত্মাকে শান্তি প্রদান করে। নামাজের পর ও অন্য সময় আল্লাহকে স্মরন করার জন্য কয়েকটি প্রধান জিকির হল- আল-হামদুলিল্লাহ। আল্লাহু আকবার। সোবহানাল্লাহি ও বিহামদিহি। সোবহানাল্লাহি ও বিহামদিহি সোবহানাল্লাহিল আজিম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লা আনতা সোবহানাকা ইন্নি কুনতুম মিনাজ যোয়ালেমিন। লা হাওলা ওলা কুআতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওলিল্লাহিল হামদ। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩৩) আল্লাহর নিকট তাওবা না করা----- ৪৭ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
মানুষ ভূলের উর্ধ্বে নয়। তাই সে অনেক সময় বড় বড় পাপ কাজ করে। এই পাপ কাজ হতে আল্লাহর নিকট তাওবাহ করা অতীব জরুরী। তাওবা হল অপরাধের কাজ হতে ফিরে ভাল কাজের দিকে আসা। মানুষ যে অপরাধ করে তা নিজের অজ্ঞতা হতে আসে। তাই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ। কোন বিষয়ে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মানুষ অপরাধ করতে পারে। তাই আমাদের উচিত অপরাধ হতে তাওবা করে ফিরে আসা। তাওবা করার নিয়ম হল দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তাওবা করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩৪) অন্যকে খাদ্য প্রদান না করা------- ৪৮ % নেগেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
মানুষকে খাদ্য প্রদান করা একটি মহৎ কাজ। অভাবী দরিদ্র মানুষের হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করা উত্তম ইসলাম। ইহা ইসলাম ধর্মের একটি মহান আদর্শ। তাই যে ব্যক্তি অন্যকে খাদ্য প্রদান করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩৫) মেহমানের সন্মান না করা---------৪৯ % নেগেটিভ এনার্জি- পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
মেহমানের সন্মান করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের জন্য খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা নীজ নীজ সামর্থ অনুযায়ী কর্তব্য। তাদের অসন্মান করা অপরাধ। যে নিজের জীবন দীর্ঘ করতে চায় তার উচিত মেহমানের সন্মান করা। তাই যে ব্যক্তি মেহমানের সন্মান করে না সে নেগেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩৬) রাস্তা হতে কস্টদায়ক জিনিস সরিয়ে না রাখা--৫০ % নিউট্রাল এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
রাস্তায় নিদিস্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা রাখা। রাস্তা পরিস্কার রাখা ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা। যে এই শাখাটি পালন করবে আশা করা যায় সে ঈমানের অন্য শাখাগুলোও পালন করবে। হাসরের মাঠে যে ব্যক্তির আমলনামা সমান সমান হবে সে আরাফে অবস্থান করবে। জান্নাতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান থাকবে। তাই যে ব্যক্তি রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ করে সে নিউট্রাল এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে আরাফে নিয়ে যাবে। আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩৭) নিজে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া----- ৫৫ % পজেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। ইহা জান্নাতের চাবি। চাবি ছাড়া যেরূপ তালা খোলা যায় না। তেমনি নামাজ ব্যতীত জান্নাতের দরজা খোলা যায় না। তাই যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৩৮) অন্যকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বলা-----৬০ % পজেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
যে ব্যক্তি অন্যকে নামাজ পড়তে বলে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে। (৩৯) নিজে রমজান মাসের রোজা রাখা------৬৫ % পজেটিভ এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে। (৪০) অন্যকে রমজান মাসের রোজা রাখতে বলা----৭০ % পজেটিভ - এনার্জি - পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
যে ব্যক্তি অন্যকে রমজান মাসের রোজা রাখতে বলে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪১) নিজে হজ্ব পালন করা--------------৭৫ %পজেটিভ এনার্জি
-পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
যে ব্যক্তি নিজে হজ্ব পালন করে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে। যে ব্যক্তির জন্য হজ্ব ফরজ নয় তাঁর জন্য জুমার নামাজ হজ্বের সমতুল্য। তাঁর হজ্বের দশ নাম্বার নামাজের দশ নাম্বারের সাথে যুক্ত হবে। যার জন্য হ্জ্ব ফরজ সে হজ্ব করে পাবে সর্বমোট সত্তর নাম্বার। ঈমান এবং ঈমানের সত্তরটি শাখার জন্য পঞ্চাশ নাম্বার। নামাজের জন্য দশ নাম্বার এবং হজ্বের জন্য দশ নাম্বার। সর্বমোট সত্তর নাম্বার। যার জন্য হজ্ব ফরজ নয় সে ঈমান এবং ঈমানের সত্তরটি শাখার জন্য পাবে পঞ্চাশ নাম্বার। নামাজের জন্য দশ নাম্বার এবং জুমার নামাজের জন্য দশ নাম্বার। সর্বমোট সত্তর নাম্বার। জান্নাতে যাওয়ার জন্য নাম্বার প্রয়োজন পঞ্চাশ দশমিক এক। যে পঞ্চাশ নাম্বার পাবে সে আরাফে অপেক্ষমান থাকবে জান্নাতে যাওয়ার জন্য। যার নাম্বার যত বেশী হবে সে সেই অনুপাতে পুলচেরাত অতিক্রম করার গতি অর্জন করে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অনেক ব্যক্তি ঈমান-নামাজ-রোজ-হজ্ব-যাকাত পালন করেও জাহান্নামে যেতে পারে যদি সে ঈমানের সত্তরটি শাখার মধ্যে কোন একটি শাখা সঠিকভাবে পালন না করে। যেমন সূদ হতে বিরত থাকা ঈমানের একটি শাখা। আমরা উদাহরন স্বরূপ মনে করি সূদের ব্যবসা হতে বিরত না থাকা-----২৭% নেগেটিভ এনার্জি। একজন ব্যক্তি নামাজ-রোজার মাধ্যমে জান্নাত নিশ্চিত করেছে কিন্তু সে সূদের কারনে পুলচেরাত অতিক্রম করে জান্নাতের বাড়ীতে যেতে পারছেনা। আল্লাহ ক্ষমা করলে সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪২) অন্যকে হজ্ব পালন করতে বলা---------৮০ %পজেটিভ এনার্জি
- পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান
একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
যে ব্যক্তি অন্যকে হজ্ব করতে বলে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪৩) নিজে যাকাত প্রদান করা--------------৮৫ % পজেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
যে ব্যক্তি যাকাত দেয় সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪৪) অন্যকে যাকাত প্রদান করতে বলা------৯০ % পজেটিভ এনার্জি
-পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
যে ব্যক্তি অন্যকে যাকাত দিতে বলে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪৫) নিজে জ্ঞান অর্জন করা------------- ৯৫ %পজেটিভ এনার্জি -পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট-
কানেকটেড।
যে ব্যক্তি নিজে কোরআন-হাদীসের জ্ঞান অর্জন করে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
(৪৬) অন্যের নিকট জ্ঞান বিতরন করা---- ১০০ % পজেটিভ এনার্জি-পজেটিভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড - স্পিন আপ- এন্টি-পারটিকল-ওয়ান একটিভ -বিগ-ব্যাংগ-টু কনটিনিউ - আন-বাউন্ড স্টেট- কানেকটেড।
যে ব্যক্তি অন্যের নিকট কোরআন-হাদীসের জ্ঞান বিতরন করে সে পজেটিভ এনার্জি ট্রান্সমিশন প্রদান করে। আর ইহা এমন একটি কাজ যা ব্যক্তিকে ডান হাতে আমলনামা প্রদান করে। আশা করা যায় ব্যক্তি যদি ঈমানের শাখাগুলো সঠিকভাবে পালন করে তবে সে জাহান্নাম হতে নিরাপদে থাকবে এবং আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পর সে জান্নাতে যেতে পারবে।
এক কল্যানময় কিতাব আমি তোমার প্রতি নাযিল কবেছি, যেন মানুষ এর আয়াত সমুহ অনুধাবন করে এবং বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যাক্তিগন উপদেশ গ্রহন করে। (সূরা-সাদ)। আমি এই কোরআনে মানুষর জন্য সর্ব প্রকার দৃষ্টান্ত উপস্থিত করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহন করে। (সূরা-যুমার)। আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসূল প্রেরন করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে পরিহার কর।(সূরা-নাহাল)। কুন পা ইয়া কুন। আল্লাহ যখন কিছু সৃস্টি করতে চান তখন শুধু বলেন হও অমনি তা হয়ে যায়। হে মানব জাতি, তোমাদের কাছ এক সতর্ককারী এসেছে তোমাদের প্রভূর পক্ষ থেকে আর আরোগ্য এসেছে যা আছে তোমাদের অন্তরে। আর দিক নির্দেশনা ও করুনা এসেছে বিশ্বাসীদের জন্য । (আল-কোরআন) আর আমি আপনার পূর্বে এমন কোন নবী রাসূল প্রেরন করিনি যার নিকট এই মর্মে সংবাদ প্রদান প্রেরন করিনি যে, আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, আমার উপাসনা কর। (আল-কোরআন) আল্লাহ তায়ালা এমন এক মহান সত্ত্বা, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, খাদ্য দিয়েছেন, অতঃপর, তোমাদের মৃত্যু দিবেন, আবার জীবন দিবেন, তোমরা যাদের ডাক তাদের মধ্যে এমন কেউ আছ কি? যে এই কাজগুলোর মধ্যে কোন একটি কাজ করতে সক্ষম। তারা আল্লাহর সাথে যাদের অংশীদার সাব্যস্থ করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান।
আল্লাহ বলেন, আমি প্রত্যেক এলাকায়, প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসুল প্রেরন করেছি, এই কারনে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং প্রতিমা পুজা বর্জন কর। পৃথিবীতে সকল প্রানীর খাদ্যের দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার।(সূরা-হুদ)। তিনি আমাদের আল্লাহ, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে ডি-এন-এ-দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর জেনেটিক কোড স্থাপন করেছেন।(সূরা-তোহা) তিনি আল্লাহ যিনি প্রত্যেক বস্তুকে (পরমানুকে) প্রদান করেন নিদিস্ট আকৃতি জেনেটিক কোডের মাধ্যমে ।(সূরা-তোহা)। নিশ্চয়ই আমি সব কিছু সৃষ্ঠি করি জেনেটিক কোডের মাধ্যমে নিদিস্ট আকৃতিতে।(সূরা-কামার- ৪৯)। আল্লাহ সবকিছু সৃস্টি করেছেন অতঃপর জেনিটিক কোড স্থাপন করে নির্ধারিত করেছেন। (সূরা-ফুরকান)। আল্লাহ অবগত আছেন প্রতেক নারী সে তাঁর গর্ভে যা ধারন করে এবং জরায়ুতে যা কমে ও বৃদ্ধি পায় এবং ইহা জেনিটিক কোডের মাধ্যমে নির্ধারিত করেছেন। (সূরা-রাদ)। আমার নিকট রয়েছে সব জিনিসের (সবকিছুর)ভান্ডার এবং আমি তা প্রদান করি জেনেটিক কোডের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমানে যা আমি অবগত আছি। (সূরা-হিজর)। অদৃশ্যের চাবি আল্লাহর হাতে রয়েছ, তিনি ছাড়া অন্য কেহ জানেনা, জলে-স্থলে যা কিছু রয়েছে তিনি অবগত। একটি পাতাও তার জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে। মাটির অন্ধকারে কিংবা রসযুক্ত এমন কোন বস্তূ নেই যা সুস্পস্ট কিতাবে (লাওহে মাহফুজে)নেই। (সূরা-আনআম)। তিনি যা ইচ্ছা মুছে ফেলেন এবং যা ইচ্ছা রেখে দেন, আর তার কাছে আছে মূল গ্রন্থ (লাওহে মাহফুজ)। (সূর-রাদ)। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃস্টি করেছেন নিদিস্ট সময়ের জন্য। (সূরা-কামার)। আল্লাহর নিকট কোন কিছু গোপন নয় আসমান ও জমিনে।(সূরা-আল-ইমরান)। আপনি বলুন, আমি তোমাদের সকলের জন্য প্রেরিত রাসুল। (আরাফ) আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের সকলের জন্য প্রেরিত রাসুল। (সূরা-আরাফ)। তোমার পূর্বে আমি যে সব রাসুল প্রেরন করেছি তারাও মানুষ ছিলেন। যাদের উপর আমি ওহী নাযিল করতাম। তোমরা তা না জানলে জ্ঞানীদেরকে প্রশ্ন কর। তাদেরকে দেহ দান করেছি, তারা আহার করত, তারা মৃত্যুবরন করে।(সূরা-আন্বিয়া)।আমি আপনার পূর্বে বহু রাসুল পাঠিয়েছি, তারা আহার করত এবং বাজারে চলাফেরা করত।(সূরা-ফুরকান)। আমি তোমার পূর্বে অনেক রাসুল পাঠিয়েছি, তাদের স্ত্রী ছিল, ছেলে-মেয়ে ছিল।(সুরা রাদ)। লোকেরা আপনাকে রুহ সম্পকে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলে দিন , রুহ হল আল্লাহ তায়ালার আদেশ। (সুরা-বনি ইসরাঈল) আল্লাহর নিকট রয়েছে অদৃশ্য জেনেটিক কোডের চাবিকাঠি। তিনি ছাড়া ইহা কেউ জানেনা।(সুরা-আনআম) আল্লাহ প্রথমে কলম সৃষ্টি করে কলমকে বললেন লিখ, কলম বল্ল, হে আমারা প্রতিপালক কি লিখব ? আল্লহ বল্লেন, কিয়ামত পয্যন্ত সকল বস্তুর ডি-এন-এ ও জেনেটিক কোড লিপিবদ্ধ কর। (আবু-দাউদ) তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পুজা কর, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারেনা।(সুরা-হজ্ব)। অনু পরিমান ভাল কাজ করলে তা তোমরা দেখতে পাবে আর অনু পরিমান খারাপ কাজ করলে তাও তোমরা দেখতে পাবে।(আল-কোরআন) তোমাদের সকলকে তা পার হতে হবে (পুলসেরাত)। জাহান্নামের উপর পুলসেরাত নির্মান করা হবে। আমি আমার উম্মত নিয়ে তা পার হব। ঐ দিন রাসুল ব্যতীত কেউ কোন কথা বলবেনা।(বুখারী ও মুসলিম)। যারা ঈমান এনেছে ও সৎ কর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউছ। (সূরা-কাহাফ)। আল্লাহ তাদের প্রতি রাগান্বিত যারা শয়তানের পূজা কর।(সুরা-মায়েদা) আল্লাহর মত কোন কিছু নেই।(আল-কোরআন) আমি তোমাদের জন্য ধর্মকে পূর্ন করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য ধর্ম হিসাবে মনোনীত করলাম। (সূরা-মায়েদা)। যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম নিজের জন্য পছন্দ করবে, কখনো তা গ্রহন করা হবে না, আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা-আল-ইমরান)
জান্নাত
জান্নাতে এত বিশাল গাছ আছে যে, এই গাছের ছায়ায় একজন ব্যক্তি ঘোড়া দিয়ে একশত বছর চলতে পারবে। তবুও ইহার ছায়া শেষ হবে না (তিরমিযী)। জান্নাতে গাছের পাতা হল স্বর্নের (তিরমিয়ী)। জান্নাতে ঘরগুলোর একটি ইট হবে রূপার আরেকটি ইট হবে স্বর্নের। গাথুনি হবে সুগন্দময় মিশকের। নুড়িগুলো হল মোতির ও ইয়াকুতের। মাটি হল জাফরানের। যে ইহাতে প্রবেশ করবে, সে ইহাতে খাদ্য ও সুখের মধ্যে থাকবে। কষ্ট পাবেনা কখনো। মৃত্যু হবেনা কখনো। কাপড় কখনো পুরাতন হবেনা। তাদের যৌবন কখনো শেষ হবেনা (তিরমিযী)। জান্নাতে এমন ঘর রয়েছে যা বাহির থেকে ও ভিতর থেকে বাহিরে দেখা যায়। যা স্বচ্ছ আয়না দ্বারা তৈরি (তিরমিযী)। জান্নাতে দুটি বাগান আছে রূপার তৈরি এবং দুটি বাগান আছে স্বর্নের তৈরি (তিরমিযী)। জান্নাতে একশতটি স্তর বিদ্যমান আছে। প্রতিটি স্তরের, একটি হতে আরেকটির দুরত্ব একশত বছর (তিরমিযী)। জান্নাতে একশতটি স্তর আছে। একটি হতে আরেকটির দূরত্ব, আসমান ও জমিনের মত। জান্নাতুল ফেরদাউস হল সর্বোচ্ছ ও সর্বোত্তম জ্ন্নাত। জান্নাতের স্তর একশতটি। ইহার একটির মধ্যে সমস্ত মহাবিশ্ব রাখা যাবে। জান্নাতীদের চেহারা পূণিমার চাঁদের মত উজ্জল হবে। প্রত্যেকের দুজন করে স্ত্রী হবে। প্রত্যেক স্ত্রীর গায়ে সত্তর জোড়া পোষাক খাকবে। এই পোষকের মধ্য দিয়ে তাদের পায়ের নলার হাড্ডির মগজ পরিদৃস্ট হবে।তিরমিয়ী। জান্নাতে একজনকে একশত জনের সঙ্গম শক্তি দেয়া হবে। জান্নাতে প্রত্যেকের চেহারা হবে চাঁদের মত সুন্দর। থুতু ও নাকের ময়লা আসবেনা। পেশাব-পায়খানা করতে হবেনা। থালা-বাসন হবে স্বর্নের। চিরূনী হবে স্বর্নের ও রূপার। আগর কাঠের ধূপ নিবেন। ঘাম হবে মিশকের মত সুগন্ধময়।কোন মতবিরোধ ও হিংসা থাকবেনা। জান্নাতীগনের শরীর লোমহীন ও দাড়ি থাকবেনা। কাজল টানা চোখ বিশিষ্ট হবে। তাদের যৌবন কখনও শেষ হবেনা। পোষাক কখনও পুরাতন হবেনা (তিরমিযী)। জান্নাত সমুহের বিছানা হবে পাঁচশত বছরের পথ। জান্নাতের গাছে স্বর্নের পতঙ্গ থাকবে। গাছের ফল হবে মটকার মত বড় বড়। জান্নাতে একটি নদী আছে। ইহার পানি দুধ হতে সাদা ও মধু হতে মিস্টি। ইহার মধ্যে আছে অনেক পাখি। এগুলির গর্দান হবে উটের গর্দানের ন্যায়। (তিরমিযী)। জান্নাতে ঘোড়ায় চড়ে, উড়ে বেড়ানো যাবে। মন যা চায় সব পাওয়া যাবে। ঘোড়ার দুটি পাখা থাকবে। জান্নাতিদের বয়স হবে পচিঁশ, ত্রিশ অথবা তেত্রিশ। জান্নাতে একটি বাজার আছে। সেখানে নারী-পুরুষের প্রতিকৃতি-আকৃতি আছে। যখন কোন ব্যাক্তি কোন প্রতিকৃতির মত হতে ইচ্ছা করবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই আকৃতি পেয়ে যাবে। জান্নাতে তোমরা তোমাদের মহান স্রষ্ঠা আল্লাহতে দেখতে পাবে। সর্বনিম্ন জান্নাতির ফলের বাগান,স্ত্রী,নিয়ামত, সেবক, সিংহাসন সমুহ দেখতে হাজার বছরের পথ চলতে হবে। যদি কেহ আনন্দে মারা যেত তবে, অবশ্যই জান্নাত বাসীরা মারা যেত কিন্তু সেখানে মৃত্যু নেই। কেউ যদি দুঃখে মারা যেত, তবে জাহান্নামীরা মারা যেত কিস্তু সেখানে মৃত্যু নেই। জান্নাতে হুরদের একটি সম্মেলন কক্ষ আছে। সেখানে তারা এমন সুরে গান গায় যা কেউ কখনো শ্রবন করেনি। জান্নাতে পানির, মধুর, দুধ ও মদের সাগর, নদী ও ঝর্না আছে। উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, শহীদ হল চার ধরণের, মুমিন ব্যক্তি যার ঈমান অতি উত্তম, সে শত্রুর সম্মূখীন হয় এবং আল্লাহর অঙ্গীকারের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে লড়াই করে শেষ পয্যন্ত নিহত হয়। এর দিকেই কিয়ামতের দিন লোকেরা এরূপ ভাবে তাদের চোখ উপরের দিকে তুলে তাকাবে – এ বলে তিনি তার মাথা উচু করে দেখালেন এমন কি মাথা থেকে তার টুপি পড়ে গেল।(তিরমিজী) হাসরের মাঠে সবার আকৃতি এক রকম হবে না। যারা শহীদ, তাদের আকৃতি হবে বিশাল, চার-পাঁচ লক্ষ কিলোমিটার উচ্চতা। আল্লাহর রাসুল বলেছেন, জান্নাতীগণ জান্নাতে দাখিল হওয়ার পর নিজ নিজ আমলের আধিক্য অনুসারে বাসস্থানে অবতরণ করবে। পরে দুনিয়ার দিন হিসাবে প্রতি জুম্মা বারের পরিমাণনুসারে তাঁদের অনুমতি দেয়া হবে, তারা আল্লাহর যিয়ারতে আসবে, তাদের জন্য আল্লাহর আরশ প্রকাশ করা হবে। জান্নাতের একটি বাগানে তাঁদের সামনে আল্লাহর প্রকাশ ঘটবে। (তিরমিজী)। জান্নাতে যাওয়ার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে হবে। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
জাহান্নাম
কেয়ামতের দিন সত্তর হাজার লোহার সিখল দিয়ে জাহান্নমেকে টেনে আনা হবে, প্রতিটি সিখলের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ফেরেস্তা।
জাহান্নামে কাফিরের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ গজ। দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মত, বসার স্থান হবে মক্কা ও মদিনার দূরত্বের সমান।
গলিত লাভা হবে জাহান্নামীদের খাদ্য, যখন খাওয়ার জন্য মূখের নিকট নিবে, মুখের চামড়া গলে পড়ে যাবে। জাহান্নামীদের মাথায় গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে, তাতে শরীর পুড়ে যাবে, পুনরায় শরীর আগের মত করে দেয়া হবে। জাহান্নামীদের পান করানো হবে গলিত পুজ। জাহান্নামীদের পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, ইহা তাদের নাড়ি-ভূড়ি সব গলিয়ে ছিন্ন-ভিন্ন করে দিবে এবং তা মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাবে। ইহা নিকৃষ্ঠ পানি ও নিকৃষ্ঠ আশ্রয়। জাহান্নামের চাঁরটি দেয়াল আছে। প্রতিটির ঘনত্ব চল্লিশ বছরের পথ। জাহান্নামের এক বালতি পূঁজ যদি পৃথিবীতে ঢেলে দেয়া হয়, তবে ইহা সমস্ত পৃথিবী দুর্গন্ধময় করে দিবে। জাহান্নামের আগুনের শাস্তি হতে বেঁচে থাকার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে হবে। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করা অতি সহজ। ইহার জন্য শুধুমাত্র ভয়েজ কমান্ড দিতে হবে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ব্যক্তির জীবন-যাপনের মধ্যে কোন রকম পরিবর্তন প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির মুসলমানী বা খৎনা করার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি গরুর মাংস খেতে না চায়, তবে তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে, তবে তা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী পরিবার-পরিজন পিতা-মাতা ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে। ব্যক্তির জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে তখন তাঁর কাজের মধ্যেও পরিবর্তন আসবে।
কবিরাহ গুনাহসমূহ
আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা। মূর্তিপূজা করা। হত্যা করা। যাদু মন্ত্র করা বা এগুলি বিশ্বাস করা। নামাজ আদায় না করা। যাকাত ফরজ হওয়ার পরেও যাকাত আদায় না করা। কোন কারন ছাড়া রোজা ভঙ্গ করা। সামর্থবান হওয়া সত্ত্বেও হজ্ব আদায় না করা। মাথা-পিতার অবাধ্য হয়ে চলা। আত্বীয়তার সম্পর্ক বিচিন্ন করা। যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। সমকামিতা করা। সূদ খাওয়া। ইয়াতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্বসাধ করা। আল্লাহ ও নবীর নামে মিথ্যা কথা বলা বা নবীর বংশধর না হয়ে নবীর বংশের পরিচয় দেয়া। যুদ্ধ হতে পলায়ন করা। প্রজাদের প্রতি জুলুম করা বা ক্ষমতায় থেকে মানুষের প্রতি অত্যাচার করা। অহংকার করা। মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। মদ পান করা। জুয়া খেলা। ভাল মেয়েদের প্রতি অপবাদ দেয়া। গনিমত বা সরকারের মাল আত্বসাদ করা। চুরি করা। ডাকাতি বা ছিনতাই করা। মিথ্যা কছম করা। জুলুম করে কারো সম্পদ আত্বসাধ করে বা অন্যায় করে কাউকে আঘাত করা বা অন্যকোন উপায়ে মানুষের প্রতি জুলুম করা। বিক্রয় কর আদায় করা। হারাম খাওয়া। আত্বহত্যা করা। কথায় কথায় মিথ্যা বলা। দুর্নীতি করে বিচার করা। ঘুস গ্রহন করা। পুরুষ নারীর মত পোষাক পরা আর নারী পুরুষের মত পোষাক পরা। দাইউছ বা স্ত্রীর গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেয়া। প্রতারনা করা। প্রস্রাব থেকে পবিত্র না হওয়া। রিয়া বা লোক দেখানো এবাদৎ করা। পার্থিব উদ্দেশ্যে জ্ঞান বা এলেম অর্জন করা বা জ্ঞান গোপন করে রাখা বা জ্ঞান থাকার পরেও মানুষকে তা বিতরন না করা। আমানতের খেয়ানত করা। খোটা দেয়া বা কারো উপকার করে তা বলা। তাকদিরের প্রতি অবিশ্বাস করা। অন্যের গোপন কথা শ্রবন করা। চোগলখোরী করা। অভিশাপ দেয়া।ওয়াদা খেলাপ করা। গনকের কথা বিশ্বাস করা। স্বামীর অবাধ্য হওয়া। জীব-জন্তুর ছবি অংকন করা বা মূর্তি তৈরি করা। বিপদে আপদে তাকদিরের প্রতি বিস্বাস না করে অধৈয্য হয়ে যাওয়া। দুর্বলদের প্রতি কঠোর হওয়া। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া। মুসলমানদের গালি-গালাজ করা। অন্যায়ভাবে কারো প্রতি হস্তক্ষেপ করা। অহংকার করে টাকনুর নিচে জামা-কাপড় পরা। পুরুষ স্বর্নের অলংকার ব্যবহার করা এবং রেশমী পোষাক পরিদান করা। দাস-দাসীর পলায়ন করা। পশু আল্লাহ ব্যতীত অন্যকারো নামে জবেহ করা। অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেয়া নিজের পিতা থাকা সত্বেও। ঝগড়া করা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি অন্যকে না দেয়া। ওজনে কম দেয়া। গুনাহ করে আল্লাহর দেয়া অবকাশকে নিরাপত্তা মনে করা। আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া। বিনা ওযরে নামাজের জামাত ত্যাগ করা। ওছিয়ত দ্বারা অনিষ্ট করা। প্রতারণা বা ধোকাবাজি করা। সাহাবীদের গালি-গালাজ করা।
যারা মুসলিম হয়েও নবীর উন্মত নয়
প্রতারক। সন্ত্রাস। কারো স্বামীর বিরুদ্ধে কিছু বলা। অন্যের পরিবার নিয়ে কুৎসা রটানো। আমানতের খেয়ানৎ করা। যে পুরুষ রেশমী কাপড় পরিধান করে ও রূপার পাত্রে আহার করে। রাতের অন্ধকারে পঁচা মাল বিত্রিু করা। যারা কর্কশবাশী বা দুনিয়ার বেচা-কেনায় সর্বদা ব্যস্ত। যারা বড়দের স্রদ্ধা করে না ও ছোটদের স্নেহ করে না। সাপ হত্যা না করে অন্যকে ভয় লাগানো। অন্যকে বাবা বলে পরিচয় দেয়া। সামর্থ থাকার পরেও বিয়ে না করা। যারা ডাকাতি করে।
তাই আসুন, আমরা সবাই সঠিকভাবে ইসলাম ধর্ম পালন করে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে জাহান্নাম হতে নিরাপদ রাখি এবং জান্নাতের পথে দ্রুত এগিয়ে যাই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন